তারেক রহমানের সরকারকে ক্ষমতায় আনা যে বিপ্লব, তা কোনোভাবেই একটি স্বৈরাচারের পরিবর্তে আরেকটি করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছিল না যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে। ইতিহাসে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের অধীনস্থতার অংশীদার হয়ে যায়। বাংলাদেশ, যা এখনো একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে, তাড়াহুড়ো করে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আরেকটি শক্তির প্রভাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচিত নন এমন এক তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যিনি এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেননি দেশকে এমন এক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছেন, যা জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করতে পারে। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade (ART) এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে সরকার “সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে এটি এক ধরনের আনুগত্যের প্রকাশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক প্রশ্ন বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫এ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না, বিশেষ করে যেগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ১৫ বছরের জ্বালানি নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের আমদানি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে “ডকট্রিন অব নেসেসিটি” বা ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে- যার মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়। তবে ইতিহাস বলছে, এই তত্ত্ব প্রায়ই সাময়িক ব্যবস্থাকে স্থায়ী করে তোলে। এই চুক্তির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক চাপ। বাংলাদেশকে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু চুক্তির মাত্র ১১ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক আরোপকে আইনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ, যে কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে, সেই কারণই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এমন এক সমস্যার সমাধানে বড় মূল্য দিয়েছে, যা হয়তো আইনগতভাবে টেকসইই ছিল না। গোপন শর্ত চুক্তির গোপন বা সূক্ষ্ম শর্তগুলো আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে “নন-মার্কেট ইকোনমি” দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পণ্য যেমন LNG, সয়াবিন ও বিমান ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের চুক্তি আধুনিক বিশ্বে সরাসরি দখলদারিত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক ও নীতিগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি। সংসদের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আগামী সংসদ এই চুক্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের উচিত এই চুক্তি পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া। বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, তা কোনোভাবেই আরেক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরতার জন্য ছিল না। যদি এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশকে এমন এক অবস্থায় পড়তে হতে পারে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু স্বাধীনতা থাকবে না। আব্দুল্লাহ রুবাইয়াত চৌধুরী একজন সমাজবিজ্ঞানী এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল নলেজ ইনিশিয়েটিভ-এর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোক্টর। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে: robin.chw@gmail.com। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব।
ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা দেশটির সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে অবিলম্বে অপসারণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারী এই দাবিতে সর্বশেষ যুক্ত হয়ে বলেন, "ট্রাম্প একটি বিধ্বংসী ও অবৈধ যুদ্ধ উসকে দিচ্ছেন এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার বক্তব্য সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।" এর আগে মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ট্রাম্পকে 'উন্মাদ' আখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার দাবি জানান। নিউ মেক্সিকোর মেলানি স্ট্যানসবারি এবং ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জো ওয়ালশও একই সুরে কথা বলেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং তিনি আরও হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারেন। মূলত মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, যদি প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অনুপযুক্ত হন, তবে মন্ত্রিসভা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মিলে তাকে সরিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত এই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তারা লিখিতভাবে সেটি কংগ্রেসকে জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট' হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের গত কয়েক মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বুধবার (২৫ মার্চ) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনমন্ত্রী জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান সংবিধান এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের 'জুলাই সনদ'-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে একমত পোষণ করেছেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে। পর্যালোচনার এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত জুলাই সনদের চেতনার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সরকারের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শ্রদ্ধার জায়গা। চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরপরই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “যে সংবিধান ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই সংবিধান আমরা চাই না।” বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদর উপজেলা শাখা। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যমান সংবিধান দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, এই সংবিধানের কাঠামোর মধ্য দিয়েই অতীতে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দল পুনরায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে, যা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ সময় অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের কাজ করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এখনো প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বন্ধ করা জরুরি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে। সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অভিষিক্ত হন। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার পদে বহাল থাকেন, যা এই পদের অনন্য সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য। স্পিকার কি এমপি বা মন্ত্রী থাকতে পারেন? এই প্রশ্নটি জনমনে প্রায়ই দেখা দেয়। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট: সাংসদ পদ: স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হতে হলে তাকে অবশ্যই আগে একজন সংসদ সদস্য হতে হবে। অর্থাৎ, তারা একই সাথে স্পিকার এবং এমপি। মন্ত্রী পদ: সংবিধানের ১৪৭(৩) ও ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো 'লাভজনক পদ' বা নির্বাহী বিভাগের (মন্ত্রিত্ব) দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তাৎক্ষণিক প্রভাব: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সাথে সাথেই তাদের মন্ত্রী পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেছে। সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকারের হাতে রয়েছে অপরিসীম ক্ষমতা। তিনি সভার শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং বিতর্ক পরিচালনা করেন। সাধারণ অবস্থায় তিনি ভোট দেন না, তবে কোনো বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের ভোট সমান হয়ে গেলে তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণী ‘কাস্টিং ভোট’ প্রদান করেন। যদিও তারা দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হন, তবে চেয়ারে বসার পর তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দায়বদ্ধ। মেজর হাফিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘বীর বিক্রম’ খেতাবধারী। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি পাকিস্তান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সংসদ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে কে নেতৃত্ব দেবেন এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে ইরানের সংবিধানে নির্ধারিত একটি পদ্ধতি কার্যকর হয়। সে অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিন সদস্যের একটি পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই পরিষদে থাকেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং Guardian Council–এর একজন ধর্মীয় নেতা। একই সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পড়ে Assembly of Experts–এর ওপর। সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিষদকে যত দ্রুত সম্ভব নতুন নেতা নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর আগে ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–র মৃত্যুর দিনই খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট পরিষদের সদস্যদের দ্রুত একত্র হওয়া চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে কিছু প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় খামেনি নিহত হন। ইরান সরকার তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর নজর রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করার শামিল। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপির শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর জামায়াত আমিরের এই প্রকাশ্য অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জুলাইর কারণেই আজ দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান না হলে তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর আমিও বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। সুতরাং জুলাইকে আমাদের অবশ্যই স্বীকৃতি ও সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারি দল সংস্কারের উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, অন্যথায় জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে সোচ্চার থাকবে। কেবল রাজপথ বা সংসদ নয়, সমাজ ও মানুষের মন থেকেও ‘আবর্জনা’ দূর করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। মিরপুরের সড়কে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়া। পরিবেশ সুন্দর থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতে পড়ে। আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে মানুষ দায়িত্ববোধ সম্পন্ন ও দরদী হবে।” এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে সামাজিক ও নৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য মূলত সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনে সংসদীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।