বিশ্ব

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি হয় মৃত নয়তো খুব খারাপ অবস্থায় আছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।   গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
পশ্চিমাদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের আইআরজিসির
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘টোল বুথ’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে ইরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করছে, তাই এই করিডোর ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে অর্থ প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত।   ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এই নৌপথটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   ইতিমধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এই টোল ব্যবস্থা তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেক দেশ এখন এই পথ দিয়ে তাদের জাহাজ নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি এই টোল আইন চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল তেলের বাজার নয় বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলের পারমাণবিক নীতি কেন বিশ্বের জন্য বড় হুমকি?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বা 'নিউক্লিয়ার ডকট্রিন' নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে সীমা (threshold) নির্ধারণ করে রেখেছে, তা অত্যন্ত নিচু এবং বিপজ্জনক। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি 'উন্মুক্ত গোপন রহস্য' হিসেবে গণ্য করা হলেও দেশটি কখনোই এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার মতো অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো অন্য দেশের পারমাণবিক হামলা ঠেকাতে (Deterrence) এই অস্ত্র রাখে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তার অস্তিত্বের ওপর সামান্যতম হুমকি অনুভব করলেই এই বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে—এমনকি প্রতিপক্ষ কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না হলেও। একে সামরিক পরিভাষায় অনেক সময় ‘স্যামসন অপশন’ (Samson Option) বলা হয়, যার অর্থ হলো পরাজয়ের মুখে পড়ার আগে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া। বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের সামরিক কৌশল অত্যন্ত আগ্রাসী। গাজায় ইতিমধ্যে যে পরিমাণ বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে, তার শক্তি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তদারকির অধীনে থাকলেও, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত 'নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি' (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি। ফলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নিবন্ধে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সমাজের ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা সামান্য বিরোধকেও ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মনস্তাত্ত্বিক বাধাকে কমিয়ে দিতে পারে। পরিশেষে, আহমেদ নাজ্জার বিশ্ব সম্প্রদায় এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এই অস্পষ্ট ও বিপজ্জনক পারমাণবিক নীতি যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকে একটি পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের (Armageddon) দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
স্পেনের মালাগায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
ট্রাম্পের কঠোর নীতি যেভাবে ইউরোপকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে

প্রবাদ আছে, "কেউ যখন আপনাকে বারবার তার আসল রূপ দেখায়, তখন সেটিই বিশ্বাস করা উচিত।" গত ১৪ মাস ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ঠিক সেটিই করে দেখাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের আদর্শকে লক্ষ্যবস্তু করা, ক্রমাগত সমালোচনা আর শুল্ক বা হুমকির মাধ্যমে পুরনো মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এখন হোয়াইট হাউসের নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। এতদিন ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের রোষ এড়াতে তোষামোদি বা আলোচনার মাধ্যমে তাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু ইরানের যুদ্ধ কি তবে সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে? পরিবর্তনটি শুরু হয়েছে ধীরে ধীরে। প্রথমে স্পেন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। ব্রিটেনও শুরুতে একই ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এসেছে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি আর কড়া সমালোচনা। কিন্তু গত কয়েক দিনে চিত্রপট আরও বদলে গেছে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস একে একে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও এবার সুর পাল্টেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেন যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লড়ছে, তখন রাশিয়ার ওপর থেকে তেলের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় দেশগুলো হতবাক। গত চার বছর ধরে যারা পুতিনের আগ্রাসন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তাদের কাছে এটি এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা। ইউরোপ অনুভব করছে যে, তারা এক অনির্ভরযোগ্য এবং তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে আটকা পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ হয়তো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুরোপুরি বিচ্ছেদ চাইছে না, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে তারা এখন ওয়াশিংটনের পরিবর্তে নিজেদের ঐক্যের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের 'টাফ লাভ' বা কঠোর নীতি কি তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিল? সেই উত্তর হয়তো সময়ের কাছেই তোলা আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালিতে একইদিনে তিন কার্গো জাহাজে হামলা

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।   অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিভক্তি চরমে

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস যখন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে, তখন আইনপ্রণেতাদের একাংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন এবং এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পক্ষ থেকে কথিত ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সামরিক কৌশলের বিষয়ে আইনপ্রণেতারা স্পষ্টত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। এই হুমকি মোকাবিলায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অনেক নেতা এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে কঠোর পদক্ষেপের সময় এসেছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অধিকাংশ সদস্য এবং কিছু যুদ্ধবিরোধী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই গোয়েন্দা তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন যুদ্ধের সপক্ষে যে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করছে তা অপর্যাপ্ত এবং অতিরঞ্জিত হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ভ্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। অনেক আইনপ্রণেতা এখন ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ (War Powers Act) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতা সীমিত করার দাবি তুলছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও যুদ্ধের দামামা বিশ্ব রাজনীতিতেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় মিত্ররা আগে থেকেই এই উত্তেজনার সমালোচনা করে আসছে এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে এই সংঘাত যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে ক্যাপিটল হিলে এই বিতর্ক তুঙ্গে এবং আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত।
২০২৫ সালে রেকর্ড ১২৯ সাংবাদিক নিহত

২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক বছরে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন।   উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই সরাসরি দায়ী ইসরায়েল। সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ও ইসরায়েলের দায় সিপিজে-এর তথ্যমতে, ১৯৯২ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে গত বছরটি ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ৮৬ জনই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এটি বিশ্বজুড়ে মোট নিহতের প্রায় ৬৭ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হত্যার জন্য দায়ী করা হলো। টার্গেট কিলিং এবং ড্রোন হামলা সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ৪৭ জন সাংবাদিককে সুপরিকল্পিতভাবে বা ‘টার্গেট কিলিং’ এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশ ঘটনার সাথে ইসরায়েল জড়িত। এছাড়া সাংবাদিক হত্যায় ড্রোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৩৯ জন সাংবাদিক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অঞ্চলভেদে পরিসংখ্যান নিহত সাংবাদিকদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি, যারা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এছাড়া ইয়েমেনের একটি হুতি মিডিয়া সেন্টারে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে সিপিজে তাদের রেকর্ডে সাংবাদিকের ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েল ছাড়াও সুদান (৯ জন), মেক্সিকো (৬ জন), রাশিয়া (৪ জন) এবং ফিলিপাইনে (৩ জন) সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও একজন সাংবাদিক অপরাধচক্রের হাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সিপিজে-এর প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, “এমন এক সময়ে সাংবাদিকদের রেকর্ড সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে যখন তথ্যের অবাধ প্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ আসলে সব ধরণের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের পূর্বাভাস। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।” ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সাংবাদিক নয়, তাদের পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রায় ৭০০ জন নিকটাত্মীয় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের অবস্থান বরাবরের মতো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। অনেক ক্ষেত্রে নিহত সাংবাদিকদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বিজয়

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরঙ্কুশ বিজয় এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।   রয়টার্সের বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির এই বিজয় দলটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ভোটের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।   এএফপি: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের শিরোনাম: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সে তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশটির নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দেশকে আরও উন্নত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।     দ্য গার্ডিয়ান: ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেও বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাদের খবরের শিরোনাম, ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।   বিবিসি: রাজপথ থেকে ক্ষমতার শীর্ষ চূড়ায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের পরিবার কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও তার এই পথ মসৃণ ছিল না। বাবার হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসাকে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে বিবিসি।   সিএনএন: সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তারেক রহমানের বিজয়ের পাশাপাশি তার আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতকে পুনর্গঠন করাই হবে তার নতুন সরকারের প্রধান কাজ। তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন উল্লেখ করে, "প্রতিহিংসা ভালো কিছু আনে না, বরং ধ্বংস করে।"    ভারতীয় গণমাধ্যম ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক 'দ্য হিন্দু' তারেক রহমানের এই জয়কে একটি "চমকপ্রদ রাজনৈতিক অভিষেক" হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সেই মুহূর্তটি, যখন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জুতা খুলে জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। দলটি জানিয়েছে, বিজয় পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ তারা করবে না।   বিশ্ব গণমাধ্যমের সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন পথচলার ওপর এখন সারা বিশ্বের নজর। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই হবে নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের জন্য অ্যাসিড টেস্ট।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লাইয়েন(বামে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(ডানে)। ফাইল ছবি: রয়টার্স
নতুন নিরাপত্তা অংশীদারত্বে এগোচ্ছে ইইউ ও ভারত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে ভারতীয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। এক খসড়া নথি অনুযায়ী, এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটতে যাচ্ছে, যখন ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   উক্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি, ভূরাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ইইউ এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা  বাড়াচ্ছে।   নতুন অংশীদারত্বে প্রতি বছর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংলাপ হবে। এতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইইউএর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণ উভয়পক্ষের জন্য যুতসই ও লাভজনক কিনা, তাও এই আলোচনায় খতিয়ে দেখা হবে।     প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভারত ও ইইউ দীর্ঘ আলোচনার পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করতে যাচ্ছে।   এই নতুন অংশীদারত্ব মূলত ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ়ই করবে। সেই সাথে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় উভয়পক্ষের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি মোকাবেলায় এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0