সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:৩৯
US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation
US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে  গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।

 

এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।

 

যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়।

 

পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

 

কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে।

 

বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে।

 

সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে।

 

আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়।

 

শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়।

 

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে।

 

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

প্রবাসের জীবন মানেই ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা, কাজের ফাঁকে সময় বের করা, আর হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা আপন দেশটাকে বুকের ভেতর লালন করে বেঁচে থাকা। তবে কখনো কখনো এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন দূরত্বের সব হিসাব যেন মুছে যায়। মনে হয়—দেশটা খুব বেশি দূরে নয়, বরং ঠিক পাশেই আছে।   গত ৫ সেপ্টেম্বর, লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি ছিল তেমনই এক সন্ধ্যা।   ক্লিনটনের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের হলরুম সেদিন আর কেবল একটি অনুষ্ঠানস্থল ছিল না; প্রবাসের মাটিতে সেটি যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। মিসিসিপির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে চারপাশে তৈরি হয়েছিল আপন এক আবহ—বাংলা ভাষা, পরিচিত মুখ, নতুন পরিচয়, হাসি-আড্ডা আর গানের সুরে ভরে উঠেছিল পুরো পরিবেশ।   অনুষ্ঠানের শুরুটাও ছিল একেবারে বাঙালিয়ানায় ভরা। অতিথি আপ্যায়নে চটপটি, চানাচুর, মুড়ি আর চা—এই সামান্য আয়োজনই যেন অনেক বড় এক স্মৃতির দরজা খুলে দিয়েছিল। এক কাপ চায়ের পাশে জমে ওঠা গল্প, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল, এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলাও।   স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্বের সূচনা। এরপর মিসিসিপিতে নবাগত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর পরিচিতি পর্ব। প্রবাসে একটি নতুন পরিবার মানে শুধু একটি নতুন ঠিকানা নয়—বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যুক্ত হচ্ছে আরও কিছু মানুষ, আরও কিছু গল্প, আরও কিছু সম্পর্ক।   এরপর মঞ্চে শুরু হলো সুরের মায়াজাল। রবীন্দ্রসংগীতের কোমল আবেশ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের ঐতিহ্য, নজরুলগীতির প্রাণময়তা এবং আধুনিক বাংলা গানের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা—একটির পর একটি পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে ওঠেন দর্শক-শ্রোতারা।   গানের সুর যেন কখনো নিয়ে যাচ্ছিল বাংলার কোনো বর্ষার বিকেলে, কখনো শৈশবের স্মৃতির উঠোনে, আবার কখনো ফেলে আসা প্রিয় শহর কিংবা গ্রামের মেঠোপথে। প্রবাসে বসে বাংলা গান শোনার অনুভূতিটা যে কত গভীর, তা সেদিন হলরুমে উপস্থিত মানুষগুলোর চোখেমুখেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।   সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাবেক মাইলস ব্যান্ডের ড্রামারের  নেতৃত্বে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা। অভিজ্ঞতার ছোঁয়ায় পরিবেশনাটি খুব দ্রুতই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গানের তালে তালে হলরুমের পরিবেশ বদলে যায়; একসময় মনে হচ্ছিল, আমরা যেন মিসিসিপির ক্লিনটনে নয়—বাংলাদেশের কোনো প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আসরে বসে আছি।   এরপর ছিল খাবারের বিরতি। আবারও জমে উঠল গল্প, আড্ডা আর পরিচিত হওয়ার পর্ব। কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ালেন, কেউ নতুন পরিচয়ে যোগ করলেন নতুন গল্প। খাবারের টেবিলও হয়ে উঠল একেকটি ছোট্ট আড্ডার আসর।   বিরতির পর আবার শুরু হলো সমবেত সংগীত। প্রবাসে থেকেও ভাষা, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, সেই অনুভূতিই যেন ফুটে উঠেছিল সমবেত কণ্ঠে।   এরপর আবারও ব্যান্ড সংগীত। গানের পর গান চলতে থাকে। সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু আনন্দের যেন কোনো বিরতি নেই। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে এই প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন।   অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি সন্ধ্যার রেশ। কারণ প্রবাসে এমন একটি সন্ধ্যার মূল্য শুধু বিনোদনে নয়। এর মূল্য আরও গভীরে—এটি মানুষকে মানুষের কাছে নিয়ে আসে, নতুনদের পরিচিত করে, পুরোনো সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়।   মিসিসিপি বাংলা একাডেমির এই আয়োজন তাই কেবল একটি সংগীতসন্ধ্যা ছিল না; এটি ছিল শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর উপলক্ষ।   হয়তো সেদিন ক্লিনটনের আকাশে বাংলাদেশের চাঁদ উঠেনি, হলরুমের বাইরে ছিল না বাংলার মেঠোপথ, ছিল না গ্রামের সেই চিরচেনা বাতাস। কিন্তু ভেতরে ছিল বাংলা গান, বাংলা ভাষা, বাঙালির আড্ডা, দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ আর একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা।   আর এসবই তো বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে।দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও বাংলাদেশ হারিয়ে যায় না—বাংলাদেশ বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে, গানের সুরে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে এবং একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোতে।   সেদিন ক্লিনটনের সেই হলরুমে তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়নি—প্রবাসের মাটিতে সত্যিই তৈরি হয়েছিল একখণ্ড বাংলাদেশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২০:১৭
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল

ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল

৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরা

স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেড়ে প্রতিবেশী নারীর মুখে মল ছুরলেন স্ত্রী

জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান

জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নাটালি হার্প
ছুটির উপহার হিসেবে চার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাকে ট্রাম্প দিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ছুটির মৌসুমে হোয়াইট হাউসের চার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক বিবরণীতে এসব উপহারের তথ্য উঠে এসেছে।    আর্থিক নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নাটালি হার্প, কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার মার্গো মার্টিন এবং ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর চেম্বারলেন হ্যারিস প্রত্যেকে ৪৫ হাজার ডলার করে পেয়েছেন। নথিতে এসব অর্থকে ছুটির উপলক্ষে নগদ উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে, ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর ওয়াল্ট নাউটা পেয়েছেন ২০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে চার কর্মকর্তাকে দেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার।    হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসে জমা দেওয়া বেতনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হার্প, মার্টিন ও হ্যারিসের প্রত্যেকের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। নাউটার বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া ৪৫ হাজার ডলারের উপহার তাদের এক বছরের সরকারি বেতনের প্রায় ৩০ শতাংশের সমান।    হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কখনো কখনো কর্মী ও সহযোগীদেরও ক্রিসমাস বা ছুটির উপহার দেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব অর্থ কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার নিয়ম অনুযায়ী তা অনুমোদিত।   তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা ও সরকারি কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মীরা সাধারণভাবে তাদের সরকারি বেতনের বাইরে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধের আওতায় থাকেন। ফলে ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দেওয়া এসব অর্থের আইনগত ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    নাটালি হার্প ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। মার্গো মার্টিন ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই তার সঙ্গে কাজ করছেন এবং বর্তমানে কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চেম্বারলেন হ্যারিস ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর।    ওয়াল্ট নাউটা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি বর্তমানে ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে ট্রাম্পের গোপন নথি সংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় নাউটার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়।    নতুন আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশিত এই উপহারগুলো ২০২৫ সালের ছুটির সময় দেওয়া হলেও তথ্যটি প্রকাশ্যে এসেছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রকাশের পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উপহার, সরকারি বেতন এবং ফেডারেল নৈতিকতা বিধির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:৩৮
ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু

গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু

বাংলাদেশি সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

বাংলাদেশি গবেষক ইরফানের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে
২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর

নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরে বাড়ি কেনা বা রেন্ট নেওয়ার খরচ যেখানে অনেক বেশি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত AmeriSave-এর তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পোস্টের করা তালিকায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী বড় আবাসন বাজার হিসেবে উঠে এসেছে পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ। তালিকার ১০ শহরের মধ্যে নয়টিই রিপাবলিকান-সমর্থিত বা ‘রেড স্টেট’-এ অবস্থিত।   পিটসবার্গে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা জাতীয় মাঝারি দামের প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ডলারের তুলনায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে পিটসবার্গই একমাত্র শহর যেখানে বাড়ি কেনার খরচ রেন্ট নেওয়ার চেয়ে কম হতে পারে। শহরটির জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।    একসময় ইস্পাতশিল্পের জন্য পরিচিত পিটসবার্গ এখন প্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গুগল, ইউপিএমসি এবং কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। পিটসবার্গ মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।    তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ডেকাটুর। শহরটিতে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ৮৯ হাজার ৮৫৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। তালিকায় এটিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত ‘ব্লু স্টেট’-এর শহর। কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহন খাত ডেকাটুরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    তৃতীয় স্থানে ওকলাহোমার এনিড। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। কৃষি, জ্বালানি ও এয়ারোস্পেস খাত শহরটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।    চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৩ ডলার হলেও জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম, যা তালিকায় সবচেয়ে বড় ব্যবধান। উৎপাদন ও হেলথ কেয়ার খাত এখানে বড় কর্মসংস্থানের উৎস।    পঞ্চম স্থানে আইওয়ার ডেস ময়েন। শহরটির বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। ফাইন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স ও ডেটা সার্ভিসেস খাতের জন্য শহরটি পরিচিত।    ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি। এখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস, হেলথ কেয়ার ও প্রযুক্তি খাত শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সপ্তম স্থানে কানসাসের উইচিটা। ‘এয়ার ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত এই শহরে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও উৎপাদন শিল্প এখানে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।    অষ্টম স্থানে উইসকনসিনের গ্রিন বে। বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজশিল্প ও হেলথ কেয়ার শহরটির প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।    নবম স্থানে নেব্রাস্কার ওমাহা। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, ইউনিয়ন প্যাসিফিকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে শহরটি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।    দশম স্থানে রয়েছে আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও খাদ্যশিল্প শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    এই তালিকা থেকে দেখা যায়, কম খরচের আবাসন বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও দক্ষিণাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই কোনো শহরকে বসবাসের জন্য সেরা বলা যায় না। চাকরির সুযোগ, আয়, কর, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত ও পরিবারের প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। AmeriSave-এর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণেও কম খরচের পাশাপাশি স্থানীয় চাকরির বাজার ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৩:৫৫
৪০তম সম্মেলন শেষ হওয়ার পর টেক্সাসের হিউস্টনে ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা

দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে অবশেষে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

গ্রেপ্তারের আহ্বানের মাঝেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!

0 Comments