আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন জীবনেও হার মানেননি, গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করলেন ১৮ বছরের তরুণ

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৬ ১৭:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হাওয়াইয়ের ওআহু দ্বীপের ওয়াইআনায়ে এলাকার ১৮ বছর বয়সী এরিক শুলৎজের জীবনটা অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতো ছিল না। কৈশোরের বড় একটা সময় তাকে কাটাতে হয়েছে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র, গাড়ি কিংবা অস্থায়ী আবাসে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেএইচএনএল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াইআনায়ে হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন এরিক। অনুষ্ঠান শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমাটা হাতে নিতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ ছিলাম। কান্না চলে আসছিল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়েছি।”

 

এরিকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে ছিল। তার বাবা-মা মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তাকে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে হয়েছে।

 

ওআহু দ্বীপে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সেখানে ৮০২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। এরিকও ছিলেন সেই তরুণদের একজন।

 

তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি তার লক্ষ্যকে বদলে দিতে পারেনি। বছরের শুরুতে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এরিক বলেছিলেন, প্রায় এক বছর তিনি গাড়িতে থেকেও নিয়মিত স্কুলে গেছেন।

 

তার ভাষায়, “আমি প্রায় এক বছর গাড়িতে থেকেছি, তারপরও একই সঙ্গে স্কুলে গেছি। এতে আমার লক্ষ্য বদলায়নি। আমি শুধু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।”

 

নিজের সংগ্রামের পাশাপাশি অন্য গৃহহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি। ওয়াইআনায়ে উপকূল এলাকায় একসময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গৃহহীন পরিবারগুলোর মধ্যে দান করা সামগ্রী বিতরণ করতেন এরিক।

 

এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি কিছু মানুষের সহায়তাও পেয়েছেন। তাদের একজন ডিজারি অ্যাডামস, যাকে এরিক নিজের “হানাই আন্টি” বা পালক খালার মতো মনে করেন। হাওয়াই সংস্কৃতিতে “হানাই” বলতে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই পরিবারের মতো ঘনিষ্ঠ কাউকে বোঝানো হয়।

 

অ্যাডামস জানান, ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রায়ই এরিক তাদের বাড়িতে আসতেন। পরে তিনি এরিককে নিজের পরিবারের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় থাকতে দেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত ছিল—সময় মেনে চলা এবং আবার স্কুলে ফিরে যাওয়া।

 

ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন? আমাকে কি আবার স্কুলে ফিরতে সাহায্য করবেন?’ এরপর আমরা তাকে স্কুলে ভর্তি করাই, কাগজপত্র ঠিক করি এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও কাজ করি। তার বাবা-মাও সহযোগিতা করেছিলেন।”

 

বর্তমানে এরিক “রেসিডেনশিয়াল ইয়ুথ সার্ভিসেস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট” পরিচালিত একটি ট্রানজিশনাল আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তারা যেসব তরুণকে সহায়তা করে তাদের মাত্র অর্ধেক হাইস্কুল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে পারে। সেই বাস্তবতায় এরিকের অর্জনকে বিশেষ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে প্রায়ই আমাকে ধন্যবাদ দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, এই অর্জনের কৃতিত্ব আমার নয়। নিজের জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত সে নিজেই নিয়েছে।”

 

ডিপ্লোমা হাতে পাওয়ার পর এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন এরিক শুলৎজ। তিনি প্লাম্বিং বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা নিতে ট্রেড স্কুলে ভর্তি হতে চান। পাশাপাশি ওয়াইআনায়ে এলাকার গৃহসংকটে থাকা মানুষদের সহায়তা করার কাজও চালিয়ে যেতে চান।

নিজের গল্প অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক—এমন প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই তরুণ।

 

তিনি বলেন, “আমি আশা করি আমার গল্প অন্যদের স্পর্শ করবে। যেন তারা নিজেদের স্কুল বা কমিউনিটিতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ বা অন্য কোনো উদ্যোগ নেয়। মানুষকে সাহায্য করার জন্য যা সম্ভব, সেটাই করুক।”

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ডে'জন হেইস-বার। ছবি;সংগৃহীত
যে কিশোর বাঁচিয়েছিল এক শিশুর প্রাণ, কয়েক মাস পরই গুলিতে ঝরে গেল তার জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে দুইজযে কিশোর বাঁচিয়েছিল এক শিশুর প্রাণ, কয়েক মাস পরই গুলিতে ঝরে গেল তার জীবনন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভয়াবহ এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে দেখা হচ্ছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেনটাকির একটি এলাকায় ঘটে। গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি প্রাণ হারান। খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।   পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোরের বয়স ১৫ বছর। তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন একটি সহিংস ঘটনায় হতবাক হয়েছেন, যেখানে একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে।   তদন্তকারীরা এখন গুলির কারণ, অস্ত্র কীভাবে পাওয়া গেছে এবং ঘটনার আগে কোনো বিরোধ বা সতর্ক সংকেত ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের জড়িত সহিংসতার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার পেছনে পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক পরিস্থিতি এবং অস্ত্রের সহজলভ্যতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৬:৮
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মোহন চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পজ: সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

এরিক বিয়েনিমি এবং তার স্ত্রী মিয়া বিয়েনিমি। ছবি:সংগৃহীত

কানসাস চিফসের সাবেক কোচের স্ত্রী গুলিবিদ্ধ, ভার্জিনিয়ায় হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

গুগল ম্যাপস থেকে উধাও আইস ডিটেনশন সেন্টারের হাজারো রিভিউ, গবেষণায় উঠল তথ্য গোপনের প্রশ্ন

কার্লোস ড্যানিয়েল সুয়ারেজ-কন্ট্রেরাস অভিযুক্ত। ছবি;সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় দোকানের সামনে বৃদ্ধা নারী নিহত, পরিবারের দাবি ‘অভিবাসীর’ বিরুদ্ধে কঠোর বিচার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক প্রবীণ নারীকে একটি সুপারমার্কেটের বাইরে গাড়ির ধাক্কায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নারীর পরিবার ঘটনার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বিচার দাবি করেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার একটি পাবলিক্স  সুপারমার্কেটের বাইরে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহত নারী ছিলেন প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন দাদি, যাঁর মৃত্যুতে পরিবার গভীর শোকাহত।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার পরিস্থিতি এবং কীভাবে দুর্ঘটনা বা হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। তবে অভিবাসন-সংক্রান্ত এই দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।   পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তারা ন্যায়বিচার চান এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে যেন যথাযথ বিচার দেওয়া হয়।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের সঙ্গে অভিবাসন বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক নির্ধারণ করতে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:১
অভিযোক্ত মা বাবা। ছবি : সংগৃহীত

নবজাতক উধাও, ‘মজা করছিলাম’ দাবি বাবা-মায়ের! গোপন প্রসবের পর শিশুকে ঘিরে রহস্য

গত চার মাসের মধ্যে এই কূটনৈতিক মিশনে দ্বিতীয়বার হামলার ঘটনা ঘটায় তদন্তে নেমেছে টরন্টো পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গুলি বর্ষণ, তদন্তে কানাডীয় পুলিশ

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আপত্তি নাকচ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নেতানিয়াহুর আপত্তি উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্তি হারানো অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলতি সপ্তাহেই বড় অভিযান শুরু করতে পারে দেশটির শুল্ক এনফোর্সমেন্ট সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান অভিবাসীদের ধরতে বড় অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্তি বা টিপিএস সুবিধা হারাতে বসা হাইতিয়ান অভিবাসীদের লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট সংস্থা। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই এই অভিযান শুরু হতে পারে।   হাইতিয়ান নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের পথ সুগম করতে সুপ্রিম কোর্টের সার্টিফাইড রায় সোমবার নিম্ন আদালতে আসার কথা রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনের জন্য প্রায় তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিকের টিপিএস বাতিলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।   ফেডারেল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওহাইও রাজ্যে এই অভিযানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে, কারণ ওই রাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে একটি বড় হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে এই অপারেশনাল পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।   গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায়গুলো খারিজ করে দেন, যা আইনি লড়াই চলাকালীন হাইতি ও সিরিয়ার জন্য প্রশাসনের টিপিএস বাতিল প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিল। ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর প্রথম হাইতিকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখে পড়া দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে আইনিভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দিতেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল।   তবে প্রশাসন শুরু থেকেই হাইতির টিপিএস বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। প্রশাসনের যুক্তি, এই কর্মসূচি কখনো স্থায়ী আইনি মর্যাদার পথ হিসেবে তৈরি করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই রায়কে প্রশাসনের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই সুবিধার নামের মধ্যেই 'সাময়িক' বিষয়টি রয়েছে এবং এটি কখনো স্থায়ী সমাধানের পথ ছিল না।   অন্যদিকে, স্প্রিংফিল্ড শহরটি অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিগত নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই শহরে হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের দ্রুত বৃদ্ধি জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১২:১৮
নিজের বাড়িতেই পোষা রটওয়াইলার জাতের কুকুরের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন নারী। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার খেয়ে কুকুরগুলোর আচরণে পরিবর্তন, শেষে কুকুরের হামলায় নারীর মৃত্যু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন নেতানিয়াহু

সুদের হার ও বাড়ির দাম বাড়তে থাকায় নতুন ক্রেতাদের জন্য নিখুঁত বাজেট পরিকল্পনা করা জরুরি হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছেন! মাসিক মর্টগেজ কত হলে সামলাতে পারবেন আমেরিকানরা?

0 Comments