ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সূত্র: আল–জাজিরা
ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।” ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত। ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
পারস্য উপসাগরের ওমান উপকূলে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি বিশাল মালবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওমানের মাস্কাট বন্দরের কাছে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটির দুইজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এমটি মার্সার স্ট্রিট’, যা লন্ডন ভিত্তিক একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এর মূল ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই ওমানের কোস্টগার্ড এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। নিহত দুই নাবিকের মধ্যে একজন ব্রিটিশ এবং অন্যজন রোমানিয়ান নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান কেবল ইসরায়েলের শত্রু নয়, তারা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।” বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ওমান বরাবরই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, তাদের জলসীমার এত কাছে এই হামলা ওমানের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (5th Fleet) আক্রান্ত জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা দাবির বেশিরভাগই তেহরান মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “তারা আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। কেন নেবে না?” তিনি জানান, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতির পথে রয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষ্য, “তারা আমাদের ২০ জাহাজভর্তি তেল দিয়েছে, যা আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে।” মার্কিন প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ইসরায়েল-কে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে সব শর্তে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এর আগে রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে,” যোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা কোনো অনুরোধই অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং ওয়াশিংটন ও ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করেছে। এর জবাবে অ্যালবানিজ বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করা। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি ‘ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল’ নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারায় সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিল ক্যানবেরা। পরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ২২টি দেশের একটি জোটে যোগ দেয় দেশটি। অ্যালবানিজ বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ তাদের কাছে এসেছে, তার প্রতিটিই পূরণ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন
সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিকঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এ ছাড়া কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সেনা ও বিমানঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের হুমকি এবং জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশও এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই প্রণালিতে অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করাতে মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সামরিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ইরান এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সস্তা ড্রোন প্রযুক্তি, সমুদ্র মাইন এবং ভিন্নধর্মী রণকৌশল মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবরোধকে ইরান শুধু যুদ্ধ কৌশল হিসেবেই নয়, আয়ের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করছে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি বড় জাহাজ অর্থ পরিশোধ করে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট ট্যাঙ্কারকে নিরাপদ পারাপারের সুযোগ দিয়ে এ ধরনের ফি আদায় অব্যাহত রাখা হতে পারে। এর ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মেরুকরণও বাড়ছে। সূত্র: সিএনএন
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়। আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’ এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে। যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’ ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’ সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’ স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে ইরান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করে উল্টো হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসরায়েলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে আগাম হামলার সুযোগ বজায় রাখতে চায় ইসরায়েল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইরানের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পাল্টা হিসেবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে। বুধবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর বিশ্ব শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে নতুন করে হাজারো সেনা পাঠানো হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষা খাতের পরিবর্তনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- আজকের পত্রিকা: ‘মিত্ররা পাশে নেই, যুদ্ধে একা ট্রাম্প’ ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ন্যাটোর সহায়তা চাইলেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিস এতে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও একই অবস্থান নিয়েছে, আর জোটের অন্য দেশগুলো এখনো নীরব রয়েছে। এদিকে ইরানের পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। নয়াদিগন্ত: ‘সাহাবুদ্দিনকে আরো এক বছর রাষ্ট্রপতি রাখতে চায় বিএনপি!’ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অন্তত আরও এক বছর দায়িত্বে রাখতে চায় বিএনপি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করলে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সংসদের মেয়াদের সঙ্গে সমান হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রভাব রাখা কঠিন হতে পারে। তাই এক বছর পর পরিবর্তন করলে সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনীত ব্যক্তি বহাল থাকার সুযোগ থাকবে। তারা আরও বলছেন, যেহেতু আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কেউ থাকলে নির্বাচন ও প্রশাসনিক বিষয়ে কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও এই কৌশলের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুগান্তর: ‘রাশিয়া থেকে ডিজেল আনার উদ্যোগ’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে প্রায় ৫ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে তবেই এই আমদানি কার্যকর করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করছে এবং রাশিয়াও সম্ভাব্য একটি উৎস। তুলনামূলক কম দামের কারণে রাশিয়ার তেলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশমুখী দুটি তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘Shady pilot licences expose Biman to risk’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া ফ্লাইট রেকর্ড, নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন এবং জবাবদিহিতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। কিছু পাইলট ভুয়া তথ্য দেখিয়ে পদোন্নতিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গুরুতর পরিচালনাগত ত্রুটি বা অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অনেক পাইলট দায়িত্বে বহাল ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে বিষয়টি সামনে এলে পাঁচজন পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠ: ‘ঈদযাত্রায় কঠিন চ্যালেঞ্জ’ এবারের ঈদযাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মহাসড়ক এখনো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে শত শত কিলোমিটার সড়ক মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার হলেও ঈদের সময় প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়েন। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। নৌপথেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সদরঘাট থেকে ৩৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদ উপলক্ষে আরও পাঁচটি নতুন রুট যুক্ত করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় সরকার’ দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর এবং ২৬টি অফশোর ব্লকে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে এবং সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে। মানবজমিন: ‘নানা শঙ্কায় দুবাই প্রবাসীরা’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দুবাইয়ে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগায় ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্রবাসীরা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক তাদের মধ্যে কাজ করছে। সমকাল: ‘স্কুলে ভর্তির লটারি বাতিল, তীব্র প্রতিক্রিয়া’ সরকার স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এতে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং সারাদেশে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা তদারকি করাও কঠিন হবে। প্রথম আলো: ‘একসঙ্গে ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু’ দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। দিনাজপুরে একটি খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের বিকল্প নেই এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশ রূপান্তর: ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব’ সরকার গঠনের এক মাস পূর্তিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিউ এইজ: ‘Fuel oil crisis persists across country’ সরকার জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা অভিযোগ করেছেন, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী মজুত সীমিত রাখার কারণে সরবরাহে এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের প্রবাহে একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮১৪ সালে, যখন যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন দখল করে এবং হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে ইতিহাসের চমকপ্রদ বাস্তবতা হলো যে দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল, আজ সেই দেশই বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই ঘটনার পটভূমি ছিল ১৮১২ সালের যুদ্ধ। সমুদ্র বাণিজ্য, নৌ-আধিপত্য এবং উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই সেই সংঘাত শুরু হয়। ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনে প্রবেশ করে এবং একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজ, আইনসভা ভবন ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যেখানে একটি বিদেশি বাহিনী রাজধানী শহরে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন ও তার প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ব্রিটিশ সেনারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং পরে পুরো ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। ইতিহাসবিদ নিয়ল ফারগুসন বলেন, “১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক মুহূর্ত ছিল। তবে সেই সংঘাতই পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।” অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জোসেফ নায় মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ দুই শতক আগে এই দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনী মার্কিন রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন শহর পুনর্গঠন করা হয় এবং হোয়াইট হাউজ পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও বদলে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয় এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয় যে দেশ একসময় প্রতিপক্ষ ছিল, সময়ের প্রবাহে সেই দেশই কখনও কখনও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন Democracy for the Arab World Now (DAWN) ইরানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত International Criminal Court (ICC)-এর বিচারিক ক্ষমতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে ইরানের ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। DAWN বলেছে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ আদালতের পূর্ণ সদস্য না হলেও একটি বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় থেকে সংঘটিত অপরাধের ওপর আদালতের বিচারিক ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে। ইরান যদি এমন ঘোষণা দেয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির ভেতরে ঘটে যাওয়া হামলা, বেসামরিক হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় আসতে পারবে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা। DAWN শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়েছে তাদেরও একই ধরনের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিচার করার আইনি পথ খোলা থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—তিন দেশই আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়। ফলে আদালতের সরাসরি তদন্ত শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইরান যদি স্বেচ্ছায় আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়, তাহলে চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝেই নিজেদের শক্তির জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মিনিটম্যান-৩’। গত মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এই পরীক্ষা বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক যুদ্ধের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে। ‘ডুমসডে’ বা ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবে পরিচিত এই মিনিটম্যান-৩ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম। এর সবথেকে ভীতিজাগানিয়া বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একসাথে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। যদিও মার্কিন এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড দাবি করেছে যে, এটি একটি নিয়মিত পরীক্ষা এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাকে তেহরানের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের ওপর আরও কঠোর আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প মার্কিন পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই পরীক্ষা তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এই প্রদর্শনীর পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'দেনা' ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় 'নৃশংসতা' চালানোর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছেন, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য ওয়াশিংটনকে 'তীব্র অনুশোচনা' করতে হবে। আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল যুদ্ধজাহাজটি। ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে প্রায় ১৩০ জন নাবিক নিয়ে এটি সেখানে অবস্থানরত ছিল। কোনো প্রকার আগাম সতর্কতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটিতে হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করল, তার ফল মোটেও ভালো হবে না। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় নতুন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি সভায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য বর্তমান সামরিক অভিযানগুলোতে হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে আনা। তবে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের পূর্ণ সমর্থন এবং রিপাবলিকান শিবিরের কিছু সদস্যের ভোটে প্রতিনিধি সভায় প্রস্তাবটি পাস হতে পারে, কিন্তু মার্কিন আইন অনুযায়ী এটি কার্যকর হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, এর আগে উচ্চকক্ষ তথা সেনেটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব ভোটাভুটিতে হেরে গেছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার কোনো একটি কক্ষে প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেলে তা আইনে পরিণত হওয়ার সুযোগ হারায়। বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা সম্ভব কি না। তাত্ত্বিকভাবে এমন সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কঠিন। কারণ, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা এখনো দেশটির সংবিধানের স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যেই বিষয়টির সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। ফলে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা খর্ব করার এই চেষ্টা আপাতত রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক জরুরি ঘোষণায় জানিয়েছেন, একটি বিশেষ ‘আকস্মিক পরিকল্পনা’র (Contingency Plan) অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে অস্ট্রেলীয় ‘সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদ’ পাঠানো হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে ঠিক কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম এসবিএস নিউজ (SBS News) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দুটি সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং নিজস্ব নাগরিকদের সহায়তার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপ করা হলে সেটি মাঝসমুদ্রেই তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় যুদ্ধজাহাজে থাকা অন্তত ৮৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কী ঘটেছিল? পেন্টাগনের তথ্যানুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরে টহলরত একটি মার্কিন ফাস্ট-অ্যাটাক সাবমেরিন থেকে মাত্র একটি ‘Mk-48’ টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়। নিখুঁত নিশানায় টর্পেডোটি ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena)-কে আঘাত করে। জাহাজটি মওজ-শ্রেণির (Moudge-class) একটি ফ্রিগেট ছিল, যা বঙ্গোপসাগরে এক নৌ-মহড়া শেষে নিজ গন্তব্যে ফিরছিল। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনাটি ঘটে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে ১৮০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে এবং মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পেন্টাগনের বক্তব্য প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই অভিযানকে ‘নিস্তব্ধ মৃত্যু’ (Quiet Death) হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন শত্রুপক্ষের জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ধ্বংস করল। এটি আমেরিকার বৈশ্বিক সক্ষমতার এক বিশাল নিদর্শন।” জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত ইরানের ২,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ইরানের প্রায় ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে। তার দাবি, এই অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে ইরানের নৌ-শক্তি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গত আট দশকে মার্কিন সাবমেরিন বহুবার মোতায়েন হলেও সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। নিরাপত্তা জনিত কারণে সংশ্লিষ্ট সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ওই অঞ্চলে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হতে পারে।
প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাথে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ক্লিনটনের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প একসময় নিজেই তাকে বলেছিলেন যে এপস্টাইনের সাথে তার বেশ ‘দারুণ সময়’ (great times) কেটেছে। সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি ভিডিও জবানবন্দিতে ক্লিনটন এসব কথা বলেন। জেফরি এপস্টাইনের যৌন পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই জবানবন্দি নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে বিল ক্লিনটন জানান, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এপস্টাইনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী নন। তবে ট্রাম্পের সাথে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ট্রাম্প এপস্টাইনকে বেশ পছন্দ করতেন এবং তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ছিল। একই তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও পৃথকভাবে ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন। হিলারি জানান, এপস্টাইনের সাথে তার কখনো দেখা হওয়ার কথা মনে পড়ছে না এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে এপস্টাইনের সাথে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার না করলেও, পরবর্তীকালে এপস্টাইনের অপরাধ প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি তার থেকে দূরত্ব বজায় চলেন। তবে ক্লিনটনের এই নতুন দাবি ট্রাম্পের পুরনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের জন্য পাচার করার অভিযোগ ছিল। তার সাথে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে থাকায় এই তদন্তটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার কড়া বার্তা দিল লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অব্যাহত হামলার মুখে আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো উস্কানি নয়, বরং এটি একটি ‘বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গত ১৫ মাস ধরে ইসরায়েল ক্রমাগত লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য করার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, বিচারহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটানো।" তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে লেবানন সরকারের অবস্থানে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এখন থেকে তাদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই হিজবুল্লাহর এই পাল্টা হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বর্তমান নতুন নেতৃত্বের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। সম্প্রতি ‘দ্য আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকেই আলোচনার প্রস্তাব এসেছে এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) কথা বলতে চায় এবং আমিও তাতে রাজি হয়েছি। খুব শীঘ্রই আমি তাদের সাথে আলোচনায় বসব।” তবে এই আলোচনা ঠিক কবে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। ইরানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও ট্রাম্পের কণ্ঠে ছিল কিছুটা সমালোচনার সুর। তিনি বলেন, “তাদের এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। যা করা খুবই সহজ এবং বাস্তবসম্মত ছিল, সেটি করতে তারা অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছে।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসনে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে একটি মাইলফলক হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।