কেনিয়ায় মার্কিন ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, গুলিতে নিহত ১
মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর নানইউকিতে ব্যাপক বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ও বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার শত শত মানুষ নানইউকিতে রাস্তায় নেমে প্রস্তাবিত ৫০ শয্যার ওই কোয়ারেন্টাইন ইউনিটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার ইবোলা ঝুঁকি নিজেদের দেশে না রেখে কেনিয়ার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে সংঘর্ষ তীব্র হলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বেসরকারি সংস্থা ভোকাল আফ্রিকা জানায়, পুলিশের গুলিতে একজন ব্যক্তির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় এর আগে হওয়া বিক্ষোভেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, নানইউকির একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে এই কোয়ারেন্টাইন ইউনিট স্থাপন করা হবে। সেখানে ইবোলা ভাইরাসে সংস্পর্শে আসা কিন্তু উপসর্গবিহীন মার্কিন নাগরিকদের রাখা হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি নিয়ে স্বচ্ছ তথ্যের অভাব রয়েছে এবং সরকার জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করেনি।
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় মার্কিন সামরিক পরিবহন ও সরঞ্জাম প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি ইবোলার বিরল বুন্ডিবুগিও ধরন ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই ধরনের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই বলে জানানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় চিকিৎসক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, প্রকল্পটি সম্পর্কে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সরকারি পর্যায়ে তথ্যের অভাব জনগণের মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি করেছে। তাদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন কোনো বড় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল। সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন। এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান। রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে। মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির
সিলিকন পুতুলের মতো চেহারা, কোরীয় রিয়েলিটি শো তারকার ত্বক নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা
জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়। ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না। অপরচুনিটি কার্ড কী জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে। জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বাইশ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন গ্রিসের এক নারী
আমেরিকা মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের শত্রু বানাতে চায়: পেজেশকিয়ান
ইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরির দাবি তেহরানের
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি যাত্রীবাহী ফেরির সন্ধান পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ২টার দিকে ফেরিটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল। এ সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফেরিটি বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধার অভিযানে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ আরোহীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও ফেরিতে থাকা বাকি আরোহীদের সবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। তবে দেশটিতে নৌপথে দুর্ঘটনার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে। বৈরী আবহাওয়া, নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো বিষয় এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে বড় কোনো ফেরি দুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমান ঘটনায় দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ফেরিটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন হবে। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ আরোহীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ ও ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: বিবিসি, আরটিভি অনলাইন।
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা
অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক