- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে। সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত। এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়। এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়। ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে ১ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সুপার প্যাক এমএজিএ ইনকরপোরেটেড। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে জমা দেওয়া নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ ও রয়টার্স। এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের প্রথম বড় ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যয়। পুরো টেক্সাসজুড়ে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে। প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর লড়াইকে বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে টালারিকোর করনীতি ও গ্রামীণ হাসপাতালসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করা হয়েছে। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে শিশু কর-ছাড় দ্বিগুণ করা, চিকিৎসা ব্যয়ে করছাড় এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার ডলারের করছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। এদিকে টালারিকোর প্রচারশিবির এই বিপুল অর্থের বিজ্ঞাপনকে ‘বিলিয়নিয়ার-সমর্থিত ডার্ক মানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার টালারিকোকে ‘হাই ট্যাক্স টালারিকো’ বলে আক্রমণ করে দাবি করেছেন, তাঁর নীতির কারণে টেক্সাসের মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। টালারিকোর প্রচারশিবির এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে, যার বড় অংশ এসেছে ছোট দাতাদের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের প্রচারশিবির সংগ্রহ করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এমএজিএ ইনকরপোরেটেডের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ কোটি ডলার নির্বাচনী তহবিল রয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। টেক্সাসের এই সিনেট লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাক্সটন দলের প্রাইমারিতে সাবেক সিনেটর জন কর্নিনকে হারিয়ে মনোনয়ন পান। এখন তাঁর সামনে ডেমোক্র্যাট টালারিকো। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকটি হয়। তবে আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, উইটকফ ও কুশনার পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘সাবস্ট্যানশিয়াল প্ল্যান’ বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। বৈঠকের পর দুই মার্কিন দূত ইউক্রেনে গিয়ে একই বিষয়ে আরও আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উইটকফ ও কুশনার। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক, অত্যন্ত খোলামেলা ও কার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। উশাকভ জানান, মার্কিন দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে কয়েকটি ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে তিনি সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। পুতিনও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি এবং যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। আলোচনায় শুধু যুদ্ধ নয়, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন ঘণ্টার বেশি আলোচনার পরও কোনো বড় ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে রাশিয়ার দাবি এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে মস্কোর অবস্থান এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কিয়েভ নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ে ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাঁর দূতরা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘কংক্রিট প্রস্তাব’ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনে যাচ্ছেন। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো সফরের পর আজ রোববার উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ যাওয়ার কথা। এটি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কিয়েভে তাদের প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তাদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনার সময় যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে কথা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর জেলেনস্কি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আলোচনার সময় দুই দেশের রাজধানীতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। মার্কিন দূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই মস্কো ও কিয়েভে হামলা না চালানোর বিষয়ে সাময়িক সম্মতি জানিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিয়েভে তিন দিন হামলা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কিও বলেছেন, ইউক্রেন একই সময়ে মস্কোতে হামলা থেকে বিরত থাকবে। তবে এই সাময়িক বিরতি কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি করছে এবং নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে মস্কো আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কয়েক মাস ধরে শান্তি আলোচনা স্থবির থাকার পর উইটকফ ও কুশনারের নতুন সফরকে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে - মার্কিন দূতদের প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয় কী এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সেটিতে কতটা সম্মত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন আটকে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান। বুধবার মেরিল্যান্ডের এই বিচারক আদেশটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। এতে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর পাশাপাশি বিদেশি সরকারের কর্মী, ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়। এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বা সাময়িক ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সেই উদ্যোগ অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যাত হয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিক। নতুন আদেশের ক্ষেত্রেও বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে যেসব শিশুকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন আদেশ “প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক”। বোর্ডম্যানের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওই শ্রেণির শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার বা স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন কীভাবে আদেশটি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, নতুন আদেশটি আগেরটির তুলনায় অনেক সীমিত এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই মামলাটি এখনই বিবেচনা করা উচিত নয়। বিচারক অবশ্য সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদনের সময় বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্টাটাস-এর প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন নির্বাহী আদেশটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৫ লাখ শিশু মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা চিপের আওতা থেকে বাদ পড়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় দেশজুড়ে শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে নিবন্ধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাদ পড়া ২৫ লাখ শিশুর প্রত্যেকেই সরাসরি চিকিৎসা সুবিধা হারিয়েছে। মূলত মেডিকেইড ও চিপে শিশুদের নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এই পতনের একটি অংশের কারণে শিশুরা স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধন ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে ইন্ডিয়ানায়। সেখানে শিশুদের নিবন্ধন ২৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিপরীতে, একই সময়ে কলোরাডো ও হাওয়াইয়ে শিশুদের এই দুই কর্মসূচিতে নিবন্ধন বেড়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়ান আলকার বলেন, শিশুদের মেডিকেইডে নিবন্ধন কমে গেলে সাধারণত স্বাস্থ্যবিমাহীন শিশুর সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে আগামী ১০ বছরে মেডিকেইড ব্যয়ে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন আইনের বেশ কিছু পরিবর্তন আগামী বছর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর মধ্যে মেডিকেইড সুবিধা ধরে রাখতে বাড়তি কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং নিবন্ধন যাচাইয়ের মতো প্রশাসনিক শর্ত রয়েছে। কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা অথবা পড়াশোনার শর্তও চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধন কমে যাওয়ার পুরো কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মেডিকেইড কাটছাঁট পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা কভারেজে এই পতন শুরু হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা, নিবন্ধন নবায়নের প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য কারণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ আরও কমতে থাকলে স্বাস্থ্যবিমাহীন শিশুর সংখ্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে চলে যাওয়া শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজ্যভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ লাখের নিবন্ধন কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক ইস্ট পোটোম্যাক পার্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শতবর্ষী চেরি গাছও রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির হেইন্স পয়েন্ট এলাকার ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসে ব্লু কোর্সের ১৪তম হোলের কাছে একটি চেরি গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি প্রথম নজরে আনে পার্ক সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী। গাছটি জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঐতিহাসিক চেরি গাছগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে জাপান ১৯১০ সালের দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার চেরি গাছ পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট পোটোম্যাক এলাকার পুরোনো ইয়োশিনো চেরি গাছগুলোর কিছু ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে সেখানে লাগানো হয়েছিল। এসব গাছের ঐতিহাসিক গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বেশির ভাগ গাছ পার্কের সীমানা ও পার্কিং এলাকার আশপাশে থাকলেও গলফ কোর্সের খেলার অংশ থেকেও কিছু গাছ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে চেরি গাছটির পাশাপাশি দুটি বড় সাইকামোর গাছও রয়েছে। তবে গাছ কাটার ঘটনাটি সরাসরি ট্রাম্পের গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পের অংশ কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ, আক্রমণাত্মক প্রজাতির এবং মৃত বা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ, যেগুলো আর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব নয়, সেগুলো বাছাই করে সরানো হচ্ছে। অন্যদিকে, পার্ক সংরক্ষণবাদীরা গাছ কাটার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইস্ট পোটোম্যাক গলফ কোর্সকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে আদালতে মামলা চলছে। মামলায় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনসহ পার্কের ব্যবহার নিয়ে ফেডারেল আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৮ জুন বলেছিলেন, ঐতিহাসিক এই পাবলিক গলফ ফ্যাসিলিটির সংস্কারকাজ ১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বর্তমান তিনটি কোর্সের পরিবর্তে একটি ১৮ হোলের চ্যাম্পিয়নশিপ কোর্স তৈরির কথা রয়েছে। এতে বর্তমানে গলফের বাইরে ব্যবহৃত পার্কের কিছু এলাকাও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে বলে আদালতের নথি ও প্রকাশিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নকশা, নির্মাণ ব্যয় বা পূর্ণাঙ্গ নির্মাণসূচি প্রকাশ করা হয়নি। প্রকল্প শুরুর আগে পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত পর্যালোচনা এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদনের মতো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে। ফলে শতবর্ষী চেরি গাছসহ সাম্প্রতিক গাছ কাটার ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠলেও, ট্রাম্পের গলফ কোর্স সম্প্রসারণের জন্য সব গাছ কাটা হচ্ছে এমন দাবি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তত সাম্প্রতিক কাটার একটি অংশ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই করা হয়েছে।
কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে, তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম আমেরিকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, কানাডীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করলে নতুন করে আরোপিত শুল্ক এড়াতে পারবে। তার প্রশাসনের নতুন শুল্ক ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করছে। ট্রাম্প কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য ও কাঠও রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে সুবিধা নিয়েছে। তবে বাস্তবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয় বলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্য উল্লেখ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বিশেষভাবে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো কানাডাসহ অন্যান্য দেশের ওপর যন্ত্রাংশ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। ফলে নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন গাড়ি শিল্পেও বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন, এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। কানাডার পাল্টা শুল্কের পর যুক্তরাষ্ট্রও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সীমান্তবর্তী ব্যবসা, গাড়ি শিল্প এবং দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন তেল চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাঁর দাবি, ২৫ বছরের এই চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। তিনি চুক্তিটিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও একটি বেসরকারি ভেনেজুয়েলীয় অংশীদারের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কোম্পানি ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর অংশীদারিত্ব হবে প্রায় ৫৫ শতাংশ, পাশাপাশি উৎপাদিত তেল নির্দিষ্ট শর্তে কেনার অধিকারও থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পারে। এতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা হবে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, রদ্রিগেজের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সরকার সম্ভাব্যভাবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে। অর্থাৎ সংবাদে উল্লেখ করা ২০০ বিলিয়ন ডলার চুক্তির মূল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য সরকারি কর-আয়ের হিসাব। রদ্রিগেজ একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখবে। দেশটির দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে বলে তিনি জানান। তবে চুক্তির সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার বহু পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ফলে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে এবং চুক্তির বাস্তব প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের সরবরাহ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। তবে উৎপাদন বাড়তে সময় লাগায় এর তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই - এমন প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপের অনুমোদন দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে। ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, অর্থাৎ আইসিইর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি অবশ্যই শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। আইসিই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু সিপিটি অনুমোদন তাদের নজরে এসেছে, যেগুলো বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব নিয়ম মেনে না চললে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের সিপিটি অনুমোদনের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি। ইউসিএলএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সিপিটি অনুমোদন স্থগিত রাখা হয়েছে। ইউসি বার্কলির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তর বলেছে, ২৪ আগস্টের নির্দেশনাটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। তাই নির্দিষ্ট কিছু কর্ম-অনুমোদনের আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বাধ্যতামূলক সিপিটি স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়া করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরাল গবেষণা ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত সিপিটিও চালু রাখার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ফেডারেল নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এসব নিয়মে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং বিদ্যমান নিয়মের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেছে বিভাগটি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ওপর নতুন কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসননীতি কঠোর করার বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ। এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে নতুন নির্দেশনার অর্থ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ বা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মূলত শিক্ষার্থীর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন বা নিয়মবহির্ভূত সিপিটি অনুমোদনের ওপরই নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, অনুমোদনের আগে তাদের প্রশিক্ষণটি শিক্ষাক্রমের সঙ্গে কতটা সরাসরি সম্পর্কিত - সেটি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।
কানাডার রাজধানী অটোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে কাউন্সিল ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ এগিয়ে নেয়। সম্ভাব্য নতুন নামের তালিকায় রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’ এবং ব্যতিক্রমীভাবে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’। অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় থাকা আবাসিক সড়কটির নাম প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এলাকাটির অন্যান্য সড়কের নামও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান বা পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সড়কটির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অটোয়ার কোনো সড়ক ট্রাম্পের নামে থাকা এখন বিব্রতকর। অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নাম হিসেবে আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে বিউভার অ্যাভিনিউ, কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ, পেলোসি অ্যাভিনিউ, গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ এবং রোজি ও’ডনেল অ্যাভিনিউ। ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ নামটি মূলত ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধ ‘Trump Always Chickens Out’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ TACO থেকে এসেছে। নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অবশ্য এখনই চূড়ান্ত হচ্ছে না। সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দাকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এরপর নতুন নাম নিয়ে আলাদা করে জনসম্পৃক্ততা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া হবে। অটোয়ার পৌর নির্বাচন অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, এর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে সড়কটির ৬২টি পরিবারের মধ্যে নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ২১টি পরিবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। আরও ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি। কাউন্সিলর টিয়ার্নির মতে, যারা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এমন নয়। ঠিকানা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের ঝামেলার কারণেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিলেন। এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ২৭ আগস্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি গালফ অব মেক্সিকোর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কাউন্সিলর টিয়ার্নি অবশ্য বলেছেন, নাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চেয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের বিতর্ক যেন দুই দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ায় র্যাটক্লিফের এই সফরকে ‘আধা-রুটিন’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর থেকে ‘কিছু একটা হতে পারে’। মঙ্গলবার র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিআইএ প্রধান রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফল পুতিনকে দ্রুত জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পেসকভ বলেন, এমন যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়, যদিও এর মাধ্যমে দুই দেশের গভীর সংকট কতটা কমবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। র্যাটক্লিফের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ পরিচালক মস্কো সফর করলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে পুতিনকে ইউক্রেনে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে। র্যাটক্লিফের এবারের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই র্যাটক্লিফ মস্কো গিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজও একাধিক সূত্রের বরাতে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, র্যাটক্লিফ ‘অসাধারণ একজন ব্যক্তি’ এবং তিনি মস্কো গিয়েছেন এমন কোনো কারণে নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের দাবি, সফরটি আধা-রুটিন ধরনের হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব কঠোরভাবে কাজ করছে’। তার ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায়। তবে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এদিকে র্যাটক্লিফের সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং সফর চলাকালে রাশিয়ার ওপর দূরপাল্লার হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। র্যাটক্লিফের সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত। একই সময়ে ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে সাইবার হামলা বা সীমিত ধরনের সামরিক ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। তবে র্যাটক্লিফ ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো, ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের কথায় ‘কিছু একটা’ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও সফরটির প্রকৃত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি গুরুতর আহত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনির শরীরের বাম পাশ, বিশেষ করে হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।” মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও তার প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই নানা জল্পনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন। ওই হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আগস্টের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছিল। এদিকে ২৪ আগস্ট ইরানি গণমাধ্যম মোজতবা খামেনির একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক উপস্থিতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও পরে জানা যায়, এটি তার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগের সময়ের আর্কাইভ ফুটেজ। ফলে ভিডিওটি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রমাণ নয়। মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তিনি আদৌ সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা তাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুরুতর আহত হলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি মারা গিয়ে থাকলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কর্মকর্তারা এখনো এমনভাবে কথা বলছেন যেন তারা নিয়মিত মোজতবার সঙ্গে পরামর্শ করছেন। মোজতবা খামেনির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নেই। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে চলমান জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে কানাডা। দেশটির শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, কানাডিয়ানরা এই জলাধারকে সবসময়ই ‘লেক অন্টারিও’ নামে ডাকবে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, “আমরা সবসময় এটিকে লেক অন্টারিওই বলব।” তিনি আরও বলেন, গ্রেট লেকস নিয়ে কানাডা গর্বিত এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় থাকবে। ট্রাম্প এর আগে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর ‘অন্টারিওর সঙ্গে খুব বেশি ব্যবসা করার’ প্রত্যাশা নেই। এরপর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেকটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে ‘লেক অন্টারিও’ নামটি কেটে তার জায়গায় ‘লেক আমেরিকা’ লেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা থমকে থাকা এবং কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম পরিবর্তনের এমন প্রস্তাবের পেছনে শুধু প্রতীকী বিষয় নয়, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বার্তাও থাকতে পারে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূগোলবিদ ডেরেক অ্যাল্ডারম্যান বলেন, লেক অন্টারিওর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কানাডার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক রিউবেন রোজ-রেডউড ট্রাম্পের মন্তব্যকে “পুরোপুরি ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কানাডিয়ানদের ক্ষুব্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্য আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থানের দুর্বলতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থানও ভুলভাবে দেখানো হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের দপ্তরের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করেছে। লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকসের একটি। ফলে এর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ কিছুটা খুলে দিয়েছে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন ঠিক কতটা পরিবর্তন কার্যকর করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদেশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি মার্চে স্বাক্ষর করা হয়। এতে প্রশাসনকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময়ে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তারা মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে এত বড় পরিবর্তন আনা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা আদালতকে সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শরতের নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ভোট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আদেশটি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক এর আগে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দেন। পরে একটি আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর একই বিচারক দেশজুড়ে আদেশটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আরও একটি নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো মামলাটি করার ক্ষেত্রে আগেভাগেই আদালতে গিয়েছিল। একই সময়ে ওয়াশিংটনের একটি আদালতের ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলেও আপিল আদালত সেটি বহাল রাখে। তবে ভবিষ্যতে আদেশটি বাস্তবায়নের ফলে নতুন কোনো আইনি সমস্যা তৈরি হলে আদালতে আবার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভোটারদের ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি চূড়ান্ত আইনি বিজয় নয়। ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে অঙ্গরাজ্য, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও আদালতে গড়াতে পারে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আইনি লড়াইয়ের সময়সীমাও তত সংকুচিত হয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’ এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য দেখানো হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওতে করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন এবং পরে তার সম্পর্কে তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। অন্যদের তুলনায় তিনি সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে। এটি অবশ্য ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রথম হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে এমন হুমকি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে ভিডিওতে করা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার, নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারে আবারও নিজের গান ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ট্রাম্পের সরকারি দলের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গ্রান্ডের জনপ্রিয় গান ‘উই ক্যান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইউর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরই গ্রান্ডে তার গান আর ব্যবহার না করার জন্য ট্রাম্পের দলকে সতর্ক করেন। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি সমাবেশে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পেছনে বাজছিল গ্রান্ডের গানটি। ভিডিওতে লেখা ছিল, ‘পুরুষরা সন্তান জন্ম দিতে পারে না এবং নারীদের খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।’ পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’ ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে গ্রান্ডে লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনার সত্য সত্য নয়।’ পরে তার মন্তব্যটি আর দেখা যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান যুক্ত করার বিষয়ে গ্রান্ডের আপত্তি এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুন মাসে হোয়াইট হাউসের একটি টিকটক ভিডিওতেও তার ‘বাই’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের মানুষজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর গ্রান্ডে হোয়াইট হাউসের ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে তার গানকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান। পরে ভিডিওটি থেকে গানটির শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচারে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে এর আগেও একাধিক শিল্পী আপত্তি জানিয়েছেন। গ্রান্ডের পাশাপাশি সাবরিনা কার্পেন্টার, কেটি পেরি, এসজেডএ, অ্যাডেল, স্টিভেন টাইলার, নিল ইয়ং, রোলিং স্টোনস, এলটন জন, ফ্যারেল উইলিয়ামস, রিহানা ও সেলিন ডিওনের মতো শিল্পীরাও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের গান ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন। গ্রান্ডের সর্বশেষ প্রতিবাদ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রান্সজেন্ডার নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং সরকারি নথিতে লিঙ্গপরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে গ্রান্ডের প্রকাশ্য অবস্থান তাই আবারও সামনে এনেছে শিল্পীদের সংগীত রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে চলমান বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেই নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ন্ত্রণে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা, প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতার মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার কিছু ব্যবস্থাকেও নতুন নাগরিকত্ব নীতির আওতায় আনা হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশের একটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের সরকারি স্বীকৃতি সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে এমন শিশুদের কথা বলা হয়েছে, যাদের কোনো অভিভাবকই মার্কিন নাগরিক নন এবং যাদের বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মী, অথবা সন্তানের জন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। বাণিজ্যিক সারোগেসির ব্যবস্থাও এই তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য নির্বাহী আদেশটি মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর দিকে নজর দিয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়াকে বেছে নেন, তাহলে তাঁর ভিসা বাতিল, প্রবেশে বাধা বা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় বার্থ ট্যুরিজমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সেই দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকদের বার্থ ট্যুরিজমে বড় অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। একই শুনানিতে একজন সাক্ষী চীনকে সবচেয়ে বড় এবং ভারতকে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে বার্থ ট্যুরিজম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই। ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ঘটনা থাকলেও সংগঠিত বার্থ ট্যুরিজম ব্যবসার বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে চীন ও রাশিয়ার ধনী গ্রাহকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও এ ধরনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ৬ আগস্টের আদেশটি নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প যে বিস্তৃত নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটি আরও বড় পরিসরের ছিল। ওই আগের উদ্যোগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার রায়ে ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিধানকে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালতের রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। এর কয়েক সপ্তাহ পর নতুন নির্বাহী আদেশ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিস্থিতিকে লক্ষ্য করেছে। এর মধ্যে বার্থ ট্যুরিজম ও বাণিজ্যিক সারোগেসি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি পরিবারের জন্য ভিসা যাচাই আরও কঠোর হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্য গোপন করলে তা ভিসা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর আগে থেকেই মার্কিন ভিসা নীতিতে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মার্কিন প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের ফলে বার্থ ট্যুরিজমকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাসপাতাল বুকিং, বাসস্থান, ভিসা পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সারোগেসির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বিদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের সরকারি নথি পাওয়ার বিষয়েও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষা, ফেডারেল আইন এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি নজরে রাখার মতো। বিশেষ করে যারা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, সন্তান জন্মদান বা সারোগেসির পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত এবং বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবে নির্ধারিত হবে প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির ওপর বড় নীল বৃত্ত এঁকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়। একই পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটি এখন খোলা ও সচল এবং সেখানকার সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে নেওয়া অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে সব মাইন অপসারণের এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা করলেও এর মাধ্যমে প্রণালিটির আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে - এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হরমুজ ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা আইএমও বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত প্রণালিতে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার বাধাগ্রস্ত, অস্বীকার বা স্থগিত করা উচিত নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হরমুজ খোলা ও সচল’ থাকার দাবির বিপরীতে বাস্তব জাহাজ চলাচলের চিত্রও এখনো স্বাভাবিক নয়। কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। সোমবার এই সংখ্যা ছিল নয়টি, আর সাম্প্রতিক ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ১১টি। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কোনো কোনো দিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছিল, আর পরদিন রোববার কেপলারের হিসাবে কোনো পণ্যবাহী জাহাজই হরমুজ অতিক্রম করেনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন। ইরানও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চায় তেহরান। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করা। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। এদিকে ইরানের সঙ্গে দ্রুত নতুন কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই। ফলে একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ খুলে দেওয়ার দাবি করছেন, অন্যদিকে তেহরান বলছে প্রণালিটি বন্ধ থাকবে - দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনেও। যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ঝুঁকি এতটাই বেড়েছে যে চীনের দুটি বড় রাষ্ট্রীয় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি আগে চীনের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পরিবহনের চেষ্টা করছে তারা। তবে সংকটের মধ্যেও সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন শুরু করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরামকো হরমুজের ভেতরে থাকা টার্মিনাল থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোড করা শুরু করেছে। ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে তিনটি বড় তেলবাহী জাহাজ জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল নিয়েছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম। হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও উদ্বিগ্ন। আইএমও এর আগে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ব্যবহৃত কোনো প্রণালিতে জাহাজের ট্রানজিট প্যাসেজ বাধাগ্রস্ত বা স্থগিত করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যেসব অঙ্গরাজ্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হতো, সেখানেও দ্রুত বদলাচ্ছে জনমত। নতুন রাজ্যভিত্তিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন অননুমোদনের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউজউইকের প্রকাশিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক নেট অনুমোদন এখন মূলত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তাকে সমর্থন করা মানুষের তুলনায় তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠান রাজ্যভিত্তিক অনুমোদন হিসাব করতে আলাদা পদ্ধতি ও সময়সীমা ব্যবহার করে। ফলে কোন জরিপের কোন আপডেট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর ইতিবাচক অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা তিন বা চার হতে পারে। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট-ইউগভ মডেলে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ইতিবাচক দেখানো হয়েছে। তাই “মাত্র তিন রাজ্য” সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট নিউজউইক বিশ্লেষণের নির্দিষ্ট তথ্য হিসেবে দেখা উচিত, সব জরিপের অভিন্ন ফল হিসেবে নয়। কিন্তু রাজ্যভিত্তিক হিসাবের এই পার্থক্যের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতীয় জনমত। ১৭ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে জাতীয় পর্যায়ে তার সমর্থনে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে। কেন কমছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা? এর পেছনে এখন সবচেয়ে বড় দুটি বিষয় সামনে আসছে - ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়। রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূল্য দেওয়ার মতো ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই প্রশ্নে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য ইরান যুদ্ধ ক্রমেই একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ মুদি পণ্যের দাম গড়ে আরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির গতি বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় কম হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। আর এখানেই রিপাবলিকানদের জন্য আরও একটি বড় সতর্কসংকেত দেখা যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা। নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৭ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। একই জরিপের কংগ্রেসনাল ব্যালট পরীক্ষায় নিবন্ধিত ভোটারদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ পয়েন্টের এই ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন এবং নির্বাচনে দলীয় ভোট দুটি আলাদা বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নীতিতে অসন্তুষ্ট হলেও কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন। একইভাবে রাজ্যভিত্তিক অনুমোদনের জরিপ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল অনুমান করা যায় না। তারপরও বর্তমান প্রবণতাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। তবে এখানেও ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমেছে। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সুবিধা যেখানে ছিল ২৬ পয়েন্ট, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ পয়েন্টে। সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক চাপ - ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ। আর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, হোয়াইট হাউসের জন্য প্রশ্নটি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এই নিম্নমুখী জনমত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, নাকি তার জনপ্রিয়তার পতনের মূল্য দিতে হবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান প্রার্থীদের? কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকবে না - কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কিংবা অজনপ্রিয়তার প্রভাব ব্যালটের ফলাফলে পড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করতেই CNN-এর এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে বারবার চুপ করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলেও আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামসকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাগরের প্রবল স্রোত থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং কিম সেই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে কি না কিংবা কিম জং উন কী বার্তা দিয়েছেন - এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সও জানিয়েছে, কিম তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। আর এখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি। CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস জানতে চান - যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর জন্য কিম জং উন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিককে চুপ করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত কিশোরের সামনে তাকে অসম্মানজনক আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর ক্রিস্টেন হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ফেক নিউজ’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সাংবাদিকের মূল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা তাকে সম্মান করেন এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে। নতুন করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির আগ্রহও দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের কোনো অনুরোধ ছিল কি না - সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। সিউল আশা করছে, দুই নেতার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ আবার শুরু করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ সামরিক মহড়া কমালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়াগুলো প্রতিরক্ষামূলক - উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিস্টেন হোমসকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। CNN পাল্টা তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, হোমস প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছিলেন এবং একজন সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাওয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে। সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।