দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে যে কৌশলটি সবচেয়ে ভয়ংকর ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিল তা হলো জাপানের আত্মঘাতী বিমান হামলা, যা ইতিহাসে ‘কামিকাজে’ নামে পরিচিত। চাকাবিহীন বা স্থায়ী ল্যান্ডিং গিয়ারযুক্ত হালকা যুদ্ধবিমান নিয়ে আত্মঘাতী পাইলটরা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর, বিমানবাহী রণতরী ও সামরিক স্থাপনায় আছড়ে পড়তেন।
এই প্রতিবেদনকে কামিকাজে কৌশলের জন্ম, প্রযুক্তি, রণকৌশল ও আশপাশের সমুদ্রে সংঘটিত ভয়াবহ হামলা, ইউএসএস ডরসি ও ইউএসএস বাঙ্কার হিলের অভিজ্ঞতা, পাইলটদের মানসিকতা, মিত্রবাহিনীর প্রতিরোধ, এবং যুদ্ধোত্তর ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের আলোকে পুরো ঘটনাপ্রবাহকে বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে।
আত্মঘাতী বিমান হামলার ধারণা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে জাপান যখন আকাশ ও সমুদ্রে আধিপত্য হারাতে শুরু করে, তখনই জন্ম নেয় আত্মঘাতী িবমান হামলার মতো এক দুর্ধর্ষ ধারণা। ১৯৪৪ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে প্রথম বড় আকারে এই কৌশল প্রয়োগ হয়। প্রচলিত বোমাবর্ষণ বা ডগফাইটে সাফল্য কমে যাওয়ায় জাপানি সামরিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধবিমানকেই বানানো হবে অস্ত্র, আর পাইলট হবেন আত্মোৎসর্গকারী যোদ্ধা। লক্ষ্য একটাই- শত্রুপক্ষের জাহাজে সরাসরি আঘাত করে সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন।
এই আত্মঘাতী বিমানের বড় অংশ ছিল পুরোনো বা দ্বিতীয় সারির উড়োজাহাজ। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোতে স্থায়ী চাকা বা স্প্যাটেড আন্ডারকারেজ থাকত, যা দেখতে ছিল ভারী ও ধীরগতির। তবুও কামিকাজে অভিযানে এগুলো কার্যকর হয়ে ওঠে, কারণ পাইলটদের ফেরার কোনো পরিকল্পনাই থাকত না। বিমানের মাঝখানে বসানো হতো বড় আকারের ২৫০ কেজির বোমা, যা আঘাতের মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাত।
অনেক কামিকাজে আত্মঘাতী বিমানের চাকা ছিল, তবে কিছু বিশেষ মডেলে তা ছিল না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হতো, কিন্তু ওকা নামক রকেট-চালিত আত্মঘাতী বিমানে চাকা থাকতো না। এসব যুদ্ধবিমানগুলোকে বড় ধরনের কার্গো বিমান থেকে ছেড়ে দেয়া হতো এবং যেসব বিমানে চাকা থাকতো কিছু ক্ষেত্রে ওজনের ভার কমানোর জন্য টেকঅফের পর সেগুলো থেকে চাকা খুলে ফেলা হতো।

যেহেতু এসব মিশনের লক্ষ্যই ছিল আত্মহুতি, তাই ফেরার বা ল্যান্ড করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। আর এই বিবেচনায় ডিজাইনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল বিমানগুলোতে।
মার্কিন জাহাজে হামলা
১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে জাপানের ওকিনাওয়ার উপকূলে মিত্রবাহিনীর নৌবহর এই হামলার সবচেয়ে তীব্র অভিজ্ঞতা লাভ করে। ইউএসএস ডরসি (ডিএমএস-১), একটি পুরোনো উইকস-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার-মাইনসুইপার ২৭ মার্চ ভোরে কামিকাজের আক্রমণের মুখে পড়ে। জাহাজটি তখন কেরামা রেট্টো দ্বীপপুঞ্জের কাছে মাইন পরিষ্কার অভিযানে নিয়োজিত ছিল। শত্রু বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর সাধারণ সতর্কতা জারি হলেও রক্ষা হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ থেকে নেমে আসে আত্মঘাতী হামলা।
ডরসির নাবিকেরা প্রথমে দূরে অন্য জাহাজে আক্রমণ হতে দেখেন। এরপর তিনটি শত্রু বিমান তাদের দিকে এগিয়ে আসে। দুইটি পাশ কাটিয়ে গেলেও তৃতীয়টি পেছন দিক থেকে ঘুরে এসে আত্মঘাতী ডাইভ দেয়। জাহাজের সব অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। ৪০ মিমি বোফর্স ও ২০ মিমি অরলিকন কামান আঘাত হানে বিমানে, আগুন ধরে যায়, এমনকি একটি অংশ ছিটকেও পড়ে। কিন্তু কামিকাজে অভিযানের নির্মম সত্য হলো- এত কিছুর পরও পাইলট তার লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।
ভোর ৬টা ২০ মিনিটে সেই জ্বলন্ত বিমানটি ডরসির ডেকের পাশে আছড়ে পড়ে। বিস্ফোরণে জাহাজের গায়ে ফাটল ধরে, চিমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ডেকের বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়। আটজন নাবিক সমুদ্রে ছিটকে পড়েন, এর মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নিখোঁজ থাকেন। আরও দুজন গুরুতর আহত হন, যাদের একজন পরে মারা যান। এর পরেও আশ্চর্যজনকভাবে ডরসি দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আবার কাজে ফিরে যায়।
একই সময়, একই অঞ্চলে আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কামিকাজে হামলার শিকার হয়। ইউএসএস নেভাডা, বিলক্সি, ও’ব্রায়েন, ফরম্যান সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ জাহাজ তাদের আক্রমণকারীকে ‘ভ্যাল’ বলে শনাক্ত করে। ভ্যাল ছিল আইচি ডি৩এ ডাইভ বোম্বারের মিত্রবাহিনী প্রদত্ত কোডনাম, যা পার্ল হারবার থেকে শুরু করে বহু অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল।
কিন্তু যুদ্ধোত্তর গবেষণা ও জাপানি নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই দিন আকাশে ভ্যাল ছিল না। বরং আক্রমণ চালিয়েছিল মিতসুবিশি কি-৫১, মিত্রবাহিনীর কোডনাম ‘সোনিয়া’। দেখতে ভ্যাল ও ‘নেট’ ফাইটারের সঙ্গে মিল থাকায় যুদ্ধের উত্তাপে মার্কিন নাবিকেরা ভুল শনাক্ত করেছিলেন। সোনিয়া ছিল জাপানি সেনাবাহিনীর (আইজেএএএফ) একটি দুই আসনের ক্লোজ-সাপোর্ট বিমান, যা পরে ব্যাপকভাবে কামিকাজে ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়।
এই সোনিয়া বিমানগুলো পরিচালনা করেছিল বিশেষ কামিকাজে ইউনিট বুকোকু-তাই ও সেকিশিন-তাই। ওকিনাওয়ার নাকা এয়ারফিল্ড থেকে উড্ডয়ন করা ১১টি সোনিয়া ২৭ মার্চ ভোরে মার্কিন নৌবহরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাহাজগুলোর রিপোর্টে যতগুলো বিমান দেখা গিয়েছিল, জাপানি রেকর্ডের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়।
এই ভুল শনাক্তকরণের রহস্য আরও স্পষ্ট হয় ২০২০ সালে, যখন ইউএসএস ডরসিতে আছড়ে পড়া বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করা হয়। প্রপেলারের অংশ, স্পিনার ও একটি ডাটা প্লেট থেকে জানা যায়, বিমানে ছিল ‘হাক্স স্টার্টার’ সংযোগ, যা জাপানি সেনাবাহিনীর বিমানে সাধারণ ছিল। ডাটা প্লেটে নোঙরের বদলে তারকা চিহ্ন থাকাও প্রমাণ করে এটি নৌবাহিনীর ভ্যাল নয়, বরং সেনাবাহিনীর সোনিয়া।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা
ওকিনাওয়ার যুদ্ধকালে সবচেয়ে ভয়াবহ কামিকাজে আঘাতগুলোর একটি আসে ইউএসএস বাঙ্কার হিলের ওপর। ১৯৪৫ সালের ১১ মে সকালে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই জাপানের কিকুসুই স্পেশাল অ্যাটাক স্কোয়াড্রন মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে লক্ষ্য করে। ‘জিকে’ বা জিরো ফাইটার নিয়ে পাইলটরা মেঘের আড়াল ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা এড়িয়ে যায়।

বাঙ্কার হিলে আক্রমণের মুহূর্তে ডেকে অবতরণ করছিল মার্কিন ফাইটারগুলো। রাডার বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো কাজ করছিল না। হঠাৎ করেই এক কামিকাজে ডেকে গুলি চালায়, তারপর বোমাসহ আছড়ে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আরেকটি বিমান একইভাবে আঘাত হানে। ডেকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন, বিস্ফোরণে ধ্বংস হয় রেডি রুম, হ্যাঙ্গার ডেক।
এই আক্রমণে ৩৯৬ জন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হন। একটি মাত্র হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এত বড় প্রাণহানি ছিল ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়ও বাঙ্কার হিল ডুবে যায়নি। ইঞ্জিনরুমের নাবিকেরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজ সচল রাখেন, যা শেষ পর্যন্ত রণতরীটিকে রক্ষা করে।
জাপানি আত্মঘাতী পাইলটদের অসীম সাহস
কামিকাজে পাইলটদের মানসিকতা ছিল জটিল ও বহুমাত্রিক। অনেকেই ছিলেন তরুণ, সদ্য প্রশিক্ষণ শেষ করা। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, যাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় সীমিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা নিয়ে। আদর্শ, দেশপ্রেম, সামাজিক চাপ ও সামরিক নির্দেশ সব মিলিয়ে তারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।
মার্কিন সেনাদের কাছে এই কৌশল ছিল সম্পূর্ণ ভিনগ্রহী। ওকিনাওয়ার কাদেনা এয়ারফিল্ডে থাকা তরুণ মেরিন পাইলটদের কাছে আত্মঘাতী আক্রমণের ধারণাই ছিল অবিশ্বাস্য। তবু বাস্তবতায় প্রতিদিনই তারা এমন শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছিল, যার কাছে বেঁচে ফেরা কোনো লক্ষ্য নয়।
এই প্রেক্ষাপটেই ইতিহাসবিদরা বলেন, যদি জাপান আত্মসমর্পণ না করত এবং পারমাণবিক বোমা ব্যবহার না হতো, তবে ‘অপারেশন ডাউনফল’ নামে মিত্রবাহিনীর মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের সম্ভাবনাও থাকতো, আর তা হতো মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অভিযান। কামিকাজে কৌশল সেখানে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।

যুদ্ধ শেষে পার্ল হারবার, ইউএসএস মিসৌরি, সাবমেরিন বোফিশসহ বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলো কামিকাজে ইতিহাসকে জীবন্ত করে রেখেছে। সব মিলিয়ে, চাকাবিহীন বা স্থায়ী আন্ডারকারেজযুক্ত কামিকাজে বিমান শুধু সামরিক অস্ত্র ছিল নয়, তা ছিল এক ধরনের মানসিক যুদ্ধ। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা,আত্মোৎসর্গের মানসিকতা ও ভয়াবহ ধ্বংস এই সবকিছু মিলিয়ে কামিকাজে হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি।
এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধজয়ের বা পরাজয়ের গল্প নয়, এটি মানুষের সিদ্ধান্ত, আদর্শ, ভুল ও আত্মত্যাগের জটিল দলিল। ওকিনাওয়া থেকে বাঙ্কার হিল প্রতিটি আঘাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে মানুষ কতটা দূর যেতে পারে, এবং তার মূল্য কত ভয়াবহ হতে পারে। হয়তো এ বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেই বিশ্বের কাছে অজানা সেই পারমাণবিক অস্ত্রকে জাপানে প্রথমবারের মতো ব্যবহারের মাধ্যমে সামনে আনতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।
জাপানের সবচেয়ে বড় অভিযান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানের শিল্প ও সামরিক শক্তি পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল আমদানিকৃত তেলের ওপর। জাপান তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ আমদানি করত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিন্তু চীন ও ফরাসি ইন্দোচীনে আগ্রাসনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪১ সালের জুলাইয়ে জাপানের ওপর পূর্ণ তেল নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে জাপানের হাতে থাকা তেল মজুত ছিল সর্বোচ্চ ১৮–২৪ মাসের জন্য। অর্থাৎ যুদ্ধ না করলেও জাপানের সামরিক ও অর্থনীতি অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাপান হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে অতর্কিত হামলা চালায় জাপান। দুই ঘণ্টার এই অভিযানে অংশ নেয় দেশটির ৩৫৩টি যুদ্ধবিমান। হামলায় ৫টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ১৬টি, ধ্বংস হয় ১৮৮টি যুদ্ধবিমান। এতে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ১২০০ জন আহত হন।
হামলার শুরুতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণভাবে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেও সকাল ১০টার মধ্যে সীমিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জাপানি বাহিনী ফিরে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ২৯টি জাপানি বিমান ও ৫টি ছোট সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। নিহত হয় ৬৪ জন জাপানি সেনা। পার্ল হারবার হামলার পরদিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট কংগ্রেসে ভাষণ দিয়ে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানান। একজন ছাড়া সবাই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেন এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই তাঁর নাম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে আয়োজিত এক বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ দেশটিতে সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আরও দুজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও তারা মূলত অনুগত এবং তাঁদের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই সেনাবাহিনীর সক্রিয় কর্মকর্তা বা জান্তা সমর্থিত দলের প্রতিনিধি, যার ফলে হ্লাইংয়ের বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বাধা ও কৌশল দীর্ঘদিন ধরে মিন অং হ্লাইংয়ের স্বপ্ন ছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়া। ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তবে এখন প্রেসিডেন্ট হতে গেলে তাঁকে কিছু আইনি ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে: সেনাবাহিনী ত্যাগ: সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে হলে তাঁকে সামরিক পোশাক ও পদ ছাড়তে হবে। এতে সেনাবাহিনীর ভেতরে তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উত্তরসূরি নির্বাচন: নিজের ক্ষমতা অটুট রাখতে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত জেনারেল ইয়ে উইন ও’কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। পরামর্শদাতা পরিষদ: পদত্যাগ করলেও যাতে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকে, সেজন্য তিনি নিজেই একটি নতুন শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যার প্রধান থাকবেন তিনি নিজেই। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সংকট সামরিক সরকার এই নির্বাচনকে ‘শান্তির পথ’ হিসেবে দাবি করলেও জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো একে একটি বড় ধরনের ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের একটি বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে। বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়। একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলার মুখে আবারও কেঁপে উঠেছে ইসরাইল। হাইফার পর এবার অবৈধ ভূখণ্ডটির ‘নিওত হোভভ’ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকালে ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ওই শিল্পাঞ্চল থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ চুইয়ে পড়ার (Leakage) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্ট শকওয়েভে একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন ৪০ নম্বর হাইওয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিল নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেলের আঘাতেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে নেগেভ মরুভূমির ওই শিল্পাঞ্চল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ইরান থেকে অন্তত পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে, যা মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও জেরুসালেম পোস্ট