আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নানা ঝুঁকি, নিরাপদ থাকতে চাইলে এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২১:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ মানুষকে সেখানে আকৃষ্ট করে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, অনলাইন প্রতারণা, গাড়ি চুরি, গভীর রাতে নিরাপত্তাহীনতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ- এসব পরিস্থিতি প্রবাস জীবনে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ থাকার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।

 

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং পরিবারের কাউকে নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনা জানানো নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চার্জিং ডিভাইস রাখাও উপকারী হতে পারে।

 

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বহনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত নথি সঙ্গে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সড়কে চলাচলের সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বা কানে উচ্চ শব্দে গান শোনা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্জন ও অন্ধকার এলাকায় একা চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শান্ত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি থামানোর নির্দেশ পেলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানো এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে চলা উচিত। উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

অভিবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আইনজীবীদের মতে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি এবং না বুঝে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কল বা বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং অজানা উৎসে তথ্য প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

গাড়ির নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। গাড়ির ভেতরে মূল্যবান সামগ্রী দৃশ্যমান স্থানে রেখে গেলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে। গাড়ি তালাবদ্ধ রাখা এবং আলোযুক্ত স্থানে পার্ক করা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। বাসা ফাঁকা থাকা বা চলাচলের তথ্য প্রকাশ করলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে।

 

পরিবারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নেওয়া যাবে- এসব বিষয়ে পরিবারের সবাইকে অবগত রাখা প্রয়োজন। শিশুদের জরুরি নম্বর ও ঠিকানা শেখানোও নিরাপত্তার অংশ।

 

বাসায় ফেরার সময়ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা নিরাপদ অভ্যাসের অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ও প্রস্তুতিই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৪ জুলাই চালু হচ্ছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, নবজাতকের নামে এক হাজার ডলার জমা দেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে নতুন একটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কর্মসূচির আওতায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের নামে সরকার এককালীন এক হাজার ডলার জমা দেবে, যা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা হবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিশুদের জন্য বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবক বিনিয়োগ হিসাব খুলতে পারবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই হিসাবে এক হাজার ডলার জমা দেবে। ১৮ বছরের কম বয়সী অন্য শিশুদের জন্যও হিসাব খোলা যাবে, তবে তারা সরকারি এই এককালীন অর্থ পাবেন না।   সরকারের দেওয়া অর্থ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প ব্যয়ের সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে। হিসাবধারী শিশু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর উচ্চশিক্ষার ব্যয়, প্রথম বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা কিংবা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।   এই হিসাবে শুধু সরকারের অনুদানই নয়, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারও অর্থ জমা রাখতে পারবে। পরিবার বছরে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে, আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার অতিরিক্ত অনুদান নির্দিষ্ট শর্তে গ্রহণ করা হবে।   কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই এতে বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা এসেছে। ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল এমন শিশুদের জন্য ৬২৫ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা সরকারি এক হাজার ডলারের সুবিধা পাবে না। এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় মেহরোত্রা ২৫ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের লাখো শিশুর জন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।   তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার মতো কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও তা নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সক্ষম হবে না।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আগামী ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিবন্ধন করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১৩:৫০
ফ্লোরিডায় দীর্ঘ নয় মাস অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়ে পরিবারে ফিরেছেন কিউবান নাগরিক জোস অ্যালেন্দে | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৯ মাস পর ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন কিউবান বাবা

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দ | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক বানালেন গভর্নর

স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এনওয়াইপিডি সদস্যরা | ছবি: সংগৃহীত

ছুটির ভাতা বিলম্বে ক্ষুব্ধ নিউইয়র্কের পুলিশ সদস্যরা, মেয়র মামদানির প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মেকানিকভিলের নিজ বাড়িতে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যাকারী দাদি অ্যামি জে. স্টেডম্যান | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, দাদিকে পরিবারের দুই লাইনের শোকবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নিজের মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যার সন্দেহভাজন এক দাদিকে তার পরিবার মাত্র দুই লাইনের একটি শোকবার্তায় স্মরণ করেছে। বহুল আলোচিত এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬৪ বছর বয়সী অ্যামি জে. স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা মায়ার্স এবং চার নাতি-নাতনি, ১৩ বছর বয়সী হারপার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনকে নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   আলবেনিভিত্তিক একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্টেডম্যানের শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “অ্যামি জে. স্টেডম্যান, ৬৪, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে মারা গেছেন। পরিবারের অনুরোধে ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।” সেখানে তার কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি।   মেকানিকভিল পুলিশ প্রধান বিল র‍্যাবিট জানান, স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে জোরালোভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।   পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ওষুধ ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে টক্সিকোলজি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজনের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।   প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের বাবার সাম্প্রতিক হেফাজতের অধিকার পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।   নিহত শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই করছিলেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে জুন মাসে শেষবার কথা বলার সময় সাবেক স্ত্রী সারা মায়ার্স তাকে জানিয়েছিলেন, শিশুরা অসুস্থ। হারমন বলেন, “ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে আমাকে সাড়ে ছয় বছর লড়াই করতে হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “এখন আমার একমাত্র চাওয়া, আমার সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং যারা তাদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করেছে, তাদের থেকে দূরে রাখা।”   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১১:২৭
নিরাপদ জীবনের আশায় পাকিস্তান ছেড়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া মুহাম্মদ নাদিম ও তাঁর পরিবার | ছবি সংগৃহীত

চার সন্তান নিয়ে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে যুক্তরাজ্যে, সেখানেও শান্তি মিলল না পাকিস্তানি পরিবারের

ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিপুল অনুদান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইলন মাস্ক | ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস

জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রীর দান করা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায় ঘোষিত ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচি | ছবি: মারিও তামা/গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য কম খরচের ইনডেক্স ফান্ড চালু করল ট্রাম্প প্রশাসন

বোস্টন সেলটিকস থেকে ফিলাডেলফিয়া ৭৬ার্সে যোগ দেওয়া অল-স্টার বাস্কেটবল তারকা জেলেন ব্রাউন | ছবি: ইউপিআই/শাটারস্টক
জেলেন ব্রাউনের দলবদলে হতবাক জশ হার্ট, মাত্র ৫ শব্দেই বললেন মনের কথা

এনবিএর অফসিজনে একের পর এক বড় দলবদলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত লেনদেনগুলোর একটি হলো বোস্টন সেলটিকস তারকা জেলেন ব্রাউনের ফিলাডেলফিয়া ৭৬ার্সে যোগ দেওয়া।   এই চমকপ্রদ ট্রেডের পর নিউইয়র্ক নিকসের তারকা জশ হার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র পাঁচটি শব্দ লিখেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বুধবার এক্সে (সাবেক টুইটার) হার্ট লেখেন, “This East offseason is crazy” (ইস্টার্ন কনফারেন্সের এই অফসিজন সত্যিই পাগলাটে)।   বুধবারই বোস্টন সেলটিকস জেলেন ব্রাউনকে ফিলাডেলফিয়া ৭৬ার্সে ট্রেড করে। বিনিময়ে সেলটিকস পেয়েছে অল-স্টার ফরোয়ার্ড পল জর্জ, দুটি প্রথম রাউন্ডের ড্রাফট পিক এবং দুটি দ্বিতীয় রাউন্ডের ড্রাফট পিক।   ২০২৪ সালে সেলটিকসের হয়ে এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাউনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি একই কনফারেন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী দল ৭৬ার্সে পাড়ি জমালেন। ব্রাউনকে ঘিরে আলোচনা আরও তীব্র হয় যখন সেলটিকস মিলওয়াকি বাকস থেকে ইয়ানিস আন্তেতোকুনম্পোকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে ইয়ানিস একাধিক খেলোয়াড় ও ড্রাফট পিকের বিনিময়ে মায়ামি হিটে যোগ দেন।   এদিকে ইস্টার্ন কনফারেন্সের আরেকটি বড় খবর হলো নিউইয়র্ক নিকসের দীর্ঘদিনের সেন্টার মিচেল রবিনসনের বোস্টন সেলটিকসে যোগ দেওয়া। ইএসপিএনের সাংবাদিক শামস চারানিয়ার তথ্য অনুযায়ী, রবিনসন সেলটিকসের সঙ্গে তিন বছরের ৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।   নিকসের হয়ে টানা আট মৌসুম খেলা রবিনসন বুধবার ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বিদায়বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “নিউইয়র্ক নিকসের সমর্থক এবং পুরো সংগঠনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। গত আট বছর আমার জীবনের সেরা সময়গুলোর একটি। এই যাত্রা ও সুযোগের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। অনেক আবেগ কাজ করছে, আমিও তা অনুভব করছি। তবে যেখান থেকে আমার পথচলা শুরু হয়েছে, সেই জায়গার প্রতি ভালোবাসা সবসময় থাকবে। আমি সবাইকে ভালোবাসি, তোমাদের মিস করব। একবার নিক, সবসময় নিক।”   এনবিএ ফ্রি এজেন্সির মাত্র দ্বিতীয় দিনেই এমন একাধিক বড় দলবদল ঘটেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আরও চমকপ্রদ লেনদেন হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাস্কেটবল বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ১০:৪৯
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে নিহত ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন | ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, এক বছর পর অভিযুক্ত পারিবারিক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকের বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা | ছবি: সংগৃহীত

লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটির বর্ণাঢ্য বনভোজন, প্রবাসীদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

0 Comments