যুক্তরাষ্ট্র

নির্দিষ্ট কোডযুক্ত ডিম না খাওয়ার এবং দোকানে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এফডিএ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ১৫ লাখের বেশি ডিম, না খাওয়ার কড়া নির্দেশ দিল এফডিএ

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে।   গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে।   এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল।   জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস।   প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।   সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
টিকাদানের হার কমে যাওয়াকে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে হাম, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে।   উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।   এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা।   কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।"   লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।   উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
সন্দেহভাজন ৩৯ বছর বয়সী বন্দুকধারী চাদ হিকম্যান, যার মৃতদেহ পরবর্তীতে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৫, পরে হামলাকারীরও লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিসাউকি কাউন্টিতে একাধিক স্থানে সংঘটিত গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।   মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি, আপ নর্থ লাইভ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে পুলিশ আরও দুটি পৃথক স্থানে মরদেহ খুঁজে পায়। এর মধ্যে একটি মরদেহ হুইটলক লেকের কাছের বনাঞ্চলে এবং আরেকটি একটি পৃথক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।   ঘটনার পর ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মিশিগান স্টেট পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে হুইটলক লেকের কাছাকাছি তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হলে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, "এটি শুধু তদন্তকারীদের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাব এবং তদন্তে যা সামনে আসবে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানো হবে।"   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিচয় জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়।   পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং একাধিক অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।   সূত্র: এপি, আপ নর্থ লাইভ, মিশিগান স্টেট পুলিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর আকুতি, আইসিইর হেফাজত থেকে স্বামীকে ফেরত চান তিনি
ফ্লোরিডায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর আকুতি, আইসিইর হেফাজত থেকে স্বামীকে ফেরত চান তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এক মার্কিন নারী তার ভেনিজুয়েলান স্বামীর মুক্তির জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তার স্বামীকে আটক করে। কোর্টনি ওয়াল্টার নামের ওই নারী জানান, গত ৩ আগস্ট কোকোনাট ক্রিকের কাছে তার স্বামী ৩৬ বছর বয়সী হোর্হে লুইস এলিয়েসার রুইজকে আটক করেন ইমিগ্রেশন এজেন্টরা।   আটকের পর কাছাকাছি একটি পার্কিং লট থেকে রুইজ ফোন করে স্ত্রীকে তার আইসিই হেফাজতে যাওয়ার আকস্মিক খবরটি জানান। কোর্টনি জানান, স্বামীর এই অপ্রত্যাশিত আটকের ঘটনা তার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তীব্র মানসিক চাপের কারণে তিনি ঠিকমতো খেতে পারছেন না এবং তার ওজনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।   জানা গেছে, আটকের পর মিরামারের একটি ইমিগ্রেশন প্রসেসিং সেন্টারে নয় দিন কাটানোর পর, বর্তমানে রুইজকে পম্পানো বিচের ব্রোওয়ার্ড ট্রানজিশনাল সেন্টারে বন্দি রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি মূলত রুইজের বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য চেষ্টা করছিলেন। কোর্টনির ভাষ্যমতে, তারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন, যা এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।   তবে আইসিই-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রোওয়ার্ড কাউন্টিতে একটি নিয়মিত অভিযানের সময় রুইজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের কথা স্বীকার করেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের এপ্রিলে রুইজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০১২ সালের নভেম্বরে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।   বর্তমানে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালীন হেফাজতে রাখা হয়েছে। রুইজের আইনজীবী ডেভিড এস্ট্রেলা আইসিই-এর এমন বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এতে একজন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে রুইজের বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আই-১৩০ পিটিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে নির্বাসন থেকে রক্ষা না করলেও, রুইজের ক্ষেত্রে একটি আইনি স্থগিতাদেশ রয়েছে যা তাকে এই মুহূর্তে ভেনিজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর পথে বাধা।   এস্ট্রেলা বর্তমানে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন নিয়ে কাজ করছেন, যাতে রুইজকে মুক্তি দিয়ে তার অভিবাসন মামলাটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আগামী সোমবার, ১৭ আগস্টের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পিটিশনের জবাব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোর্টনি এখন কেবল তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন, যাতে তারা একসঙ্গে থেকে স্থায়ী বসবাসের এই আইনি লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেইডের ‘এস্টেট রিকভারি’ নীতিতে বিপাকে মার্কিন পরিবারগুলো, ঝুঁকিতে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সরকারি কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ গ্রহণকারী পিতামাতার মৃত্যুর পর পারিবারিক বাড়ি রক্ষা করা অনেক উত্তরাধিকারীর জন্যই এক জটিল ও স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মেডিকেইডের ‘এস্টেট-রিকভারি’ বা সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতির কারণে বাড়িটির ওপর সরকারি লিয়েন বা দেনার দাবি তৈরি হয়।   তবে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ, বিশেষ ছাড় ও এস্টেট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছরের কম হলে কিংবা সন্তান যদি অন্ধ বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হন, তবে মেডিকেইড সেই বাড়ি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। এছাড়া কিছু অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি পিতামাতাকে সেবাদানকারী হিসেবে অন্তত দুই বছর ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, তিনিও বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।   এর বাইরেও উত্তরাধিকারীরা ‘আনডিউ হার্ডশিপ ওয়েভার’ বা চরম আর্থিক সংকটের অজুহাতে বিশেষ মওকুফের আবেদন করতে পারেন। রাজ্য মেডিকেইড সংস্থার নোটিশ পাওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি করতে হয়। যদি প্রমাণ করা যায় যে, বাড়িটি নিয়ে নিলে উত্তরাধিকারী সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবেন, তবে কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে পারে।   জাতীয় অধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ইন এজিং’-এর মতে, মেডিকেইডের এই সম্পদ পুনরুদ্ধার নীতি মূলত স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ একটি পারিবারিক বসতভিটাই প্রায়শ তাদের একমাত্র সম্বল। আইনি পরামর্শ ও সম্পদ রক্ষার সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেকেই নিজেদের বাড়ি হারিয়ে আবাসন সংকটে পড়েন, যা প্রজন্মগত সম্পদ গড়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়।   এদিকে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বন্ধকি ঋণ এবং হোমওনার্স ইনস্যুরেন্স বা গৃহবীমা নিয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পিতামাতার মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এস্টেটের এক্সিকিউটর বা প্রতিনিধি নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে চায় না।   তবে বীমা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পিতামাতার মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি দাবি নাকচ করে দিতে পারে।   ফ্লোরিডার উইল ও ট্রাস্ট বিষয়ক আইনজীবী বার্ট স্কোভিলের মতে, গৃহবীমা পলিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মালিকের নামে স্থানান্তরিত হয় না। তাই আইনি জটিলতা ও বাড়ি ফাঁকা থাকার কারণে বীমা সুবিধা বাতিল হওয়া এড়াতে দ্রুত পলিসি হালনাগাদ করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া অপরিহার্য।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে সারাজীবনের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্নের বাড়ি, এক মাস পরই ভাঙার নোটিশ পেলেন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সরকারি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি হারাতে বসেছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। এর মধ্যে রয়েছেন মার্ক ও জোন হেনডেল দম্পতি, যারা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেপ কড এলাকায় নিজেদের অবসরের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন।   কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়িতে ওঠার মাত্র এক মাসের মাথায় সরকারি এক নোটিশে তাদের জানানো হয়, নতুন সাগামোর ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের নবনির্মিত বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। ‘এমিনেন্ট ডোমেইন’ বা জনস্বার্থে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা হেনডেল দম্পতির মতো আরও অনেক পরিবারকে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।   ২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দম্পতি জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন এবং দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তারা নতুন বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর জীবন যখন গুছিয়ে আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের ওই চিঠি তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।   জানা যায়, কেপ কডের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সাগামোর ও বর্ন নামের প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো দুটি জরাজীর্ণ সেতুর বদলে নতুন সেতু নির্মাণের জন্যই এই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রিপ বহনকারী এই সেতুগুলোর ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা ও হারিকেন থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   তাই রাজ্য পরিবহন দপ্তরের মতে, অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি বাড়ি ও তিনটি বাণিজ্যিক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির মালিকানা ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে চলে গেছে।   আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণের শিকার সম্পত্তির মালিকদের ন্যায্য বাজারমূল্য ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হলেও, বর্তমান তীব্র আবাসন সংকটের যুগে এই ক্ষতিপূরণ মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাসাচুসেটস একটি 'কুইক টেক' অঙ্গরাজ্য হওয়ায় সরকার চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের আগেই সম্পত্তির আইনি দখল নিতে পারে, যার ফলে ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে মালিকরা এক ধরনের ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েন।   এছাড়া কেপ কড এলাকার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নতুন নির্মিত বাড়ির ব্যাপক সংকট রয়েছে এবং দামও আকাশছোঁয়া। মার্ক হেনডেলের মতে, সরকার যদি ক্ষতিপূরণ হিসেবে বড় কোনো বাড়িও দেয়, তারপরও বাড়তি সম্পত্তি কর ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বোঝা তাদেরই টানতে হবে, যা তাদের অবসর জীবনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে সারাজীবনের জমানো অর্থে গড়া স্বপ্নের বাড়ি হারানোর এই অপরিসীম মানসিক ও বাস্তবিক ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন এবার বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। 'গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন' নামের এই বিলাসবহুল ঐতিহাসিক বাড়িটির দাম হাঁকানো হয়েছে আট মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ডলার। স্কোটিয়া এলাকায় মোহক নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটি নিউইয়র্কের টিকে থাকা তৃতীয় প্রাচীন বসতবাড়ি হিসেবে পরিচিত।   ১৬৫৮ সালে আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন নামের এক স্কটিশ ব্যবসায়ী নদীর তীরে পাথরের তৈরি এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেন এবং নিজের জন্মভূমির নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখেন 'স্কোটিয়া'। সেই আদি এক কামরার ঘরটি আজও টিকে আছে এবং পুরো ম্যানশনটি তাকে ঘিরেই বিস্তৃত। গ্লেন পরিবার প্রায় ২৬৬ বছর ধরে এই সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং এই প্রপার্টির লিস্টিং এজেন্ট অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও বাড়িটির এই প্রাচীনত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পারিবারিক লোককথা অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহমর্মিতার কারণে ১৬৯০ সালের ভয়াবহ 'স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা' থেকে এই বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল। এমনকি ফরাসি কর্মকর্তারা পরদিন সকালে নদী পার হয়ে এই বাড়িতে প্রাতরাশ সেরেছিলেন বলেও শোনা যায়।   বর্তমানে যে প্রাসাদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা ১৭১৩ সালে ক্যাপ্টেন জোহানেস 'জন' গ্লেন নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৬৫৮ সালের আদি ঘরের পাথর, কাঠ ও দরজা ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র ১৯৮৮ সালে এই সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং পরের বছর একে 'ম্যাজোন হসপিটালিটি'-এর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে চালু করেন।   তবে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন এখন বয়সের ভারে এই সুবিশাল সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ দশক ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি এই ব্যবসাকে ৭ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করলেও, তার পরিবারে এই ব্যবসার হাল ধরার মতো কেউ নেই। তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক ও রিয়েল এস্টেট এজেন্ট।   এই ম্যানশনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অতিথিদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য তালিকা। ১৭৭৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় এখানে যাত্রাবিরতি করেছিলেন এবং একটি চা-চক্রে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।   এছাড়া ১৭৯০-এর দশকের শেষদিকে ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত জীবনে ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন, যার নামে আজও সেখানে একটি বেডরুম সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে এখনও এর আদি জানালা, মেঝে, কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজাগুলো অক্ষত রয়েছে।   শুধু ইতিহাসই নয়, এই বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে অলৌকিক সব গল্পও। প্রাসাদের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখানে প্রায়ই লাল পোশাক পরিহিত এক নারীর রহস্যময় উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যাকে অনেকেই আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন বলে মনে করেন। এছাড়া হঠাৎ করে পুরো বাড়ির আলো জ্বলে ওঠা বা নিজে থেকে পর্দা নড়ে ওঠার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।   তবে বাড়ির লিস্টিং এজেন্টদের মতে, এখানকার ভূতগুলো বেশ 'বান্ধব' এবং তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না বলে এই বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হয় না।   প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তির মধ্যে ঐতিহাসিক মূল বাড়িটির আয়তন প্রায় দুই হাজার ৮০০ বর্গফুট, যেখানে একটি ২২ কক্ষের সরাইখানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রি হওয়া এই প্যাকেজের সঙ্গে একটি বাড়তি আকর্ষণও রয়েছে। এর ক্রেতা চাইলে নিচতলায় রেস্তোরাঁসহ একটি ৯৫ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও পাবেন।   যদিও আইনিভাবে এই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তবে ম্যাজোন সিনিয়রের একান্ত চাওয়া, নতুন ক্রেতা যেন এই ঐতিহাসিক ভবনটি তাদের মতোই সযত্নে সংরক্ষণ করেন। কারণ, আজও এই প্রাসাদের প্রতিটি ঘর যেন আক্ষরিক অর্থেই আঠারো শতকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধায় ৩ লাখ ডলারে তৈরি হচ্ছে অজুর স্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে শৌচাগারের পাশে বিশেষ অজুর স্থান বা পা ধোয়ার ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   চলতি বছরের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়া এই প্রকল্পের কাজ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।   এর আওতায় বিমানবন্দরের ‘ডি’ টার্মিনালের বিদ্যমান শৌচাগারে নারী ও পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে।   প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, শৌচাগারের সাধারণ বেসিনে পা ধোয়ার কারণে মেঝে ভিজে গিয়ে যে স্যাঁতসেঁতে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বেসিনের যে ক্ষতি হয়, মূলত তা এড়াতেই নিচু উচ্চতার এই বিশেষ অজুর স্থানগুলো বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে অজুর এই সুবিধা একেবারেই নতুন কিছু নয়।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৯ সালে টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে অবস্থিত ইন্টারফেইথ চ্যাপেলটি চালুর সময় সেখানেও দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল।   এছাড়া ডালাসের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে আগে থেকেই এ ধরনের অজুর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রোপার্টি ট্যাক্স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিকরা
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রোপার্টি ট্যাক্স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তি কর (প্রোপার্টি ট্যাক্স) ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং রাজ্যটি এখন এই চরম সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর কর সংকট চরমে পৌঁছানোর পর রাজ্য সরকার কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এর ভয়াবহ পরিণতি এখনও স্পষ্ট।   জুন মাসে কুইয়াহোগা কাউন্টি রেকর্ড ১৮ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া সম্পত্তি করের ঋণ বিক্রি করেছে, অন্যদিকে মাহোনিং কাউন্টির অডিটর ২৪ হাজারের বেশি বকেয়া পার্সেলের তালিকা প্রকাশ করেছেন। বাড়িঘরের ক্রমবর্ধমান মূল্য, পুনর্মূল্যায়ন এবং অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি রাজ্যের বাড়ির মালিকদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।   গত বসন্তে মাহোনিং কাউন্টিতে কর খেলাপির হার ১৮ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে বকেয়া করের পরিমাণ ছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইয়াংস্টাউনের কিছু এলাকায় প্রতি তিনজন বাড়ির মালিকের মধ্যে একজন কর দিতে পিছিয়ে পড়েছেন। কুইয়াহোগা কাউন্টিতে পুনর্মূল্যায়নের পর বাড়ির দাম গড়ে ৩২ শতাংশ লাফিয়ে বাড়ে, যার ফলে বকেয়া ব্যালেন্স এক ধাক্কায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়।   কাউন্টি অডিটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ওহাইওর সভাপতি ম্যাট নোলান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি কর আরও ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বর্তমানে সম্পত্তি করের বোঝার দিক থেকে ওহাইও পুরো যুক্তরাষ্ট্রে অষ্টম স্থানে রয়েছে, যা নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়েও বেশি; অথচ পারিবারিক গড় আয়ের দিক থেকে রাজ্যটির অবস্থান ৪০তম।   ওহাইওর বিভিন্ন শহর যেমন কলম্বাস ও ক্লিভল্যান্ডে ব্যাপক উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বুম বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই মূলত করের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। রাজ্যটিতে প্রতি ছয় বছর পরপর সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে কোভিড-১৯ মহামারির পর অনেকেই তাদের প্রথম পুনর্মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছেন।   এই কাঠামোগত কারণেই করের বিল বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনপ্রণেতারা এই হতাশার কথা স্বীকার করলেও কোনো কার্যকর সমাধান এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটি তৃণমূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।   ‘সিটিজেন্স ফর প্রোপার্টি ট্যাক্স রিফর্ম’ নামক সংগঠনের অন্যতম আয়োজক বেথ ব্ল্যাকমার জানান, যখন তিনি নিজের বাড়ির পুনর্মূল্যায়ন বিলটি হাতে পেয়েছিলেন, তখন তা দেখে রীতিমতো মেঝেতে বসে পড়েছিলেন। তার বাড়ির মূল্যায়ন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।   তিনি আরও জানান, অনেক বাড়ির মালিকের বর্তমান করের পরিমাণ তাদের মূল বন্ধকি ঋণের কিস্তির চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘এক্স দ্য ট্যাক্স’ (Ax the Tax) নামের একটি প্রচারণার মাধ্যমে সম্পত্তি কর পুরোপুরি বাতিলের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্য আইনসভায় করের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে এবং গভর্নর মাইক ডিওয়াইন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হ্যাশট্যাগ:

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ার ডেকাতুরে ৬৫ বছর বয়সী জন্মদাতা পিতাকে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের ছেলে
জর্জিয়ার ডিকেটরে ৬৫ বছর বয়সী বাবাকে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিকেটরে নিজ বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শুক্রবার ভোরে ডেকাতুরের পেপারডাইন ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় ডেকাব কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৬৫ বছর বয়সী জেরোম ওয়াটকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, জেরোমের ছেলে এশাউন সাগস নিজেই তাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী এই গুলি চালিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির জেরে বাবা ও ছেলের মধ্যে এমন চরম পরিণতি ঘটল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।   বর্তমানে এশাউন সাগসকে গ্রেপ্তার করে ডেকাব কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম নির্মাণ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে। নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালীন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল গত সপ্তাহে ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারপতির প্যানেলের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলরুম প্রকল্পটিকে আইনি চ্যালেঞ্জকারী বাদীদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে আপিল আদালতের বিভক্ত প্যানেল রায় দেয় যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় ৯০ হাজার বর্গফুটের (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) এই বলরুম নির্মাণের কোনো আইনি অধিকার নেই।   গত শরতে ট্রাম্পের নির্দেশেই পুরোনো ইস্ট উইং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে তাদের নিজস্ব রায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আগামী ২১ আগস্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত রায় চেয়েছেন।   সাওয়ার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি এমন একটি অসাধারণ ও বেআইনি ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান সামরিক কমপ্লেক্স এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেবে। অথচ এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন।   এর আগে গত এপ্রিলে এক জেলা আদালতের বিচারক এই পরিকল্পিত বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস ভূগর্ভস্থ কাজ, যেমন বাঙ্কার, সামরিক স্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।   ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট প্যানেল তাদের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে মাটির ওপরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার ওই আদেশ বহাল রাখে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, যারা মূলত বলরুম নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই মামলাটি করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই বিচারক মত প্রকাশ করেন যে, এত বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, এটি নির্বাহী বিভাগের নিজস্ব ইচ্ছার কোনো বিষয় নয়।   অন্যদিকে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া তৃতীয় বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে জানান, যে সংগঠনটি প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই। তার মতে, সরকার যেখানে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে জেলা আদালত কেবল একজন পথচারীর নান্দনিক অসন্তোষকে বড় করে দেখছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের স্থানটি উন্মুক্ত থাকায় হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১০ মাস ধরে নির্মাণাধীন এই বলরুমের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে মূলত আদালতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে ওয়ালমার্টের টমেটো সুপ প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকির কারণে মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টে বিক্রি হওয়া ৩ হাজার ২৪০টি টমেটো সুপ কিট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, গত ৩০ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন ওয়ালমার্ট স্টোরে এই সুপ কিটগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সুপ কিটগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেটল কুইজিন’ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ তারা পায়নি। তবে নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষার সময় পণ্যটিতে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ার পরপরই তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিস্টেরিয়া এমন এক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, যা খাবারে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মানুষকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে রোগীর তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এফডিএ জানিয়েছে, যারা ইতিমধ্যে এই সুপ কিটটি কিনেছেন, তাদের পণ্যটি স্পর্শ করার পর খুব ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনকি পণ্যটি রান্নাঘর বা রেফ্রিজারেটরের যেসব পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোও দ্রুত জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   গ্রাহকদের এই সুপ কিটটি অবিলম্বে ফেলে দিতে অথবা মূল্য ফেরতের জন্য নিকটস্থ ওয়ালমার্ট স্টোরে জমা দিতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় এফডিএ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কেবল গন্ধ বা বাহ্যিক রূপ দেখে পণ্যটি নিরাপদ কি না, তা কোনোভাবেই বিচার করা উচিত নয়।   প্রত্যাহার করা ১৪ আউন্স ওজনের এই টমেটো সুপ কিটগুলো মূলত 'মার্কেটসাইড' ব্র্যান্ডের। এগুলোর প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ হিসেবে ২২ আগস্ট লেখা রয়েছে এবং এর প্রোডাক্ট কোড হলো ১৯৪৩৪৬৪৭৪০০৪। যুক্তরাষ্ট্রের যে ২৯টি অঙ্গরাজ্যে এই পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া, ওহিও, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, নিউজার্সি, কলোরাডো, নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ইলিনয় অন্যতম।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় মাদক পাচারকারীদের সমূলে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এবার সরাসরি স্থলপথে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পানামায় একটি যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শনের সময় তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন।   এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোতে কেবল বিমান হামলা চালাত মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়িয়ে ইকুয়েডর, কলম্বিয়াসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি লাতিন আমেরিকার মাটিতেও অভিযান চালানোর ছক কষছে পেন্টাগন।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য হুমকি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা আইএস বা আল-কায়েদার মতোই আমেরিকার শত্রু। তাই মার্কিন সরকার যেকোনো মূল্যে এই মাদকচক্রগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর।   আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই মাদকবিরোধী জোটে ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়েছে। তবে মেক্সিকোতে বড় বড় মাদক চক্রের শক্তিশালী ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও তারা এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত নেই।   উল্লেখ্য, গত বছর থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাগরে পরিচালিত বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা ওই হামলাগুলোর কড়া সমালোচনা করে আসছেন।   তবে এসকল সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ ও মিত্রদের সাথে নিয়ে স্থলপথে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে।   ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার।   জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ।   জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন।   বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে।   অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঝড় ‘লালা’ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার ভোরে হাওয়াইয়ের ‘বিগ আইল্যান্ড’-এর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা হারিকেনে রূপ নিতে পারে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি ঘণ্টায় ১২ মাইল বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ মাইল। বর্তমানে এটি হাওয়াইয়ের হিলো শহর থেকে প্রায় ৪২০ মাইল পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে।   পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মাউই কাউন্টির (মাউই, লানাই, মলোকাই এবং কাহুলাওয়ে দ্বীপসহ) জন্য জারি করা প্রাথমিক নজরদারি বা ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ’-কে হালনাগাদ করে ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়ার্নিং’ বা চূড়ান্ত সতর্কতায় উন্নীত করেছে। এর পাশাপাশি ওআহু এবং কাউয়াই কাউন্টিতেও নতুন করে ঝড়ের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।   তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা হাওয়াই কাউন্টি বা বিগ আইল্যান্ডে আগে থেকেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘হারিকেন ওয়ার্নিং’ বহাল রাখা হয়েছে।   ঝড়টি ঠিক কখন এবং কতটা তীব্রতা নিয়ে আঘাত হানবে, তা এর চূড়ান্ত গতিপথের ওপর নির্ভর করলেও চলতি সপ্তাহান্তে হাওয়াই জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকেই বিগ আইল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে, যার ফলে খাড়া পাহাড়ি এলাকাগুলোতে প্রাণঘাতী ভূমিধস ও কাদা ধসের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।   পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাউই এবং বিগ আইল্যান্ডে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং বিগ আইল্যান্ডের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই মাত্রা ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যান্য দ্বীপগুলোতেও ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিগ আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে টানা ছয় সপ্তাহ পর সামান্য কমেছে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে গড় মর্টগেজ রেট দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট কম। তবে এই সামান্য পতনকে এখনই আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।   মর্টগেজ রেট কমলেও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এক বছর আগে একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান হার এখনও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেটও এ সপ্তাহে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে।   আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রও মিশ্র। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে তৈরি ও মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪ দশমিক ০৬ মিলিয়নে নেমেছে। তবে এক বছর আগের তুলনায় বাড়ি বিক্রি ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।   বাড়ির দামেও বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহের সমান।   বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়যোগ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ে মোট বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের। জুনে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ।   ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন মনে করেন, গত কয়েক মাসের তুলনামূলক বেশি মর্টগেজ রেটের মধ্যেও বাড়ি বিক্রি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে গড় মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এলে আবাসন বাজারে আরও শক্তিশালী কার্যক্রম দেখা যেতে পারে।   ফলে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসা মর্টগেজ রেট বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর হলেও, আবাসন বাজারে বড় ধরনের গতি ফেরার জন্য আরও উল্লেখযোগ্য হারে মর্টগেজ রেট কমা, বাড়ির দাম ও মাসিক আবাসন ব্যয়ের চাপ কমা এবং ক্রেতাদের সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হোয়াইট রিভারের পানি ১৯১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর পানি বর্তমানে ২৪ দশমিক ৫ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১১৩ বছর আগের রেকর্ডের চেয়েও এক ফুটের বেশি। এই নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধির ফলে ইন্ডিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও পুরো লোকালয় এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।   মঙ্গলবার থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের পূর্বাঞ্চলে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডকে তলব করেছেন।   উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গভর্নর ব্রন জানান, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জরুরি সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।   এদিকে, ইন্ডিয়ানার অ্যান্ডারসন শহরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দা চার্লি সিমন্স জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাজ করে মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাড়িটি নতুন করে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় তা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজীবন অ্যান্ডারসনে বসবাস করা সিমন্স জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনোই এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি।   বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে ডেলাওয়্যার কাউন্টির ইয়র্কটাউন শহর কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা ফেসবুক ভিডিওগুলোতেও। সেখানে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে ট্রেনের লাইন ও রাস্তাঘাট ঘোলা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেমব্রিজ সিটির বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে।   এভারটন ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত ওই অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত নদীর পানি তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে।   এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়।   কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে।   শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে।   চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা
তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তিনবার আটকে গিয়েছিল এইচ-১বি ভিসা লটারিতে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী সোহান শেঠি। শেষ পর্যন্ত নিজের পেশাগত অর্জনের পক্ষে প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার নথি তৈরি এবং আইনজীবী ও অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ডলার খরচ করে তিনি ও-১ ভিসা পেতে সক্ষম হয়েছেন।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোহান যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা ও অ্যানালিটিকস খাতে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টানা তিনবার এইচ-১বি লটারিতে সুযোগ না পাওয়ায় একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে তিনি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য থাকা ও-১ ভিসার পথে এগোন।   ও-১ সাধারণ কোনো ওয়ার্ক ভিসা নয়। বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, অ্যাথলেটিকস, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য অর্জনের স্বীকৃতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এইচ-১বির মতো ও-১ ভিসায় বার্ষিক লটারি নেই। তবে আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা ও পেশাগত অর্জনের পক্ষে শক্ত প্রমাণ দেখাতে হয়।   সোহানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সেই প্রমাণ তৈরি করা। তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে পেশাগত অর্জন, কাজের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে অবস্থান প্রমাণে বিপুল পরিমাণ নথি যুক্ত করা হয়। পুরো আবেদন প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠায় পৌঁছায়। আইনগত সহায়তা ও আবেদনসংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৩ হাজার ডলার ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোহান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও-১ ভিসা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এইচ-১বি লটারিতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর ও-১ ভিসা অনুমোদন পাওয়া তাঁর জন্য বড় অর্জন। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ও-১ আবেদন তৈরির সময় তাঁর প্রমাণপত্রের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।   সোহানের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি নির্বাচনে আগের সম্পূর্ণ র‌্যান্ডম লটারির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক ওজনযুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ইউএসসিআইএস। এতে উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতার পদের আবেদনকারীরা নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেস নির্ধারিত ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজারের কোটা পূরণের মতো আবেদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ফলে এ অর্থবছরে আর দ্বিতীয় দফার লটারি হচ্ছে না।   এইচ-১বি ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে যোগ্য বিদেশি পেশাজীবীদের একটি অংশ এখন ও-১ ভিসার দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে এই ভিসা এইচ-১বির সরাসরি বিকল্প নয় এবং শুধু এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ হলেই কেউ ও-১ ভিসার যোগ্য হয়ে যান না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিজের অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত অর্জনের প্রমাণ দিতে হয়।   সোহানের ক্ষেত্রে তিনবারের এইচ-১বি ব্যর্থতা তাই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, শত শত পৃষ্ঠার প্রমাণ এবং বড় অঙ্কের খরচের পর ভিন্ন একটি ভিসা ক্যাটাগরিতে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি

পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেছেন, আবার সরকারি চাকরিতে ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। সীমিত সুযোগ আর আর্থিক সংকটের মধ্যেও গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি আশুতোষ নাথ। সেই পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি শেষ করেছেন তিনি। এবার ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষণায় যুক্ত হয়ে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করতে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি গবেষক।   আশুতোষের বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাঁর বাবা মিলন নাথ জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে পরিবার নিয়ে মানিকছড়িতে চলে গিয়েছিলেন। মা নিয়তী দেবীও সংসারের হাল ধরেছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আশুতোষ সবার ছোট। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ তৈরিতে বড় ভাই পরিতোষ নাথের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। পোশাক সেলাই করে উপার্জনের একটি বড় অংশ ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় ব্যয় করতেন তিনি।   স্কুল ও কলেজ শেষ করার পর আশুতোষ ভর্তি হন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সঙ্গে বেড়ে যায় খরচ। বই কেনা থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানকার আয় দিয়ে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছু অর্থ পাঠাতেন।   স্নাতকে পড়ার সময়ই সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন আশুতোষ। ২০১৬ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পেয়ে ঢাকায় চলে আসেন। চাকরির বেতনে সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হওয়ায় পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করতেন। দিনের চাকরির পর রাত জেগে কাজ করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন সামলেছেন তিনি।   স্নাতকে রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন সুযোগ আসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে রসায়নে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন আশুতোষ। ২০১৯ সালে সেখান থেকে ডিগ্রি শেষ করেন। এই সময়টিই তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশ হতে থাকে।   বুয়েটে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে থাকেন আশুতোষ। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে শতভাগ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে পিএইচডি করার সুযোগ পান। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেন।   ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক গ্র্যাজুয়েশন নথিতেও তাঁর পিএইচডি এবং অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে গবেষণার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল জটিল পলিহেটেরোসাইক্লিক অণু তৈরির নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন।   অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। অর্গানিক সিনথেসিস, রিঅ্যাকশন অপটিমাইজেশন, এনএমআর, এলসি এমএস, এইচপিএলসি, ক্রিস্টালোগ্রাফি, ডিএফটি ক্যালকুলেশন এবং মলিকিউলার ডকিংয়ের মতো গবেষণা পদ্ধতিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   তাঁর গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতেও জায়গা পেয়েছে। ২০২৫ সালে আশুতোষ নাথ, জন মার্ক আওয়াদ ও অধ্যাপক ওয়েই ঝাংয়ের একটি গবেষণা বেইলস্টাইন জার্নাল অব অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়। ২০২৬ সালে অর্গানিক লেটারসেও তাঁর একাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণায় জটিল রাসায়নিক কাঠামো তৈরির নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।   নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও গবেষণার অভিজ্ঞতা হয়েছে আশুতোষের। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও বোস্টন চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের সঙ্গে ছোট অণু ও প্রিসিশন ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   পিএইচডির পর এবার গবেষণার ক্ষেত্র আরও সরাসরি ওষুধ আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন আশুতোষ। চলতি আগস্টে ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের কলেজ অব ফার্মেসিতে পিএইচডি পরবর্তী গবেষক হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সেখানে সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ও ড্রাগ ডিসকভারির কাজে ব্যবহার করবেন।   নতুন গবেষণায় জৈবিকভাবে সক্রিয় ক্ষুদ্র অণুর নকশা, সংশ্লেষণ ও কার্যকারিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির সঙ্গে কম্পিউটেশনাল মডেলিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করে ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।   খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চট্টগ্রামের কম্পিউটার দোকান, সেখান থেকে ঢাকায় সরকারি অফিসের চাকরি, বুয়েটের গবেষণাগার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, আশুতোষের দীর্ঘ পথচলার নতুন গন্তব্য এখন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা। তাঁর লক্ষ্য, এমন গবেষণায় যুক্ত হওয়া যার ফল শেষ পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল
ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল

শিশুর গুরুতর আঘাত এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজারের বেশি বেবি জাম্পার ও সুইং রিকল করা হয়েছে। ফেডারেল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের এসব পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বা সিপিএসসি জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ট্যালেকো গিয়ারের প্রায় ৪১ হাজার ১০০টি বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার ও সুইং।   সিপিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের সময় এসব পণ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে যেতে পারে। এতে শিশুর পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুলন্ত রেস্ট্রেইন্ট স্ট্র্যাপ এবং সিটের খোলা অংশ শিশুর গলায় আটকে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   ইতোমধ্যে এসব পণ্য নিয়ে ৫২টি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩২টি ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। আঘাতের মধ্যে মাথায় আঘাত এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের ঘটনাও রয়েছে।   রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলো জি ট্যালেকো গিয়ার ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইংয়ের একাধিক মডেল রয়েছে। পণ্যগুলো কালো, সাদা, ধূসর, গোলাপি, নীল ও সবুজ রঙে বিক্রি হয়েছে।   রিকল হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে Jumper-01 মডেলের বেবি জাম্পার, Swing-1 মডেলের বেবি সুইং এবং Jumper-01 মডেল নম্বরযুক্ত দুই ধরনের টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইং। ফলে বাসায় এ ধরনের পণ্য থাকলে অভিভাবকদের মডেল নম্বর মিলিয়ে দেখা জরুরি।   ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালেকো গিয়ারের নিজস্ব অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবারের কাছে এসব পণ্য থাকতে পারে।   ট্যালেকো গিয়ার গ্রাহকদের রিকল হওয়া পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ফুল রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রিফান্ড পেতে পণ্যটি নষ্ট করে তার ছবি কোম্পানির কাছে জমা দিতে হবে।   বিশেষ করে যেসব পরিবার কয়েক বছর আগে বেবি জাম্পার বা সুইং কিনে এখন ছোট সন্তান, আত্মীয়ের শিশু কিংবা অন্য কারও জন্য সেটি ব্যবহার করছেন, তাদেরও মডেল নম্বর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর বিক্রি শুরু হয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে।   রিকল মানেই প্রতিটি পণ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলে এমন নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যবহারের সময় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রিকলের আওতায় থাকা পণ্য ব্যবহার চালিয়ে না গিয়ে সিপিএসসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০