দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোরে যুবদলের দুই নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সদর উপজেলা যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির ওয়াসিম এবং একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য জাকির হোসেন জিকো দফাদার। সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার রাতে শামীম কবির ও জাকির হোসেন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের শানতলা এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক খোলা তেল সংগ্রহ করেন এবং পরে তা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।
যশোর-মাগুরা মহাসড়ক-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাত প্রায় ৩টার দিকে গাইদঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছর বয়সী কন্যা সেহেরিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনির স্ত্রী, ছেলে ও মা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-তে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা সবাই মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা প্রাইভেটকারটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্রুতগতির গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোরের অভয়নগরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইফতারের আগে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ছয়জন খুলনার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছেন। সূত্র জানায়, বুধবার রাতে ভাটপাড়া এলাকায় বিএনপির সমর্থক আশিকের সঙ্গে জামায়াতের সমর্থক সাত্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের কর্মী ছাত্তার গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল বের করলে বিএনপির কর্মীরা প্রতিবাদে সমবেত হন। এরপর সংঘর্ষ শুরু হয়। আহতদের মধ্যে বিএনপির মাহফুজুর রহমান ইউছুফ, ইকবাল শেখ, খালিদ শেখ, জাকির হোসেন ও শাহীন শেখ রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ইকবাল শেখ ও খালিদ শেখকে। জামায়াতে ইসলামীর আহতদের মধ্যে বোখারী মোল্যা, আবুল বাশার, মো. জাহাঙ্গীর হেসেন, আশরাফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও আহাদ আলীকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভয়নগর উপজেলা জামায়াতের আমির সরদার শরীফ হুসাইন অভিযোগ করেন, বুধবার তাদের কর্মী ছাত্তারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়, যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মিছিল বের করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু অভিযোগ করেন, জামায়াতের মিছিল শেষে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধ রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় মারামারি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের অভয়নগর উপজেলা-এর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিএনপির সমর্থক আশিক ও জামায়াত সমর্থক সাত্তারের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় মারামারি হয়, এতে সাত্তার আহত হন। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শের আলীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হলে, আসরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জামায়াতের মাসুদ কামাল, বুখারী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহাদ মোল্লাসহ চারজন আহত হন। বিএনপির ইকবাল, খালিদ শেখ, ইউসুফ হোসেন ও ফোরকানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের টহল দল ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বর্নি গ্রামে এক ভূমিহীন কৃষকের লিজ নেওয়া আড়াই বিঘা জমির শসাক্ষেত রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহর আলী। বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহর আলী অন্যের জমি লিজ নিয়ে শসা আবাদ করেছিলেন। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছিল এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পুরো ক্ষেতের গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহর আলী বলেন, অত্যন্ত কষ্ট করে লিজ নিয়ে আবাদ করেছিলেন তিনি। ফল ধরার সময়েই সব গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনী খাতুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মোহর আলী একজন ভূমিহীন কৃষক। নিজের বসতভিটা ছাড়া তার আর কোনো জমি নেই এবং তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকা অবস্থায় যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- নূরজাক সরদারের ছেলে আব্দুল কাদের (৪২), আব্দুল বারিকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫) এবং সুলতান আউলিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের (৪০)। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন এবং একজন আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ননী ঢালির ছেলে প্রবাসী জাকির ঢালির বাড়িতে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের গর্ত খননের সময় কোদালের আঘাতে মাটির নিচে আগে থেকে পুঁতে রাখা বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবু তালেব বলেন, ভোটের এক সপ্তাহ আগে মাটির নিচে বোমা থাকলে ভোটকেন্দ্রে মানুষ যেতে ভয় পাবে।রফিকুল ইসলাম বলেন, আগেও এখানে বোমা বানানোর ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণ পরিষ্কারভাবে মানুষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য নির্দেশ করে। প্রশাসনকে অবশ্যই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এই ধরনের বিস্ফোরণ শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং জনমনে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির লক্ষণ। অতীতে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের আগে সহিংসতার ঘটনা জনমনে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোমাটি কে বা কারা পুঁতে রেখেছিল এবং এর পেছনে নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। হাসনাত বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে যাবো। বার বার যাবো। এই জুলাই যোদ্ধারা, যারা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে এসেছে, তাদেরকে ভাট দখলের ভয় দেখায়েন না। যারা ভোট দখল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমাদের ছাত্র শক্তি ও শিবিরের ভাইয়েরাই যথেষ্ট। সমাবেশে উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সন্তান নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে আপনারা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, সেভাবে এই শাপলা কলিকে জেতানোর জন্য ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে নাস্তা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের আচলে পরম মমতায় আমাদের আগলে রাখবেন। যারা মা-বোনের কাপড় খুলে ফেলতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে লাল কার্ড দেখাবেন। যারা আপনাদের বিবস্ত্র করতে চাই, তারা ক্ষমতায় এলে সমগ্র বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে। যারা আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চাই, মাথার হিজাব খুলে ফেলতে চাই, তাদের ভোট দিয়ে জবাব দেবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সামনে বলছেন, আপনাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, আপনাদের কোনো হ্যাকিং হয়নি। বাঁচার জন্য আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। যারা নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারে, তারা নির্বাচনের পরে কী পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে—তা সহজেই অনুমেয়।’ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার উপশহর কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। সে কারণেই দলটির শীর্ষ নেতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন সেই দলই আবার নিজেদের নারী কর্মীদের গ্রামে গ্রামে পাঠাচ্ছে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের জন্য। তিনি অভিযোগ করেন, হয়তো কাউকে সামান্য অর্থও দেওয়া হতে পারে, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরাও ঘর থেকে বের হয়ে দলের কাজে অংশ নেন। সে ক্ষেত্রে তাদের দলের নেতারা নারীদের সম্পর্কে কী ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, সে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। তারেক রহমান ইসলামের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী ও সফল ব্যবসায়ী নারী। বদরের যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদের ব্যবস্থাপনা তিনি করেছিলেন। একই যুদ্ধে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও হজরত আয়েশা (রা.)–এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, যা আজকের নার্সিং ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ। তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামের এক নেতা বাংলাদেশের কর্মজীবী নারী, মা ও কন্যাদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এভাবে অবমাননাকর ভাষায় চিহ্নিত করে, তাদের কাছ থেকে জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারে থাকাকালে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের একজন মা বা গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশ কখনো এগোতে পারবে না। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই কেবল দেশ এগোবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, এখন আবার একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ উদ্দেশ্যে জামায়াত তাদের লোকজনকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহে পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভোট গণনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট গণনায় দেরি হওয়ার অজুহাতে কেউ যদি সুযোগ নিতে চায়, তাহলে তা প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার ও ভোট গণনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনসভায় তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। কৃষিকার্ডের মাধ্যমে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। যুবক-যুবতীদের জন্য আইটি পার্ক স্থাপনসহ কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারে এলে যশোরের উলাশী খাল পুনঃখননসহ সারাদেশে হাজার হাজার খাল খনন করে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে এবং জিয়াউর রহমানের আমলে চালু ‘জিকে প্রকল্প’ পুনরায় কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন। মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার—মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের। ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনসভার শেষ পর্বে তিনি যশোরের ছয়টি আসনসহ বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার ২২টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।