ইরান-এর গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হয়ে কাজের অভিযোগে দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের মার্কাজি প্রদেশ থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সামরিক স্থাপনার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে সরবরাহ করেছে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান।
পাশাপাশি তারা ‘রাস্তার অস্থিরতা’ সৃষ্টির চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশ থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পুলিশ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিল।
দেশটির আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত ১৫ জন পার্সিভাষী ব্যক্তির ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের ইসরায়েলের এজেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত করে বিষয়টি বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করলে দেশে থাকা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা যেন কখনো ভুলে না যান, সে জন্য গাজার শিশুদের আঁকা একটি ছবি নিজের সরকারি কার্যালয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেছেন, ছবিটি প্রতিদিন তাকে গাজার শিশু ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মানবিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। সানচেজের ভাষ্য, একটি শিশুর আঁকা এই ছবির প্রতীকী গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি। এটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাস্তবতা ও অসহায় অবস্থার একটি স্মারক। তাই তিনি ছবিটি এমন জায়গায় রেখেছেন, যেখানে প্রতিদিন কাজের সময় তার চোখে পড়ে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বারবার অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময় স্পেনের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও একই সিদ্ধান্ত নেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সানচেজ একাধিকবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। তার মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষকে, আর গাজার শিশুদের আঁকা সেই ছবিটি প্রতিদিন তাকে সেই বাস্তবতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই বৈঠকের পরই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেন, বড় পরিসরের হামলা চালানো সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো রক্ষায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার কৌশল নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তার মতে, এসব হামলা ইরানের অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টি করার বদলে দেশটির জনগণকে বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে কোনো নতুন বিমান হামলা চালায়নি। একই সময়ে সামরিক বিরতির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বললেও, প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
ভেনেজুয়েলায় গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু উইডমের মরদেহ। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা উইডমে, যিনি অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু উইডমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা কয়েক বছর আগে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে একটি পৃথক আইনি জটিলতার পর আইনজীবীর পরামর্শে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে চলতি বছরের ৪ মে অ্যান্ড্রুও ভেনেজুয়েলায় চলে যান। দম্পতি ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট খাদ্য ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন উত্তর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুইরা এলাকার তাদের আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ দাহ করা হয় এবং অ্যান্ড্রুর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসার মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পে ভবন ধসকেই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।