সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সৌদি আরব

সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।   ওই সপ্তাহের অভিযানে আটক হয়েছেন ১৩ হাজার ৬২৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জনকে আবাসনবিধি, ৩ হাজার ৫৩১ জনকে সীমান্ত নিরাপত্তাবিধি এবং ৩ হাজার ৫০৪ জনকে শ্রমবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।   অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ১৯৭ জনকে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কাজে সহায়তার অভিযোগে আটক হয়েছেন ২২ জন।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ভ্রমণ নথির জন্য ১৮ হাজার ৫৪৯ জনকে তাঁদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৮১৫ জনের ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।   সৌদি আরবে এমন অভিযান নিয়মিত চলছে। এর আগের সপ্তাহে, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, ১২ হাজার ৬৩৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তার আগের সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হয় ১২ হাজার ৫৭ জনকে।    সর্বশেষ ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দেশভিত্তিক পরিচয় সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা জানা যায়নি।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। ছবি: সংগৃহীত
২৮০ কেজি সোনায় মোড়ানো কাবার দরজা তৈরির কারিগর থাইল্যান্ডের আবদুল্লাহ এখন সৌদি বাদশাহর অতিথি

১৯৭৯ সালে পবিত্র কাবার বর্তমান দরজা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন থাইল্যান্ডের নাগরিক আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব। বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেই ঐতিহাসিক কাজের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। সৌদি আরবের বাদশাহর অতিথি হিসেবে তিনি দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন জানিয়েছে।   আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় থাইল্যান্ড থেকে তিনজন কাঠমিস্ত্রি ও তিনজন স্বর্ণকারকে সৌদি আরবে নিয়ে আসা হয়েছিল। আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তিনি দলের অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছয় কারিগরের কাজের সমন্বয়ও করেন। মক্কার প্রধান স্বর্ণকার শেখ আহমদ ইব্রাহিম বদর তাকে এই কাজে যুক্ত করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। দরজার নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিরীয় স্থপতি মুনির আল-জুন্দি।   কাবার পুরোনো দরজার মাপ নেওয়ার পর মক্কায় একটি বিশেষ কর্মশালায় নতুন দরজা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথমে কাঠের কাঠামো তৈরি করা হয়, পরে তাতে স্বর্ণের কাজ করা হয়। সৌদি আরবের সরকারি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট সৌদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে বাদশাহ খালিদের শাসনামলে কাবার দরজা পরিবর্তন করা হয় এবং এতে ২৮০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছিল। দরজাটি তৈরিতে প্রায় ১২ মাস সময় লেগেছিল।   আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, দরজায় আল্লাহর ১৫টি সুন্দর নামও খোদাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি এক পাশে, ছয়টি অন্য পাশে এবং তিনটি ওপরের অংশে রাখা হয়। দরজায় কোরআনের আয়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফিও রয়েছে। সৌদি আরবের তথ্য অনুযায়ী, দরজার অলংকরণে উঁচু করে খোদাই করা নকশা, কোরআনের আয়াত এবং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামও রয়েছে।   দরজা স্থাপনের সময়টিও ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো দরজা সরিয়ে নতুন দরজা বসানোর কাজ চলার সময় নিচে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ করছিলেন। কারিগররা ওপরের অংশে কাজ করছিলেন, আর নিচে কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ চলতে থাকে। ১৩৯৯ হিজরির ২২ জিলকদ, যা ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে পড়ে, নতুন দরজাটি স্থাপন করা হয়।   বর্তমানে কাবার যে স্বর্ণখচিত দরজাটি দেখা যায়, সেটিই ১৯৭৯ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। সৌদি সরকারের তথ্যভিত্তিক সৌদিপিডিয়া বলছে, দরজাটিতে ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ২৮০ কেজি এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ। দরজাটি তৈরির জন্য বিশেষ কর্মশালা স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর নকশা ও অলংকরণে উন্নত কারুশিল্পের ব্যবহার করা হয়।   আবদুল্লাহ বর্তমানে সৌদি আরবে বাদশাহর অতিথি হিসেবে সফর করছেন। মদিনার একটি হোটেলে সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ১৯৭৯ সালের সেই কাজের স্মৃতিচারণ করেন। তার এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর কাবার বর্তমান দরজা তৈরির পেছনে থাইল্যান্ডের ছয় কারিগরের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন, সৌদিপিডিয়া

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাসা আনোজন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান প্রবাসী কর্মী আনোজন শিবরাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ ২২ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে রায়ের বিষয়টি জানান। তাঁর সরকার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।    শ্রীলঙ্কার কালমুনাইয়ের বাসিন্দা শিবরাসা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি মন্তব্যের পর ২০২৬ সালের ২ জুলাই তাঁকে আটক করা হয় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    মামলায় প্রথমে সৌদি আরবের একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। সাজা কমাতে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করেন। অন্যদিকে সাজা বাড়াতে আপিল করেন সৌদি কৌঁসুলি।    শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালত কৌঁসুলির আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত মন্তব্যটিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আগের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আগের জরিমানাটি বাতিল করা হয়।    শিবরাসার পরিবার তাঁকে রক্ষায় সরকারের সহায়তা চেয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনি ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহর কাছে ক্ষমা বা সাজা লাঘবের আবেদন জানাবেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    আপিল আদালতের রায়ের পরও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের, তালিকায় নেই ভারত
তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের, তালিকায় নেই ভারত

আগামী দুই মাসে তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। তবে এখন পর্যন্ত এই তিন দেশ সফরের সম্ভাব্য সূচিতে প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রথমে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর তিন থেকে চার দিনের হতে পারে। সফরটি সামনে রেখে ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।   জাপান সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে।   এরপর নভেম্বরে তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশটির আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন - কপ৩১। প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও এর আগে তারেক রহমানের কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।   তুরস্কের পর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।   সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণ কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   এদিকে সম্ভাব্য এই তিন দেশ সফরের তালিকায় ভারত না থাকলেও দিল্লি সফরের আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ সেপ্টেম্বর জানায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব তারা পায়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নিয়েও আলোচনা করছে। ফলে বর্তমানে ভারত সফর বাতিল হয়েছে বা হচ্ছে না - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কূটনৈতিক সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এখন সামনে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তিন সফরের প্রস্তুতি এগোলেও তারিখগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের হামলার মুখে সৌদির তেলবন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের দুটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথটি সচল রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।    ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফরাসি বাহিনীর কাজ হবে ইয়ানবুর স্থাপনা রক্ষা করা; কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়। কতজন সেনা পাঠানো হবে, কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে কিংবা কবে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।    সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর। উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি পথে বিঘ্ন ঘটলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বাড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ানবু হয়ে তেল পরিবহনের পথে সাম্প্রতিক হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ফ্রান্স কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।    সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। তবে ব্রিটিশ সহায়তার ধরন ফ্রান্সের ঘোষিত ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা হলো, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করা।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যু দ্ধে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে নতুন করে এক সেনা কর্মকর্তার মৃ ত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে নি হ ত আরও এক মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ, মৃ ত্যুর সংখ্যা ১৯

সৌদি আরবে একটি অ-যু দ্ধসংক্রান্ত ফ্লাইটে গত সপ্তাহে নি হ ত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। মৃ ত্যুর পর তাকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্যাজুয়েলটি ডেটাবেস অনুযায়ী, তার মৃ ত্যুর পর অপারেশন এপিক ফিউরি এবং ওভারসিজ অপারেশনসের আওতায় মোট ১৯ জন মার্কিন সামরিক সদস্যের মৃ ত্যুর তথ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব হ তাহতকে দুটি পৃথক শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।   উইলকারসন কাতারের দোহায় ওভারসিজ অপারেশনসের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনায় শ’ এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উইলকারসনের মৃ ত্যু কোনো যু দ্ধসংক্রান্ত ঘটনার কারণে হয়নি। সৌদি আরবের উদ্দেশে পরিচালিত একটি অ-যু দ্ধ ফ্লাইটের সময় ঘটনাটি ঘটে। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে বা তার মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে ত দন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ত দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃ ত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   উইলকারসনের মৃ ত্যুর তথ্য বিদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত কার্যক্রমে সাম্প্রতিক হ তাহতের হিসাবের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পেন্টাগন অপারেশন এপিক ফিউরি এবং অন্যান্য ওভারসিজ অপারেশনের মৃ ত্যুর তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে।   বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে।   হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত।   তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক।   অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি। ছবি: সংগৃহীত
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ৪৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের অন্যতম মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম বিন আদেল আল-মাদানি মারা গেছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তিনি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়াহর সদস্য ছিলেন এবং বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের জন্য পরিচিত ছিলেন। সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সোমবার মসজিদুল হারামে ফজরের প্রথম আজানও দিয়েছিলেন শেখ ইব্রাহিম। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সৌদি ও উপসাগরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর শেষ আজানের একটি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি মসজিদুল হারামের ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিনের একজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ফজরের প্রথম আজানের দায়িত্ব পালন করেন। শেখ ইব্রাহিম বিশেষভাবে ফজরের আজান, তাকবির এবং ইমামের পেছনে মুকাব্বিরিয়াহ থেকে মুসল্লিদের কাছে তাকবির পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।   মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে তাঁর আজানে মদিনার নিজস্ব ধারা ও সুরের প্রভাব ছিল। পরে মক্কায় এসে তিনি মক্কার আজানের রীতিও আয়ত্ত করেন। পেশাগত জীবনের শুরুতেই আজানের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন শেখ ইব্রাহিম। পরে ১৪২৮ হিজরিতে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৪৩৯ হিজরিতে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পান।   মসজিদুল হারামে তাঁর প্রথম আজানের স্মৃতিও এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছিলেন শেখ ইব্রাহিম। হারামাইনের মুকাব্বিরিয়াহ নিয়ে একটি পডকাস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কাবা শরিফ তাওয়াফরত মুসল্লিদের সামনে নিজের কণ্ঠে আজান শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। পবিত্র এই স্থানে নিজের কণ্ঠে আজান দেওয়ার সুযোগকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদুল হারামে তাঁর দেওয়া আজান ও তাকবিরের বিভিন্ন রেকর্ডিং শেয়ার করতে দেখা যায়। হারামাইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আজানের বিষয়ে আগ্রহী অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।   সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজার নামাজ সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরে মক্কার ঐতিহাসিক আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বয়স ৪৮ বছর এবং অন্য একটি প্রতিবেদনে ৫১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বয়স নিশ্চিত করা হয়নি। তাই তাঁর নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ না করাই নিরাপদ।   মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির কণ্ঠ বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিদের কাছে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবিরের মাধ্যমে তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদের ইবাদতের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   সূত্র: সৌদি আরবের ওকাজ, আল-মদিনা, সৌদি প্রেস ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধে ইউরোপে নতুন সংকট, বিকল্পের সন্ধানে শোধনাগারগুলো
সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধে ইউরোপে নতুন সংকট, বিকল্পের সন্ধানে শোধনাগারগুলো

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর অন্তত দুটি ইউরোপীয় শোধনাগারকে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরামকো। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো সাধারণত মাসিক সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকা চুক্তির আওতায় সৌদি তেল কিনে থাকে।   তবে আরামকো তাদের জানিয়েছে যে, আগামী মাসের পরিকল্পিত সরবরাহগুলো আর হচ্ছে না। তিনটি পাম্পিং স্টেশনে হামলার কারণে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং বিঘ্নিত হওয়ায় এর আগেই ইউরোপীয় গ্রাহকদের সরবরাহ বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছিল সৌদি আরব।   সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো এখন তেলের বিকল্প উৎস খুঁজছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পোল্যান্ডের অরলেন বাতিল হওয়া সৌদি আমদানির ঘাটতি মেটাতে নর্থ সি বা উত্তর সাগর থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি আংশিকভাবে এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে আরামকো।   লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানিও বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সাথে চলমান লড়াইয়ের কারণে চলতি মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহারের বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জি-৭ জোটের একটি বৈঠক ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।   তিনি জানান, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিণতি। সাধারণ পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগে এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের দিকেই সবার বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে।   হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়।   ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না।   এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে।   এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।   এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।   সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।   কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব।   মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।   এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল।   এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।   মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা।   সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামবিরোধী’, বিতর্কিত হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মনোনয়ন এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, তখন হান্টের অতীতের ইসলাম ও শরিয়াহবিষয়ক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    হান্ট সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তার জীবনী অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আট বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাকে একবার যুদ্ধ মোতায়েনের সময় তিনি ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে দুই দফা ডিপ্লোম্যাটিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।    সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে জীবন কেমন হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা তার ইসলামবিষয়ক সতর্কতাকে ভয় ছড়ানো হিসেবে দেখছেন, তারা এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। সৌদি আরবে থাকার সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।    জানুয়ারি ২০২৬-এ স্টেকলবেক টুনাইট অনুষ্ঠানে হান্ট ইসলাম সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ওই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার হান্টের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।    কেয়ার ১৬ সেপ্টেম্বর সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যদের কাছে হান্টের মনোনয়ন অনুমোদন না করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি তার অতীতের বক্তব্যের মধ্যে ইসলামকে সমাজে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা, শরিয়াহ নিষিদ্ধ করার আহ্বান এবং মুসলিম ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে। এগুলো কেয়ারের নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন, হান্টের বিরুদ্ধে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    হান্টের এসব বক্তব্য নিয়ে ২০২৬ সালের টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হিউস্টন ক্রনিকলের কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসন অভিযোগ করেন, হান্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাদের প্রচারে ইসলাম নিয়ে ভয় তৈরি করছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কারও টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল।    সৌদি রাষ্ট্রদূত পদে হান্টের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় তার ইসরাইলপন্থী অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। একই সময়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কংগ্রেসে থাকাকালে হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে একটি প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন।    হান্ট ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ইসরাইলকে ‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান’ পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার এই অবস্থানও সৌদি আরবে সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।    তবে হান্টের মনোনয়নের পেছনে তার মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে দুই দফা দায়িত্ব পালন এবং ইরাকে সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে অঞ্চলটি সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে। হান্ট নিজেও মনোনয়ন পাওয়ার পর বলেছেন, সেনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এবার কূটনীতিক হিসেবে সেখানে ফেরার আহ্বান পেয়েছেন।    সৌদি রাষ্ট্রদূতের পদটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে খালি ছিল। হান্টের মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি রিয়াদে দায়িত্ব নেবেন এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুথি হামলা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।    হান্টের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হান্টকে সিনেটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েমেনেরহুতি বাহিনী
সৌদি আরবের অত্যাধুনিক এফ-১৫ ভূপাতিত করলো হুতি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।   হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।   তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়।   সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সৌরভ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে মিসাইল আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।    নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।    পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।    পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন।    সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।    সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন।    তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য।    সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন, আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি প্রতিরক্ষা

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।    জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান।    সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।    ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে।    সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মদিনায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান, মিলেছে ইউরেনিয়াম
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক, বড় খনিজ সম্পদের সন্ধান

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাতে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।  মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে এই সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সৌদি মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকরিকটিতে বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল মৃত্তিকা খনিজের ঘনত্ব বেশি এবং ইউরেনিয়ামেরও আশাব্যঞ্জক ঘনত্ব রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে, এমন নয়। ১১ কোটি টন হলো ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের আনুমানিক পরিমাণ। এই আকরিক থেকে ঠিক কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা যাবে বা তা বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  এই আবিষ্কার সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও খনিজ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সৌদি সরকার অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে।  এর আগে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, এই চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করবে এবং সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানির অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে।  চুক্তিটি ঘিরে অবশ্য পারমাণবিক বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ভবিষ্যতে সামরিক পারমাণবিক সক্ষমতার পথও সহজ করতে পারে। সৌদি আরব অবশ্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য বলে আসছে।  আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, সৌদি আরব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি ও একটি গবেষণা চুল্লি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সংস্থাটি এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীও বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাইরে বা গোপন কোনো স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে না।  ফলে জাবাল সায়িদের নতুন খনিজ সম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু ইউরেনিয়াম নয়, বিরল মৃত্তিকা খনিজের ক্ষেত্রেও কৌশলগত গুরুত্ব তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, উৎপাদনের সময়সূচি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা স্পষ্ট হতে আরও গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।   সোর্স: রয়টার্স, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়/সৌদি প্রেস এজেন্সি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। 

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধের দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক।   ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের মরুভূমিতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের

সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়।   হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
৯/১১ হামলায় নিহত স্বামী টম স্ট্রাডার নামের পাশে টেরি স্ট্রাডা। ছবি: সংগৃহীত
৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনগুলোর ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হামলার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন টেরি স্ট্রাডা। তাঁর স্বামী টম স্ট্রাডা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় নিহত হন।   টেরি স্ট্রাডা ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এ বিষয়ে মার্কিন তদন্তের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শুক্রবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক মার্কিন প্রশাসন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি আরবকে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন নিহতের স্বজনও সমর্থন জানান।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।   হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক ছিলেন। এ কারণেই হামলার পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশনের তদন্তে সৌদি সরকার হামলার অর্থায়ন করেছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবও হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   তবে মার্কিন তদন্তে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধার নামের দুই হামলাকারী ২০০০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়োমির যোগাযোগ হয়।   বায়োমি তাঁদের বাসা খুঁজে পেতে, ব্যাংক হিসাব খুলতে এবং স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এতদিন এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বায়োমির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকে অনেকটা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।   প্রোপাবলিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে বায়োমির বাসা থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী জব্দ করেছিল। এর মধ্যে একটি হাতে আঁকা চিত্র ছিল, যা একটি বিমানের গতিপথের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন ঘুরে দেখার একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীরা মনে করেন, এসব তথ্য হামলার আগে বায়োমির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখায়।   প্রকাশিত এফবিআই নথিতে বায়োমির সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি সরকার ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   সৌদি নাগরিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এফবিআই পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন এনকোর’ নামে একটি তদন্ত চালায়। তদন্তকারীরা নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারের সঙ্গে বায়োমি এবং সৌদি কূটনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। তদন্তে এমন সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, যাতে সৌদি কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতা ফাহাদ আল-থুমাইরির সঙ্গে ওই দুই হামলাকারীর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে।   তদন্তকারীদের কিছু তথ্য অনুযায়ী, থুমাইরি হামলাকারীদের সঙ্গে বায়োমির পরিচয় ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপারেশন এনকোর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এফবিআইয়ের হাতে থাকা বিভিন্ন নথি নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে।   ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা করেছে। ২০১৬ সালে জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট, সংক্ষেপে জাস্টা, আইনে পরিণত হওয়ার পর এই ধরনের মামলা করার আইনি পথ আরও সহজ হয়।   ২০২৫ সালে মার্কিন জেলা বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালত সৌদি সরকারের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে পরিবারের উপস্থাপিত প্রমাণকে মামলা চালানোর পর্যায়ে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ম্যানহাটনে হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবারগুলোর আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলা এগিয়ে গেলে আরও নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে আসতে পারে। তবে মামলাটি কোনো পর্যায়ে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে না আসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।   ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও এর প্রভাব শুধু হামলার দিন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে।   ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে।   নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, ২৫ বছর পরও তাঁদের লড়াই শুধু অতীতের ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য। তাঁদের দাবি, ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০