দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাসন কাটিয়ে ইরানের শাসনভার গ্রহণে সরাসরি প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটলে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নির্বাসিত যুবরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তায় জানান, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’ বা অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের কাজ শুরু করেছেন। পাহলভির মূল লক্ষ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের পতন হওয়ার সাথে সাথেই যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই কাঠামো দেশের শাসনভার বুঝে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ। তিনি বর্তমানে যোগ্য সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাহলভির দাবি, এমন ব্যক্তিদেরই এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা খুব অল্প সময়ে ইরানে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় রাজনীতির আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতে অনেক বিক্ষোভকারীকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই জনমতকে কাজে লাগিয়েই রেজা পাহলভি এখন সরাসরি ক্ষমতার হাল ধরার সাহসী ঘোষণা দিচ্ছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও এর ফলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহের স্ত্রী ফারাহ পাহলভি। মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিজে থেকেই একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটায় না। এ বিষয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ফারাহ পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণের ঐক্য এবং তারা কতটা সংগঠিতভাবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে এগোতে পারে। ৮৭ বছর বয়সী এই সাবেক সম্রাজ্ঞী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর স্বামী শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই সময় থেকে তিনি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ইরানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়। ফারাহ পাহলভি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলকে ইরানিদের মৌলিক অধিকার নেতা নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। তবে সেই সমর্থন যেন ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া হয়। তিনি ইরানের বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রতিও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সহিংসতা ও রক্তপাত এড়ানো যায়। এর আগে জানুয়ারিতে তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কঠোর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন অভিযানে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। এদিকে ইরানের ইসলামি সরকারের পতন ঘটলে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে সামনে আনছেন ফারাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতকে বিভাজনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তাও দেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আর ইরানে ফিরে যাননি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভী। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি খামেনির মৃত্যুকে ইরানের জনগণের জন্য ‘স্বাধীনতার সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। লেখার শুরুতেই পাহলভী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানিদের উদ্দেশে যে মন্তব্য করেছেন“তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে” তা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। পাহলভীর মতে, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত উসকে দিয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে তাঁর ভাষায়, সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে দেশের ভেতরে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় বহু প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি অমানবিক বলে অভিহিত করেন। ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে পাহলভী একটি প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা উচিত। এরপর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তিনি আরও লেখেন, “ইতিহাস খুব কম সময়ই তার মোড় ঘোরার মুহূর্ত আগাম জানায়। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব ও সংহতি একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।” ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভী পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে রেজা পাহলভীর সম্ভাব্য ভূমিকা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্লেষণ চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।