যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বা ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়া, বৈধ অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় একজন ভিজিটরের জন্য যে সময়সীমা অনুমোদন করা হয়, সেই সময়সীমা অতিক্রম করলেই তাকে ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বহাল থাকলেও আই-৯৪ রেকর্ডে নির্ধারিত থাকার সময় শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮০ দিনের কম সময় ওভারস্টে করলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। তবে কেউ যদি ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় অবৈধভাবে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। আর এক বছরের বেশি সময় ওভারস্টে করলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের কারণে ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভিজিট ভিসায় অবস্থানকারীদের জন্য নতুন কোনো অভিবাসন সুবিধা বা বৈধতার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অভিবাসন ফোরাম এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, ওভারস্টে সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে আবেদন মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, যারা বর্তমানে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন কিংবা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ওভারস্টে-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেও তার নিকটাত্মীয়, যেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তান দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ছাড় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, অতীতে যারা ওভারস্টে করেছেন বা বর্তমানে ওভারস্টের অবস্থায় রয়েছেন, তারা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। খায়রুল বাশার আরও বলেন, যারা ওভারস্টে করে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। তাই কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টে না করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে চাইলে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অনেকেই সামান্য ফি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেরাই আবেদনপত্র জমা দেন। পরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় আবেদন অনুমোদিত হয় না এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই কোনো আবেদন করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, ওভারস্টে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন ও নীতিমালায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসায় আবেদনকারী ও অপেক্ষমাণদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তবে যারা বর্তমানে কোনো বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের উচিত নিজেদের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনজীবীর পরামর্শে অন্তত একটি বৈধ আবেদন দাখিল করা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বহু বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ দেশটিতে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। মার্কিন সেনসাস ব্যুরো, পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে মেক্সিকো থেকে। কয়েক দশক ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। অর্থনৈতিক সুযোগ, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে লাখো মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। গবেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটিরও বেশি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী বসবাস করছেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে তাদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা ও ব্যবসাখাতে মেক্সিকান অভিবাসীদের বড় অবদান রয়েছে। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত দুই দশকে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণাখাতে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। বর্তমানে ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির অন্যতম উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণাখাতে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে শক্তিশালী চীনা কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া ফিলিপাইন, এল সালভাদর, ভিয়েতনাম, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, গুয়াতেমালা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। অভিবাসন গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতেন, এখন সেখানে এশিয়ার দেশগুলোর দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিবাসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখের মধ্যে। সংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০টি অভিবাসী উৎস দেশের মধ্যে অবস্থান করে। যদিও মেক্সিকো, ভারত বা চীনের তুলনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার এখনো তুলনামূলক ছোট, তবে গত এক দশকে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের বসবাস দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, শিক্ষাভিসা, কর্মভিসা এবং বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কঠোর নীতির আলোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য দেশটিতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৩৫ বছর বসবাসের পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আটক ওই নারী মীনু বাত্রা (৫৩) বর্তমানে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ টেক্সাসের হারলিনজেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে আইসিই। বর্তমানে তিনি রেমন্ডভিলের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন। মীনু বাত্রা পেশায় একজন লাইসেন্সধারী দোভাষী। পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার দোভাষী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আদালতে কাজ করে আসছিলেন। মিলওয়াকিতে আদালতের একটি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়। কারাগার থেকে দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীনু অভিযোগ করেন, তাকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা আমাকে খাবার ও পানি ছাড়া রাখা হয়েছিল, এমনকি জরুরি ওষুধও দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের কথা বলা হয়, যা তিনি চরম অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় বাবা-মাকে হারানোর পর ১৯৯১ সালে শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মীনু। দক্ষিণ টেক্সাসে বসবাস করে তিনি চার সন্তানকে বড় করেছেন। তাঁর এক ছেলে বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। মীনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া জানান, ২০০০ সালে একটি অভিবাসন আদালত তাকে ভারতে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। আইনজীবীর আশঙ্কা, তার অভিবাসন মামলাটি পুনরায় চালু না হওয়ায় তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি দেশের সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণসংক্রান্ত চুক্তিও করেছে। বর্তমানে মীনু একটি হ্যাবিয়াস কর্পাস আবেদন করে তার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তবে আটক হওয়ার এক মাস পার হলেও এখনো তাকে কোথায় পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে সহযোগিতা না করলে তথাকথিত ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’গুলোর প্রধান বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাস্টমস প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নর্থ ক্যারোলিনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, কোনো শহর যদি ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেই শহরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মুলিন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিচার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, স্যাংচুয়ারি সিটির মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেনভার, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউয়ার্ক। এসব শহরের বিমানবন্দরগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে নিউইয়র্কের তিনটি বড় বিমানবন্দর দিয়েই বছরে পাঁচ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল করে, ফলে সেখানে প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ হলে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এদিকে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে বাধা তৈরি হলে এই বৈশ্বিক আসরের আয়োজনেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, কংগ্রেসে অর্থায়ন নিয়ে চলমান অচলাবস্থার কারণেও এই বিকল্পটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান জোরদার করতে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির প্রেক্ষাপটেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুলিন দাবি করেন, স্যাংচুয়ারি সিটিগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগে অনীহা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী এবং তা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) এখন অভিবাসীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির সরবরাহ করা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে অন্তত ৮০০-র বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশাল অভিযান চালানো হয়। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, টিএসএ প্রায় ৩১,০০০ যাত্রীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য আইস-এর কাছে হস্তান্তর করেছে, যা ইতিপূর্বে কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ২০০৭ সালে মূলত সন্ত্রাসবাদ রুখতে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ‘সিকিউর ফ্লাইট প্রোগ্রাম’ (Secure Flight Program) চালু করেছিল টিএসএ। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থাকে এখন সাধারণ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টিএসএ-র পাঠানো তথ্যের মধ্যে ছিল যাত্রীদের নাম, জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নম্বর এবং ভ্রমণের বিস্তারিত সময়সূচী। এর ফলে আইস এজেন্টরা খুব সহজেই জানতে পারছেন কোন অভিবাসী কখন কোন বিমানে ভ্রমণ করছেন, যা তাদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। যদিও ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে টিএসএ দাবি করেছে তারা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ‘দক্ষ’ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তৈরি ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা লাইনের ভিড় কমাতে এবং আইন প্রয়োগে সহায়তার জন্য ১৪টি প্রধান বিমানবন্দরে আইস এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে রয়টার্সের এই নতুন তথ্য প্রমাণ করছে যে, শুধু প্রকাশ্য মোতায়েনই নয়, বরং পর্দার আড়ালে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমেও বড় আকারের ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার লটারি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যারা এই লটারিতে মনোনীত হতে পারেননি বা সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার এবং থাকার জন্য আরও অন্তত আটটি বিকল্প ভিসার পথ খোলা রয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই বিকল্প সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে: ১. ও-১ (O-1) ভিসা: অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি যাদের বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা খেলাধুলায় অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে, তারা ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার জন্য কোনো বার্ষিক সীমা বা লটারি পদ্ধতি নেই। ২. এল-১ (L-1) ভিসা: আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বদলি যদি কেউ কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত থাকেন যার শাখা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তবে তিনি এল-১ ভিসার মাধ্যমে বদলি হয়ে সে দেশে যেতে পারেন। এটি মূলত ম্যানেজার বা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য। ৩. ই-২ (E-2) ইনভেস্টর ভিসা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে এমন দেশের নাগরিকরা (যেমন বাংলাদেশ) নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এই ভিসা পেতে পারেন। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি একটি কার্যকর পথ। ৪. টিএন (TN) ভিসা: উত্তর আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এটি মূলত কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা নাফটা (NAFTA) চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পান। ৫. এইচ-১বি১ (H-1B1) ভিসা: এটি এইচ-১বি ভিসার একটি বিশেষ সংস্করণ যা কেবল চিলি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত। ৬. ই-৩ (E-3) ভিসা: এই বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসাটি শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত পেশায় কাজ করতে চান। ৭. ইবি-১ (EB-1) গ্রিন কার্ড : যাদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে বা যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সরাসরি গ্রিন কার্ডের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। ৮. ক্যাপিট-এক্সেম্পট (Cap-Exempt) এইচ-১বি : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বা সরকারি গবেষণা সংস্থায় কাজের ক্ষেত্রে লটারির প্রয়োজন হয় না। একে 'ক্যাপ-এক্সেম্পট' বলা হয়, যা সারা বছরই আবেদন করা সম্ভব। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ-১বি লটারিতে নাম না আসা মানেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে উপরের যে কোনো একটি পথ বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে প্রতিটি ভিসার নিজস্ব শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।