চাকরির প্রস্তুতি ও পরীক্ষাসহ ব্যক্তিগত নানা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এবার ক্যাম্পাসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) যৌথভাবে বিশেষ উপহার ও গণভোজের আয়োজন করেছে। রাকসু সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপহার হিসেবে ছাত্রদের জন্য পাঞ্জাবি এবং ছাত্রীদের জন্য থ্রি-পিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। রাকসু নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তারা পালাক্রমে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে প্রশাসন ও হলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ছুটির সময়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। প্রিয়জনদের ছেড়ে ক্যাম্পাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতেই এই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদকঃ রাফাসান আলম
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপা দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দীপা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীপার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দীপা তার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে দীপার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তবে এ ঘটনার পর থেকে দীপার স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। দীপার সহপাঠীরা জানান, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলা বিভাগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ছাত্রীর নাম শারমিন জাহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। শারমিন তার স্বামী ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। শারমিনের স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন বাসার প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরে বিকল্প উপায়ে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে শারমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি নিস্তেজ অবস্থায় ছিলেন। পরে বাসার মালিক ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ইউসুফ আলী জানান, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শারমিনকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তখন তিনি মৃত অবস্থায় ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রক্টর বলেন, তারা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে সঠিক তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করে পদ থেকে অপসারণ এবং গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী। লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদান করে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি। পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। ফাহিম ফারুকী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘জুলাই ঐক্য’ বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। অথচ সংগঠনটি ২০২৫ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা জুলাইয়ের বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও একীভূত করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে বুধবার (১১ মার্চ) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়ার আগে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মসূচির কারণে আলোচনায় ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা মারধরের শিকার হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, তিনি ফেসবুকে ‘গণকান্নার’ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ধানমন্ডি ৩২-এ গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় দুই নারী ও দুই ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এই সিদ্ধান্ত দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডারে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার ইসলাম তুষার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের রাকিব আহমেদ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার তানজিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে টিএসসি এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ফাতিমা তাসনিম জুমাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে হাদি হত্যার মূল আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তাকে সেলফি তুলতে দেখা যায়। রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর গ্রেফতার হওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসু নেত্রী জুমা। তিনি বলেন, যদি তার কোনো দোষ থাকে তাহলে প্রশাসনের কাছে তার অনুরোধ তাকে গ্রেফতার করা হোক। গ্রেফতারের পর তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে যদি কিছু পাওয়া যায়, তা যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী আরও বলেন, কেউ যদি তাকে দোষী বানাতে বা ফাঁসাতে চায়, তবে শেষ পর্যন্ত সত্য গোপন থাকে না। তিনি বলেন, হয়তো তাকে গ্রেফতার করা হবে বা রিমান্ডে নেওয়া হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। তবে তার দাবি, এটি এখন শুরু হয়নি; ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার দিন থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাদি হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন এটাই তাদের ভয়ের জায়গা। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ মনে করে তাকে বা জাবেরকে ফাঁসিয়ে কিংবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে হাদি হত্যার বিচার ধামাচাপা দেওয়া যাবে, তবে সেই আশা পূরণ হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আট লাখ মানুষ একটি মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছিল এবং সারা দেশের মানুষ তার কবর জিয়ারত করছে ও বিচার দাবি করছে। এদিকে আলোচিত ছবিটি আসল না নকল তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমার স্ক্যানার। তাদের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমার যে ছবিটি ছড়ানো হয়েছে তা আসল নয়; এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দাবিতে ছড়ানো পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করেও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এ দাবির সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এ স্মরণকালে প্রথমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়। সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাকসু ও সিনেট প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজ নিজ হল ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় আবাসিক সিট সংকট, হলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা এবং সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইসমত আরা বেগম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিন মাস পরপর দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিষয় পুরোপুরি অনুধাবন করার আগেই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।' হল সংসদের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভিপি-জিএসরা যখন বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে হল সংসদের সভাপতির কাছে গেলে তাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হল পরিচালনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হলে বিপুল পরিমাণ তহবিল, ধরা যাক ১০০ কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও, সবসময় তার আশানুরূপ উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।' শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত দাবি প্রসঙ্গে ইসমত আরা বেগম বলেন, 'অনেক শিক্ষার্থী নামাজ রুম ও লাইব্রেরি রুমের আকার ছোট হওয়া এবং জায়গা সংকুলানের অভিযোগ করেন। কিন্তু যেহেতু এগুলো নির্দিষ্ট স্থাপনার কাঠামোর মধ্যে অবস্থিত, তাই সরাসরি সম্প্রসারণ সবসময় সম্ভব নয়। তবে বিকল্প চিন্তার সুযোগ রয়েছে। বড় কক্ষকে ভাগ করে একাধিক ব্যবহারোপযোগী কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা যেতে পারে।' সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, 'রাকসু নির্বাচন ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে । রাকসুর উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বে তৈরি করা। রাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তারা তাদের ন্যায্য অধিকারে আদায় করতে পারবে এবং নানা দাবি দাওয়া দিতে পারবে। আজকের অনুষ্ঠানে রাকসু আমাদের যে গিফট দিয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছবি ও জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেওয়া আছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে রাকসু'র সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু, সিনেট হল সংসদ এর এইরকম সম্মেলন আগে হয়েছে কিনা জানিনা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এইরকম একটা সম্মেলন দেখতে। তবে এই সম্মেলনটা আমি নির্বাচনের এক মাস পরই করতে চেয়েছিলাম কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি৷ আমাদের কাজগুলো একটু দেরিতে হলেও হচ্ছে এজন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত৷' তিনি আরও বলেন, 'আমরা ভাবি আমরা অনেক কিছু করে ফেলবো, কিন্তু সবার যদি সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান না থাকে তাহলে কোনোকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এখানে প্রভোস্ট কাউন্সিল এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে, আমি বলবো প্রভোস্ট কাউন্সিল ও প্রভোস্টদের তাদের সুন্দরভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। আমি প্রভোস্টদের বলবো আপনাদের কাছে যে বাজেট আছে সেগুলো প্রকাশ করে দেন, এটা সবারই জানা দরকার।' উপাচার্য বলেন, 'আমি এই কথাটা দ্বিতীয়বার শুনতে চাইনা যে রাকসুর সাথে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব তৈরি হয়ে আছে। এটা কোনো এক্সকিউজ ই হয়নে যে রাকসুর সময় হচ্ছে না হল সংসদ এর নেতৃবৃন্দের সাথে বসার। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান থাকবে মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।' উল্লেখ্য, রাকসু গঠনের প্রায় চার মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অংশগ্রহণমূলক ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সংলাপের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফেসবুকে একটি কমেন্টকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে রাকসু সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ তার নেতাদের সঙ্গে কার্যালয়ে এসে এই বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মারুফ অভিযোগ করেছেন, কমেন্টে আম্মার প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নানা গালি দিয়ে নৈতিক স্খলনের প্রকাশ করেছেন। তারা রাকসুর সভাপতি ড. সলেহ হাসান নকিবের কাছে বিষয়টি জানাতে যাচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, ‘একটি কমেন্টকে টেনে যে বিষয়গুলো তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা টাচ-করবিনা পলিটিক্সের মতো হয়ে গেছে। তারা মিডিয়া অ্যাটেনশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে।’ ঘটনার পূর্বপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ রাকসু সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজে বেশি মনোযোগী। হবেই না বা কেন?’ এ পোস্টের কমেন্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেন, “চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু।”
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত এবং দেশটিতে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় ও আপসহীন কণ্ঠস্বর। তিনি আজীবন মজলুম মানুষের পক্ষে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তারা বলেন, ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য তিনি ছিলেন এক দৃঢ় আশ্রয়স্থল। সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত ন্যায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। তবে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন—সত্যের সৈনিকরা কখনো মাথা নত করে না। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন, এই পরিকল্পিত আগ্রাসন তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। শনিবার থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে তারা জানান, এসব হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে, দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিরীহ শিশুশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে। এই নৃশংস হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তারা। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে আমেরিকা ও ইসরাইল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে আধিপত্যবাদী আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা বিশ্বশান্তিকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং ইরানের ওপর এই নগ্ন হামলা একই সূত্রে গাঁথা। আয়াতুল্লাহ খামেনি সবসময় এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁকে শহীদ করে জায়নবাদীরা মুসলিম উম্মাহর প্রতিরোধ ভাঙতে চাইলেও, এই রক্ত থেকেই নতুন করে অসংখ্য প্রতিবাদী কণ্ঠ জন্ম নেবে। তাই এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষের হত্যা বিশ্বকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে ইরানে চলমান নৃশংসতা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। বিবৃতির শেষাংশে নেতৃবৃন্দ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং শহীদ খামেনিসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতেমা তুজ জাহরা হলের পাশের টিলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুন নেভাতে গিয়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল প্রায় আড়াইটার দিকে ছাত্রী হলসংলগ্ন টিলায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে হলের নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও ইলেক্ট্রিশিয়ানরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চূড়ান্তভাবে আগুন নেভায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলসংলগ্ন টিলার প্রায় ২০০ শতক এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্র ধোঁয়া হলে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। এ সময় প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি ও ফায়ার সার্ভিসের দেরিতে আসা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। টিম লিডার প্রীতম দাস জানান, টিলার পাশে আকাশমনি গাছের শুকনো পাতা জমে থাকায় সেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বিড়ি বা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ ফেলে যাওয়ায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরও জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি ছিটানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। আহত ছয়জনের মধ্যে গুরুতর আহত হলেন হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আজিজুল হক এবং গার্ডেনার রাকিব হোসাইন। ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশ করায় আজিজুল হক শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। রাকিব হোসাইনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। অন্য আহতরা হলেন নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জন দাস, লিমন দাস, সুমন আহমদ এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান সেলিম মিয়া। তাঁদের কারও পা ছিটে গেছে, কারও হাত কেটে গেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকায় সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। আজিজুর রহমান বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন, এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। আমরা তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহনের দাবি জানাই। পাশাপাশি তাদের উৎসাহ দিতে সম্মানী বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত।” ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের কাছে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানো কর্মীদের পুরস্কৃত করা, তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও একটি জরুরি হটলাইন চালু করা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গেও প্রশাসনের সহমত রয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হল কর্তৃপক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো না হলে তা জানা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত বলতে পারবে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ (অষ্টম শ্রেণি) এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও ২০২৬ সাল উল্লেখ করে ফলাফল জানতে পারবে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিসিডিসি) গ্যালারিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন মিশন। প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, যা মানুষের কর্মজীবন ও জাতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মানুষের মানবসম্পদে রূপান্তর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, প্রেসক্লাবের আয়োজনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রেসক্লাব সভাপতি মনির হোসেন মাহিন বলেন, রমজান মাস সততা, সংযম ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়, যা সারাবছর অনুসরণীয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাবি প্রতিনিধি: রাফসান আলম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আলোচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শামীম হোসেন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শামীম হোসেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কথা রেখেছি, শিক্ষকই হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।’ শামীম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তবে ভোটের প্রচার-প্রচারণায় ব্যতিক্রমী বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির কারণে সে সময় তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ‘আর্গুমেন্ট’ করার অজুহাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় এক সংবাদকর্মীও পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যৌক্তিক প্রশ্নেই ক্ষিপ্ত পুলিশ: প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে নাঈমকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ডিসি মাসুদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ সদস্যরা নাঈমের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়। হাসপাতালে সাংবাদিক: একই অভিযানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হয়েছেন ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট তোফায়েল আহমেদ (২৫)। আহত তোফায়েল জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ৪-৫ জন কনস্টেবল মিলে তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। ছাত্রনেতাদের প্রতিবাদ ও প্রশাসন নীরব: এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি শিমুল কুম্ভকার ও ডাকসু সদস্য তাজিনুর রহমানসহ অনেকে এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা বলেন, “পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার করার অধিকার রাখে না। প্রশ্ন তোলায় গায়ে হাত দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের শামিল।” এদিকে, গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ‘রহস্যজনক নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সমালোচনা করেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাদকমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, অভিযানের নামে নিরপরাধ নাগরিক ও সাংবাদিকদের ওপর এমন আক্রমণ নতুন বাংলাদেশের আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে পবিত্র তারাবির নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতর থেকে এক ছাত্রশিবির নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যুবকের নাম জিহাদ (২০), যিনি বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় জিহাদ মসজিদের ভেতরে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। এ সময় জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ মসজিদে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যায়। মসজিদের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে তাদের হুমকি দেয়, ফলে প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হন। আহত জিহাদের সহকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতগাহের ভেতরে ঢুকে এমন হামলায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও সামাজিক অশ্লীলতা বন্ধের দাবিতে রংপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রংপুর মহানগর শাখা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নগরীর লালবাগ থেকে শাপলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। র্যালিতে ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন, যেখানে রমাদানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জোর দাবি জানানো হয়। র্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও কল্যাণের মাস। তবে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। এই অশুভ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। পাশাপাশি রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মাসব্যাপী সব ধরনের অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, রমজান যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ভরপুর হয়, সেই লক্ষ্যে ছাত্রশিবির সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য র্যালির সমাপ্তি ঘটে।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হয়েছে। এই টানা ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ একত্রে সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন কলেজ বন্ধ থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। পরবর্তী দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিরতি আরও দীর্ঘ হবে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ২৯ মার্চ, রোববার থেকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবে। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোকেশনাল স্কুল ও কলেজ, ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, বিএমটি কলেজ এবং অন্যান্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানও পুনরায় শুরু হবে ২৯ মার্চ। এ ছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বছরের শেষ দিকে শীতকালীন অবকাশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিনের ছুটি থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর বর্তমান শীর্ষ দুই নেতা ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ এবার সরাসরি মেয়রের লড়াইয়ে নামতে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ছাত্রশিবিরের একজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যে এই সম্ভাবনার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানিয়েছেন, "সাদিক কায়েম এবং এস এম ফরহাদকে নিয়ে ইতোমধ্যেই দলের ভেতর ও জোটের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সব ঠিক থাকলে সাদিক কায়েম ঢাকা উত্তর এবং এস এম ফরহাদ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে লড়তে পারেন।" যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এই দুই তরুণ ছাত্রনেতার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ঘিরে আরও কিছু হেভিওয়েট ও আলোচিত নাম সামনে আসছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম আলোচনায় থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে (সিনেট) মনোনিবেশ করার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সরকার গঠনের পর দলটি ঢাকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এই সিটি নির্বাচনে ঘটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)-কে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে তিনি তাঁকে দেওয়া অসংখ্য হুমকিমূলক কলের বেশ কিছু স্ক্রিনশটও জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। শেহরীন আমিন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই তিনি অনবরত প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই পর্যায়ে তিনি নবনির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি মেনশন করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রিয় তারেক রহমান। এটি কি আপনাদের সেই প্রতিশ্রুত নারীবান্ধব এবং নিরাপদ বাংলাদেশ?" হুমকির মুখে দমে না গিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, "সব মুসলমানকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। আর আমি সেই ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।" তাঁর এই সাহসী কিন্তু শঙ্কিত বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, এর আগেও শেহরীন আমিন মোনামি তাঁর ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে একজন নারী শিক্ষকের ওপর এমন মানসিক ও মৌখিক আক্রমণ নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে এই ঘটনার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিতর্কিত অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের নেতা আ ক ম জামাল উদ্দীন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম জনরোষের শিকার হয়েছেন। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ৪-৫ জনের একটি ছোট দল নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। উল্লেখ্য, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের জন্য পরিচিত। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া এবং তাঁদের ওপর ‘ব্রাশফায়ার’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি ২০২৪ সালের ১২ জুলাই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধীদের ‘আনফ্রেন্ড’ করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। এর আগেও গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তীব্র ধাওয়ার মুখে পড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে যে ১০০০ জন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁর নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। আজকের এই ঘটনাকে সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।