নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে

সদ্য সমাপ্ত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রতিবেদন বা ডকুমেন্টেশনে পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি, মতামত এবং নির্বাচনের দিনের নানা ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসির আমন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।   ইসি সূত্র জানায়, পর্যবেক্ষকদের অভ্যর্থনা, হোটেল ব্যবস্থাপনা, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রের অভিজ্ঞতার ‘রাইট আপ’ ও ছবি প্রকাশনায় স্থান পাবে। এছাড়া কমিটি সংগ্রহকৃত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বই আকারে সংরক্ষণ করবে, যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে।   গঠিত কমিটি প্রতিটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করবে এবং প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও রাখে। ইসি এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসব নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।   তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট বাতিল করা হয়েছিল। অন্যদিকে, পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।   ইসি সচিব বলেন, দুই আসনে আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।   গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া-৬ আসনে আগে গণভোট হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না, কারণ পার্থক্য এমন যে সেখানে গণভোট না হলেও কোনো অসুবিধা নেই।   ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ মার্চ। রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। আপিল করা যাবে ৬ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৫ মার্চ।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
মাঠ প্রশাসনে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তার বড় রদবদল

নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ১১২ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।   বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের জন্য কমিশন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১ মার্চের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে ওইদিন অপরাহ্ণে কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত গণ্য হবেন।   নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী এটি কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া সবচেয়ে বড় রদবদল। আসন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই পদায়ন পরিবর্তন করা হয়েছে।   এর আগে সোমবারই ইসি সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত, যেখানে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও ইসির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ | ছবি: সংগৃহীত
মেয়র নির্বাচনে প্রতীক প্রশ্নে সিদ্ধান্ত বিএনপির হাতে

সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে নাকি নির্দলীয়ভাবে—এই সিদ্ধান্ত এখন সংসদ অধিবেশনের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমান সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি মূলত বিএনপির হাতেই রয়েছে।   নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স সংসদে পাস হলে সে অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সংসদে যদি কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে আগের নিয়ম বহাল থাকবে।   রোববার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার ও সংসদের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।   বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশন সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
অসদাচরণে ইসির ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী অব্যাহতি

অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মেজর মাহমুদুল হাসান তালুকদারের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   আদেশে বলা হয়, একটি প্রকল্পে কর্মরত ৯ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয়জনের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। এ ১৫ জনের আইডি কার্ড ও প্রবেশাধিকার বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. জসিম উদ্দিন, ওয়ায়েত হোসেন, মো. আল আমিন, আফজাল হোসেন লিটন, শাহা জাহান, পাপন শর্মা, মো. বিলাল উদ্দিন, প্রাণেশ চন্দ্র মজুমদার, মো. নুরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মো. আবুল হোসেন সরকার, মো. মিজানুর রহমান এবং মো. আনিছুর রহমান। তারা বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন
কোন তিন সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন?

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের শূন্যতা কাটাতে বড় তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটের মাঠ সচল করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রথম দফায় এই তিন সিটিতেই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে ইসি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ১২টি সিটি করপোরেশনসহ দেশের ৪৯৭টি উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ যথাক্রমে ২০২৫ সালের জুন ও জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ফলে এই তিন সিটিতেই নির্বাচন আয়োজন এখন ইসির জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই তিন সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করার পর পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। যদিও শুরুতে সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত ছিল, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে সরকার ও ইসি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ধারাবাহিকভাবে এই নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হবে।   নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি এখন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের মতো জরুরি প্রস্তুতিগুলো গ্রহণ করছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হতে হাতে সময় কম থাকায় সেখানে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সরকার থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তারা তফশিল ঘোষণার পথে এগোবেন। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় সরকার পর্যায়ে আবারো জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হতে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
৭৫.৩৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২৪.৬৬ শতাংশ ‘না’ ভোট
৭৫.৩৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২৪.৬৬ শতাংশ ‘না’ ভোট

দেশের রাষ্ট্র সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে ‘হ্যাঁ’। নির্বাচন কমিশন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জনগণের রায় স্পষ্টতই বড় ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে। রাত ২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মোট সংগৃহীত ভোটের ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশই পড়েছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে, আর ‘না’ ভোট পড়েছে মাত্র ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।   রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের আধিপত্য দেখা গেছে। ঢাকা-৫, ৬, ১৪, ১৭ ও ১৮ আসনের আংশিক ফলাফল বলছে, ভোটাররা বিপুল উদ্দীপনায় প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা-১৮ আসনে ২৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে প্রায় ২৬ হাজার ভোট পড়েছে ‘হ্যাঁ’-এর বাক্সে, যেখানে ‘না’ পড়েছে আট হাজারের কিছু বেশি। ঢাকা-৬ আসনেও ৩৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩০ হাজারের ওপরে।   ঢাকার বাইরে জেলাগুলোতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। নেত্রকোণা জেলার ৬৬৫টি কেন্দ্রের বিশাল পরিসরের ফলে দেখা যায়, সেখানে ৫ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। একইভাবে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) এবং ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা আসনেও ‘না’ ভোটের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যবধানে এগিয়ে আছে ‘হ্যাঁ’।   তবে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে কিছুটা ব্যতিক্রমী চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টির ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে আছে। খাগড়াছড়িতে ‘না’ পেয়েছে ৩১ হাজার ৭৬ ভোট এবং ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৩০ হাজার ৬৬৫ ভোট।   সামগ্রিকভাবে সারাদেশের প্রবণতা বলছে, অধিকাংশ মানুষ একটি নতুন ও সংস্কারকৃত বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফলের মাধ্যমে দেশের আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো কেমন হবে, তার আইনি ভিত্তি রচিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে সারাদেশের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত নেতার টাকা বহন ইস্যুতে ‘আমাকে মিসকোট করা হয়েছে’: ইসি সচিব

‘৫০ লক্ষ নয়, পাঁচ কোটে টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’- এমন বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।   বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন তিনি।   কত টাকা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিতে পারবেন বা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার তার নেই বলেও দাবি করেন আখতার আহমেদ।   তিনি দাবি করেন, ‘এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই এবং আমি এটা বলিনি।’   ‘কোনো একটা অর্থের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছে তারা এ ব্যাপারে অর্থের সোর্স, অ্যামাউন্ট এবং পারপাস অব দি ফান্ড এটার ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন,’ বলেও জানান তিনি।   এক্ষেত্রে আইনি ব্যাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছেন তারা দেবেন আইনি ব্যাখ্যা, আমার কাছে তো না।’   বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দ করে পুলিশ।   এই ঘটনার পর, নির্বাচনি আইনে টাকা বহনের বিষয়ে কী বলা আছে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়, টাকার উৎস এবং ব্যবহারের খাত যদি বৈধ হয়, তবে ৫০ লক্ষ নয়, এমনকি পাঁচ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো আইনি বাধা নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সুষ্ঠু ভোটের জন্য অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ইসি

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪২,৯৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেককে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকিগুলো ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে তিনি এই তথ্য জানান।   ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন।   নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। প্রথমবারের মতো নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে ইউএভি (ড্রোন) এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা। এছাড়া ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।   পোস্টাল ভোটের বিষয়ে তিনি জানান, আজ সকাল পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট পৌঁছেছে। বাকিগুলো ট্রানজিটে রয়েছে এবং পরশু পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।   মাঠ পর্যায়ে ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৫ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। ভোটার স্লিপে এবার প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর চারবার অগ্রগতির রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফলাফল একসাথে ঘোষণা করা হবে এবং অধিকাংশ ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে।   নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইতিমধ্যেই ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টির বেশি তদন্ত করা হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ করা হয়েছে।   ইসি আশা প্রকাশ করেছেন, ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করবে। কমিশন সকল রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন (ইসি)
ভিপিএন সংযোগে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় থেকে নির্বাচনি ফলাফল প্রেরণে ইসির নির্দেশনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ফলাফল এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতে উচ্চনিরাপত্তার ‘ভিপিএন’ (Virtual Private Network) সংযোগ ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এই কারিগরি রূপরেখা প্রদান করা হয়।   নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই ভিপিএন সংযোগ ব্যবহার করে সরাসরি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে তথ্য প্রেরণ করতে হবে। এই বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিটিসিএল, টেলিটক এবং গ্রামীণফোনের মতো শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটরদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাকআপ হিসেবে ‘সিসকো এনিকানেক্ট’ সফটওয়্যার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।   নিরাপত্তা ও গতি নিশ্চিত করতে ইসি জানিয়েছে: সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কার্যালয়ে নূন্যতম ১০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। ব্যবহারের পর সংশ্লিষ্ট ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের এমএসি (MAC) এড্রেস কমিশনকে জানাতে হবে। নির্বাচনের দুই দিনের মধ্যে এই বিশেষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতা এড়াতে নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক বিশেষজ্ঞ টিম ২৪ ঘণ্টা সহায়তা প্রদান করবে।   উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় ইসি। জেলা নির্বাচন অফিসারদের মোবাইলে ভিপিএন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সময়মতো পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প সব ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশবাসী তাদের ভোটাধিকারের চূড়ান্ত ফলাফল ও গণভোটের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
কিছু কার্যক্রমে মনে হয় ইসি কারো ইনফ্লুয়েন্সে কাজ করে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রম আমাদের মনে হয় যে ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে তারা করেন। যেমন বিএনসিসির বিষয়ে আমরা একটি দলের দাবির প্রেক্ষিতে বিএনসিসিকে কেন্দ্রে না রাখার বিষয়ে এক ধরনের কথা শুনেছিলাম।   সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।    আসিফ মাহমুদ বলেন, ইসি আজকে বলেছেন তারা এটা পুনর্বিবেচনা করছেন এবং আমাদের এটা স্পষ্ট দাবি থাকবে যে, বিএনসিসি যেন কেন্দ্রে থাকে।   যেহেতু এবারের নির্বাচনটা একটু ভিন্ন নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে এক্সট্রা ফোর্স থাকলে সেটা আমরা মনে করি যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাজে দেবে।   প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে ইসি বিএনপির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে যেটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সবার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে হওয়ার কথা ছিল, আমরা দেখছি যে, একটি দলকে হয়তো একটু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেটা আপনারা এমন পর্যায়েও দেখেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী প্রোপোজ করলে সাথে সাথে ওইদিন বা পরের দিনের মধ্যেই অফিসার সেখান থেকে উইথড্র হয়ে যাচ্ছেন।   আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, আমাদের আরেকটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যখন আমাদের প্রার্থীরা বিভিন্ন অফিসারদের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে, সেটার আর কোনো রিপ্লাই আসলে পাওয়া যাচ্ছে না।   প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করছে ইঙ্গিত দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা কিছু জায়গায় দেখেছি কিছু কর্মকর্তারা নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেটা পুলিশে আছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন, মাঠ পর্যায়ে তারা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করছেন। এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে তারা কল দিচ্ছেন, তারা কল দিয়ে (প্রভাব) বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। তার প্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে কিছু স্পেসিফিক অফিসারদের অপসারণ এবং পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন (ইসি)
আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল আর কোনো ধরনের সভা, মিছিল কিংবা জনসভা করতে পারবে না। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর যদি কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তবে কমিশন সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর প্রার্থীরা কেবল নির্বাচনের দিন নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে পারবেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই জনসমক্ষে ভোট চাইতে পারবেন না।   ইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোডাউন আয়োজনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন এখন থেকে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য হবে। আরপিও (RPO) ৯১ খ(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একইভাবে কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ম ভাঙলে তাদেরকেও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।   ইসি আরও জানিয়েছে, কোনো লিখিত অভিযোগ বা নিজস্ব নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণ পেলেই তাৎক্ষণিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ উপহার দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানবেন যে ৪ পদ্ধতিতে

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পৌঁছে দিতে অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস এবং ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে এই সেবাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   ভোটের তথ্য জানার ৪টি পদ্ধতি হচ্ছে  ১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা Play Store বা App Store থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই তথ্য পাবেন। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলে ভোটার নম্বর, ক্রমিক এবং কেন্দ্রের ঠিকানা দেখা যাবে।  ২. হটলাইন ১০৫ যেকোনো ফোন থেকে সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে অপারেটরের মাধ্যমে তথ্য জানা যাবে। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ সাথে রাখতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা সচল থাকবে। ৩. এসএমএস পদ্ধতি মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC <স্পেস> NID Number লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১০৫ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে। ৪. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এখানে দুটি উপায়ে তথ্য পাওয়া যাবে। নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা সিলেক্ট করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে ব্যক্তিগত ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র খোঁজা যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। ফাইল ছবি
নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে ফিরতে পারেন। রোববার ঢাকার একটি হোটেলে কূটনৈতিক মিশনগুলোর প্রধান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না।    বর্তমানে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সংহতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।’ নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে স্বাধীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। নির্বাচনি প্রস্তুতি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন।’    সরকার সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালনে ইসিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।’    তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি সব উপকরণ প্রস্তুত রয়েছে। ব্যালট পেপার মুদ্রণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।’   অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য কী কী প্রস্তুতি নিয়েছে, তা কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে। ইসি চায় একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে কোনো লুকোচুরি নেই। তারা খুব খুশি হয়েছেন। তারা আস্থাশীল যে ইসি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।’    কোন কোন দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি; এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো প্রশ্ন কূটনীতিকরা করেননি।’    ব্রিফিংয়ে আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৬ জন। নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য। এছাড়া নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮, প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।   এ সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
নির্বাচনী প্রচারণায় জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ নয়: ইসি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এই প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কাজ সমাপ্ত করতে হবে।   নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি ৬ (ঙ) অনুযায়ী, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা বা কোনো ধরনের সমাবেশ করা যাবে না। একইভাবে, প্রার্থী বা দলের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিও এ ধরনের সভা বা সমাবেশ করতে পারবেন না।  বিধিমালার বিধি ৬ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত প্রধান নির্দেশনাগুলো হলো-   প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন এবং প্রতিপক্ষের কোনো কর্মসূচিতে বাধা বা ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না।      কর্মসূচি সমন্বয় ও অনুমতি:  প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে তাদের বিস্তারিত কর্মসূচি প্রস্তাব আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। একই সময়ে ও একই স্থানে একাধিক দল বা প্রার্থী কর্মসূচি পালন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। এছাড়া জনসভার দিন, সময় ও স্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। আবেদনের ক্রম অনুযায়ী এই অনুমতি দেওয়া হবে এবং অনুমতির কপি স্থানীয় নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানাতে হবে। এছাড়া একটি জনসভায় ৩টির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।   পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানারের বিধিনিষেধ:  নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল দ্রব্য যেমন রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা ব্যানার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্য সব প্রচার সামগ্রী (ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন) অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি হতে হবে। এসব সামগ্রীতে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।   যানবাহন ও স্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা:  কোনো দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা সরকারি স্থাপনায় কোনো প্রকার লিফলেট বা ফেস্টুন লাগানো যাবে না।  এছাড়া বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা বা অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনেই প্রচারণা সামগ্রী সাঁটানো যাবে না।  কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের ওপর অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারণা সামগ্রী টাঙানো যাবে না। একইসাথে এসব ফেস্টুন বা ব্যানারের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন, বিকৃতি বা বিনষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ।    মিছিল ও শোডাউন:  নির্বাচনি প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান বা মোটরসাইকেলসহ কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন করা যাবে না। এমনকি যেকোন ধরনের মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ। দলীয় প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদার ব্যক্তিরা যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারলেও সেখান থেকে লিফলেট, ব্যানার বা অন্য কোনো প্রচার সামগ্রী প্রদর্শন, বিতরণ বা নিক্ষেপ করা যাবে না।   তোরণ, ক্যাম্প ও দেয়াল লিখন:  কোনো প্রকার গেইট বা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না। চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো ক্যাম্প বা স্থাপনা তৈরি করা নিষিদ্ধ। এছাড়া কোনো দেয়ালে লিখে বা ছবি এঁকেও নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না।   বিলবোর্ড ব্যবহারের শর্ত:  প্রচারণায় বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে, তবে প্রচার অংশের আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে হবে। সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা বা মেট্রোপলিটন ওয়ার্ডে একটি করে তবে পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না।   আচরণ ও উপাসনালয়ের পবিত্রতা:  প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, অশালীন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বা চরিত্র হনন এবং লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা প্যাগোডাসহ কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করা যাবে না।   ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও শান্তি রক্ষা:  নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করা যাবে না। এছাড়া অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে কারও শান্তি বিনষ্ট করা যাবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
দুই মাস পর এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম শুরু

দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ পুনরায় চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।   রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল থেকে এই সেবাটি সাধারণ মানুষের জন্য আবারও সচল করা হয়েছে। এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে এনআইডি সংশোধন করা যাবে। কেন এতদিন এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল–এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ভোটের (ওসিভি ও আইপিসিভি) নিবন্ধন ও প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার মতো বড় কাজগুলো চলছিল। এই জটিল টেকনিক্যাল কাজগুলো চলাকালীন এনআইডি সংশোধনের ডেটাবেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন সেই কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছি।’   উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এনআইডি সংক্রান্ত যে কোনো অপব্যবহার বা ভুল তথ্য পরিবর্তন ঠেকাতে গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। আজ নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এটি আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো। এখন থেকে নাগরিকরা যে কোনো ভুল সংশোধন বা তথ্য পরিবর্তনের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন
নিবন্ধিত ৬০ দলের মধ্যে অংশ নিচ্ছে কতটি, জানাল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মঞ্চ প্রস্তুত! ৪ দিনব্যাপী যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষে ভোটের লড়াইয়ে টিকে রইলেন ১ হাজার ৯৬৭ জন যোদ্ধা।    নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ডামাডোল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪৯টি দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগসহ ১১টি দল এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।   নির্বাচনী লড়াইয়ে যারা আছেন: মাঠে থাকা প্রধান দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (জাপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং সিপিবিসহ মোট ৪৯টি দল।   মাঠের বাইরে যে ১১ দল: নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ১১টি নিবন্ধিত দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন এবং জাসদ।   প্রার্থী ও দলীয় পরিসংখ্যান: মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে আছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।  দলভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যা নিম্নরূপ: বিএনপি: ২৯০ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২৫৯ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ২১৬ জন জাতীয় পার্টি (জাপা): ১৯৬ জন গণঅধিকার পরিষদ: ৯২ জন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৩০০ জনের বেশি (যার মধ্যে বিএনপির অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন) নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হবে এবং প্রার্থীরা পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণায় নামতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবত্রই এখন ভোটের আমেজ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0