আল-আকসা মসজিদ

দীর্ঘ ৪০ দিন শেষে খুলে দেওয়া হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার
দীর্ঘ ৪০ দিন শেষে খুলে দেওয়া হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার

দীর্ঘ ৪০ দিনের কঠোর সামরিক অবরোধ ও বিধিনিষেধ শেষে অবশেষে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার। বৃহস্পতিবার ভোররাতে আজানের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পবিত্র হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন যা ছিল গত দেড় মাসের মধ্যে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের জন্য এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর শত শত মুসল্লিকে চত্বরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আনন্দে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় প্রতিটি কোণে। দীর্ঘ বিরতির পর আজই প্রথম আল-আকসা প্রাঙ্গণে কোনো বড় জামাতবদ্ধ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অবরোধ চলাকালে গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় হতে পারেনি যা ছিল ১৯৬৭ সালের পর প্রথম কোনো অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাই নয় বরং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত পবিত্র চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারও দীর্ঘ এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি বন্ধ থাকাকালীন সময়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও সাধারণদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। ইসরায়েলি সরকার এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও মসজিদটি শেষ পর্যন্ত এই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কি না তা নিয়ে ছিল বিশাল অনিশ্চয়তা। ভোরবেলা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আল-আকসার চত্বরে ভিড় করেন এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন সুযোগ পেয়ে পরম শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দীর্ঘকালীন ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ও পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই এই ধর্মীয় স্থানটি খুলে দেওয়াকে অনেক বিশ্লেষক সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। বর্তমানে মসজিদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো পুরনো শহর এলাকায় অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে করে যেকোনো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পবিত্র এই স্থাপনাটি খুলে দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং সেখানে নির্বিঘ্নে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। দখলদার বাহিনীর এমন বৈরী আচরণের পর পবিত্র এই চত্বরটি ফিরে পেয়ে ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন যে ধর্মীয় স্বাধীনতাই তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের সবচাইতে বড় শক্তি। পুরনো জেরুজালেমের অলিগলিতে আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রতিটি ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের হারানো অধিকার ফিরে পেয়ে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেছে আজ।  

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
আল-আকসা মসজিদে পশু বলির চেষ্টা
"আল-আকসা মসজিদে পশু বলির চেষ্টা, ইহুদি সেটলারদের পরিকল্পনা"

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ টানা ৩০ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পর, মসজিদ চত্বরে পশু নিয়ে ঢোকার চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট।   রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গভর্নরেট জানিয়েছে, এই উদ্যোগ মসজিদে নতুন ধর্মীয় আচারের প্রবর্তনের জন্য করা হচ্ছে, যা একটি বিপজ্জনক উসকানির অংশ। পাসওভার উৎসবের সময় ভেড়া বা ছাগল আনা ও বলি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘টেম্পল মাউন্ট সংগঠনগুলো’ চলমান বন্ধের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে সমর্থকদের এই কার্যক্রমে উৎসাহিত করছে।   গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইতিমধ্যে মসজিদ চত্বরে তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পশু জবাই করা হয়েছে বা রক্তমাখা মাংস আনা হয়েছে। এটি মসজিদের ভেতরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত উসকানির অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে।   তাদের মতে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় আন্দোলনের একটি অংশের লক্ষ্য হলো মসজিদে নতুন আচার চালু করা এবং ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মর্যাদা পরিবর্তন করা। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, ২ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাসওভার উৎসব চলাকালীন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি সংগৃহীত
আল-আকসায় ঈদের নামাজে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, মুসল্লিরা আহত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা প্রদান ও মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। শুক্রবার (২০ মার্চ) মসজিদ প্রাঙ্গণের বাইরে নামাজ পড়তে গেলে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে রেখেছে।   প্যালেস্টাইন ক্রনিকল জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর এবারই প্রথম আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কড়া সামরিক বিধিনিষেধের কারণে কেবল ওয়াকফ-এর অল্প সংখ্যক কর্মীকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সাধারণ মুসল্লিরা মসজিদে ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজের কাতার করলে সেখানেও হামলা ও ধরপাকড় চালায় ইসরাইলি পুলিশ।   একই চিত্র দেখা গেছে হেব্রনের ইব্রাহিমি মসজিদেও। সেখানেও হাজার হাজার মানুষকে প্রবেশ করতে না দিয়ে মাত্র কয়েক ডজন লোককে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। জেরুজালেমের পুরানো শহরজুড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যাতায়াতের পথগুলো বন্ধ করে দেয় দখলদার বাহিনী। নজিরবিহীন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পবিত্র এই ধর্মীয় উৎসবেও মুসল্লিশূন্য ছিল ঐতিহাসিক আল-আকসা প্রাঙ্গণ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে আল-আকসায় ঈদের নামাজ বন্ধ, ছয় দশকে প্রথম ঘটনা

ইসরায়েলের কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ছয় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে ফিলিস্তিনজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা মসজিদের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে সড়ক ও ফুটপাতে নামাজ আদায় করেন।   ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদের দিনে আল-আকসা মসজিদ কার্যত বন্ধ রাখা হলো। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুরো মসজিদ চত্বর সিলগালা করে দিলে মুসল্লিরা নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি মুসলিমদের মসজিদের নিকটতম স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।   শুক্রবার সকালে ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হলে শত শত মানুষ বাইরে অবস্থান নেন। মসজিদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।   নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আল-আকসা প্রাঙ্গণ কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে মসজিদ চত্বরে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে চায় ইসরায়েল।   সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমে ধর্মীয় নেতা ও মুসল্লিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিবর্ণ ঈদ জেরুজালেমে সাধারণত ঈদের সময় জেরুজালেমের পুরোনো শহর ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে মুখর থাকে। তবে এবারের ঈদে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে শহরজুড়ে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন আর্থিক সংকটে।   এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন, আরব লিগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো বলেছে, এই পদক্ষেপ জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন।   গাজায় শোকের ছায়ায় ঈদ এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা-তেও ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে লাখো মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ঈদ পালন করছেন। কেউ হারিয়েছেন ঘর, কেউ প্রিয়জন। ফলে আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0