নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার মাত্র তিন দিন আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। পায়ের গুরুতর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় দল থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। তবে কেবল বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়াই নয়, একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। তার এই আকস্মিক বিদায়ের পর বিশ্বকাপ দলে তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে সুযোগ পেয়েছেন জার্মান ক্লাব বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় এন্দো বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় তিনি অত্যন্ত হতাশ। তবে তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে এমন এক সময় অবশ্যই আসবে যখন জাপান বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে। সেই বিশ্বাস ধরে রেখে আসন্ন উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টেই যেন সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে, সে জন্য দেশের সাধারণ মানুষকে দলের প্রতি সমর্থন ও শক্তি একত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে জাতীয় দল থেকে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি লেখেন, এখন থেকে তিনি আরেকজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে গ্যালারিতে বসে জাপান দলকে আজীবন সমর্থন করে যাবেন।
এই মিডফিল্ডারের চোটের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সময় পায়ে গুরুতর আঘাত পান এন্দো। ওই মারাত্মক চোটের কারণে ক্লাব ফুটবলে তার পুরো মৌসুমই শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে তিনি জাতীয় দলে ফিরলেও মাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি। ওই ম্যাচের প্রথমার্ধের পর তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং মেক্সিকোতে জাপানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পেও তিনি চরম শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন।
পরবর্তীতে গত সোমবার জাপান দল যখন তাদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি আমেরিকার ন্যাশভিলে পৌঁছায়, তখন অনুশীলনে যোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেকে শতভাগ ফিট প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন এন্দো। তবে এই দীর্ঘ লড়াই নিয়ে তার মনে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে দলকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, যেখানে দাঁড়িয়ে এখন জাপান দল বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে; আর এই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারাটাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।
২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ওয়াতারু এন্দো দেশের জার্সিতে দীর্ঘ এক দশকে মোট ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং চারটি গোল করেছেন। তিনি এর আগে ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে জাপানের অন্যতম মূল শক্তি হিসেবে মাঠে ছিলেন। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে পরাশক্তি জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জাপানের ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয়ের ম্যাচগুলোতে তিনি মাঝমাঠে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে শক্তিশালী গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার আক্রন স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কোরিয়ানরা। তবে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে মাঠের ফুটবল রোমাঞ্চ ছাপিয়ে সবার চোখ আটকে গেছে স্টেডিয়ামের হাজার হাজার খালি আসনের দিকে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের জন্য নির্ধারিত ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে আক্রন স্টেডিয়াম দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম হওয়ার পরও ম্যাচের সময় গ্যালারির একটি বিশাল অংশ সম্পূর্ণ দর্শকশূন্য ছিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিফা কর্তৃক টিকিটের আকাশচুম্বী ও অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের কারণেই মূলত সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। মাঠের এই হতাশাজনক চিত্রের পেছনে মূল কারণ হিসেবে টিকিটের চড়া দামকেই দায়ী করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। স্টেডিয়ামের নিচের স্তরের সাধারণ ক্যাটাগরির একেকটি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০০ মার্কিন ডলার। এছাড়া সাইডলাইনের উপরের সারিগুলোর টিকিটের মূল্য ছিল ৪০০ ডলার এবং বিশেষ হসপিটালিটি সিটের দাম ছিল ৫ হাজার ডলারেরও বেশি, যা সাধারণ সমর্থকদের সাধ্যের বাইরে। অথচ এই ম্যাচ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই দাবি করেছিলেন যে, আজ পর্যন্ত ৬০ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য এবার বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব চাহিদা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে মোট দর্শক সংখ্যা জানিয়েছে ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন, যেখানে এই স্টেডিয়ামের মোট আসন ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ৬৬৪টি। কিন্তু মাঠের দৃশ্যমান ফাঁকা গ্যালারির সাথে ফিফার দেওয়া এই সংখ্যার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিফার ঘোষিত এই দর্শক সংখ্যা কি কেবল বিক্রি হওয়া টিকিটের হিসাব নাকি স্টেডিয়ামের গেট দিয়ে প্রবেশ করা আসল দর্শকের সংখ্যা—সেই বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কোনো সদুত্তর বা স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি। টিকিট বিক্রির এই অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থক কম থাকার পেছনে আরেকটি বড় কারণ ছিল দলটির দেরিতে টিকিট পাওয়া। চেকিয়া গত মার্চ মাসে বেশ দেরিতে বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পায় এবং তারা গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দেওয়া দলগুলোর একটি। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব ও যাতায়াত জটিলতার কারণে চেক সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই হাতে গোনা। তবে মাঠের গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও ম্যাচের ভেতর ফুটবলের রোমাঞ্চের কোনো কমতি ছিল না। প্রথমার্ধে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসেছে দুর্দান্ত ৩টি গোল, যেখানে শুরুতে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত লড়াকু জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।
২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এমন সময় বড় ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের অন্যতম ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তার পরিবর্তে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচ Lionel Scaloni আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে ডান পায়ের পেশির চোট থেকে সময়মতো সেরে উঠতে পারবেন না বালের্দি। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনার টিম ম্যানেজমেন্ট। এরপরই বিকল্প হিসেবে সুযোগ পান ২৮ বছর বয়সী মার্কোস সেনেসি। সম্প্রতি ক্লাব পর্যায়ে নতুন অধ্যায় শুরু করা এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের আগে বড় সুখবর পেলেন। টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পরদিনই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন তিনি। সেনেসির জন্য এটি বিশেষ এক অর্জন। কারণ এর আগে তিনি কখনো বিশ্বকাপের মূল দলে সুযোগ পাননি। দীর্ঘদিন ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখালেও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবারই প্রথম। ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সেনেসির ওপর বাড়তি নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। ডিফেন্সে তার অভিজ্ঞতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেনেসির সামনে ইতালির জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগও ছিল। ইতালীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় তিনি সেই সুযোগ পেতে পারতেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তের পুরস্কার হিসেবেই এখন বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেন এই ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা দল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে তাদের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে। সেনেসিও সেখানে যোগ দিতে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে নামছে আর্জেন্টিনা। ফলে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে স্কোয়াডে এই পরিবর্তন দলটির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, সেনেসির অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বালের্দির অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। এবার মার্কোস সেনেসিও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে জ্বলজ্বল করছে বিশাল এক সোনালি ট্রফি, আর তাকে ঘিরে সোনালি পোশাকের শিল্পীদের নজরকাড়া পরিবেশনা। আজটেক সভ্যতার সোনালি অতীতের ছোঁয়া মেশানো পোশাক ও নাচের অনন্য ঢঙে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী লিলা ডাউনস সুরেলা কণ্ঠে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানিয়ে গেয়ে উঠলেন, ‘বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!’ আর এর মধ্য দিয়েই মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে উঠল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা। রঙিন আবিরে ছেয়ে যায় স্টেডিয়ামের চারপাশ। এই নিয়ে তিনটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইতিহাসের পাতায় প্রথম এবং একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে নাম লেখাল ফুটবলের এই ‘ক্যাথেড্রাল’। যদিও সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে, তবে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের বিচারে বিশ্বকাপের মূল উদ্বোধনটি এখানেই সম্পন্ন হলো। উদ্বোধনী মঞ্চে মেক্সিকোর কিংবদন্তি রক ব্যান্ড ‘মানা’ যখন ‘ওই মি আমোর’ (হে, আমার ভালোবাসা) গানের সুর তোলে, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা দুই হাত প্রসারিত করে তৈরি করেন বিখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’। এরপর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওশানের পরিবেশনা এবং মেক্সিকান মিউজিক্যাল গ্রুপ লস অ্যাঞ্জেলস আজুলসের সঙ্গে ফোক ব্যালে পারফরম্যান্সও ছিল বেশ নজরকাড়া। মঞ্চে আসেন কলম্বিয়ান গায়ক জে বলভিনও। তবে দর্শকদের আসল উন্মাদনা শুরু হয় যখন হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে মঞ্চে প্রবেশ করেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘রানি’ শাকিরা। সানগ্লাস চোখে নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়কে সঙ্গী করে তিনি যখন ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন, তখন গোটা স্টেডিয়াম যেন আনন্দে ফেটে পড়ে। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ খ্যাত শাকিরার জাদুকরী পারফরম্যান্স ছাড়া বিশ্বকাপ যেন সত্যিই অসম্পূর্ণ! শাকিরার সুরের মূর্ছনার পাশাপাশি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে স্বাগতিক দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যযন্ত্র, নাচ-গান আর লাল রঙের আবিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ৮০ হাজার আসনবিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামের গ্যালারি। অলিম্পিকের আদলে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করেন প্রতিনিধিরা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন, তখন দর্শকদের গর্জনে প্রকম্পিত হয় পুরো গ্যালারি। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরের এই সুশৃঙ্খল উৎসবের বিপরীতে মেক্সিকো সিটির ফ্যান জোনগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। অতিরিক্ত ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কির কারণে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও, সব মিলিয়ে ফুটবলের এই মহোৎসবের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব।