আন্তর্জাতিক

'মার্কিন সেনারা হবে হাঙরের খাবার': ইরান থেকে ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২৯, ২০২৬ ০:১৬
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি ।
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি ।

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে।

 

বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়।

 

একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

 

সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি  I ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ভেতরে কয়েক কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে চীনা সেনা, দাবি অরুণাচলের স্থানীয়দের

ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দাবি, চীনা বাহিনী সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরির পাশাপাশি স্থানীয়দের চারণভূমি ও কৃষিজমি দখল করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন এই অনুপ্রবেশের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের এ বিষয়ে আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।   তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বহু যুগ ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা যেসব জমিতে শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করতেন, সেগুলো এখন পুরোপুরি চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। স্মারকলিপির তথ্য থেকে জানা যায়, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। আসফিলা এলাকার ওয়িং, পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাংয়ে এই দখলদারির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি স্থান স্থানীয়দের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত। কেরু চাদের জানান, প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়লেও ২০২০ সাল থেকে তারা কৌশলগতভাবে পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।   তখন থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নিজেদের ভূমি হারানোর আশঙ্কায় তারা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো এই ঘটনাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে আদিবাসী সংগঠনের তোলা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশের দাবি সরাসরি এবং জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে লাদাখেও চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় দাবি করেছিল যে তাদের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বেহাত হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৫:০
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে

ইউরোপের মঞ্চে বাজিমাত, সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী

উন্নত বিশ্বকে পেছনে ফেলে জি-২০ জোটের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ সৌদি আরব | ছবি: এএফপি

জি-২০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ সৌদি আরব, রাতের বেলা নিশ্চিন্তে একা হাঁটেন ৯৫ শতাংশ নারী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত

মুসলমানদের নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড়, কবীরকে শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি
পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ বলে দাবি করলেন বিদায়ী সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   আগামীকাল মঙ্গলবার অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার একদিন আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনও বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।   উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং উভয় দেশই এখন পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বড় বড় সীমান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থাও বেড়েছে।   ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিকল্প খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য চালু এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক ও ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   তবে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নজরদারি, রসদ সরবরাহ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১২:৫
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি

ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ইউক্রেন ফ্রন্টে রুশ সেনাদের গড় আয়ু মাত্র ২০ মিনিট, দাবি প্রতিবেদনের

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পর্দার আড়ালের অস্ত্র বাণিজ্য: সৌদি-কাতারের কাছে গোপনে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল

রাম মন্দির l ছবি: সংগৃহীত
রাম মন্দিরের দানবাক্স চুরি: টাকার খোঁজে আট অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি

ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনায় তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করেছে পুলিশ। অর্থপাচারের মূল উৎস ও চুরির টাকার হদিস পেতে এই মামলার প্রধান আট অভিযুক্তের বাড়িতে একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার সকালে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন সাক্ষী দলের উপস্থিতিতে এই মেগা তল্লাশি চালায় পুলিশ।   গত সপ্তাহে সিসিটিভি ফুটেজে চুরির অকাট্য প্রমাণ মেলার পর রাম মন্দিরের টাকা গণনার কাজে যুক্ত এই আট কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রাম শঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব। তারা প্রত্যেকেই মন্দিরের দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় আদালত তাদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে এবং আগামীকাল রিমান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।   তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, গত চার বছরে অভিযুক্তরা ঠিক কী পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বের করতে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জমি, স্বর্ণালংকার ও ব্যাংক ব্যালেন্সের পাশাপাশি তাদের হঠাৎ বদলে যাওয়া বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং সম্প্রতি গাড়ি বা সম্পত্তি কেনার বিষয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। তল্লাশিকালে তিন্নু ও মনীশ যাদবের পরিবার অসহযোগিতা করলেও, আরেক অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রের খালা নেহা মিশ্র পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, রাম মন্দির ট্রাস্টে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সাধারণ আয়ের অনুকল্পের জীবনযাত্রায় রাতারাতি জাদুকরী পরিবর্তন আসে।   প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাম মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা গায়েব করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে রোববারের অভিযানে নতুন করে কোনো অর্থ বা সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দলের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা পড়ার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরির ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৫:৪
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইতালিতে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাংলাদেশির ১৪ বছরের কারাদণ্ড

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহত ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তান l ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহত ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তান, ৭৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার মরদেহ

ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহ l ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক নিভছে প্রাণ, ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহে মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল

0 Comments