ভারতের উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় গরুর মাংস রান্নার অভিযোগে তিন মুসলিম নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে জব্দ করা মাংসটি আদৌ গরুর কি না, তা এখনো ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৌশাম্বির একটি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাদের কাছে তথ্য ছিল, একটি পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে গরুর মাংস এনে রান্না করছেন। প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাইয়ের পর উপ-পুলিশ সুপার অভিষেক সিংয়ের নেতৃত্বে একটি দল ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় পুলিশ রান্না করা ও কাঁচা মাংস জব্দ করে। পরে শামা পারভীন, শাইস্তা এবং ফাতিমা নামে তিন নারীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ গরু জবাই প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, জব্দ করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলেও প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। অর্থাৎ, মাংসটি গরুর ছিল কি না, তা সরকারিভাবে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি আইনগত ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্ত, জব্দ করা আলামত এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনের ফল তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্ত হবে। উত্তর প্রদেশে গরু জবাই ও গরুর মাংস সংক্রান্ত আইন ভারতের অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় কঠোর। এ ধরনের অভিযোগে অতীতেও একাধিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং মামলা হয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদালতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জব্দ করা মাংসের প্রকৃতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (NYPD) কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছয়জন কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বিভাগটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি এ পদোন্নতি কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সার্জেন্ট মো. লতিফ ও সার্জেন্ট মো. এন. হক। তারা দুজনই পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছেন, যা নিউইয়র্ক পুলিশের মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। অন্যদিকে পুলিশ অফিসার মো. হালিম ও ফেরদৌস নজমুল সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সার্জেন্ট পদটি সাধারণত মাঠপর্যায়ে টিম নেতৃত্ব, অপারেশন সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এছাড়া ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত মো. মেহেদী ইয়াসিনকে অ্যাসোসিয়েট ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল–১ (ট্রাফিক সুপারভাইজার) এবং সায়েদ সিদ্দিকীকে লেভেল–২ (ট্রাফিক কমান্ডার) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পদোন্নতি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সেবা, অভিজ্ঞতা, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। ফলে এসব পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বছরের পর বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পুলিশ, ট্রাফিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন ইউনিটে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। কমিউনিটি প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ ধরনের পদোন্নতি প্রবাসে বাংলাদেশিদের পেশাগত অগ্রগতি ও সক্ষমতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরাও এই অর্জনকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন, যা প্রবাসে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং থানায় জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির। দায়ের করা এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।” অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ। এসএইচও অমৃত কাটোচের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি পাড্ডার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন। এ সময় থানার ভেতরে সহিংসতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ফিরে আসেন। এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর হামলা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ডিএসপি বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটান। এফআইআরে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও), আথোলি থানার এসএইচও এবং এসডিপিওর সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এনডিটিভি
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বাহিনীতে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। ছয় মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর তারা এখন শহরের বিভিন্ন ইউনিট ও কমান্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। বুধবার (২৪ জুন) নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানায়, নতুন এই ব্যাচে এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রশিক্ষণকাল জুড়ে তারা আইন প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং পেশাগত আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গেছেন। এনওয়াইপিডি তাদের বার্তায় নতুন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের সেবায় নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য তারা এখন প্রস্তুত। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে যোগদানকারী এসব কর্মকর্তার সফলতা কামনা করেছে বিভাগটি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নগর পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবসর, পদত্যাগ এবং জনবল সংকটের কারণে নতুন সদস্য নিয়োগে জোর দিয়েছে। কর্মকর্তাদের সংখ্যা ধরে রাখা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে নতুন ব্যাচ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির ফলে টহল কার্যক্রম, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পুলিশি সেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এনওয়াইপিডির ভেরিফায়েড পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন কর্মকর্তারা ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে কর্মভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন এলাকায় এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে ঘিরে পরিচালিত পুলিশ অভিযানের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট এলাকায় একটি বাসভবন থেকে গুলির খবর পেয়ে ভোরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারেন, বাড়ির ভেতরে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল নিরাপদ করার চেষ্টা শুরু করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকাটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার পর ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জোহরান মামদানি আহত পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, কীভাবে ঘটনাটি শুরু হয়েছিল, সন্দেহভাজনের কাছে কী ধরনের অস্ত্র ছিল এবং গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও গ্রহণ করছেন। নিউইয়র্ক সিটিতে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও এ ধরনের ঘটনা এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সশস্ত্র ও অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের ঘিরে পরিচালিত অভিযানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ইউনিট কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর কাউন্টিতে ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিবিড় চিকিৎসা শেষে বুধবার (১৭ জুন) রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই বীর কর্মকর্তাকে বিদায় জানাতে হাসপাতালের বাইরে সমবেত হন সহকর্মী পুলিশ সদস্য, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা, যারা তাকে স্যালুট জানিয়ে এক আবেগঘন ও বীরোচিত সংবর্ধনা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা পি. কাতালফামো গত ৭ জুন মেরিল্যান্ডের পাইকসভিল এলাকার মিলফোর্ড মিল গুইন ফলস ট্রেইলে একটি পাবলিক নোংরামির (অশালীন এক্সপোজার) অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের 'আর অ্যাডামস কাউলি শক ট্রমা সেন্টারে' ভর্তি করা হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৩৮ বছর বয়সী শাকা কামারা নামের এক অপরাধী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি মাথায় গুলি করে। এরপর সে পার্কের এক সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলিতে কামারা আহত হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই সংঘর্ষের সময় বন্দুকের আসল মালিকও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, মাথায় গুলি লাগার আকস্মিকতায় কর্মকর্তা কাতালফামো নিজের অস্ত্র থেকে কোনো গুলি ছুড়তে পারেননি। বর্তমানে হামলাকারী শাকা কামারাকে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার চেষ্টা ও অস্ত্র ছিনতাইসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হবে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা কাতালফামো গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "কর্মকর্তা কাতালফামো বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন। এই মুহূর্তে আমরা সবার কাছে তার এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার পরবর্তী চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থার আর কোনো তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।"
প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডায় এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। পুলিশ জানায়, ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এয়ার কানাডার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেন। এই সময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী বিমান চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তে আরও বলা হয়, ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স তার ছিল না। তবুও তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে দীর্ঘদিন বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছিলেন। পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতারণা জননিরাপত্তা ও যাত্রীদের আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে শত শত ফ্লাইটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছেন। অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে তাদের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটি জানায়, প্রতিটি পাইলটকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এবং অভিযুক্ত পাইলটও এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি কানাডার পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স যাচাই করলেও নতুন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। এদিকে বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে বিরল ও ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান হাসান শাহিদি বলেন, এখানে মূল সমস্যা অদক্ষতা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা। তার মতে, এটি লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, এবং আদালতে মামলার অগ্রগতির ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে একটি আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস হামলায় আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নামের এক কথিত পীর নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফে’ এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ধারণকৃত একটি বিতর্কিত ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে শামীম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে দরবার শরিফটি ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তিন বছর আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। হামলায় শামীমসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে পিটুনি ও কোপের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দফায় দফায় হামলা চলে। বিকেল নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত শামীম ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তিন মাস কারাবরণ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা কোনো প্রকার আইনি জটিলতায় জড়াতে চান না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক পুলিশের গুলিতে নিহত ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ উইন রোজারিও হত্যার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে তার পরিবার ও সমর্থকরা কুইন্সে সমাবেশ করে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য, দেশিদের উত্থান ও আন্দোলন (Desis Rising Up and Moving) সংগঠনের নেতাকর্মী, জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবার এবং নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানি উইলিয়ামস উপস্থিত ছিলেন। তারা এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ এবং মেয়র জোহরান মামদানি -এর কাছে অফিসার সালভাতোরে আলংগি ও ম্যাথিউ সিয়ানফ্রোক্কোকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানান। ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ কুইন্সের ওজোন পার্কে নিজ বাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন উইন রোজারিও। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ বাসায় প্রবেশের দুই মিনিটের মধ্যেই তাকে টেজার করে এবং অন্তত পাঁচবার গুলি করে, যখন তার মা অনুরোধ করছিলেন গুলি না চালাতে। ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা এখনো নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ-এ কর্মরত রয়েছেন এবং গত বছর তারা সম্মিলিতভাবে আড়াই লাখ ডলারের বেশি বেতন পেয়েছেন। সমাবেশে রোজারিও পরিবারের সদস্যরা গত দুই বছরের বিচার সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। উইনের মা নোটান ইভা কস্তা বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো পুলিশ শাস্তি পায়নি। আমরা প্রতিদিন অসহনীয় কষ্টে আছি। মানসিক সংকটে পুলিশ নয়, চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার কারণে অনেকেই ৯১১-এ ফোন করতে ভয় পাচ্ছেন। সমাবেশে জাবেজ চক্রবর্তীর ঘটনাও তুলে ধরা হয়, যিনি চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে ফোন করার পর পুলিশের গুলিতে আহত হন। তার বাবা হেক্টর চক্রবর্তী বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসা দরকার ছিল, গুলি নয়। মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষদের সম্মান ও যত্ন পাওয়া উচিত।' ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেসামরিক অভিযোগ পর্যালোচনা বোর্ড সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত বলে জানায়। তবে এখনো শাস্তিমূলক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ডিসেম্বর ২০২৫-এ অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেন, যা নিয়ে পরিবার ও অধিকারকর্মীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। রোজারিও পরিবারের দাবি এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ত্রুটির প্রতিফলন। তারা দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং পুলিশ সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উইন রোজারিওর পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। তাই বাহিনীর গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আগের যেকোনো একটি পোশাকে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না; বরং তারা হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে 'পুলিশ সংস্কার কমিশন' গঠন করা হয়েছে, যার সুফল দেশবাসী খুব দ্রুতই ভোগ করবে। উল্লেখ্য, এবারের ৪৩তম বিসিএস ব্যাচের মোট ৭২ জন এএসপি তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পেল নতুন অভিভাবক। অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা আজ বুধবার (২৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রদবদল সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে আরও গতিশীল এবং জনগণের আস্থার সুদৃঢ় প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সিআইডির অর্জিত সুনাম ও ব্র্যান্ডিং ধরে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।" অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার মেয়াদে ৫ আগস্ট পরবর্তী জটিল পরিস্থিতি এবং মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডির সাফল্যের কথা স্মরণ করেন। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তা এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটসহ ডিএমপি, সিএমপি এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্টকে জড়িয়ে ধরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এসে স্যালুট ও হাত মেলাতে চাচ্ছেন। এ সময় তারেক রহমান তাকে কাছে টেনে নিয়ে কোলাকুলি করেন এবং হাসিমুখে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য AZM Zahid Hossain। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।” এরপর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।