যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জুনে ৮০ বছর বয়সে পৌঁছাবেন। বয়সের এই কদর্যতা সত্ত্বেও তিনি এখনো কার্যনির্বাহী পদে সক্রিয় থাকলেও, অমর নয়—যা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে হস্তান্তরিত হয়। এতে কোনো ধরনের নির্বাচন বা বিলম্বের প্রয়োজন পড়ে না।
তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের মৃত্যুর পরিস্থিতিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে নেতৃত্ব দেবেন।
ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আটবার ঘটেছে। এর মধ্যে চারজন প্রেসিডেন্ট হত্যা ও চারজন স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটে ১৯৬৩ সালে, যখন জন এফ কেনেডি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ডালাসে হত্যার শিকার হন। সেই সময় লিন্ডন জনসন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বর্তমানে ট্রাম্প ইরানে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চাপের মুখে রয়েছেন। টানা ৩৭ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির সবচেয়ে বয়সী এই প্রেসিডেন্টের জন্য সংকট মোকাবিলার চাপ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মুখে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্যও আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ডিসিএএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ওয়েবসাইটে আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ দেখানো হচ্ছিল। নতুন হালনাগাদে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পেন্টাগন ৭ জুলাই থেকে ডিসিএএসে "ওভারসিজ অপারেশনস" নামে একটি নতুন বিভাগও যুক্ত করেছে। তবে এই নতুন বিভাগের আওতায় ৭ জুলাইয়ের আগে ও পরে সংঘটিত কোন কোন সামরিক ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তালিকায় জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলার সময় নিহত আরও এক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের পাশাপাশি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হতাহতের হিসাবের অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা চান। পরে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটি" দেখা দেওয়ায় এ অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলেও রোববার পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি। এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট নিয়েও নতুন আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে দাবি করেছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার হিসাব নতুনভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকস্কি সম্প্রতি এক শুনানিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সময়সীমা পুনর্গণনার এই ব্যাখ্যা প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে "সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক" বলে মন্তব্য করেন। হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের পরও তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং যুদ্ধসংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনও সন্দেহজনক হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের মরদেহে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপল, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই প্রাপ্তবয়স্ক হলেন ৩৯ বছর বয়সী আমান্ডা "ম্যান্ডি" কারোলকিয়েভিচ এবং তার ৪৭ বছর বয়সী স্বামী ক্রিস্টোফার কারোলকিয়েভিচ। তাদের সঙ্গে নিহত হয়েছে দম্পতির ছয় সন্তান, যাদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং গ্র্যান্ড হ্যাভেন ফায়ার ডিপার্টমেন্ট একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বাড়ির ভেতরে একাধিক মরদেহ দেখতে পান। পরে একই পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন জ্যাকব স্পার্কস জানান, ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকটি মরদেহে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত জটিল এবং তদন্তকারীরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। নিহত আমান্ডা কারোলকিয়েভিচের সৎ বাবা স্টিভ ল'উইল দ্য ডেট্রয়েট নিউজকে পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না। এদিকে, আমান্ডার বোন মলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, "আমাদের হৃদয় সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। 'মর্মান্তিক' শব্দটিও এই ক্ষতির গভীরতা প্রকাশ করতে পারে না।" জানা গেছে, আমান্ডা কারোলকিয়েভিচ গ্র্যান্ড হ্যাভেন এরিয়া পাবলিক স্কুলসে বিকল্প শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় শোকাহত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন পারকোভস্কি বলেন, "গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একাধিক প্রাণহানির এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্তে ভবিষ্যতে যাই সামনে আসুক না কেন, এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের স্কুল পরিবারের সবাই এই শোকের অংশীদার। এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।" অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান। কীভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, আগুনের প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তদন্তকারীরা আলামত সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনকে কেন্দ্র করে ভোরের দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অভিযানে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ উটাহ (কেএসটিইউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল প্রায় ৬টার দিকে শহরের ১০০ সাউথ ও ২০০ ইস্ট এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সল্ট লেক সিটি পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের একজন অন্যজনের দিকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেছিলেন। এ সময় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। সল্ট লেক সিটি পুলিশের লেফটেন্যান্ট বেঞ্জামিন হোন জানান, একজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হলেও অপর ব্যক্তি আবার অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে চলে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পুলিশের বিশেষ কৌশলগত দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। বিশেষ দলটি ভবনের ভেতরে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য অভিযান শুরু করে। লেফটেন্যান্ট হোন বলেন, বিশেষ বাহিনী পৌঁছানোর আগে ভেতরে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এরপর ট্যাকটিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অভিযান পরিচালনা করে। শেষ পর্যন্ত ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। তবে কী কারণে ভোরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রভাব পড়ে কাছাকাছি অবস্থিত ক্যাথেড্রাল চার্চ অব সেন্ট মার্কের রোববারের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমে নির্ধারিত উপাসনা স্থগিত রাখতে হয়। পরে সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠান আবার শুরু হয়। গির্জার ডিকন লিবি হান্টার জানান, বিলম্ব হলেও শতাধিক মানুষ শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি বলেন, রাস্তার ওপারে কী ঘটছে তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তাদের দুশ্চিন্তা ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় গির্জার দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভেতরে অবস্থান করা সবাইকে নিরাপদে রাখা হয়। তার ভাষায়, এই ঘটনা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়মিত পর্যালোচনার গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। গির্জার সদস্য কেভিন স্টকসেথ সকালে ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন এবং পুরো পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেন, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। শুরুতে কী ঘটতে পারে তা নিয়ে ভয় ছিল, কারণ ভবনের চারপাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে প্রবেশপথে নজরদারি করছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়। ডিকন লিবি হান্টার বলেন, সবকিছু নিরাপদে শেষ হওয়ায় উপস্থিত সবাই স্বস্তি প্রকাশ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না।