সৌদি আরব

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ রাতে দলের মিডিয়া টিম থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ব্যক্তিগত এই ধর্মীয় সফরের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখার পর তিনি এই সংক্ষিপ্ত সফরে যাচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের তীব্র উত্তেজনার মাঝে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার দেশীয় উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সম্মেলন।  সোমবার এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই চতুর্মুখী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্রশমন করা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে রিয়াদের প্রদর্শিত "অভাবনীয় ধৈর্যের" ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লে. জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক। কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও এই সংকট সমাধানে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চালানো 'ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি' বা নেপথ্য কূটনীতির বিস্তারিত সৌদি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শরিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান সৌদি আরবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। চলতি মাসে রিয়াদের পর এটিই চার দেশের দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এখন ১৫ দফার একটি ডি-এস্কেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমন ফ্রেমওয়ার্ক বিবেচনার জন্য রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান। ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই নিবিড় আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ: পাকিস্তানে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।   উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ
সৌদিতে হামলায় মার্কিন বিশেষ নজরদারি বিমান ধ্বংস করলো ইরান

সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে The Wall Street Journal জানিয়েছে, গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডারসমৃদ্ধ বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের একটি বিমান, যা আগাম সতর্কতা ও আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হামলার পর প্রকাশিত ফুটেজে বিমানটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।   আরব কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, একই হামলায় একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ই-৩ সেন্ট্রি বিমান উন্নত রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এই মডেলের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল মাত্র ১৬টি। অতীতে এ ধরনের বিমানের সংখ্যা প্রায় ৩০টি ছিল।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বিমান সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে এর বিকল্প হিসেবে ই-৭ ওয়েজটেইল মডেলের বিমান ব্যবহার করতে হয়, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার।   এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট ইমেজ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে একজন নিহত

সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলা শুক্রবার ঘটে এবং এতে বিমানঘাঁটির কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসের কাছে মোতায়েন সেনারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করেন। হোয়াইট হাউস জানায়, সৌদি আরবে বর্তমানে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন, যারা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা এবং সামরিক বিমানের কার্যক্রমে সহায়তা দেন।   ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে গত দুই দশক ধরে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বিদ্যমান। ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনের আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালু করে। এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিহত হন।   যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এর আগে ১ মার্চ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলার ফলে কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হন, যার মধ্যে সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এপি

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেন ও সৌদির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারে ইউক্রেন ও সৌদি আরব একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং ইউক্রেন পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় হয়।   জেলেনস্কি তার এক্স পোস্টে উল্লেখ করেন, সৌদি আরব সফরের অংশ হিসেবে জেদ্দায় বৈঠকের আগে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন তার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত।   সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ মার্চ) জেদ্দা ত্যাগ করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানানোর জন্য মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।   উল্লেখ্য, ইরান-সংক্রান্ত সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন জেলেনস্কি। বিশেষ করে ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে, এবং বর্তমানে এসব দেশে ইউক্রেনের দুই শতাধিক সামরিক প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হা/মলার দাবি

সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিকঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।   এ ছাড়া কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সেনা ও বিমানঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলার কথা বলা হয়েছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে জেলেনস্কি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার লক্ষ্যেই এই সফর।  প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে রয়েছেন ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান রুস্তম উমেরভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, "সৌদি আরবে পৌঁছেছি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। যারা আমাদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে আগ্রহী এবং আমাদের সমর্থন করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।" সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইউক্রেন তাদের নিজস্ব 'এয়ার ডিফেন্স' বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে। কিয়েভ ইতিমধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি এই সহায়তার বিনিময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরবের আর্থিক সমর্থন এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন। মূলত 'প্রযুক্তি ও অর্থ'-এর বিনিময়ে নিরাপত্তা সহযোগিতার এই নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ইউক্রেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-কুয়েতসহ আরব দেশগুলোতে ইরানের ড্রোন হামলা, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বুধবার সকালে সৌদি আরব ও কুয়েত জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।   এছাড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইনও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে, এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে আঘাত হানে। পরে সেই হামলার জন্য কিছু দেশের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছিল তেহরান।   তবে সাম্প্রতিক হামলা কেন অব্যাহত রয়েছে—এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-আশার বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার মতে, ইরান অঞ্চলের নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তিকে দুর্বল করতে চাইছে।   তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস খাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতে বিঘ্ন ঘটাতে পারলে বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব পড়বে, যা ইরানের কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হতে পারে।   একই সঙ্গে, এই হামলার মাধ্যমে আরব প্রতিবেশীদের ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইরানে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠাতে ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের প্রবল চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসাহিত করছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপে সালমান বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সৌদি যুবরাজের আশঙ্কা, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। এমনকি বর্তমান সংঘাত থেমে গেলেও ইরান ভবিষ্যতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হুমকি অব্যাহত রাখতে পারে। জনসম্মুখে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও পর্দার আড়ালে সালমানের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি চান, মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো দখল করে এবং সরাসরি স্থল অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের শক্তি চিরতরে নিঃশেষ করে দিক।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই চাপ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা নিরসনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সালমানের পরিকল্পনায় সাড়া দেন কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের আল-খারজ অঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র 'খাতাম আল-আনবিয়া' সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চলমান 'ট্রু প্রমিজ ৪' (True Promise 4) অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকেই এই অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   ইরানি গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, উন্নত মানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কিছু অসমর্থিত সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজে ঘাঁটির ভেতরে আগুনের ধোঁয়া দেখা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।   একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই বহুমুখী ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতির ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
(বাঁ থেকে) মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রিয়াদ, সৌদি আরব; ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালের এক্
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক-সৌদি-মিসর-পাকিস্তানের আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চার দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান—প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক করেছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদ-এ একটি সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশগুলোর সক্ষমতা একীভূত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।   সূত্রগুলোর মতে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য কোনো সামরিক জোট গঠন নয়; বরং প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলা। তুরস্ক গত বছর থেকেই এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।   বৈঠক শেষে হাকান ফিদান বলেন, “অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলো কীভাবে নিজেদের শক্তি একত্র করে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা আমরা পর্যালোচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্যোগেই এগিয়ে আসা জরুরি, নতুবা বাইরের শক্তি তাদের স্বার্থ অনুযায়ী সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে।   আলোচনায় ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার বিষয়ও উঠে আসে। যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার সমালোচনা করা হলেও, ইসরায়েলের ভূমিকা সীমিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নির্দিষ্ট ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং মিসরের সামরিক উপস্থিতি—এই চার দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি
ইরানের ৫ কূটনীতিককে বহিষ্কার, দেশ ছাড়তে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সৌদির

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার কালো মেঘ। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সৌদি আরব। ইরানের সামরিক অ্যাটাশে-সহ মোট পাঁচজন দূতাবাস কর্মীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদ। শনিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রিয়াদের অভিযোগ, ইরান ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শুধু সৌদি আরব নয়, বরং গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (GCC) ভুক্ত অন্যান্য দেশসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রে ইরানের ‘আগ্রাসী’ আচরণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি প্রশাসনের দাবি, ইরানের এই ভূমিকা বেইজিং চুক্তির শর্ত এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলোর সরাসরি বরখেলাপ। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রধান সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং আরও তিনজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক। সৌদি প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির দিকে যাবে। এমনকি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই বৈরিতা পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ক্ষাপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে।   সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।   এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
গত শুক্রবার দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালায় ইসরায়েল।
সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বললো সৌদি আরব

সিরিয়ার সরকারি সামরিক শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল, সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, তারা সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   দামেস্কের মতে, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে।   সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো। সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।   রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
সৌদিতে ইরানি হামলায় নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে
সৌদিতে ইরানি হামলায় নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে

সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের আল-তোয়াইক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মোশারফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে এসে পৌঁছেছে।   সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (এসভি ৮০৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মরদেহ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারকে তা হস্তান্তর করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।   নিহত মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মো. সুরজত আলীর ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে আট বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। গত ৮ মার্চ স্থানীয় সময় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেনসহ তিনজন নিহত হন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে মোশারফ তার বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে ঈদ পালন
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার ২০ গ্রামে ঈদ পালন

সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে সাতক্ষীরার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ এবারও একদিন আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় তারা ঈদের জামাতে অংশ নেন।   এদিন কুশখালী বাউকোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।   নামাজ শেষে খুতবায় ধর্মীয় বক্তব্যে জানানো হয়, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে তারা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তারা রমজান শুরু করেছিলেন একদিন আগে, তাই ঈদও পালন করছেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। এ বছর অন্যান্য সময়ের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতিও ছিল বেশি।   খুতবায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যেন সবাই একসঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।   স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ বৃহস্পতিবার দেখা না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।   এই উপলক্ষে সৌদি আরব-এর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববী-তে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এর বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে কিছু দেশে খোলা ঈদগাহে জামাতের আয়োজন সীমিত বা বাতিল করা হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আজই অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।   অন্যদিকে, এশিয়ার বেশ কিছু দেশ—যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া ও মরক্কো—শাওয়ালের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রিয়াদ বৈঠকের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ১২ মুসলিম দেশের

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একজোট হয়েছে অঞ্চলের প্রভাবশালী ১২টি রাষ্ট্র। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক জরুরি বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। কাতার, আজারবাইজান, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিতে তেহরানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ইরানকে অবশ্যই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর। মন্ত্রীরা ইরানকে সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত করা বা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথগুলোতে কোনো ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয় বলে তারা একমত হন। একই বৈঠকে মন্ত্রীরা লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা লেবাননের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় দেশগুলো একযোগে ইরানকে সংযত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্স
কাতার-সৌদি-আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের আঘাত

ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে, যেখানে জ্বালানি স্থাপনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   এর আগে, গত ১৮ মার্চ ইরানের বুশেহর অঞ্চলের উপকূলবর্তী আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালিতে নৌবাহিনীর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড়, যেখানে ইরান ও কাতার যৌথভাবে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে।   এই হামলার পর তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে কাতার সতর্ক করে জানায়, জ্বালানি খাতে আঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কিছু তেল ও গ্যাস স্থাপনার আশপাশে অবস্থানরত মানুষদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানায়। এরপর রাতেই বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কাতারের রাস লাফফান শিল্পাঞ্চল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগারের কথা বলা হয়েছে। কাতার জানায়, হামলার ফলে রাস লাফফান এলাকায় আগুন লাগে এবং কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়, যদিও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের একটি গ্যাসক্ষেত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।   এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ইরান মূলত মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করলেও বাস্তবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।   উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনার সময় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন আরব ও ইসলামিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে ছিলেন, যেখানে চলমান সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।   হামলার পর কাতার এটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এবং দেশে অবস্থানরত ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে আটকে পড়া প্রবাসীরা সৌদি হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন: কুয়েত দূতাবাসের নির্দেশনা

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে যাত্রায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে দেশফেরত প্রবাসীরা সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন।   দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রবেশের জন্য প্রবাসীদের কাছে বৈধ ভিজিট বা ট্রানজিট ভিসা থাকা আবশ্যক। ট্রানজিট ভিসায় সৌদি প্রবেশের পর চার দিনের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। সুতরাং, প্রবাসীদেরকে আগে বাংলাদেশের ফ্লাইটের টিকেট নিশ্চিত করতে হবে।   সৌদি আরবের ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হলে ksavisa.sa ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছেন, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে যারা বাংলাদেশে যেতে চান, শুধুমাত্র তাদের জন্য ট্রানজিট ভিসার অনুমোদন দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   প্রবাসীদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর দূতাবাস সৌদি আরব প্রবেশের অনুমোদন নিশ্চিত করে প্রার্থীদের অবহিত করবে। এরপর আবেদনকারীরা নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় স্থলপথে কুয়েত–সৌদি সীমান্ত পার হয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে সৌদি প্রবেশ করবেন এবং চার দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করবেন।   দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আবেদনকারীরা আগামী ২১ মার্চ থেকে যে কোনো কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দূতাবাসের ১৩ নম্বর রুমে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0