যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড-ভাঙ্গা উদ্বোধনী বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। শহরটির পূর্ববর্তী আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়রের নিজেরই দেওয়া ভয়াবহ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সিটি কাউন্সিলে এই বাজেট প্রস্তাবটি ভোটের জন্য ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এই ব্যয়ের চুক্তিটি বামপন্থি ও মধ্যপন্থি—উভয় পক্ষের রাজনীতিকদেরই হতাশ করেছে। গত বছরের প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এবারের বাজেট প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দৃশ্যত বড় ধরনের কোনো ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেই। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই মেয়র বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করলেও, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন জানিয়েছেন, মূলত ৬.১ বিলিয়ন ডলারের এককালীন কৌশল এবং স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবহার করেই সাময়িকভাবে এই ভারসাম্য আনা হয়েছে। লেভিনের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শহরটি আপাতত একটি কঠিন বছর পার করতে পারলেও ভবিষ্যতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর কোনো সমাধান এতে নেই। সিটি কম্পট্রোলার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বাজেটে শহরটিকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতির মুখে পড়তে হবে। ২০২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) জন্য ৬.৬ বিলিয়ন, শিক্ষা বিভাগে ৩৮ বিলিয়ন, গৃহহীন সেবা বিভাগে ৪.২ বিলিয়ন এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ২.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ রিজার্ভ ফান্ডে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সিটিজেনস বাজেট কমিশনের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেইনের মতে, এই পরিকল্পনা শহরের বিশাল কাঠামোগত বাজেট সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি হাউজিং ভাউচার প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং এনওয়াইপিডিতে ৫৮০ জন নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের বিষয়ে মেয়রের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার কারণে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মেয়র মামদানি শহরের আর্থিক সংকটের জন্য তার পূর্বসূরি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসকে দায়ী করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির কথা বললেও পরে তা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। এই ঘাটতি পূরণে ধনীদের ওপর কর আরোপ বা সম্পত্তি কর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। নতুন কর আরোপে খুব একটা সফল না হলেও বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের মাধ্যমে বছরে ৩৪০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার পথ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট পেতে সফল হয়েছেন মামদানি, যা বড় ধরনের ব্যয়কে আপাতত বিলম্বিত করেছে। তবে এসব দৃশ্যমান সাফল্যও তার প্রগতিশীল মিত্রদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লিটল বিগ ইকোন স্টেট ফরেস্টে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কুমিরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটানি ক্লার্ক নামের ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী। গত রবিবার ইকোনলকহ্যাচি নদীতে সাঁতার কাটার সময় ১২ ফুট লম্বা একটি বিশাল কুমির তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মঙ্গলবার ওই তরুণীর বেশ কিছু হাসিখুশি ছবি প্রকাশ্যে এলে অনলাইনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক মাস আগেও লাল রঙের একটি সুন্দর পোশাকে হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি। জানা গেছে, মাত্র তিন ফুট গভীর জলে সাঁতার কাটার সময় কুমিরটি হঠাৎ পানি থেকে উঠে এসে ব্রিটানিকে কামড়ে ধরে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার প্রেমিক চ্যান্স অ্যালিসন তাকে বাঁচানোর জন্য হিংস্র ওই প্রাণীটির সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করেন। অ্যালিসন সাহসিকতার সঙ্গে ব্রিটানির এক হাত কুমিরের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলেও, চোখের পলকে কুমিরটি তার অন্য হাতটি কামড়ে ধরে। এই ভয়ংকর হামলার পর ৯১১ ইমার্জেন্সি কলের অডিওতে প্রেমিক অ্যালিসনের আর্তনাদ শোনা যায়। তিনি চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন যে কুমিরটি ব্রিটানির দুটি হাতই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং তিনি তীরে বসে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ওই কুমিরটিকে ধরে মেরে ফেলেন (ইউথেনাইজড) এবং আলামত হিসেবে এর মাথাটি কেটে সংরক্ষণ করেন। নিহত ব্রিটানি প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চকর সব ভ্রমণের ছবিতে ভরপুর ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ বছর বসবাসের পর হন্ডুরাসের নাগরিক মার্গারিটা মেলগারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যেতে হয়েছে ১০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক কন্যাকেও, যে এর আগে কখনো হন্ডুরাসে যায়নি। তবে পরিবারের অপর দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দুই দেশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পারিবারিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে হন্ডুরাস ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেন মার্গারিটা মেলগার। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিল দুই কন্যা। এরপর তিনি ম্যাসাচুসেটসে বসবাস শুরু করেন এবং নিয়মিতভাবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে হাজিরা দেন। পাশাপাশি তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং করও পরিশোধ করতেন। পরিবারের আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া তাঁর প্রতিবন্ধী কন্যার দেখভালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন অভিবাসন আপিল বোর্ডে বিচারাধীন ছিল। সেই সঙ্গে বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করলে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলায় পুনর্বিবেচনার আবেদন বিচারাধীন থাকলেই বহিষ্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয় না। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্থগিতাদেশ না থাকলে চূড়ান্ত বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা আইনগতভাবে সম্ভব। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মার্গারিটাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি একাই হন্ডুরাসে ফিরবেন, নাকি তাঁর ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে, তাঁর ২০ বছর বয়সী কলেজপড়ুয়া বড় মেয়ে এবং ১৭ বছর বয়সী আরেক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। পরিবারের বর্ণনায় জানা যায়, বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ছোট্ট মেয়েটি তার প্রিয় খেলনা ও বিশ্বকাপের স্টিকার বই সঙ্গে নিয়ে অপেক্ষা করছিল, আর পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান। এদিকে, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) অতীতেও জানিয়েছে, তারা পরিবার বিচ্ছিন্ন করার নীতি অনুসরণ করে না। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে কোনো অভিভাবকের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু অভিভাবকের সঙ্গে যাবে নাকি স্বজনদের কাছে থাকবে—সে সিদ্ধান্ত পরিবারের ওপরই নির্ভর করে। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বাস্তবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়ে। মার্গারিটা মেলগারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় একসময় 'প্যারেন্ট অব দ্য ইয়ার' বা বর্ষসেরা অভিভাবকের খেতাব পেয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধেই এবার কয়েক ডজন শিশু যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আলাস্কার শেভাক শহরের দীর্ঘদিনের মেয়র ৪৮ বছর বয়সী উলরিক জেফরি উলরোয়ানকে বুধবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলাস্কা স্টেট ট্রুপার্সের তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেশ কয়েকজন কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় একটি হাইস্কুলের মেয়েদের বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন উলরোয়ান। ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে শেভাক শহরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের একটি গোপন অভিযোগ গত জানুয়ারিতে পুলিশের হাতে আসে। এরপরই তার বিরুদ্ধে বিস্তর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে আরও বেশ কয়েকজন নারী এগিয়ে এসে উলরোয়ানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি যৌন নিপীড়ন, অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং ২১ বছরের কম বয়সীদের অ্যালকোহল সরবরাহ করাসহ মোট ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অন্তত ছয়জন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রায়ান ওয়সম্যান জানিয়েছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিনি আরও অপরাধ ঘটিয়েছেন বলে তাদের বিশ্বাস। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পালক পিতা (ফস্টার প্যারেন্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে উলরোয়ান এই জঘন্য অপরাধগুলো করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৯ সালের অক্টোবরে আলাস্কা ফেডারেশন অফ নেটিভস উলরোয়ান ও তার স্ত্রী ম্যারিকে 'প্যারেন্ট অব দ্য ইয়ার' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার স্ত্রী ম্যারি জানিয়েছেন, এটি তাদের পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সময়। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার সন্তানদের গোপনীয়তা রক্ষায় সবার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার আদালতে উলরোয়ানের হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত মাসেই আলাস্কার আইনপ্রণেতারা শারীরিক সম্পর্কের সম্মতির বয়স (এজ অব কনসেন্ট) ১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৮ বছর করে একটি বিল পাস করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় দুটি বড় আকারের কুকুরের হিংস্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছে জেসিওন গেটস নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে চার্লসটন শহরের প্রায় ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ল্যাডসন এলাকায় শিশুটির কেয়ারগিভারের (তত্ত্বাবধায়ক) বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ সময় কুকুরের হামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট। পুলিশ জানায়, বুল ম্যাস্টিফ এবং পিটবুল টেরিয়ার জাতের দুটি কুকুর শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডরচেস্টার কাউন্টি শেরিফ অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার পরপরই তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে কুকুর দুটিকে জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কুকুরটি প্রথমে আক্রমণ করেছিল বা মূল হামলাকারী ছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কুকুর দুটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। পরিবারের কাছে অত্যন্ত আদরের জেসিওন ছিল অটিজমে আক্রান্ত, তবে সে ছিল দারুণ প্রাণবন্ত ও উচ্ছল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয়ভার বহন এবং শোকাহত মা ও বোনকে সহায়তার জন্য আত্মীয়রা 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন। ১০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার এই তহবিলে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ডলার জমা পড়েছে। এছাড়া আগামী ৫ জুলাই শিশুটির স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রিয় 'লিটল ওয়ারিয়র' বা খুদে যোদ্ধাকে সম্মান জানাতে অংশগ্রহণকারীদের পাওয়ার রেঞ্জার, প ট্রল এবং গাড়ির থিমযুক্ত বেলুন নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে স্টেট ল এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন, ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড ফ্যাটালিটিস এবং স্থানীয় শেরিফ অফিস যৌথভাবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মায়েরা যখন নিজেদের সন্তানদের একটি তালাবদ্ধ নোংরা ফ্ল্যাটে ফেলে রেখে হোটেলে মদ ও মাদকের পার্টিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্য দুই শিশুর নির্মম মারধরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছে দুই মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মেডিক্যালি ইনডিউসড কোমা এবং ভেন্টিলেশনে রেখেছেন। স্মিথ কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী সিডনি হুইট এবং ২৯ বছর বয়সী জ্যাকুলিন মোরালেস তাদের সন্তানদের ইঁদুরের মল ও মাছিতে ভরা একটি অস্বাস্থ্যকর অ্যাপার্টমেন্টে ফেলে রেখে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটে দুই মাসের ওই শিশুটির সঙ্গে ছিল চার ও ছয় বছর বয়সী আরও দুই শিশু। মায়েরা না থাকার সুযোগে ওই বড় দুই শিশু মিলে অবুঝ শিশুটির ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালায়। তারা শিশুটিকে ছুড়ে মারে এবং তার মাথায় পা দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় শিশুদের পাহারায় ছিলেন জ্যাকুলিনের ১৮ বছর বয়সী বোন শেলবি মুনোজ। তিনি তদন্তকারীদের জানান, চোখের সামনে এমন নির্যাতন হতে দেখলেও তিনি বাধা দেননি, কারণ তিনি মনে করেছিলেন ওই শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার নয় যেহেতু তারা তার নিজের সন্তান নয়। মায়েরা যখন ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন, তখন তারা শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা পরের দিন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন। চাইল্ড প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস (সিপিএস) পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তদন্তে গেলে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। টেক্সাসের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ফ্ল্যাটে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছিল না, ঘরভর্তি মাছি উড়ছিল এবং মেঝেতে ইঁদুরের মল, নোংরা ডায়াপার ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এই চরম অবহেলার দায়ে সিডনি, জ্যাকুলিন এবং শেলবি—এই তিনজনের বিরুদ্ধেই শিশুকে বিপন্ন করা এবং আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পাঁচ লাখ ডলারের সম্মিলিত জামিন বন্ডে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসা ও খাবারের টাকা চুরি করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনডুকা লুইস একপেনিয়ং নামের ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি 'মেডিকেইড' প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা দামি স্পেশাল ফর্মুলা না দিয়ে সস্তা মানের পিডিয়াশিওর (PediaSure) সরবরাহ করতেন। এরপর সরকারের কাছে দামি ফর্মুলার বিল জমা দিয়ে মাঝখানের বিপুল পরিমাণ পার্থক্য নিজের পকেটে পুরতেন। এভাবেই তিনি সরকারের প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস। আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, লুইস ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রুকলিনভিত্তিক তার কোম্পানি 'ডিউক মেডিকেল এলএলসি'-এর মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। চিকিৎসকরা যখন অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষ ও দামি ফর্মুলার নির্দেশ দিতেন, তখন লুইসের কোম্পানি সেই শিশুদের হাতে সস্তা মানের ওভার-দ্য-কাউন্টার পণ্য ধরিয়ে দিত। এমনকি অনেক সময় তারা শিশুদের কোনো খাবারই সরবরাহ করত না। অথচ কাগজে-কলমে সরকারের কাছে চড়া মূল্যের বিল ঠিকই আদায় করে নেওয়া হতো। এর ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের শিশু তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অমানবিক এই প্রতারণার টাকায় লুইস গড়ে তুলেছিলেন এক রাজকীয় জীবন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত হিউলেট এলাকায় ১.৬ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনেন। এছাড়া ৭০ হাজার ডলারের একটি কালো বেন্টলি, ৬৭ হাজার ডলারের রেঞ্জ রোভারসহ আরও নানা শৌখিন জিনিস কেনেন তিনি। এমনকি বাড়ির সামনে মার্বেল পাথরের ফোয়ারা, আউটডোর কিচেন এবং নিজের নামের আদ্যক্ষর লেখা একটি বিশাল লাল রঙের বাস্কেটবল কোর্টও তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের প্রেমিকার জন্য ৩৩ হাজার ডলারের একটি মার্সিডিজ গাড়িও কেনেন তিনি, অথচ সেই প্রেমিকা নিজেও সরকারি মেডিকেইড সুবিধার তালিকাভুক্ত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে 'হৃদয়হীন প্রতারণা' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তার অফিস এই ঘৃণ্য চক্রটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে। যখন লুইস প্রতারণার টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনছিলেন, তখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে সংগ্রাম করছিল। লুইসের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসিনি (বড় অঙ্কের চুরি) এবং স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া ২.৬ মিলিয়ন ডলারসহ মোট প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছে প্রসিকিউটররা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের করা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। অস্টিনের ফেডারেল বিচারক ডেভিড অ্যালান এজরা সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন (টিএফএসসি) এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস্টিন টিপসের দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইআরএ নিউজ (KERA News) জানিয়েছে, বিচারকের মতে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে এবং সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত। মামলাটি করেছে টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার (ইপিক)। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় কমিশন অভিযোগ তোলে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ইপিক একটি ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশও পাঠানো হয়। এর চার মাস পর ইপিক ফেডারেল আদালতে মামলা করে জানায়, তারা কোনো বাণিজ্যিক ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে না। বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালে কমিশনের তৎকালীন প্রধান ক্রিস্টিন টিপসের কিছু ব্যক্তিগত বার্তা মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। কেইআরএ নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে তিনি ইসলামবিরোধী বিভিন্ন লেখা, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব তথ্যই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করে ইপিক। রায়ে বিচারক এজরা উল্লেখ করেন, আদালতের সামনে এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো পক্ষই দাবি করেনি যে ইপিক তাদের কার্যক্রমে শরিয়া আইন প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের পাঠানো নোটিশে ইপিকের কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম টেক্সাসের আইন লঙ্ঘন করেছে, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, অতীতে ১৯৮৭ ও ২০১৪ সালে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন অন্য দুটি মসজিদকে রাজ্যের আইন মেনে ধর্মীয় দাফনের আচার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। সেই নজিরের পরও ইপিকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগকে আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ মামলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেইআরএ নিউজের হাতে আসা কিছু নথি ও রেকর্ড করা ফোনালাপ অনুযায়ী, ইপিকের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পক্ষপাতের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কমিশনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে গভর্নরের কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাজ্যের আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে। আদালতের সর্বশেষ এ আদেশের অর্থ এই নয় যে ইপিক ইতোমধ্যে মামলায় জয়ী হয়েছে। বিচারক কেবল বলেছেন, মামলাটি খারিজ করার মতো পরিস্থিতি নেই এবং অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার হওয়া প্রয়োজন। এখন উভয় পক্ষ আদালতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে, এরপর মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। এদিকে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-টেক্সাস আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ শাখার নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা ক্যারল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ইপিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মাদক ও মদে আসক্ত এক মায়ের চরম অবহেলায় কাঁচা পপকর্ন গলায় আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর। অভিযোগ উঠেছে, মা যখন বাথরুমে বসে মদ্যপানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই বসার ঘরে একা থাকা শিশুটি দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নাসাউ কাউন্টির প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ৩৬ বছর বয়সী ওই মায়ের নাম অলিভিয়া বিথর্ন। তিনি গত ১২ এপ্রিল রাতে নিজের ১৮ মাস বয়সী ছেলে লুক রাসেল জুনিয়র এবং তিন বছরের মেয়েকে একা রেখে বাথরুমে মদ খাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অবুঝ শিশুদের কাঁচা পপকর্ন খেতে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিউইয়র্কের মেরিকে অবস্থিত অলিভিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে এক ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে পায়। বসার ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঁচা পপকর্নের মাঝে শিশু লুককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শ্বাসরোধের কারণে ততক্ষণে শিশুটির শরীর নীল বর্ণ ধারণ করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে 'টিটোস' ব্র্যান্ডের ভদকার একটি প্রায় খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, মা বাথরুমে বসেই মদ পান করছিলেন, আর অন্যদিকে তার দুই শিশু বসার ঘরে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। গলায় কাঁচা পপকর্ন আটকে যাওয়ার কারণেই শিশুটির এমন করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিজের সন্তানের মৃত্যুতে গাফিলতি এবং শিশু বিপন্ন করার (ম্যানস্লটার অ্যান্ড চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট) অভিযোগে অলিভিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাকে গোড়ালিতে ট্র্যাকিং মনিটর পরিয়ে মাদক ও অ্যালকোহল নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। তবে সোমবার আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিচারক তার জন্য পাঁচ লাখ ডলারের জামিন নির্ধারণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুইন্সের একটি পাবলিক স্কুলের চিমনি থেকে এক ব্যক্তির পচা-গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্কুল ভবনে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা তদন্ত করতে গিয়ে এক পেস্ট কন্ট্রোল (পোকামাকড় দমন) কর্মী এই মৃতদেহটির সন্ধান পান। স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, গ্লেনডেল এলাকার ৮৭ স্ট্রিট ও ৭৮ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পি.এস./আই.এস. ১১৩ অ্যান্থনি জে. প্রাঞ্জো নামের ওই স্কুলে মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু আগে এই ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটে। স্কুলের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে ওই পেস্ট কন্ট্রোল কর্মীকে ডেকেছিলেন। চিমনির ছাই ফেলার জায়গাটি খুলতেই ওই কর্মী প্রথমে একটি জুতো দেখতে পান। এরপর সেখানে হাত দিতেই তিনি মানুষের পায়ের স্পর্শ পান এবং নিশ্চিত হন যে ভেতরে একটি লাশ আটকে আছে। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি চিমনি থেকে বের করার কাজ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ঠিক কতদিন ধরে ওই চিমনির ভেতর আটকে ছিল তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে শহরের মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই স্কুলে বেশ কিছু নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছিল। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনো শ্রমিক বা ব্যক্তি সম্প্রতি নিখোঁজ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলার কারণে ঘটনার সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছাড়া স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী ডাককর্মীকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কন্যাসন্তান কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তাদের বাবা। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) কর্মী ও দুই সন্তানের মা ব্র্যান্ডি রেনল্ডস শুক্রবার হেইস এলাকায় ডাক বিতরণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ৫৬ বছর বয়সী উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম তাকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ১৬ মিনিটে এক প্রত্যক্ষদর্শী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করে জানান, ধূসর রঙের একটি নিসান অলটিমা গাড়ির পাশে এক সশস্ত্র ব্যক্তি রেনল্ডসকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রেনল্ডসকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। শার্লট অবজারভারের প্রকাশিত আদালতের পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, ডারহামের বিরুদ্ধে রেনল্ডসকে তার সম্মতি ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হত্যার আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ডারহামের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা এবং প্রথম-ডিগ্রি অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে উইলকস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার আদালতে হাজির করা হলে রেনল্ডসের এক স্বজন বিচারককে জানান, অতীতেও ডারহাম রেনল্ডসকে হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেনল্ডসের দুই কন্যার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডারহামের জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। রেনল্ডসের পরিবারের জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ট্র্যাজেডি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর, বড়দিনের মাত্র দুই দিন আগে, তার স্বামী ব্রেন্ট রেনল্ডস উইলকস কাউন্টিতে একক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন। তদন্তকারীরা জানান, ৩৫ বছর বয়সী ব্রেন্ট রেনল্ডস সেদিন একটি পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তিনি সিটবেল্ট পরেননি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই মেয়ের ছবি প্রকাশ করে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস লিখেছিলেন, তার সন্তানরাই তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। রেনল্ডসের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ডাক বিতরণ এলাকার বাসিন্দা জুলি স্মিথ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেনল্ডস ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, বন্ধুসুলভ ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি ডাক পৌঁছে দিতেন এবং এলাকার মানুষ তার ডাকবাহী গাড়ির অপেক্ষায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন যৌথভাবে তদন্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্থাভাবে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেল ১৩৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি'। সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিস তাদের যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার শত শত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ইতিহাসে অন্যতম বড় এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা এলো। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি সম্প্রতি কে-৮ (কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম গ্রেড) মাইক্রোস্কুলে রূপান্তরিত হয়েছিল। নিউরোডাইভারজেন্ট এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত এই স্কুলটিতে প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক বরাদ্দ ছিল। বার্ষিক ২০,৯৫০ ডলার বেতনের এই স্কুলটি বন্ধের খবরে হতবাক হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের শেষদিকে তাদের জমার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সন্তানদের জন্য সমমানের বিশেষায়িত স্কুল খুঁজে পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। আর্চডায়োসিসের ক্যাথলিক স্কুলগুলোর সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস ফিশার এক চিঠিতে অভিভাবকদের জানান, স্কুলের আর্থিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর এবং সব ধরনের বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় স্কুলটি আর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল বন্ধের এই ঘোষণার ঠিক আগেই আর্চডায়োসিস প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ চুক্তির কথা জানায়। এর মাধ্যমে যাজকদের হাতে শৈশবে যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া প্রায় ৫৩০ জন ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার 'চাইল্ড ভিকটিমস অ্যাক্ট'-এর কারণে বহু দশকের পুরনো যৌন নিপীড়নের মামলা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে ২০২৩ সালের আগস্টে চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছিল আর্চডায়োসিস। বাদীপক্ষের আইনজীবীদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিসই একমাত্র ক্যাথলিক ডায়োসিস ছিল, যারা ২০২৩ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত যাজকদের তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আপস-রফার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত যাজকদের বিষয়ে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যৌন নিপীড়নের মামলার আর্থিক চাপের কারণে ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন পরিণতি এটাই প্রথম নয়। সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি বন্ধ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ওকল্যান্ডের রোমান ক্যাথলিক ডায়োসিসও তাদের নিজস্ব যাজকদের বিরুদ্ধে ওঠা শত শত শিশু যৌন নিপীড়নের মামলার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ১৩টি ইস্ট বে প্যারিশ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের আইফোনের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের তালিকা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং গোপন ছবি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। অ্যাপলের অন্যতম প্রধান ভারতীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ হ্যাক করে এই গোপন নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে একটি হ্যাকার চক্র। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া ২ লাখেরও বেশি ফাইলের মধ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ ফাইল রয়েছে, যাতে নতুন আইফোনের সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে। সাধারণত অ্যাপল তাদের কোন যন্ত্রাংশ কোন কোম্পানি তৈরি করে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখে। এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাজারে অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল মোবাইল প্রস্তুতকারক এবং নিজস্ব বিক্রেতারা আইফোনের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির নকশা সহজেই জেনে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বিশেষ জলছাপযুক্ত কিছু ফাইল এবং কারখানায় নতুন আইফোনের ওপর চালানো আছাড় পরীক্ষার বাস্তব ছবিও রয়েছে। ছবিতে ধূসর রঙের একটি হ্যান্ডসেটের পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা গেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হ্যাকার চক্রটি আইফোনের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকান ও তাইওয়ানিজ গ্রাহকদের গোপন নথিও ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে একটি বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভারতের সরকারের যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা তার ওপর একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। এমন সময়ে এই বিপর্যয়টি ঘটল যখন অ্যাপল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অ্যাপল ও টাটা ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত শুরু করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল সিস্টেমে কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং একটি বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট বা চুলচেরা বিশ্লেষণ করাচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ৭ মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় নিহত শিশুটির ১৯ বছর বয়সী বাবার বিরুদ্ধেও অবহেলার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সেন্ট লুইসের একটি বাড়িতে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে ৭ মাস বয়সী কিয়োমি পার্কারকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সেন্ট লুইস মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ। আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বাড়িতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে বলেছেন, ১০ বছর বয়সী অভিযুক্ত শিশুটি একটি শোবার ঘরের গদির নিচে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে কিয়োমির দিকে গুলি চালায়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও এক ৭ বছর বয়সী শিশু উপস্থিত ছিল। তদন্তে অভিযুক্ত শিশুটি পুলিশকে জানায়, অস্ত্রটি কোথায় রাখা ছিল সে তা জানত। আগেও সে অস্ত্রটি বের করে হাতে নিয়েছিল এবং সেটি তার জন্য সহজেই নাগালে ছিল। পরে নিহত শিশুটির বাবা ক্যা'ম্যারিয়ন পনেল পুলিশকে স্বীকার করেন, আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনিই গদির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যেখান থেকে অভিযুক্ত শিশুটি সেটি পায়। তবে পনেলের সঙ্গে অভিযুক্ত ১০ বছর বয়সী শিশুটির সম্পর্ক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর আদালতে ১০ বছর বয়সী শিশুটির বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিসৌরির ইতিহাসে এত কম বয়সে হত্যা মামলার আসামি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিহত শিশুটির বাবা ক্যা'ম্যারিয়ন পনেলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা, অবহেলার মাধ্যমে শিশুর মৃত্যু ঘটানো এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।
আমেরিকার সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রায় ১৮ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুয়ের্তো রিকোর একটি ফেডারেল জুরি বোর্ড দীর্ঘ এক সপ্তাহের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে। ওই কর্মকর্তার নাম মিরনা ফারিয়া, যিনি কর্মক্ষেত্রে মিরনা অলিভেরাস-সান্তিয়াগো নামেও পরিচিত ছিলেন। আদালতের নথিপত্র ও উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী, ফারিয়া ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ানে অবস্থিত সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ওয়ার্কলোড সাপোর্ট ইউনিটে সামাজিক বিমা বিশেষজ্ঞ এবং ক্লেইমস স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে ২০১২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটান। এই সময়ে তিনি মোট ১৮ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ মার্কিন ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে হাতিয়ে নেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফারিয়া মূলত এমন কিছু ব্যক্তিকে টার্গেট করতেন যাদের তিনি মৃত বলে নিশ্চিত হতেন। এরপর তিনি নিজের অফিশিয়াল ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই মৃত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া অবসরকালীন ভাতা, সারভাইভার ইনসুরেন্স এবং আনুষঙ্গিক সহায়তার আবেদন সাব্যস্ত করতেন। জালিয়াতির এই আবেদনগুলো তিনি নিজেই অনুমোদন দিতেন এবং টাকা তোলার জন্য সরকারের কাছে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ঠিকানা জমা দিতেন। পরবর্তীতে সেই জালিয়াতি করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ফারিয়া নিয়মিত টাকা তুলতেন এবং তা নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করতেন। দীর্ঘ এক যুগের এই অপরাধ জীবনে তিনি মোট ১৩টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বড় ধরনের ক্লেইম বা আবেদন নিজের নামে অনুমোদন করিয়েছিলেন। এই ভয়াবহ প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের পরিদর্শক কার্যালয় এবং ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস যৌথভাবে এই ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করে। পুয়ের্তো রিকোর পুলিশ বিভাগও এই তদন্ত কাজে সরাসরি সহায়তা প্রদান করেছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জিনা আর মেন্দেজ-মিরো এই মামলার চূড়ান্ত শাস্তি ও কারাদণ্ডের মেয়াদ ঘোষণা করবেন। সরকারি তহবিল চুরি এবং পরিচয় জালিয়াতির কারণে তাকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাগারে থাকতে হবে।
আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ড্রেয়া ক্যাম্পবেলের ভাই আলভিন ক্যাম্পবেল জুনিয়রকে একাধিক নারীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাইড-শেয়ারিং বা ট্যাক্সি চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে মদ্যপ নারীদের গাড়িতে তুলে তিনি এই নৃশংস অপরাধ সংঘটন করতেন। স্থানীয় সময় সোমবার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময় বিচারক আলভিনের এই কর্মকাণ্ডকে চরম ধূর্ত ও বিকৃত মানসিকতার বলে অভিহিত করেন। চলতি মাসের শুরুর দিকেই আদালতের জুরি বোর্ড আলভিনকে ছয়টি পৃথক ধর্ষণের মামলা, দুটি অপহরণ, দুটি অশোভন আচরণ ও শ্লীলতাহানি, ছবি তোলার নামে নগ্নতা ধারণের নয়টি অপরাধ এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হামলার দুটি ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। একটি ধর্ষণের ঘটনায় আদালত তাকে সরাসরি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য অপরাধের জন্য তাকে আরও ১২০ থেকে ১৪০ বছরের ধারাবাহিক কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তার বাকি জীবন কারাগারেই কাটতে হবে। আদালতে রায় শুনানির সময় তিনজন ভুক্তভোগী নারীর লিখিত জবানবন্দী পড়ে শোনান সরকারি কৌঁসুলিরা। এক ভুক্তভোগী তার বিবৃতিতে জানান, ঘটনার রাতে তার স্মৃতি পুরোপুরি লোপ পাওয়ায় অপরাধী তার সম্পর্কে কী কী তথ্য জেনেছে তা নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। আলভিন তাকে অপহরণ বা হত্যা করতে পারে— এই ভয়ে তিনি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি। অন্য এক ভুক্তভোগী আলভিনকে একজন চরম স্বার্থপর ও অনুশোচনাহীন অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আলভিনকে একজন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আলভিন বোস্টন শহরের বিভিন্ন মদের দোকানের সামনে ওত পেতে থাকতেন। সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মাতাল অবস্থায় থাকা নারীদের টার্গেট করে তিনি নিজেকে উবার চালক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সরল বিশ্বাসে নারীরা তার গাড়িতে উঠলে তিনি তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালাতেন। পরবর্তীতে পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আলভিনকে এই অপরাধগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে সক্ষম হয়। মামলার রায় ঘোষণার পর ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ড্রেয়া ক্যাম্পবেল এক বিবৃতিতে জানান, ভুক্তভোগী নারীরা আদালতে এসে সাক্ষ্য দেওয়ার যে সাহস দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে নিজের ভাইয়ের এই পরিণতিতে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভাই হিসেবে আলভিনের জন্য তার মন কাঁদছে এবং তিনি সবসময় ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন। আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি পার্ক থেকে ঐতিহ্যবাহী 'স্মোকি বেয়ার' সাইনবোর্ড চুরি করে অনলাইনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি কর্তৃক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফ্লোরিডার নর্দান ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জন হেকিন সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারি সম্পত্তি চুরির এই গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই যুবককে সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। অভিযুক্ত যুবকের নাম হান্টার ড্রেক লাভেট এবং তার বয়স ৩০ বছর। তিনি ফ্লোরিডার পেস এলাকার বাসিন্দা বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে। তখন পেনসাকোলা, পানামা সিটি এবং অরল্যান্ডোর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পার্ক ও বনভূমি থেকে বন্যপ্রাণী সচেতনতামূলক বিখ্যাত ভাল্লুকের ছবি সংবলিত সরকারি সাইনবোর্ড চুরির অভিযোগে লাভেটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লাভেট এই চুরির পর প্রতিটি সাইনবোর্ড ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন। লাভেটের এই অদ্ভুত চুরির কাণ্ড ও গ্রেপ্তারের পর সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ফ্লোরিডার কৃষি কমিশনার উইল্টন সিম্পসন তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই সফল অভিযানের কথা তুলে ধরেন। তিনি রসাত্মকভাবে লিখেছিলেন যে, নির্বোধ অপরাধীরা যখন ভাল্লুকের সীমানায় গিয়ে ঝামেলা পাকায়, তখন ঠিক এমনটাই ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস এবং ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস যৌথভাবে এই চুরির ঘটনার মূল তদন্ত পরিচালনা করে। এই তদন্ত কাজে ফ্লোরিডার কৃষি ও ভোক্তা সেবা বিভাগ, কৃষি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ফ্লোরিডা ফরেস্ট সার্ভিস এবং আলাবামার ইউফলা পুলিশ বিভাগ সরাসরি সহায়তা প্রদান করে। মূলত রাজ্যজুড়ে ঘুরে ঘুরে বনের সম্পদ চুরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্রির অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উপায় খুঁজছেন স্থানীয় বাড়িওয়ালারা। বিশেষ করে নতুন ও প্রথমবার যারা বাড়ি কিনেছেন, তীব্র গরমের এই মরসুমে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান খরচের লাগাম টানা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যারিমাহ কলিন্স নামের এক নতুন বাড়িওয়ালা জানান, খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সহায়তায় বিশেষভাবে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একটি টাউনহোম বেছে নিয়েছেন। ভালো ইনসুলেশন বা তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় এই ধরণের বাড়িগুলো বেশ সাশ্রয়ী হয়। তবে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বাড়ির দোতলার অংশটি তুলনামূলক বেশি গরম হয়ে যায়। তাই ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি কীভাবে সূর্যের তাপ আটকে খরচ কমানো যায়, সেই কৌশলগুলোই এখন রপ্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি। গ্রাহকদের সচেতন করতে 'জর্জিয়া পাওয়ার' নামের একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট জানান, গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই খরচ হয় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের কারণে। তাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়। তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়ালেই বিদ্যুৎ বিলের ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রাতে বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো, জানালা ও দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখার মতো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, 'ইন্টিগ্রিটি এয়ার অ্যান্ড হোম ইন্সপেকশন'-এর মালিক মেলভিন রবিনসন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এসি বা হিটিং সার্ভিসের খরচ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট সার্ভিসিং কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সেবা মূল্য দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ছে। তীব্র গরমে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে এসি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতের এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে পশ্চিমমুখী একটি বাস গ্রিনপয়েন্ট অ্যাভিনিউর এক্সিট-১৬-এর কাছে প্রথমে দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পূর্বমুখী লেনে চলে যায় এবং সেখানে আরও দুটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) ৭৯ জন অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি সেবা কর্মী মোতায়েন করা হয়। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএবিসির তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন বাসচালক এবং বাসের এক যাত্রী। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসে থাকা প্রায় ২৪ জন যাত্রীকে বেলভিউ হাসপাতাল, নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স এবং এলমহার্স্ট হাসপাতাল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক বন্ধ থাকায় অনেক চালক পূর্বমুখী লেনেই গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।