ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেলা দেড়টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফল অনুযায়ী ঢাকার ২০টি আসনের সবগুলোর ফল ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আসনে বিএনপি, ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ১টি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয় পেয়েছে।
নিচে আসনভিত্তিক ফলাফল তুলে ধরা হলো—
বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৩,৭৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১,১২,৬২২ ভোট।
বিএনপির আমানউল্লাহ আমান ১,৬৩,০২০ ভোট পেয়ে জয়ী।
জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮,৬৫৫ ভোট।
বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮,৭৮৫ ভোট।
জামায়াতের শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২,২৩২ ভোট।
জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে প্রায় ৩ হাজার ভোটে জয়ী।
বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪,৪৪৭ ভোট।
জামায়াতের মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬,৬৪১ ভোট।
বিএনপির মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭,৪৯১ ভোট।
বিএনপির ইশরাক হোসেন ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী।
জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫,৬৯৭ ভোট।
বিএনপির হামিদুর রহমান পেয়েছেন ১,০৪,৬৬৬ ভোট।
জামায়াতের মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮,৪৮৩ ভোট।
বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ৫,২৩৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন।
বিএনপির হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১,১১,২১২ ভোট।
এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩,৪৬০ ভোট।
বিএনপির শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন ৮০,৪৩৬ ভোট।
জামায়াতের মো. জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭,১৩৬ ভোট।
ভোটের হার ছিল ৪৩%।
এনসিপির নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে ২,০৩৯ ভোটে জয়ী।
বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১,৮৩৩ ভোট।
জামায়াতের মো. সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩,৭৭৩ ভোট।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট।
বিএনপি সমর্থিত ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮,৩৮৭ ভোট।
মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট।
জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম পেয়েছেন ১,০১,১১৩ ভোট।
বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩,৩২৩ ভোট।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮৫,১৩১ ভোট।
বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩,৫১৭ ভোট।
জামায়াতের মো. আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮,৮২৮ ভোট।
বিএনপির মো. আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫,৪৬৭ ভোট।
বিএনপির তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২,৬৯৯ ভোট।
জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট।
বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ১,৪৪,৭১৫ ভোট।
এনসিপির আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১,১১,২৯৭ ভোট।
বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন পেয়েছেন ১,৯০,৯৭৬ ভোট।
এনসিপির দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১,২৫,২৮৩ ভোট।
বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন পেয়েছেন ১,৬০,৪২৮ ভোট।
এনসিপির নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬,৩৪৩ ভোট।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব। সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায়, তবেই সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব হবে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আপনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজ আপনার বক্তব্যে যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে। আমরা চাই, এই সংসদই হোক দেশের সকল কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু।" ডেপুটি স্পিকারের পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই চেয়ারটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। আপনি ইনসাফের যে বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা আশা করি, আপনি প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী একটি মহল অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে ওই প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের তারিখ পেছানোসহ বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল সাজানো হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই পদত্যাগ করে নির্বাচনের পথ সুগম করেছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপি সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চুক্তিকে উপেক্ষা করছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন অবস্থানের ফল ভালো হয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা।