নানা সাংগঠনিক সংকট ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। ফলে নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা ও প্রত্যাশা—দুটোই বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার (৮ মার্চ) বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দ্রুতই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসা উচিত। সভাপতি পদে আলোচনায় যারা ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জহির রায়হান আহমেদ, সহ-সভাপতি মঞ্জরুল আলম রিয়াদ, তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। সংগঠনের ভেতরে তাকে পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবেও অনেকেই বিবেচনা করেন। তার বিষয়ে আবেগঘন এক মন্তব্যে তার বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক লিখেছেন, “কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত আমার কাছে এক জীবন্ত যোদ্ধার নাম। ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে একসময় আমার কক্ষে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে। পরে আবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাই। তার জীবনে অনেক ঝড় গেছে। রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিশ্রমী হওয়ায় বাসিত সফলতা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।” অন্যদিকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সম্পর্কে ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজপথের আন্দোলনে আমি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার দৃঢ়তা, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং সাহসিকতা তরুণ প্রজন্মের ছাত্ররাজনীতিতে এক অনুপ্রেরণার উৎস। বাসিত ভাই শুধু কার্যকর নেতা নন, তিনি একজন পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য নেতা।” এ ছাড়া সভাপতি পদে খোরশেদ আলম সোহেলও আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্বের কারণে সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, “কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন কমিটি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। যাকে যেখানে দায়িত্ব দেবেন, আমরা সেখানে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করব।” সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও কয়েকজন নেতার নাম সামনে এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামিম আক্তার শুভ। তবে সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। এক ছাত্রনেতা বলেন, “আমান ভাই সংগঠনের মধ্যে সক্রিয় ও দক্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিচিত। ছাত্রলীগের সময় তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা আশা করি দল তার ত্যাগ ও নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করবে।” উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত হয়েছিল। তখন রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে এটি ছিল সাত সদস্যের আংশিক কমিটি, পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১ মার্চ দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে থেকেই দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা স্পষ্ট ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতি, বিনিয়োগে কমতি এবং ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সহ উচ্চ সুদের হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পুঁজিবাজারে এখনও ভরসার অভাব রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অনিশ্চিত এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত। এসব কারণে সরকারের কোষাগারও চাপের মুখে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারি সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে পৌঁছেছে। নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, তবে আয়কর, আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট খাতে ঘাটতি হয়েছে। আয়কর খাত: লক্ষ্য ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি, আদায় মাত্র ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আমদানি শুল্ক: লক্ষ্য ৭৮ হাজার কোটি, আদায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট: লক্ষ্য এক লাখ ১ হাজার কোটি, আদায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজস্ব আয়ের এই ঘাটতি নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বিনিয়োগে সংযমী, সরকারি প্রকল্পও স্থবির। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও প্রভাবিত হয়েছে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেছেন, “ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব বাড়ানো কঠিন। আইন-শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও করনীতি স্থিতিশীল না হলে বড় বিনিয়োগ আশা করা যায় না।” সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মানুষের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না এবং জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশ। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হারও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে পারেনি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব আদায়ের স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে, যেখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে, সেই বিল স্বাভাবিকভাবে পার্লামেন্টে কার্যকর হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আলাদা শপথের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেখানে ভোট হয়নি বা নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করা হয়েছে, সেখানে আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াগুলো সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় এ্যানি চৌধুরী বলেন, যারা ‘মব’ তৈরি করছেন, তাদের উচিত সেখান থেকে সরে আসা। মব মানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি, যা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে এবং সরকার ও দেশকে সহযোগিতা করতে হবে। এ্যানি চৌধুরী আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সব ইস্যুতে বিরোধিতা করার মানসিকতা দেশ গড়ার কাজে সহায়ক নয়। তাই প্রত্যেককে আন্তরিকভাবে দেশের উন্নয়নের কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এবং অন্যান্য নেতাকর্মী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন সংসদ সদস্যের শপথের আনুষ্ঠানিকতার পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এদিকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এহসানুল হক মিলন, শরীফুল আলম, মীর শাহে আলম। তারা ইতোমধ্যে ফোন পেয়েছেন। এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন, জাকারিয়া তাহের (সুমন) প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন, এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। বিএনপির জোট থেকে জোনায়েদ সাকী ও নুরুল হক নুর মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আরও অনেকেই ডাক পেয়েছেন। তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিপরিষদ ৫০ সদস্যের হতে পারে। সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির এমপিরা কেউ ডিউটি ফ্রি গাড়ি নেবেন না, সরকারিভাবে কোনো প্লট নেবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথকক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সকাল ৯টার পর থেকেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। একই সময়ে সংসদ ভবনের বাইরে কৌতূহলী মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিকে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা করে শপথ নেবেন না। বিস্তারিত আসছে…
ঢাকা-৮ আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট এবং পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো অনিয়ম করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং কর্মকর্তারাও এসব অনিয়মে জড়িত ছিলেন এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুনর্গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। উল্লিখিত ১১টি অভিযোগ ১. কেন্দ্র নং ২৮, আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শাহজাহানপুর: শাপলা কলির পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পথরোধ করে আটকে রাখা হয়। ভোট গণনার সময় দীর্ঘ বিলম্ব করা হয় এবং ওভাররাইটিং করা শিটে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ২. কেন্দ্র নং ২৯, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: দুইজন পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোট রিগিংয়ের অভিযোগ। ৩. কেন্দ্র নং ৩১, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: মহিলা কেন্দ্রে পুরুষ এজেন্ট রাখা যাবে না এমন অজুহাতে পাস দিতে দেড় ঘণ্টা বিলম্ব করা হয় এবং এ সময় কারচুপি করা হয়। ৪. কেন্দ্র নং ৩২, শাহজাহানপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়: শাপলা কলির পক্ষে মহিলা পোলিং এজেন্টকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট গণনা ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ। ৫. কেন্দ্র নং ৩৪, আব্দুল গফুর শিক্ষা শিবির: ছয়জন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কারচুপিতে সহায়তার অভিযোগ। ৬. কেন্দ্র নং ৩৮, মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ: পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে প্রার্থী স্বাক্ষরিত মূল ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ওই সময়ে কারচুপির অভিযোগ করা হয়। ৭. কেন্দ্র নং ৪০, দ্বীপশিখা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুল: সাতজন পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ভোট গণনার সময় বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে গণনা করা হয় বলে অভিযোগ। ৮. কেন্দ্র নং ৭৫, ইস্কাটন গার্ডেন স্কুল (মহিলা): মহিলা এজেন্টদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ৯. কেন্দ্র নং ৮৩, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল: প্রথম গণনার পর পুনরায় গণনা করে বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করা হয় এবং জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ১০. কেন্দ্র নং ৮৮, সিদ্ধেশ্বরী বালক বিদ্যালয়: বাতিল ভোট ধানের শীষের পক্ষে যুক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। প্রার্থীর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বেআইনিভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ। ১১. কেন্দ্র নং ৯৪ ও ৯৫, বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা: পোলিং এজেন্টকে পাস না দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে বুথ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ভোট গণনা করা হয় এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ভোট পুনর্গণনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাড়ে পাঁচ দশক ধরে গোপালগঞ্জে এককভাবে আধিপত্য বজায় রেখেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ধারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন ধরে এসব আসন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দখলেই ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এ সুযোগে তিনটি আসনে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনটি আসনে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান মোল্লা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসন থেকে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মো. ফারুক খান। গোপালগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. কে এম বাবর আলী ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই আসনটি থেকে টানা নয়বার নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল করিম সেলিম। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ভিভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। প্রথমবার ভোট দেওয়া গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসুম বলেন, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবু সালেহ মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রতিফলন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে যখন সারা দেশে উত্তেজনা ও আলোচনা চলছে, তখন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নির্বাচনী ফল নিয়ে বাজিতে জিতে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে মহিষসহ বাড়ি ফিরেছেন এক ব্যক্তি। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান পাশের বালুঘাটা গ্রামের আমীর হোসেনের সঙ্গে মজার ছলে একটি বাজি ধরেন। শর্ত ছিল—শেরপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে মান্নান দেবেন ছয়টি মহিষ। আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে তিনি পাবেন একটি মহিষ। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, শেরপুর-2 আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট। ফলে বাজির শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকালে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে আমীর হোসেনের বাড়ি থেকে একটি মহিষ নিয়ে বাড়ি ফেরেন আবদুল মান্নান। এ দৃশ্য দেখতে নাকশী গ্রামসহ আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় করেন। এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়রা জানান, আমীর হোসেন ও আবদুল মান্নানের মধ্যে নানা-নাতির সম্পর্ক রয়েছে। মজার ছলেই বাজিটি ধরা হয়েছিল এবং ঘটনার পরও তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আগের মতোই আন্তরিক রয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর সরকার গঠন ও শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতারা কীভাবে এবং কার কাছে শপথ নেওয়া হবে সে বিষয়ে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন। শুক্রবার রাতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। বৈঠকের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া ও আইনি কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। তিনি বিবিসি বাংলা–কে জানান, “যদি গেজেট প্রকাশ হয় এবং স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সুযোগ না থাকে, তাহলে তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাবে ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ হতে পারে।” প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা সকালে শপথ নেওয়ার পর একই দিন বিকেলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী, সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়ান। তবে তাঁদের অনুপস্থিতি বা অসমর্থতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন। আর তাও সম্ভব না হলে নির্ধারিত সময় পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর সুযোগ পান। এই প্রেক্ষাপটে, শপথগ্রহণ প্রক্রিয়ার আইনি ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক বিধান পর্যালোচনা করছে বিএনপি নেতৃত্ব। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনগত সব দিক নিশ্চিত করেই শপথগ্রহণের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীরা এসব হামলার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, “আমরা আশা করি প্রত্যেক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং তাঁদের নির্বাচনী এলাকাসহ সর্বত্র সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে ভিন্নমতের সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।” প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডাকসু ভিপি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলা বন্ধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতি হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ৭৭টিতে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৮টিতে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেলা দেড়টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী ঢাকার ২০টি আসনের সবগুলোর ফল ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আসনে বিএনপি, ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ১টি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয় পেয়েছে। নিচে আসনভিত্তিক ফলাফল তুলে ধরা হলো— 🔹 ঢাকা–১ বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৩,৭৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১,১২,৬২২ ভোট। 🔹 ঢাকা–২ বিএনপির আমানউল্লাহ আমান ১,৬৩,০২০ ভোট পেয়ে জয়ী। জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮,৬৫৫ ভোট। 🔹 ঢাকা–৩ বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮,৭৮৫ ভোট। জামায়াতের শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২,২৩২ ভোট। 🔹 ঢাকা–৪ জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে প্রায় ৩ হাজার ভোটে জয়ী। বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪,৪৪৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–৫ জামায়াতের মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬,৬৪১ ভোট। বিএনপির মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭,৪৯১ ভোট। 🔹 ঢাকা–৬ বিএনপির ইশরাক হোসেন ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী। জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫,৬৯৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–৭ বিএনপির হামিদুর রহমান পেয়েছেন ১,০৪,৬৬৬ ভোট। জামায়াতের মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮,৪৮৩ ভোট। 🔹 ঢাকা–৮ বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ৫,২৩৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন। 🔹 ঢাকা–৯ বিএনপির হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১,১১,২১২ ভোট। এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩,৪৬০ ভোট। 🔹 ঢাকা–১০ বিএনপির শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন ৮০,৪৩৬ ভোট। জামায়াতের মো. জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭,১৩৬ ভোট। ভোটের হার ছিল ৪৩%। 🔹 ঢাকা–১১ এনসিপির নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে ২,০৩৯ ভোটে জয়ী। বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১,৮৩৩ ভোট। 🔹 ঢাকা–১২ জামায়াতের মো. সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩,৭৭৩ ভোট। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৩ বিএনপি সমর্থিত ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮,৩৮৭ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৪ জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম পেয়েছেন ১,০১,১১৩ ভোট। বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩,৩২৩ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৫ জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮৫,১৩১ ভোট। বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩,৫১৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৬ জামায়াতের মো. আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮,৮২৮ ভোট। বিএনপির মো. আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫,৪৬৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৭ বিএনপির তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২,৬৯৯ ভোট। জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৮ বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ১,৪৪,৭১৫ ভোট। এনসিপির আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১,১১,২৯৭ ভোট। 🔹 ঢাকা–১৯ বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন পেয়েছেন ১,৯০,৯৭৬ ভোট। এনসিপির দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১,২৫,২৮৩ ভোট। 🔹 ঢাকা–২০ (ধামরাই) বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন পেয়েছেন ১,৬০,৪২৮ ভোট। এনসিপির নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬,৩৪৩ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা এবং দেশকে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া। তারেক রহমান বলেন, ভোট দেওয়ার আগে চোখ বন্ধ করে এক মিনিট ভাবতে বাংলাদেশে বর্তমানে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে, বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল শিক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সহযোগিতা কিংবা নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পেরেছে কি না। তাঁর দাবি, বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যারা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করতে সক্ষম। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে নারীরা যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং তরুণ, প্রবীণ সবাই নিশ্চিন্তে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। মানুষ যেন রাতে নিরাপদে নিজ ঘরে ঘুমাতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, কেউ খাল দখল বা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করলে, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, খাল পুনরুদ্ধার করে সমস্যার সমাধান করা হবে। সমাবেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপিই একমাত্র দল যাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াত দাবি করেছে, নির্বাচনকালীন প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস, বাসা ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। দলটির আশঙ্কা, প্রতিপক্ষ পক্ষগুলো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপ্রীতিকর ঘটনা ও হামলা ঘটাতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি বলে মত দিয়েছে জামায়াত। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. যুবায়ের আহমেদ, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে মাওলানা আবদুল হালিম কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধি দল বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক জায়গায় প্রচারণার সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা একটি বড় দলের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী কর্মীরা নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বারবার নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অসংখ্য জায়গায় কর্মীদের ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন প্রার্থীর অফিস, বাসভবন ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা মনে করছি, আমাদের প্রতিপক্ষ দাগি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও হামলার শঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করাই এই টিমের মূল লক্ষ্য।
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পৌঁছে দিতে অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস এবং ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে এই সেবাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ভোটের তথ্য জানার ৪টি পদ্ধতি হচ্ছে ১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা Play Store বা App Store থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে সহজেই তথ্য পাবেন। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলে ভোটার নম্বর, ক্রমিক এবং কেন্দ্রের ঠিকানা দেখা যাবে। ২. হটলাইন ১০৫ যেকোনো ফোন থেকে সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে অপারেটরের মাধ্যমে তথ্য জানা যাবে। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ সাথে রাখতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা সচল থাকবে। ৩. এসএমএস পদ্ধতি মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC <স্পেস> NID Number লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে ১০৫ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে। ৪. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এখানে দুটি উপায়ে তথ্য পাওয়া যাবে। নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা সিলেক্ট করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে ব্যক্তিগত ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র খোঁজা যাবে।
হাতে প্রচারপত্র, সঙ্গে কয়েকজন কর্মী। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে হাট-বাজার, গ্রাম আর চা-বাগান ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। রাজনীতির চিরচেনা ছবির বাইরে দাঁড়িয়ে তার এই পথচলা হয়ে উঠেছে সাহস ও দৃঢ়তার এক আলাদা গল্প। মৌলভীবাজারের রাজনীতির মাঠে সাদিয়া নোশিনের উপস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনি প্রচারে বড় শোডাউন বা ব্যয়বহুল আয়োজনের বদলে সাধারণ মানুষের কাছেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন সাদিয়া নোশিন। চায়ের দোকান, হাটের আড্ডা কিংবা চা-বাগানের শ্রমিক লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছেন মানুষের দৈনন্দিন সংকট, ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাদিয়া নোশিনই একমাত্র নারী প্রার্থী। মৌলভীবাজার-২ আসনে তিনি ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান, ফজলুল হক খান, জাতীয় পার্টির আবদুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী। সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী জানান, এমসি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলার শুরু। সে সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পড়াশোনা শেষ হলে ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি মূল রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নারী সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাদিয়া নোশিন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই তাকে সাহস জোগান। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, মেয়ে হয়ে সাহস করে দাঁড়ানোই বড় কথা। এসব কথা থেকেই আমি শক্তি ও সাহস পাই। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এই প্রার্থী বলেন, চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী দেশের নাগরিক হয়েও এখনও ভূমির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন থাকলেও চিকিৎসক ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে, আর রেলযোগাযোগেও অব্যবস্থাপনায় স্টেশন ও লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নারী উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাদিয়া নোশিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারীর অধিকার ও উন্নয়ন। এই দাবিগুলোকে সামনে রেখেই তারা রাজনীতির মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের দাবি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটারের কাছে সাদিয়া নোশিন হয়ে উঠছেন ভিন্ন ধারার রাজনীতির এক প্রতীক। যেখানে ক্ষমতার নয়, অগ্রাধিকার পায় মানুষের কথা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, প্রথম দফায় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এরপর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা প্রথম আলোকে জানান, প্রথম দফার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মিংডু অঞ্চল। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫২১ কিলোমিটার। দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নির্ধারণে কাজ করছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের প্রতিটি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ স্টেশনেই কম্পনটি রেকর্ড হয়েছে। এ বিষয়ে ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, মিয়ানমারের যে এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, সেটি একটি ভূমিকম্পপ্রবণ সাবডাকশন জোন। সাধারণত এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম পড়ে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলকে সাবডাকশন জোন বলা হয়, যেখানে একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়। বাংলাদেশে এই সাবডাকশন জোন সিলেট থেকে কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এর আগে একই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায়ও ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাজনীতিতে আর মাস্তানি চলবে না। যারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করবে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শাসনের নামে এ দেশের মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনায় সবাই আজ একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা এম এন একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মামুনুল হক বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে প্রশাসনকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। জনসভায় তিনি ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর পক্ষে ভোট চান। সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামী ও দশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর বক্তব্য শুরু হলেও এর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ, দলীয় প্রতীক নির্বাচনের বাইরে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ আদৌ টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে। অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দলটির দীর্ঘদিনের সমর্থকেরা এখন দ্বিধায় রয়েছেন—ভোট দেবেন কি না এবং দিলে কাকে দেবেন। অনেকের মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক প্রতিশোধের আশঙ্কা কাজ করছে। ঢাকা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের একসময়কার শক্ত ঘাঁটি গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী সব জায়গাতেই দলটির দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রায় নেই। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। তবে দলটির কিছু সাবেক নেতাকর্মী মনে করেন, আওয়ামী লীগ কৌশলগতভাবে নীরবতায় রয়েছে এবং উপযুক্ত সময় এলে দলটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগকে ছাড়া একবার নির্বাচন সম্পন্ন হলে দলটির জন্য হারানো সমর্থক পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মতে, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত একটি শক্তি ফলে দলটির পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দলটির জনসমর্থন বর্তমানে প্রায় ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্নে বিতর্কিত হলেও দলটির অতীত দমন–পীড়নের ইতিহাস অনেকের চোখে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। সব মিলিয়ে প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কার্যত অচল অবস্থায় থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির অস্থির বাস্তবতায় ভবিষ্যতে দলটির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহনের চলাচলে তিন দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের জারি করা চিঠি অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে— যা কার্যকর থাকবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা তিন দিন। তবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন। এছাড়া ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও সংবাদপত্র পরিবহন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার যান চলাচল অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনরা টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টরা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন এবং নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা আরও কঠোর করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই তিন দিনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews