যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চলমান জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী লেসলি গ্রফ কংগ্রেসের একটি কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি ও সরকারি সংস্কারবিষয়ক কমিটির (হাউস ওভারসাইট কমিটি) এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গ্রফ সাক্ষ্য দেন। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া।
গার্সিয়া জানান, প্রায় দুই দশক এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ করা গ্রফ তদন্তকারীদের বিভিন্ন ব্যক্তি, কর্মচারী ও এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “গ্রফ বহু বছর এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি কার কার সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করতেন, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতেন এবং কী জানতেন, সে বিষয়ে তাকে কঠিন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ নামও উল্লেখ করেছেন।”
বর্তমানে ৫৯ বছর বয়সী লেসলি গ্রফ ২০০১ সালে এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রায় ১৮ বছর তার হয়ে কাজ করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষ্যে গ্রফ দাবি করেছেন যে তিনি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজের গোপন কর্মকাণ্ড কাছের মানুষদের কাছ থেকেও আড়াল করে রাখতেন।
গ্রফ আরও বলেন, যেসব তরুণী ও কিশোরীকে তিনি এপস্টেইনের জন্য ‘ম্যাসাজ’ সেশনের উদ্দেশ্যে সময় নির্ধারণ করে দিতেন, তাদের তিনি পেশাদার ম্যাসাজ থেরাপিস্ট বলেই মনে করতেন।
তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। প্রতিনিধি স্টিফেন লিঞ্চ সাংবাদিকদের বলেন, “১৮ বছর একজন ব্যক্তির হয়ে কাজ করে তাকে না চেনার দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।”
সাক্ষ্যে গ্রফ আরও জানান, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি একাধিকবার ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে টেলিফোন যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে ঠিক কোন সময়ে বা কী প্রসঙ্গে এসব কথা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যান্সবেরিও নিশ্চিত করেছেন যে গ্রফ কমিটিকে বলেছেন, তিনি ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে এমন ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার বলেছেন যে তিনি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না এবং দুইজনের সম্পর্ক দুই হাজার সালের শুরুর দিকেই শেষ হয়ে যায়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তিনি নথিপত্র প্রকাশ, কংগ্রেসের তদন্তে সহযোগিতা এবং আরও তদন্তের আহ্বানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করেছেন।”
জেফ্রি এপস্টেইন ছিলেন একসময়ের প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের যৌন শোষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন তদন্তের মুখে ছিলেন। ২০১৯ সালে ফেডারেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সরকারি তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
গ্রফের বিরুদ্ধে কখনও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে অতীতে এপস্টেইনের সম্পত্তি পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি সমষ্টিগত মামলায় তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যিনি তরুণীদের ভ্রমণ ও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন। এছাড়া ২০০৮ সালের বিতর্কিত ‘নন-প্রসিকিউশন’ চুক্তির নথিতেও তার নাম উঠে এসেছিল।
এফবিআইয়ের তদন্ত নথি অনুযায়ী, এপস্টেইনের একাধিক ভুক্তভোগী গ্রফকে এমন একজন সমন্বয়কারী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যার মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো এবং বিভিন্ন সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হতো। ২০০১ সালে এক এফবিআই এজেন্টকে গ্রফ বলেছিলেন, এ ধরনের সময়সূচি নির্ধারণ তার কাছে ছিল “আরেকটি সাধারণ দাপ্তরিক কাজের মতো।”
তবে তার আইনজীবীরা ২০২১ সালে এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রফ তার চাকরিকালে কখনও কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেননি। তারা দাবি করেন, তার প্রধান দায়িত্ব ছিল বার্তা আদান-প্রদান, বৈঠকের সময় নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।
এদিকে এপস্টেইন তদন্ত এখন শুধু কংগ্রেসেই সীমাবদ্ধ নেই। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে গঠিত ‘সারভাইভার্স ট্রুথ কমিশন’ও এপস্টেইনের মালিকানাধীন জোরো র্যাঞ্চকে ঘিরে অভিযোগগুলোর একটি জনসম্মুখে গ্রহণযোগ্য নথি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
কমিশনের চেয়ারপারসন ও নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আন্দ্রেয়া রোমেরো জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফেডারেল সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে। এর মধ্যে এফবিআই, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমান্তরাল তদন্ত চলতে থাকায় এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আরও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে। বিশেষ করে তার প্রভাবশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, সহযোগীদের ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী এবং ভবিষ্যৎ রানি প্রিন্সেস লিওনর মাত্র ২০ বছর বয়সেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। লিওনর ২০২৩ সালের আগস্টে জারাগোজার জেনারেল মিলিটারি একাডেমিতে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। পরের বছর তিনি মারিনের নৌ সামরিক একাডেমিতে যোগ দেন এবং প্রায় পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ জাহাজ হুয়ান সেবাস্তিয়ান দে এলকানো-তে সমুদ্রে কাটিয়ে নৌজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর শেষ বছর তিনি সান হাভিয়ারের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস একাডেমিতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে তিনি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়িয়ে একক উড্ডয়নও সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড ক্রস অব মিলিটারি মেরিট, গ্র্যান্ড ক্রস অব নেভাল মেরিট এবং গ্র্যান্ড ক্রস অব অ্যারোনটিক্যাল মেরিট (হোয়াইট ডিস্টিংশন)। একই সম্মান ১৯৮৮ সালে তাঁর বাবা রাজা ষষ্ঠ ফেলিপেও অর্জন করেছিলেন। লিওনর স্পেনের রাজপরিবারের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন। তিনি প্রথম রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে মৌলিক প্যারাশুট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে প্যারাট্রুপার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ২০২৭ সালের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে এনসাইন পদে কমিশন পাবেন। এরপর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক অধ্যয়ন শুরু করবেন। রাজপরিবার জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎ রানি হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করবেন। আধুনিক স্পেনের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে লিওনরের এই সামরিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি তাঁর নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন চাকরিতে আটকে আছেন, যা তারা ছেড়ে দিতে চান। তবে চাকরি হারালে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও হারানোর আশঙ্কায় তারা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার প্রয়োজনই লাখো মার্কিন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ—শুধু নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে অপছন্দের চাকরিতে রয়ে গেছেন। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘জব লক’ নামে অভিহিত করেছেন। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বেশি, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। আর যাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তীব্র আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই একই কারণে বর্তমান চাকরিতে আটকে আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিমা সরাসরি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, নতুন ব্যবসা শুরু করা, ভালো চাকরির সুযোগ গ্রহণ কিংবা শ্রমবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়। ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিম ল্যাশ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য মানুষকে এমন চাকরিতে থাকতে বাধ্য হওয়া, যা তারা আর করতে চান না, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যসেবার খরচ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করছে। জরিপটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। আটক ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক লরেঞ্জো থম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, তিনি ২০২১ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময় শেষে দেশ ছাড়েননি এবং এরপরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুলাই ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, থম্পসন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মাসের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২১ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বর্তমানে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ৫৫৬ এবং থম্পসনের ঘনিষ্ঠরা। তাদের বক্তব্য, থম্পসনের একটি চলমান আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন রয়েছে এবং তিনি বৈধ কর্ম-অনুমতি নিয়ে কাজ করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও তারা দাবি করেছেন। ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা থম্পসন ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল থেকে একজন বিমানকর্মীকে আটক করার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থম্পসনের প্রকৃত অভিবাসন-অবস্থা এবং আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থান এখন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।