বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এর প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাঠমান্ডুতে তার নিজ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অলির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার দলের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ কেপি শর্মা অলি এর আগেও কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্তমান জোট সরকারের সাথে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান-এর গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হয়ে কাজের অভিযোগে দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের মার্কাজি প্রদেশ থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সামরিক স্থাপনার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে সরবরাহ করেছে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান। পাশাপাশি তারা ‘রাস্তার অস্থিরতা’ সৃষ্টির চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশ থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পুলিশ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিল। দেশটির আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত ১৫ জন পার্সিভাষী ব্যক্তির ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের ইসরায়েলের এজেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত করে বিষয়টি বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করলে দেশে থাকা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
ইরান-এ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং কিছু সংবাদ সংস্থা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘শিক্ষামূলক’ সভার আয়োজনও করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টানা ২৩ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সীমিত পরিসরে কিছু মানুষ স্টারলিংক ব্যবহার করে গোপনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মারকাজি প্রদেশ থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক তথ্য বিদেশি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গোলেস্তান প্রদেশে পুলিশের স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত ১৫ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ তথ্য সংগ্রহ করে বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সরকার সতর্ক করে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-এর সঙ্গে সহযোগিতা করলে প্রবাসীদের দেশের ভেতরে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ডিএমপি আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসুকে আজ আদাবর এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা যায়, হাসুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগও আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ওসমান হাদি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরব হয়ে ওঠেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ঘটে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সন্দেহ করা হচ্ছিল যে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্তরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। এ বিষয়ে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে। বাংলাদেশ–ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত ছিল এবং এর মাধ্যমে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের অনেক প্রশ্নের উত্তর সামনে আসতে পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোর চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সোমবার (৯ মার্চ) রাতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত। উদ্ধারকৃত খুলি ও হাড়ের উৎস, পাশাপাশি চক্রের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার (১০ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে কাতার। সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হামলার দৃশ্যের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেছেন এবং এমন কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়িয়েছেন যা জনমনে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং কিছু আবাসিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাতারের ঘোষণার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি দেশেও একই ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। গত ৬ মার্চ বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানি হামলার প্রভাব নিয়ে ভিডিও ধারণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েত কর্তৃপক্ষও গত ৭ মার্চ দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ভিডিও তৈরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও সংবেদনশীল ছবি বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দিতে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার স্থান, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সৌদি আরবও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। তবে এসব সতর্কবার্তার পরও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
মার্কিন জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শিয়া লাবিউফকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউ অরলিন্সের একটি বারের বাইরে মারামারির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার ১ মার্চের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে লাবিউফকে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আরও একটি অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অভিনেতার আইনজীবী সারাহ চেরভিনস্কি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারের রয়্যাল স্ট্রিট ইন অ্যান্ড আউট বার সংলগ্ন সংঘর্ষের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিয়া লাবিউফকে। সেই ঘটনায় মার্ডিস গ্রাস উদযাপনের সময় একাধিক ব্যক্তিকে আঘাত এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে গালাগালি করার অভিযোগ রয়েছে। নিউ অরলিন্স পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলা হচ্ছে এবং অন্য ব্যক্তির মুখে আঘাত করা হচ্ছে। এতে একজনের নাক ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনিও একজন পরিচিত বিনোদনকর্মী। আইনজীবী বলেন, নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর শিয়া লাবিউফ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত জানিয়েছে, এক লাখ ডলারের বেশি বন্ডে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং দুই আলাদা কারাভোগ হবে না।
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানা-এ মামলা করেন। একই রাতে জেলা পুলিশ ও র্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০), গাফফার (৩৪), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) এবং তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনদের ভাষ্য, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জুবায়ের আল-বাকুশকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাম বন্ডি জানান, লিবিয়া থেকে জুবায়ের আল-বাকুশকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টায় তাকে বহনকারী বিমানটি অ্যান্ড্রুজ এয়ারফোর্স বেসে অবতরণ করে। বর্তমানে সে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক অভিযোগ আনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজিতে মার্কিন মিশনে উগ্রপন্থীদের ওই হামলায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্সসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। প্রাথমিকভাবে একে বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া মনে করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এটি ছিল আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠীর একটি সুপরিকল্পিত হামলা। এই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর আগে এই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাজা প্রদান করেছে মার্কিন আদালত। বেনগাজি হামলার এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও দীর্ঘকাল ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছিল। বিশেষ করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানরা দফায় দফায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর জুবায়ের আল-বাকুশের গ্রেপ্তার এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত এক বছরে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তারের পর নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইয়েমেনি নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। বৈধভাবে পর্যটকদের জন্য সৌদি আরব খোলা থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে কাজ করছেন বা সীমান্ত দিয়ে ঢুকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ উপায়ে প্রবেশে সহায়তা, অপরাধীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা সেবা প্রদানকারীদেরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।