নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা এখন স্বপ্নের মতো, ডাউন পেমেন্ট জমাতেই লাগতে পারে প্রায় ২০ বছর
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্কে নিজের একটি বাড়ি কেনা এখন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক শহরের গড় আয়ের একজন বাসিন্দার একটি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২০ বছরের সঞ্চয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম আয়ের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি বছর তার আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে সঞ্চয় করেন, তাহলেও একটি সাধারণ বাড়ির ২০ শতাংশ প্রাথমিক অর্থ জোগাড় করতে তার প্রায় দুই দশক সময় লাগতে পারে।
স্ট্রিটইজির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে একটি বাড়ি কিনতে প্রাথমিক অর্থ হিসেবে প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ডলার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও শিক্ষাঋণের খরচ বহন করার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয় করা অধিকাংশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং ভাড়াবাড়ির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ভাড়ার বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে বাড়ি কেনা কঠিন হলেও ভাড়ার বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাড়াবাড়ির খরচও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ফলে যারা বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাদের অনেকেই উচ্চ ভাড়ার চাপ সামলে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ ইয়র্কে বুকে ব্যথা নিয়ে ইমার্জেন্সি রুমে যাওয়ার সময় হাসপাতালের বিলের চেয়ে জরুরি হলো দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া। তবে চিকিৎসার পর কত টাকা রোগীকে দিতে হবে, তা বুঝতে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ, হাসপাতালে থাকার স্ট্যাটাস, অ্যাম্বুলেন্সের বিল এবং ফলোআপ পরীক্ষার নিয়ম জানা প্রয়োজন। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাঠকদের জন্যও এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চারটি ভুলের কারণে সবার ১০ হাজার ডলার বিল আসে, এমন নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। হাসপাতালের মোট চার্জ এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাব শেষে রোগীর নিজের পকেট থেকে দেওয়ার টাকা এক বিষয় নয়। বুকে নতুন বা উদ্বেগজনক ব্যথা, চাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করার পরামর্শ দেয়। ফেডারেল ইমার্জেন্সি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড লেবার অ্যাক্ট অনুযায়ী, আইনটির আওতাধীন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও প্রয়োজনীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং এবং জরুরি অবস্থা স্থিতিশীল করার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার চিকিৎসার সব খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ করে দেয় না। প্রথম বিষয় হলো, আউট অব নেটওয়ার্ক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা নিলেই রোগীর ওপর পুরো বিল চাপানো যায় না। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বেসরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল থেকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণভাবে রোগীর প্রযোজ্য ইন নেটওয়ার্ক কোপে, কোইন্স্যুরেন্স ও ডিডাক্টিবল থাকতে পারে। তাই ফিডেলিস, হেলথফার্স্ট বা মেট্রোপ্লাসের কার্ড থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই পুরো বিল আউট অব নেটওয়ার্ক হবে, এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। কভারেজ বুঝতে কোম্পানির নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্ল্যান ও চিকিৎসার ধরন দেখতে হবে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের নিজস্ব সুরক্ষা ও নিয়ম রয়েছে। দ্বিতীয় বিষয় হলো, হাসপাতালে রাত কাটানো আর ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি হওয়া এক নয়। মেডিকেয়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবজারভেশনে থাকা রোগী আউটপেশেন্ট হিসেবে গণ্য হতে পারেন, এমনকি তিনি হাসপাতালে রাত কাটালেও। এই স্ট্যাটাস চিকিৎসার খরচ ও কভারেজে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগী বা পরিবারের সদস্য চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাঁকে ইনপেশেন্ট হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে, নাকি অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে অবজারভেশন মানেই ইন্স্যুরেন্স চিকিৎসার খরচ দেবে না, এমন নয়। মেডিকেয়ার পার্ট বি অনেক আউটপেশেন্ট সেবা কভার করে। নিজের প্ল্যানের নিয়ম এবং হাসপাতালের দেওয়া নোটিশ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। তৃতীয় বিষয় হলো অ্যাম্বুলেন্সের বিল। ফেডারেল নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্টের সাধারণ বিলিং সুরক্ষা গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের সম্পূর্ণ চার্জ নিজে দিতে হবে। ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ও প্রযোজ্য অন্যান্য নিয়ম অনুযায়ী রোগীর দায় নির্ধারিত হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিল এলে কোন সংস্থা সেবা দিয়েছে, ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম জমা পড়েছে কি না এবং রোগীর অংশ কত, তা সংশ্লিষ্ট বিলিং অফিস ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে জানতে হবে। হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স অনুমোদিত হলেই আলাদা অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানির বিলও মাফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চতুর্থ বিষয় হলো ফলোআপ পরীক্ষা কোথায় এবং কখন করা নিরাপদ। চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা যায়, পরবর্তী পরীক্ষা আউটপেশেন্ট ক্লিনিকে করা সম্ভব কি না এবং কত দিনের মধ্যে তা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যথা কমেছে বা প্রাথমিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে বলে নিজে থেকে হাসপাতাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বুকের ব্যথার মূল্যায়নে চিকিৎসকেরা উপসর্গ, পরীক্ষার ফল এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনা করেন। কম ঝুঁকির রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি অতিরিক্ত পরীক্ষা সবসময় প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিতে হয়। স্ট্রেস টেস্ট কোথায় করালে নির্দিষ্ট কত টাকা বাঁচবে, তাও সবার জন্য এক নয়। চিকিৎসা শেষে বড় বিল এলে খরচের বিস্তারিত বিবরণ বা আইটেমাইজড বিল চাওয়া এবং ইন্স্যুরেন্সের হিসাবের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা কার্যকর পদক্ষেপ। কোন সেবার জন্য চার্জ এসেছে, ইন্স্যুরেন্স কত দিয়েছে এবং রোগীর কত দেওয়ার কথা, তা পরিষ্কার করতে হবে। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য পৃথক বিলও আসতে পারে। জরুরি চিকিৎসায় অপ্রত্যাশিত আউট অব নেটওয়ার্ক বিল পেলে হাসপাতাল ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে বিল পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা যায়। নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছেও এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া যায়। বিল উপেক্ষা না করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিল পরিশোধে অসুবিধা হলে হাসপাতালের ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে হবে। নিউইয়র্কের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য রোগীদের সহায়তা নির্ধারণে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি বিবেচিত হয়; ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীরা নির্দিষ্ট শর্তে সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। তাই বার্ষিক আয় ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলেই সবার সব বিল মাফ হবে, এমন নিয়ম নেই। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে কল করে ৩ নম্বর অপশন নির্বাচন করা যায়। তাদের সহায়তার আবেদন পর্যালোচনাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধ করতে বলা হবে না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
চীনে ৩০ কোটি ডলারের সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
শরতের মনোরম পরিবেশে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে আসতে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি ভ্রমণ প্যাকেজ সামনে এসেছে। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট ট্রেনে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি যাতায়াত, হোটেলে থাকা এবং শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ নিয়ে এই রাউন্ডট্রিপ প্যাকেজের মেয়াদ ছয় দিন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজটির মূল্য শুরু হচ্ছে ৭৪৯ ডলার থেকে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিক্রেট আটলান্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে মোট তিন রাত হোটেলে থাকার পাশাপাশি দুই রাত আমট্রাক ট্রেনে কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত যাতায়াত হবে আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুটে। ফলে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ সময়ের হাইওয়ে ট্রাফিকের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনেই পূর্ব উপকূলের শরৎকালীন দৃশ্য উপভোগ করে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সুযোগ থাকছে। প্যাকেজের আরেকটি আকর্ষণ হলো নিউইয়র্ক সিটির বহুদিনের হপ-অন, হপ-অফ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ। এর আওতায় ইউনিয়ন স্কয়ার, রকফেলার সেন্টার, লিটল ইতালি, চায়নাটাউন, সোহো, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় স্থান দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে যারা প্রথমবার নিউইয়র্ক ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণগুলো একসঙ্গে দেখার সুবিধা তৈরি হচ্ছে। শরৎকালে এই ট্রেনযাত্রার বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকার পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দৃশ্য। শরতের পাতার রঙ বদলের সময় ট্রেনে ভ্রমণ করলে রাস্তার পরিবর্তে জানালার পাশ থেকে দীর্ঘ পথের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আমট্রাকের ক্রিসেন্ট রুট আটলান্টা ও নিউইয়র্কের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীসেবা পরিচালনা করে এবং আমট্রাক ভ্যাকেশনস বিভিন্ন শহরকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজও তৈরি করে। তবে ৭৪৯ ডলারের মূল্যটি সর্বনিম্ন বা শুরু মূল্য। নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ, আসন, হোটেলের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য বুকিং শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৭৪৯ ডলারের মূল্যকে সব তারিখের জন্য নির্ধারিত মূল্য হিসেবে না দেখে প্যাকেজটির প্রাথমিক মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে শরৎকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পরিবার, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্য তাই এই প্যাকেজটি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক একটি বিকল্প হতে পারে। ছয় দিনের রাউন্ডট্রিপে ট্রেনযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নিউইয়র্কের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান ঘোরার সুযোগ থাকায় একই ভ্রমণে যাতায়াত ও থাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে সোয়া লাখ মানুষ
২৮ নতুন মুখ, ১৫০ অতিথি, সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল মিলনমেলা
মেরিল্যান্ডে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দিলান, সন্ধান চায় পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২ হাজার ৩০০ ডলার মূল্যের একটি 'রোলেক্স সাবমেরিনার' ঘড়ি কেনার চেষ্টার অভিযোগে আলিনা অ্যারেনসিবিয়া নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে বোকা রেটন এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে অভিনব এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি এই ঘটনার পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের আলোচনায় আসে। জানা যায়, ওই নারী দোকানে গিয়ে ঘড়িটি কেনার জন্য তাঁর আইডি ও পেমেন্ট কার্ড জমা দেন। কার্ডের ওপর মুদ্রিত নামের সঙ্গে আইডি কার্ডের তথ্যের আপাত মিল থাকলেও, দোকানের সিস্টেমে আইডি কার্ডটি স্ক্যান করতেই ভিন্ন নাম ও ঠিকানা বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় ওই স্মার্ট কর্মী বোকা রেটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে ‘এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং কার্ডটি নিজের বলে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টাও করেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি পোর্টেবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার নিয়ে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার দিয়ে হাতের ছাপ নেওয়ার পরই ওই নারীর আসল পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পাম বিচ কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর আসল নাম আলিনা অ্যারেনসিবিয়া। প্রতারণার কাজ শেষে দ্রুত পালানোর জন্য তিনি ‘লেনা’ ছদ্মনামে একটি উবারও ডেকে রেখেছিলেন। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই উবার চালককে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। সব প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আলিনাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র রাখা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টির রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার করে জামিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহর হিসেবে নিউইয়র্কে ‘ক্লিক-টু-ক্যানসেল’ নিয়ম, সাবস্ক্রিপশন বাতিল হবে এক ক্লিকেই
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটির বেশি প্রবীণকে এককালীন ৯০ ডলার দিচ্ছেন ট্রাম্প, মেডিকেয়ারের প্রিমিয়াম কমাতে উদ্যোগ