আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ফাইল ছবি
শিবির নেতাদের পা কেটে ফেলার মামলা; ২০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের দিন ধার্য

যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলি করার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২০ এপ্রিল এই বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই নির্দেশ দেন।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, গুলি করার পর ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বালু ঢোকানোর কারণে পায়ে পচন ধরায় পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাদের পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন।   এই মামলায় যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও জহরুল হক বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির সময় তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন।   মামলার বাকি পাঁচ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক এসপি আনিসুর রহমান, সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, একাধিক আসামির যাবজ্জীবন

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।   রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।   এ ছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও হাফিজুর রহমানকে যথাক্রমে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশসহ আরও কয়েকজনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমারকে তিন বছর এবং ইমরান চৌধুরী ও মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।   পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই রায়ে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, নির্ধারণ হবে ৩০ আসামির ভাগ্য

রংপুরে আন্দোলনের উত্তাল দিনে টিয়ার শেলের ধোঁয়া আর গুলির শব্দের মধ্যে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সেই দৃশ্য এখনও নাড়া দেয় দেশবাসীকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারানো এই শিক্ষার্থীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ মামলার রায় ঘোষণা করবে। এতে ৩০ আসামির দায় ও শাস্তি নির্ধারিত হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন।   তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী মিলে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উল্টো সহিংসতা উসকে দেন।   রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বেতার বার্তার মাধ্যমে অধস্তন কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নির্দেশ বাস্তবায়নে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় এএসআই আমির হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও হামলা ও সহিংসতায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে মামলার ছয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন, বাকিরা পলাতক। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত একটি প্রত্যাশিত রায় দেবেন। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
সংসদে ৮টি বিল পাস; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে যুক্ত হলো ‘গুম’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ, আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় কণ্ঠভোটে সেগুলো সরাসরি পাস হয়।   সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সময়ের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আজ পাস হওয়া বিলগুলো অপরিবর্তিতভাবে গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) এবং রেজিস্ট্রেশন সংশোধন সংক্রান্ত চারটি বিল পাসের প্রস্তাব দেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন এই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুমের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনটি সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে গুমের বিচার নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কয়েকটি বিলও পাস হয়। মূলত নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য এই বিলগুলো আনা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিলেট ও খুলনার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের প্রস্তাব করলে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন জানালেন শেখ হাসিনার আইনজীবী দল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম কিংসলে ন্যাপলির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া ছিল অন্যায্য ও অবৈধ এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করা উচিত।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করেছে। আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচার একটি শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংযোগযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারিক স্বাধীনতার অভাব এবং প্রসিকিউটরের পক্ষপাতিত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও চিঠিতে তোলা হয়েছে।   আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ল’ ফার্মের যুক্তি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ। এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা বেআইনি।   চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করা উচিত। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই আন্দোলন দমনে এক হাজার চারশো জনকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0