বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় পদক্ষেপে মার্কিন জনগণের উদ্দেশ্যে একটি "গুরুত্বপূর্ণ" চিঠি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্য বিষয়ক ডেপুটি মেহেদী তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে। তেহরানের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্পের ভাষণের আগেই সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেই পেজেশকিয়ানের এই কৌশল। যুদ্ধের দামামার মধ্যে এই চিঠি শান্তি নাকি নতুন কোনো শর্তের বার্তা বহন করছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত এবং নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অনুরোধে কোনোভাবেই সাড়া দেবে না ওয়াশিংটন। আজ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমান ইরানি প্রেসিডেন্টকে আগের শাসকদের তুলনায় 'অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও কম উগ্র' হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, “ইরানের নতুন জান্তা প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ও চলাচলের উপযোগী হচ্ছে না, ততক্ষণ আমরা এটি নিয়ে ভাবছি না।” শুধু তাই নয়, আলোচনার পরিবর্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধূলিসাৎ করে দেব এবং দেশটিকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।” যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব বেশি কঠিন কোনো কাজ নয়। চলমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আজ রাত ৯টায় (ইএসটি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই ইরান সংকটের পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মিশর থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিশরে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। বর্তমানে মিশরে অবস্থানরত প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের দেশটি থেকে উদ্ধার করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিশরসহ ১৩টি আরব দেশকে তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানও রয়েছে। এর আগে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মার্কিনিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই এলাকা ত্যাগ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সংখ্যক মানুষের গণ-স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত বড় কোনো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই বিশেষ বিমানগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ভিন্ন রুট ব্যবহার করে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মিশরের মতো স্থিতিশীল ও পর্যটন নির্ভর দেশে এমন জরুরি প্রস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। মিশরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এখন মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন এবং ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ বিমানগুলো দিনরাত এক করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন মিশরে অবস্থানরত তাদের বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের আতঙ্কে থমথমে হয়ে আছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের কোনো ধরনের জীবনের ঝুঁকির মুখে রাখতে চাচ্ছে না। দিনশেষে এই বিশাল প্রস্থান প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কূটনীতি এখন কার্যকর হচ্ছে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের দামামা এখন সবচাইতে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মিশরে অবস্থানরত অনেক পরিবার তাদের ব্যবসা ও বসতবাড়ি ছেড়ে দ্রুততম সময়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক নাটকীয় মোড়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প ইরানের সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করলেও তাকে ‘পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী যখন পুরোপুরি উন্মুক্ত, অবাধ ও নিরাপদ হবে, কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আরও কঠোর ছিল। তিনি যোগ করেন, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হচ্ছে যা দেশটিকে কার্যত ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন দাবি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভ ব্যানন এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন ইয়ার কেন মায়ামিতে ছুটি কাটাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে নেতানিয়াহুর ছেলেকে দেশটি থেকে বের করে দিয়ে তার গায়ে যুদ্ধের ইউনিফর্ম পরিয়ে প্রথম সারির যোদ্ধাদের সাথে পাঠানো উচিত। ব্যানন কেবল ইয়ার নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং লন্ডনে অবস্থানরত আরবের মিত্র দেশগুলোর রাজপুত্রদেরও একই কায়দায় বিতাড়িত করে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষায় যুদ্ধে পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জানা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার এবং আবনার কেউই ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করেননি, যা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই বর্তমানে বেশ সমালোচনা ও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। স্টিভ ব্যানন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও রয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ব্যাননের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, অথচ ইসরায়েল সেই অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্র দেশের নেতার ছেলের বিলাসী জীবন নিয়ে ব্যাননের এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সানা থেকে আল জাজিরা-এর সংবাদদাতা ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, হুতিরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। হুতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা এবং ইরান-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা। হুতিদের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করার জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছিল, তা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার পতনের ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শেষ করবে বলে তিনি আশাবাদী। বক্তব্যে ট্রাম্প কেবল ইরান নয়, নিজের মিত্র দেশগুলোর প্রতিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদের তেল সংগ্রহের দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর এ কাজে কাউকে পাহারাদার হিসেবে সাহায্য করবে না। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসতে যাচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুতই শেষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে, তাই ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির প্রয়োজন আর নেই। হোয়াইট হাউসে বুধবার (১ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের প্রায় সব সামর্থ্য ধ্বংস করেছি। দেশটি পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় নেবে। আমরা তাদের অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ইরানের নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নেতৃত্ব ব্যবস্থাও প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি আলোচনার টেবিলে আসে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তারা আলোচনায় অংশ নেয় কি না, তাতে এখন আমাদের কোনো প্রভাব নেই।” তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামর্থ্য ধ্বংস করে দেশটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইরানের পুনর্গঠনের দীর্ঘ মেয়াদি চিত্র তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাজেট প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য প্রায় দুইশ’ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা, এবং অর্থ জোগাড়ের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়টি রিপাবলিকানরা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে বিষয়টি সহজ নয়। নির্বাচনের বছর স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে ব্যয় কমানো রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে যে, বিদেশে সামরিক ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে। রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, সরাসরি সুবিধা কমানো নয়। তারা মূলত জালিয়াতি ও অপচয় বন্ধ করে খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অপব্যবহার শনাক্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব, এমনটাই তাদের যুক্তি। বাজেট কমিটির নেতৃত্বে থাকা এক নেতা স্বাস্থ্য খাতে পূর্বের কিছু প্রস্তাব আবার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত অর্থপ্রদান কমানোর পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এতে সরকারের কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও অনেক মানুষের স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা কমে যেতে পারে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এই বাজেট পাস করানোর জন্য রিপাবলিকানরা বিশেষ একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, যাতে বিরোধীদের প্রতিরোধ কমানো যায়। তবে তাদের নিজের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী নেতারা নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত। অন্যদিকে দেশীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট চাপ দিচ্ছেন। তবে বর্তমান নেতৃত্ব বিমা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থার ব্যয় কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য সমান মূল্য নির্ধারণ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো। কিছু অঞ্চলে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুবিধা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা বলছে, বিদেশে সামরিক ব্যয়ের জন্য দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কমানো হচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাক্সিওস
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পে প্রশাসনকে বাইডেন আমলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাজারো অভিবাসীর আইনি অবস্থান পুনর্বহাল করতে হবে। মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ে বিচারক বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব অভিবাসীর অস্থায়ী প্যারোল স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়েছে, যা আইনসম্মত নয়। ফলে তাদের স্ট্যাটাস পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে—বিশেষ করে সিবিপি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে—অভিবাসীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই কর্মসূচি বাতিল করে এবং অনেকের আইনি অবস্থান ও কাজের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ে শত হাজার থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত অভিবাসী উপকৃত হতে পারেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে বলে জানা গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি মোকাবিলায় এখনো কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সচল করতে পারে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রণালিটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” খুলে যেতে পারে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দেশটির ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বি-৫২ বোমারু বিমানের মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু’র বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, আকাশপথে নিজেদের আধিপত্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জেনারেল কেইন বলেন, “আমরা সফলভাবে প্রথম ওভারল্যান্ড (স্থলভাগের ওপর দিয়ে) বি-৫২ মিশন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে শত্রুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।” মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন আরও জানান, গত ৩০ দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের শক্তি খর্ব করতে এবং দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন যৌথ বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানি নৌবাহিনীর ১৫০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, তবে সেগুলো প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যাকে কোনোভাবেই 'কূটনৈতিক সংলাপ' বলা যায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে তেহরানের যথেষ্ট আপত্তি ও সংশয় রয়েছে। ইরানের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই পরোক্ষ যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ইরান একে কেবল 'বার্তা বিনিময়' বলে অভিহিত করছে, তবুও নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ সচল রয়েছে।
লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। আগামী ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেই এই রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলা। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সফরের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, "মেলানিয়া এবং আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, রাজা ও রানি আগামী ২৭-৩০ এপ্রিল আমাদের দেশে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে আসছেন। ২৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হবে।" তবে এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিভিন্ন ইস্যুতে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। সম্প্রতি ট্রাম্প যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশকে 'সাহসহীন' বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এছাড়া জ্বালানি আমদানির বিষয়েও ব্রিটেনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার রাজার এই 'সফট পাওয়ার' বা রাজকীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছে। যদিও ব্রিটেনের অভ্যন্তরে এই সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিসহ অনেক বিরোধী রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, যে ব্যক্তি বারবার ব্রিটেনকে অপমান করছেন, তার আমন্ত্রণে রাজার এই সফরে যাওয়া উচিত নয়। বাকিংহাম প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং আধুনিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। সফরের অংশ হিসেবে রাজা চার্লস বারমুডাও ভ্রমণ করবেন বলে জানা গেছে। রাজা হিসেবে চার্লসের এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে প্রিন্স অফ ওয়েলস থাকাকালীন তিনি ১৯ বার দেশটিতে সফর করেছিলেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাথে তার এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিসা স্ক্রিনিং বা আবেদনকারী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ‘নিরাপত্তা ঘাটতি’ ধরা পড়ার পর, ভিসা প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাদের বর্তমান স্ক্রিনিং পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা বন্ধ করতে নতুন ও আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যালোচনায় দেখেছে যে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঠিক তথ্য বা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে ফুটে ওঠে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বনকারী যেন ভিসা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের ওপর এর প্রভাব: ১. তীব্র যাচাই-বাছাই: এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২. সময় বৃদ্ধি: স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩. সাক্ষাৎকারে গুরুত্ব: কনস্যুলার অফিসাররা এখন থেকে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য ও নথিপত্র নিয়ে আরও খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম কঠোর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আবেদনকারীদের উচিত হবে সব তথ্য সততার সাথে প্রদান করা এবং কোনো ধরনের ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার না করা। তথ্যের সামান্য অমিল বা অসংগতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদেরও এখন থেকে আরও সতর্কতার সাথে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব শীঘ্রই এই স্ক্রিনিং আপগ্রেড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চরাঞ্চল থেকে প্রসবব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসার পথে মাঝনদীতে লঞ্চের ভেতরেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা ‘এমভি হাশেমপুর’ লঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর ও মানবিক ঘটনা ঘটে। লঞ্চঘাটের নৌ-থানা পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি মতলবের জহিরাবাদ চর উমেদ এলাকা থেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই ওই নারীর তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লঞ্চের ভেতরেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছামাত্রই খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "নবজাতক এবং প্রসূতি উভয়কেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। তবে প্রসবের পর নবজাতকের মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।" এদিকে এমন মানবিক ঘটনায় দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এমভি হাশেমপুর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের মালিকপক্ষ ওই প্রসূতি দম্পতিকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, লঞ্চে জন্ম নেওয়া ওই নবজাতকের জন্য এই লঞ্চে আজীবন যাতায়াত ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে মিত্রদেশগুলোকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যের হয়ে লড়াই করবে না; বরং প্রতিটি দেশকে এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদেরই ভূমিকা নিতে হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখন সাহস সঞ্চয় করা। তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত নিজেরাই প্রণালিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে নেওয়া। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে একা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না।" মূলত ইরানবিরোধী অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই এই কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, "ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ এরই মধ্যে শেষ।" পোস্টের একদম শেষে তিনি মিত্রদের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে লেখেন, "নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন!" ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আর্থিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। বৈশ্বিক আর্থিক বাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতের এই ধসকে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের এই এক মাসে দুবাইয়ের শেয়ারবাজারের সূচক ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে দুবাই ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট (DFM) হারিয়েছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং বড় বাজার আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ (ADX) হারিয়েছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আমিরাতের পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের স্থবিরতা এই ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বিশ্বের ব্যস্ততম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়া আমিরাতের জিডিপিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর্থিক বিশ্লেষক এবং শিক্ষাবিদ হ্যায়থাম আউন আল জাজিরাকে জানান, এই ধসটি মূলত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। তবে তিনি একে একটি ‘সাময়িক ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষতি করবে না। তা সত্ত্বেও, দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটিতে পরিণত করার যে ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব তাতে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ থেমে গেলে বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এক মাস পার হওয়ার পর এবার নতুন এক মোড় নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যুদ্ধের একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পেতে রাখা মাইন এবং তেহরানের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণার ফলে এই নৌপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হোক বা না হোক, তিনি যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে একটি আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা যাচাই করছেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী এবং তিনি চান মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে নিয়ে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে। ইতিমধ্যেই তিনি অন্যান্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ না পড়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘বিকল্প পথ’ খোঁজার অর্থ হতে পারে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখে একটি সমঝোতায় আসা। একদিকে যখন ব্রিটেন আন্ডারওয়াটার ড্রোন মোতায়েন করে মাইন সরানোর কাজ করছে, অন্যদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক চ্যানেলে তেহরানের সাথে একটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অস্থিরতা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে কতটা সফল হতে দেবে, তা নিয়ে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বড় ধরনের কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।