খেলাধুলা

বিশ্বকাপে প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষোভ ইরান কোচের, বৈষম্যের অভিযোগ ঘালেনুইয়ের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনুই অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ইরানই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে।

 

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঘালেনুই বলেন, খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অন্য কোনো দলকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি।

 

ইরান কোচ জানান, ভিসা জটিলতার কারণে দলের একাধিক কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মী এবং ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এতে দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অতিরিক্ত ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দলকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ফুটবল অঙ্গনে আলোচনায় আসে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইরানের মূল ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানাকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছে এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইরান দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রস্তুতি, যাতায়াত এবং প্রশাসনিক জটিলতাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

 

গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ সামনে রেখে ইরান দল প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোচ ও অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট, মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:৪২
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ইরান দলকে নির্দেশ, ক্ষোভে ফিফার হস্তক্ষেপ চাইলেন কোচ-অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষোভ ইরান কোচের, বৈষম্যের অভিযোগ ঘালেনুইয়ের

মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম

মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নেইমার-ভিনিসিয়ুসকে ‘এলিয়েন অপহরণ করবে’, ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর দাবি ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক আধ্যাত্মিক গুরু ও জ্যোতিষী দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে শত শত মানুষ নিখোঁজ হতে পারেন।   ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এই নারী জ্যোতিষীর প্রকৃত নাম এলিসাঞ্জেলা দে সুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত জ্যোতিষশাস্ত্র, ট্যারোট পাঠ এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, কয়েকবার একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল মহাকাশযান নেমে আসে।   তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ছোট মহাকাশযান মাঠের কিছু খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আরও বড় একটি মহাকাশযান বা ‘মাদারশিপ’ এসে স্টেডিয়ামের আশপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে নিজেকেও সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখেছেন।   ভো বাহিয়ানা আরও বলেন, তার দেখা দৃশ্যগুলোতে দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণী ছিল। একদলকে তিনি শান্ত ও উন্নত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে আরেক দলকে তিনি আক্রমণাত্মক ও সরীসৃপ-সদৃশ প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেন, যাদের আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক। তার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের দিকে ঘটতে পারে। তিনি তার অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির স্টেডিয়াম এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।   ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের নামও উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো ফুটবলাররাও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, পৃথিবীতে ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি বা মানুষের অপহরণের মতো ঘটনার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থন করার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অস্বাভাবিক ও চমকপ্রদ দাবি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা বাস্তব ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে প্রচারিত হয়। কিন্তু সেগুলোকে যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।   এদিকে এই ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক কল্পকাহিনি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া আরেকটি ভাইরাল আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে লিখেছেন, যদি সত্যিই ভিনগ্রহীরা পৃথিবীতে আসে, তবে তারা হয়তো ফুটবল ম্যাচ দেখতেই আসবে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতি আসরেই নানা গুজব, ভবিষ্যদ্বাণী ও আলোচনার জন্ম হয়। তবে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে এলিয়েন আগমন এবং গণ-অপহরণের এই দাবি এখন পর্যন্ত কেবল একটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি সতর্কতা বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২২:৩৯
ছবি: সংগৃহীত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন কৃষক আলাল, যোগ দিলেন ইরান শিবিরে

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী শিকড়েই গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

অর্থের অভাবে মাকে বিশ্বকাপে আনতে পারেননি, স্পেনকে রুখেও চোখে জল কেপ ভার্দের নায়ক ভোজিনিয়ার

দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ছবি: এএফপি
অভিষেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে স্মরণীয় সূচনা করেছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা আর কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে আনন্দাশ্রু ফুটে ওঠে।   বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখায়। দলটির এই সাফল্যের প্রধান নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাচজুড়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন।   ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ইউরোপের দলটি। আধঘণ্টা পার হওয়ার পরও স্পেনের শট অন টার্গেট ছিল মাত্র একটি।   প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেন চাপ বাড়ায়। ফেরান তোরেস গোলের একটি দারুণ সুযোগ পেলেও তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া।   বিরতির আগে তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।   দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে।   এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ইয়ামালের। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।   তবে ইয়ামালকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।   ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল অর্জন করে কেপ ভার্দে। আর সেই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:৫১
আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬ । ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জমজমাট ফুটবল উৎসব

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রতিদিন কুইজে অংশ নিয়ে জিতুন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ

আর্জেন্টিনার ফুটবল ম্যানেজার লিওনেল স্কালোনি | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে আজ আলজেরিয়া ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে আসছেন স্কালোনি

0 Comments