আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:৩৯
US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation
US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে  গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।

 

এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।

 

যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়।

 

পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

 

কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে।

 

বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে।

 

সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে।

 

আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়।

 

শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়।

 

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে।

 

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স
ধনকুবেরদের সম্পদ বেড়েছে বহুগুণ, ১৭ বছর ধরে একই ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি: প্রশ্ন তুললেন বার্নি স্যান্ডার্স

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদ গত এক যুগের বেশি সময়ে বহুগুণ বেড়েছে, অথচ দেশের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ১৭ বছর ধরে ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলারেই আটকে আছে। এই বৈপরীত্য সামনে এনে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে জীবনধারণের উপযোগী পর্যায়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।   রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস ও মার্ক জাকারবার্গের ২০১২ সালের সম্পদের সঙ্গে ২০২৬ সালের সম্পদের তুলনা করেন। একই পোস্টে তিনি তুলে ধরেন, ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরির হার অপরিবর্তিত রয়েছে।   স্যান্ডার্সের পোস্টে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালে ইলন মাস্কের সম্পদ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে তা ৭১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।   একইভাবে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদ ২০১২ সালের ১৮.৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ সালে ২৫৫ বিলিয়ন ডলারে এবং মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে স্যান্ডার্সের পোস্টে দাবি করা হয়েছে।   তবে ধনকুবেরদের সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রতিদিনই পরিবর্তিত হয়। তাদের সম্পদের বড় অংশ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের বাজারমূল্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের ব্যবধানেও নেট সম্পদের হিসাবে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এ কারণে স্যান্ডার্সের পোস্টে উল্লেখ করা ২০২৬ সালের অঙ্কগুলো নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।   সাম্প্রতিক হিসাবেও এর উদাহরণ দেখা গেছে। ২৩ জুলাই টেসলার শেয়ারের বড় পতনের পর ইলন মাস্কের সম্পদ একদিনেই প্রায় ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার কমে যায় বলে ফোর্বসের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই সময় তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩১.৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।   তবে স্যান্ডার্সের পোস্টে ধনকুবেরদের সম্পদের চেয়েও যে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনা হয়েছে, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। এই হার কার্যকর হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই। এরপর ১৭ বছর পার হলেও ফেডারেল পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি আর বাড়েনি।   ২০০৭ সালে পাস হওয়া আইনের আওতায় ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি তিন ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই তা ঘণ্টায় ৫.৮৫ ডলার, ২০০৮ সালে ৬.৫৫ ডলার এবং ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই ৭.২৫ ডলারে উন্নীত হয়। এরপর থেকে একই হার বহাল রয়েছে।   এই দুই চিত্র পাশাপাশি রেখে স্যান্ডার্স লিখেছেন, পরিস্থিতি ‘অশ্লীল’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, “আমাদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে জীবনধারণের উপযোগী মজুরিতে নিয়ে যেতে হবে।”   স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের মজুরির ব্যবধানকে তিনি তার রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়মিতভাবে তুলে ধরেন।   তবে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ৭.২৫ ডলার থাকার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মী এই হারেই কাজ করেন। অনেক অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার নিজেদের ন্যূনতম মজুরি ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করেছে।   ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল উভয় ন্যূনতম মজুরি আইন প্রযোজ্য হলে সাধারণভাবে কর্মী যে আইনে বেশি মজুরি পাওয়ার অধিকারী, সেই উচ্চতর হারই প্রযোজ্য হয়।   ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক। সমর্থকদের যুক্তি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৭.২৫ ডলারের ফেডারেল হার বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং কম আয়ের কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে মজুরি বৃদ্ধি প্রয়োজন।   অন্যদিকে বড় ধরনের বাধ্যতামূলক মজুরি বৃদ্ধির বিরোধীরা ছোট ব্যবসার শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্যের বিষয়টি সামনে আনেন।   ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসে আইন পাসের প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।   স্যান্ডার্সের নতুন পোস্টটি সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার সামনে এনেছে। একদিকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদের মূল্য কয়েক বছরে বিপুলভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলারেই অপরিবর্তিত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৮:২
অভিবাসী গ্রেপ্তার করছে আইসিই I ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের ধরপাকড়ে দিনে ১,৪০০-এর বেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার করছে আইসিই

ছবি: এএফপি

শ্রেণিকক্ষে মানুষ নয়, এবার পড়াবে রোবট! ক্ষুব্ধ নিউইয়র্কের শিক্ষকেরা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ের সতর্কতা

১২ বার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও অবৈধভাবে ফিরে এসে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন এক মেক্সিকান নাগরিক
১২ বার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও অবৈধভাবে ফিরে এসে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন এক মেক্সিকান নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টানা ১২ বার বহিষ্কৃত হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে ফিরে আসার অভিযোগে এক মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম এইদো ক্রুজ গনজালেস (৪০)। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।   আদালত ও বিচার বিভাগের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে গনজালেসকে মোট ১২ বার মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ২০১২ সালে অ্যারিজোনার একটি ফেডারেল আদালতে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপরাধ তিনি স্বীকার করেছিলেন। ওই মামলায় পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর একই বছরের আগস্টে তাকে পুনরায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও তিনি আরও অন্তত নয়বার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং প্রতিবারই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বহিষ্কারের পরও তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১২ নিউ জার্সি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হিলসবরো পুলিশ তাকে ভুয়া মোটরযান বীমা কার্ড প্রদর্শন এবং স্থগিত লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ওই দুটি অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের বর্তমান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে গনজালেসের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) সহায়তায় এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, অভিযোগপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো আপাতত অভিযোগমাত্র। আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবেই গণ্য করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৬:৩৬
‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে ইউরোপে ঝুঁকছেন মার্কিন নাগরিকরা, সবচেয়ে সাশ্রয়ী গন্তব্য হিসেবে এগিয়ে হাঙ্গেরি

‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে ইউরোপে ঝুঁকছেন মার্কিন নাগরিকরা, সবচেয়ে সাশ্রয়ী গন্তব্য হিসেবে এগিয়ে হাঙ্গেরি

টয়লেটে বসলেই শুরু হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বাজারে আসছে ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’

টয়লেটে বসলেই শুরু হবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বাজারে আসছে ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’

পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত ১১ হাজার মার্কিনি, সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি

পরজীবী সংক্রমণে আক্রান্ত ১১ হাজার মার্কিনি, সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি

ব্রঙ্কসের মাউন্ট ইডেন এলাকার এলিয়ট প্লেসে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে ঘটে এই নির্মম গোলাগুলির ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ গেল পুলিশের ছেলের, ১২ বছরের জ্যাকবের মৃত্যুতে স্তব্ধ নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কস এলাকায় প্রকাশ্য দিনের আলোতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির নাম জ্যাকব ফ্রেইটাস। সে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তার ছেলে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তার সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলির শিকার হয়ে নিরপরাধ পথচারী হিসেবে প্রাণ হারায় জ্যাকব।    ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেলে ব্রঙ্কসের মাউন্ট ইডেন এলাকার এলিয়ট প্লেসে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে। পুলিশ জানায়, ওই সময় কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হলে জ্যাকবের শরীরে গুলি লাগে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি আহত হন।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকব ওই দোকানে একটি বল কিনতে গিয়েছিল। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সে সাইকেল নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার পরই কাছাকাছি কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরে গুলির শব্দ হলে শিশুটি নিজের বুকের ওপরের অংশ ধরে আবার দোকানের ভেতরে দৌড়ে যায় এবং সেখানে পড়ে যায়।    আহত অবস্থায় জ্যাকবকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের লিংকন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিটি তার কাঁধের কাছে লাগে। একই ঘটনায় আহত ২৫ ও ৩৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।    স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জ্যাকব শান্ত স্বভাবের ও ভদ্র একটি শিশু ছিল। পরিবারের স্বজনরা জানান, সে নিয়মিত এলাকায় সাইকেল চালাত এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। ঘটনার সময় তার বাবা শহরের বাইরে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিল। তবে কে গুলি চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত চলছে।    ঘটনাটি নিউইয়র্কের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় একটি শিশুর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১২:৪২
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ। ছবি: সংগৃহীত

আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখলেন ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইনে দর্শক বাড়ানো এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল শেখানো হবে এই একাডেমিক প্রোগ্রামে। স্টক - অ্যাডোবি

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বানানোর ডিগ্রি চালু করল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি

গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দশটি অঙ্গরাজ্যে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

তীব্র গরমে মশার উপদ্রবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্য

0 Comments