মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুতই শেষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে, তাই ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির প্রয়োজন আর নেই। হোয়াইট হাউসে বুধবার (১ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের প্রায় সব সামর্থ্য ধ্বংস করেছি। দেশটি পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় নেবে। আমরা তাদের অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব ব্যবস্থাও প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি আলোচনার টেবিলে আসে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তারা আলোচনায় অংশ নেয় কি না, তাতে এখন আমাদের কোনো প্রভাব নেই।” তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামর্থ্য ধ্বংস করে দেশটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইরানের পুনর্গঠনের দীর্ঘ মেয়াদি চিত্র তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ব্যয় আঞ্চলিক আরব দেশগুলোর মাধ্যমে বহন করানোর প্রতি আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, এই খরচ কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। সোমবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, “যেমন ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিল, তেমনভাবে এবারও আরব দেশগুলোকে অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানানো হতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি ভাবনা, এবং তিনি বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী হবেন।” উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কুয়েত আক্রমণ প্রতিহত করতে একাধিক দেশকে নিয়ে একটি বৈশ্বিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেই সময় জার্মানি, জাপান ও অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের খরচ মেটাতে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল, যা বর্তমান দিনে প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, মিত্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোকে সরাসরি জড়িয়েছে না। এই মাসের শুরুতে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি বিশ্লেষক শন হ্যানিটি বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানকে ব্যয়ভার বহনের শর্ত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হ্যানিটি বলেন, “যুদ্ধের ক্ষতি বা খরচের পুরোটা ইরানকে তেল দিয়ে বা অন্যভাবে পরিশোধ করতে হবে।” সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অনুমান অনুযায়ী, সংঘাতের ১২তম দিনে মোট ব্যয় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং যেহেতু যুদ্ধ ৩১তম দিনে প্রবেশ করেছে, তাই খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হোয়াইট হাউস পেন্টাগনের অস্ত্র পুনরায় পূরণ এবং সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের কাছে অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অনুমোদনের আবেদন করতে যাচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন নেতৃত্বকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ উভয়ভাবে আলোচনার ধারা চলছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকরা ‘যথেষ্ট যুক্তিবাদী’ এবং তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তা নিশ্চিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইরানের শাসনব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন নেতৃত্বের আচরণ ও মনোভাব ইতিবাচক বলে তিনি মনে করেন। এই সময় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, এক মাস ধরে চলা সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। রোববার আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার উপায় ও সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান বৈঠকের বিষয় আলোচনা করেছেন। যদিও আলোচনার সাফল্য এখনও অনিশ্চিত। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইতিবাচক সুর শোনা গেলেও ইসরাইলের অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা হতে পারে। কোনো পক্ষ এখনও বৈঠকে সরাসরি অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি। তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য যে চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ শিরোনামে আয়োজিত বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ নাগরিকরা। এতে তারা ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই কর্মসূচি ‘নো কিংস’ নামে সংগঠিত হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকেই মানুষ অংশ নেয়। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধরনের গণবিক্ষোভগুলোর একটি। এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে একই নামে একটি আন্দোলন হয়েছিল। তবে এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ‘নো কিংস’ স্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা বোঝাতে চান, যুক্তরাষ্ট্রে একক কর্তৃত্বের কোনো স্থান নেই। এ ছাড়া অভিবাসন নীতি কঠোর করা, গর্ভপাত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরিবেশ ইস্যু—এসব বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: এএফপি
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের একটি পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহ ধরে তৈরি করে রেখেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন—এমন তথ্য উঠে এসেছে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান শুরু হলে তা চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, এটি আগের কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের তুলনায় মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ না হয়ে সীমিত পরিসরের অভিযান হতে পারে, যেখানে বিশেষ বাহিনী এবং পদাতিক ইউনিট অংশ নিতে পারে। তবে এই ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল থেকে গোলাগুলি এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরকের মতো নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আলোচনায় সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকাগুলোর কথা উঠে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ধরনের অভিযান দীর্ঘমেয়াদি না হয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধা রাখতে পেন্টাগনের প্রস্তুত থাকা স্বাভাবিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছেন। নিজেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আপাতত কোথাও সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেননি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানেও হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ইসরায়েলসহ আশপাশের কয়েকটি দেশে আঘাত হেনেছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আলোচনায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ মার্চ দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর এটিই ছিল ট্রাম্প ও মোদির প্রথম সরাসরি কথা বলা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে—এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইলন মাস্কও যুক্ত ছিলেন। তবে যুদ্ধকালীন এমন সংবেদনশীল আলোচনায় কোনো বেসরকারি ব্যক্তির অংশগ্রহণকে অস্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতার এই কথোপকথন ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ ছিল। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে। অন্যদিকে, গত বছর সরকার সংশ্লিষ্ট ভূমিকা থেকে সরে যাওয়ার পর ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে আলোচনার সময় মোদি হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অনীহা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মায়ামিতে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্প বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি ওয়াশিংটন। হামলার পর ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশের বিরোধিতাও সামনে এসেছে। বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ন্যাটোর পাশে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তার ভাষায়, যদি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেয়, তবে তাদের প্রতি একই ধরনের সমর্থন দেখানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন উঠছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের ভেতরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীনে কর্মরত বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়। সরকারি অর্থায়ন বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারীর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মীসংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপত্তা তল্লাশি ধীর হয়ে পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জরুরি ভিত্তিতে এই নির্বাহী আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা, ভিসা কার্যক্রম এবং অন্যান্য সরকারি সেবাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আবারও পিছিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যা এখন আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে—যদিও এ ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। পরে সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রথমে ৫ দিনের সময় বাড়ানো হয়, আর এবার তা দ্বিতীয় দফায় আরও বাড়ানো হলো। এদিকে, এই পরিকল্পনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়। বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় আগ্রহী। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করেছে—তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলা হলে এর জবাবে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন থেকে তেহরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ খবরে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে এবং দাম কমে যায়। বুধবার (২৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। সাম্প্রতিক এই দরপতন সত্ত্বেও, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো বেশ উঁচুতে রয়েছে। ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা “এখনই” চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এমন কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এদিকে সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলা হলেও, একই সময়ে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অভিযানের পক্ষে প্রথম জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্থানীয় সময় সোমবার ‘মেমফিস সেফ টাস্ক ফোর্স’-এর এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা হেগসেথই প্রথম তুলে ধরেন। তার ভাষায়, হেগসেথ শুরু থেকেই সামরিক অভিযানের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। ট্রাম্প আরও জানান, হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে তিনি একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এর মধ্যে হেগসেথ ছাড়াও সামরিক ও কৌশলগত পর্যায়ের আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ছিলেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের বাড়তে থাকা সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য হুমকি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাধ্যমে যে সংঘাত শুরু হয়, তা এখন আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে এবং ইরান ও তার মিত্রদের সম্পৃক্ত করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন উৎপাদন এবং নৌ-ক্ষমতা দুর্বল করা। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মতভেদও ছিল। ট্রাম্প স্বীকার করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না, যদিও প্রকাশ্যে বিরোধিতাও করেননি। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রুপার্ট মারডক যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও প্রশাসনের কিছু উপদেষ্টা আরও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সিদ্ধান্ত এবং তার পেছনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এখন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কমাতে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-কে পরামর্শ দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঈদুল ফিতর ও নওরোজ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ২২ মার্চ টেলিফোনে কথা বলেন দুই নেতা। সেই কথোপকথনেই আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন শেহবাজ শরিফ। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আলাপচারিতা ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জনগণকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন শেহবাজ শরিফ এবং সংঘাতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ইরান ও পাকিস্তান-এর মধ্যে সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে বিরোধ চলছে। এ ইস্যুতে সমাধানের লক্ষ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। সূত্র : জিও টিভি
ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা জানায়, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আবার কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর আরও বড় ধরনের আঘাত হানা হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে বড় ভুল করা হয়েছে এবং এর প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তারা আরও জানায়, ভবিষ্যতে একই ধরনের আক্রমণ হলে পাল্টা অভিযান আরও তীব্র হবে এবং তা প্রতিপক্ষের জ্বালানি স্থাপনা পুরোপুরি অকার্যকর না হওয়া পর্যন্ত চলতে পারে। এই হুঁশিয়ারি আসে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনার পর, যার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও—ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হঠাৎ করে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সৌদি আরবের কিছু তেল শোধনাগার ও শিল্প কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোর নাম উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সাউথ পার্সে হামলাকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন” পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরাকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তেহরান, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়—কারণ ইরাক তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন মিত্রদের সমালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতেও, যেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্যারিস। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনীর রণতরিগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে। এছাড়া ফ্রান্স জানায়, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটি এখনো প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক নীতির মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী পুতিন হয়তো তেহরানকে “সামান্য সহায়তা” করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার একটি রাজনৈতিক যুক্তিও থাকতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পুতিন সম্ভবত মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সমর্থন দেওয়াও অনেকটা তার প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু রাশিয়াই নয়—চীনের মতো বড় শক্তিগুলিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন হিসাব-নিকাশ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা মিত্রকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের মিত্রদের সমর্থন দেওয়া স্বাভাবিক বলে তারা মনে করতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে নতুন একটি দাবি সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো হয়তো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তেহরানকে দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যদিও ট্রাম্প বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত সহায়তা হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চলতে থাকলে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ খার্গে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি বলেন, এই অভিযানে খার্গ দ্বীপের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তার ভাষায়, দ্বীপটির জ্বালানি স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপটিকে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র বলা হয়। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস এখান থেকেই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। গত দুই সপ্তাহে এই প্রণালিতে ইরানের হামলায় একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে ইরান এখনও তাদের জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানের অবদানও উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববাজারে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এবং তরল গ্যাসের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি খার্গ দ্বীপের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা হয়, তাহলে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে সেই ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা খুবই কঠিন হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান খুব দ্রুত শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুতগতিতে তাদের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগোচ্ছে এই অভিযান। সোমবার ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী। তাদের মতে, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদনের ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এখন তাদের জানা রয়েছে এবং ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এসব অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়ে প্রায় ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপটি ছিল খোলামেলা ও গঠনমূলক। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তারা দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুতিনের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, রাশিয়া এ সংকটের সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন। উশাকভের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ইরান সংঘাত বন্ধে পুতিন কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি, তবে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি অনলাইনে তিনটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের নথি প্রকাশ করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এসব নথি আগে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত ফাইলের মধ্যে ছিল না। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই তদন্তের সময় নেওয়া তিনটি সাক্ষাৎকারের রেকর্ড নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিচার বিভাগ যে বিশাল আকারের এপস্টিন নথিপত্র প্রকাশ করে, তার মধ্যে এসব সাক্ষাৎকার না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এপস্টিন তদন্তসংক্রান্ত অতিরিক্ত নথিপত্র ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টিনের সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন। উল্লেখ্য, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে তদন্ত ও বিতর্ক চলছে। এই মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বৈরিতা পেছনে ফেলে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য এক অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে আনলেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনার পর কেবল আবাসন সংকটের সমাধানই নয়, বরং এক শিক্ষার্থীর মুক্তি নিশ্চিত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা। অপারেশন ওয়াশিংটন: ছদ্মবেশে গোপন সফর বৃহস্পতিবার সকালে কড়া গোপনীয়তা বজায় রেখে ওয়াশিংটনে পৌঁছান মেয়র মামদানি। গণমাধ্যমের নজর এড়াতে কালো টুপি ও মাস্ক পরে সাধারণ বিমানে ভ্রমণ করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ফেডারেল সরকারের সরাসরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা। সাফল্য-১: বড় আবাসন প্রকল্পের সবুজ সংকেত ওভাল অফিসের বৈঠকে নিউ ইয়র্কের হাউজিং প্রজেক্ট নিয়ে ট্রাম্পের সামনে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন মামদানি। ফলশ্রুতিতে, বড় আকারের আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে পূর্ণ সম্মতির পাশাপাশি ফেডারেল সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের একটি ছবিতে ট্রাম্পকে একটি প্রতীকী সংবাদপত্রের কপি হাতে হাসিমুখে দেখা যায়, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল—‘সিটি টু ট্রাম্প: লেটস বিল্ড’। সাফল্য-২: কলাম্বিয়া ছাত্রীর তাৎক্ষণিক মুক্তি বৈঠকের মধ্যেই মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আজারবাইজানি শিক্ষার্থী এলমিনা আঘায়েভাকে সেদিন সকালেই ফেডারেল ইমিগ্রেশন সংস্থা (ICE) আটক করেছিল। মেয়র মামদানি বিষয়টি প্রেসিডেন্টের নজরে আনলে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে তার মুক্তির নির্দেশ দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়া হয়, যা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। নিউ ইয়র্কের স্বার্থে ট্রাম্প ও মামদানির এই সমঝোতাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক বিরল এবং কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।