টাইটানিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি ৯ লাখ ডলারে
ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনা টাইটানিক জাহাজডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি হয়েছে ৯ লাখ ডলারেরও বেশি দামে। বিরল ও ঐতিহাসিক এই স্মারকটি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার দামে বিক্রি হয়।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, লাইফ জ্যাকেটটি ব্যবহার করেছিলেন লরা মেবেল ফ্রানকাটেলি, যিনি ১৯১২ সালে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সময় লাইফবোটে করে প্রাণে বেঁচে যান। জ্যাকেটটির বিশেষত্ব হলো, এতে ওই সময় বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রীর স্বাক্ষরও রয়েছে, যা এটিকে আরও মূল্যবান করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইটানিক সম্পর্কিত যেকোনো স্মারক সামগ্রী বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে এই লাইফ জ্যাকেটটির মূল্য এত বেশি হবে, তা অনেকেই ধারণা করতে পারেননি। নিলামের আগে এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।
১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি হিমশৈলে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। সে সময় জাহাজটিতে থাকা প্রায় ২,২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ইতিহাসে এটি অন্যতম মর্মান্তিক নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
নিলামকারীরা বলছেন, টাইটানিকের স্মৃতি আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই জাহাজের ইতিহাস, ট্র্যাজেডি এবং স্মারক সামগ্রীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো অটুট।
এই বিক্রি আবারও প্রমাণ করলো, টাইটানিক শুধু একটি জাহাজের নাম নয়—এটি ইতিহাস, বেদনা এবং মানুষের আবেগের এক অমলিন প্রতীক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS)-এর সিস্টেমে দেখা দেওয়া ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে অন্তত দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ের জেরে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাজ্যের ১৫টি প্রধান বিমানবন্দরে চরম অচলাবস্থা দেখা দেয়। হাজার হাজার যাত্রীকে রানওয়েতে থাকা উড়োজাহাজের ভেতর কিংবা টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয়। অনেক বিমানবন্দর বাধ্য হয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং ভুল গন্তব্যে আটকে থাকা প্লেনগুলোকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এনএটিএস (NATS) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের একটি ত্রুটির কারণেই মূলত এই বিপত্তি ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মূল কারিগরি সমস্যাটির সমাধান করা হলেও, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গত তিন বছরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এয়ার ট্রাফিক সিস্টেম ধসে পড়ার ঘটনায় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এনএটিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই সংস্থাটির প্রধান হিসেবে মার্টিন রোলফ অবশ্য যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা এখনো বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও কার্যকর সিস্টেম। এদিকে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ও 'দ্য ওয়াকিং ডেড' কমিক সিরিজের কার্টুনিস্ট চার্লি অ্যাডলার্ড ইতালির সিসিলিতে একটি সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে এই বিশৃঙ্খলার কবলে পড়েন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি তার এই সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে একটি "অযথা ও অপচয়মূলক যাত্রা" হিসেবে আখ্যায়িত করে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। শুধু হিথ্রো নয়, লন্ডনের গ্যাতউইক বিমানবন্দরেও যাত্রীদের স্যুটকেসের পাশে খালি মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আগ পর্যন্ত ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
অ্যাসাইলাম বাতিল: ৮ বছর পর কানাডা ছাড়তে হলো এক ভারতীয় পরিবারকে!
‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব
ইংল্যান্ডের সারেতে ভ্যাপিংয়ে ছয় বছরের আসক্তির পর গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ফ্রেডি জানম্যান নামে এক তরুণকে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও আসক্তি এতটাই তীব্র ছিল যে, চিকিৎসক ও স্বজনদের আড়ালে হাসপাতালের বেড থেকেই ভ্যাপ টানতেন তিনি। ফ্রেডি মাত্র ১২ বছর বয়সে ভ্যাপিং শুরু করেন। তখন তার মনে হয়েছিল, সিগারেটের ধোঁয়ার তুলনায় ভ্যাপ অনেক কম ক্ষতিকর। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই পরিণত হয় তীব্র নিকোটিন আসক্তিতে। দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ বার পর্যন্ত ভ্যাপের টান নিতেন তিনি এবং ছয় বছরে ভ্যাপ ও রিফিলে প্রায় ৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেছেন বলে জানান। শৈশব থেকেই ফ্রেডির অ্যাজমা ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বারবার বুকে সংক্রমণ দেখা দিতে থাকে এবং চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও নিতে হয়েছে। শুরুতে বাবা-মা ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভ্যাপিংয়ের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে হঠাৎ বুকে তীব্র চাপ অনুভব করেন ফ্রেডি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে তার মনে হচ্ছিল, যেন সরু একটি স্ট্র দিয়ে শ্বাস নিচ্ছেন। পরে তার বান্ধবী জো হেনরিক তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম ছিল এবং তাকে ভর্তি করা প্রয়োজন। পরে জানা যায়, ফ্রেডির ফুসফুসের একটি অংশ ধসে পড়েছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নিউমোথোরাক্স বলা হয়। চার দিন হাসপাতালে অক্সিজেন নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি গোপনে ভ্যাপিং চালিয়ে যান, যা তার দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তির গভীরতা প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ফ্রেডি বুঝতে পারেন, এভাবে চলা তার জন্য বিপজ্জনক। এরপর তিনি ভ্যাপিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্য তরুণদের ভ্যাপিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন তিনি। শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিং নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিংয়ের সঙ্গে কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিসের মতো উপসর্গ এবং অ্যাজমা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
মেয়েকে বন্দি জীবন থেকে বাঁচাতে ১০ বছর ছেলে করে রাখলেন আফগান বাবা
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন পাল্টা ট্যারিফ কার্যকর করেছে কানাডা। পণ্যভেদে এই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। কানাডার সরকারি তালিকায় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম, ডেইরি, অ্যাপ্লায়েন্স, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও পেপার, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। তবে এই ট্যারিফ সরাসরি আমেরিকান ভোক্তার ওপর বসানো হয়নি। কানাডায় এসব মার্কিন পণ্য আমদানি করার সময় কানাডার ব্যবসায়ীদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। ফলে প্রথম চাপ পড়বে কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যারিফের কারণে কানাডায় মার্কিন পণ্যের দাম বাড়লে কিছু পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং এতে মার্কিন ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, ফার্নিচার, পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের মতো খাত এখন নজরে রয়েছে। কিছু পণ্যে ট্যারিফ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ায় কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে। এর প্রভাব কি আমেরিকান চাকরিতেও পড়তে পারে? এখনই বড় ধরনের চাকরি হারানোর কোনো প্রমাণ নেই। তবে কানাডার বাজারে কোনো মার্কিন কোম্পানির বিক্রি দীর্ঘদিন কমে গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কানাডার বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। এর মধ্যেই বাণিজ্য উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, যদি কোম্পানিটি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে না নেয়। জবাবে বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তাদের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মী ও উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে। অর্থাৎ কানাডার পাল্টা ট্যারিফের প্রভাব শুধু দুই দেশের সীমান্তের ওপারে পণ্যের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘ হলে আমেরিকান কোম্পানির বিক্রি, উৎপাদন এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আমেরিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই দেশ আবার আলোচনায় ফিরবে, নাকি পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরও বাড়বে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই বাণিজ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে।
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা