গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচয়হীন করে তোলার অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি 'কাউন্টার কারেন্টস'-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ভোটার তালিকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম মুছে ফেলা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধের লেখক একে 'Identity Erasure' বা পরিচয় মুছে ফেলার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারানো। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল ভোট দেওয়ার অধিকারই হারাচ্ছেন না, বরং রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতেই পরবাসী করে তুলছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে অনেক সময় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। তথাকথিত 'ডি-ভোটার' (Doubtful Voter) বা 'সন্দেহভাজন ভোটার' তকমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আইনি লড়াইয়ের গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন কোনো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে এবং উগ্রবাদের পথ প্রশস্ত করে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের শাসন নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের মাধ্যমে যে প্রান্তিকীকরণের খেলা শুরু হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা না গেলে প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যাবে। তথ্যসূত্র: কাউন্টার কারেন্টস ডট অর্গ।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই মুহূর্তে ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। কাতারভিত্তিক দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এক বিশ্লেষণে এ দাবি করেছেন। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের তীব্র বোমা হামলার পরও ইরানি প্রশাসন, তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এমনকি ইরানের অর্ধেকের বেশি মিসাইল লঞ্চার এখনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন আলোচনায় ইরান তাদের অর্থনৈতিক দাবিগুলো আদায়ে এই অবস্থানকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেসোপটেমিয়া কিংবা প্রাচীন মিশরের মতো সমসাময়িক সব বড় সভ্যতা যখন কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে, তখনও স্বমহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইরান। গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে মঙ্গোল বীর চেঙ্গিস খান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিধ্বংসী সব হামলা ধেয়ে এসেছে এই ভূখণ্ডের দিকে। এমনকি বর্তমান সময়ের পরাশক্তি আমেরিকার পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন গোটা ইরানি সভ্যতাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দেন, তখনও বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি তেহরান। ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য সভ্যতার টিকে থাকার মূলে রয়েছে তাদের সুগভীর সাংস্কৃতিক শিকড় এবং জাতীয় ঐক্য। আক্রমণকারীরা বারেবারে তাদের মাটি দখল করলেও, পারস্যের সংস্কৃতিকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি; বরং উল্টো আক্রমণকারীরাই একসময় ইরানি ঐতিহ্যে মিশে যেতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেও, ইরান আবারও প্রমাণ করেছে যে সাত হাজার বছরের এই সুপ্রাচীন ইতিহাস কোনো সাময়িক সামরিক শক্তির কাছে মাথা নত করার নয়। আধুনিক সমরাস্ত্র আর ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখেও নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা আজ সারা বিশ্বের কাছে এক পরম বিস্ময়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে। কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি ‘ভঙ্গুর শান্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী রূপ দিতে তিনি ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের আমন্ত্রণে বুদাপেস্ট সফরে রয়েছেন ভ্যান্স। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “ইরানিরা যদি আমাদের সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়, তবেই একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।” তবে তেহরানকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যে কষ্টার্জিত ও নাজুক শান্তি স্থাপন করেছি, তারা যদি তাতে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তার পরিণাম তাদের জন্য মোটেও সুখকর হবে না।” এদিকে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক ইতিবাচক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, সব বিরোধের চূড়ান্ত ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাবে পাকিস্তান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, শুক্রবারের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং জেডি ভ্যান্স। তবে এই সফরের বিষয়ে ওয়াশিংটন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়নি। বিশ্ব রাজনীতিতে এই বৈঠকটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনী পাসের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি আইনিভাবে চূড়ান্ত হলো। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে দলটির সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইনি বৈধতা অব্যাহত রইল। এদিন সংসদে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সেগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিসিবিতে কোনো ধরনের ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়নি। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ-এর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এর আগে সংসদে নিজের বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, “বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।” তিনি ওইদিন বিকেলে সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬’ উত্থাপনের প্রস্তাবে আপত্তি জানাতে গিয়ে বিসিবির পরিচালনা কাঠামো নিয়ে এই সমালোচনা করেন। এমন প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিযোগটি নাকচ করে বলেন, বোর্ড পরিচালনায় কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক বা অনিয়মের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
নেপালে জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধি বালেন্দ্র শাহ যখন প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে ইতিহাস গড়ছেন, তখন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের কারিগর তরুণ সমাজ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে গিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের তরুণদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল কেন এতটা আলাদা হলো, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্দোলনের আবেগ ও নির্বাচনী কৌশলের পার্থক্য ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশে তরুণরা অসাধ্য সাধন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটালেও, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তারা নেপালের মতো গতি পায়নি। নেপালে মাত্র চার বছর বয়সী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণ নেতারা শুধু রাজপথের আবেগের ওপর নির্ভর না করে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। কেন পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্ব? ১. সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জোটের রাজনীতি: নেপালে আরএসপি একটি বিস্তৃত দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের এনসিপি রক্ষণশীল শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় অনেক উদারমনা ও তরুণ ভোটারদের আস্থা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। ২. সময়ের ব্যবধান: নেপালে আন্দোলনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় নির্বাচন হওয়ায় জনজোয়ারকে ভোটে রূপান্তর করা সহজ ছিল। বাংলাদেশে এই ব্যবধান ছিল প্রায় দেড় বছর, যা আন্দোলনের তীব্রতায় কিছুটা ভাটা ফেলে থাকতে পারে। ৩. প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রভাব: বাংলাদেশে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিশালী বিরোধী দলগুলো তরুণদের আন্দোলনের ফসল নিজেদের অনুকূলে নিতে বেশি সক্ষম হয়েছে। নেপালের সাফল্যের মূলমন্ত্র নেপালের জেন-জি রাজনীতিকরা বলছেন, তাদের সাফল্যের প্রধান কারণ ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান। সাবেক র্যাপার বালেন্দ্র শাহ ও আরএসপির জোট তরুণ ভোটারদের কাছে এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। তারা রাজপথের আন্দোলনকে সফলভাবে পার্লামেন্টের এজেন্ডায় রূপান্তর করতে পেরেছে। ভবিষ্যতের হাতছানি: জেনারেশন আলফা কি হাল ধরবে? বাংলাদেশে বর্তমানে এক ধরনের রাজনৈতিক হতাশা বিরাজ করছে। অনেক প্রতিভাবান তরুণ দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন। তবে আন্দোলনকারীরা দমে যেতে রাজি নন। এনসিপি নেতা রাহাত হোসেনের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, উমামা ফাতেমার মতো সক্রিয় কর্মীরা মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের অসমাপ্ত কাজ হয়তো আগামীতে 'জেনারেশন আলফা' সম্পন্ন করবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক অভিনব ‘ডিপ্লোম্যাটিক ট্রোলিং’ বা কূটনৈতিক বিদ্রূপে মেতেছে তেহরান। সম্প্রতি বুলগেরিয়াস্থ ইরান দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ রাজনৈতিক কার্টুন শেয়ার করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেয়ার করা কার্টুনটিতে দেখা যায়, ইরানের মানচিত্রটি একটি বিশাল শক্তিশালী হাতের রূপ নিয়েছে, যা পারস্য উপসাগরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শক্তভাবে চেপে ধরে আছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতীকি চিত্রের মাধ্যমে ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে তাদের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সক্ষমতার কড়া বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে অস্থিরতা দানা বাঁধছে, তখন ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এমন সরাসরি বিদ্রূপ ইরানের রণকৌশলগত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই ‘ডিজিটাল লড়াই’ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
দুই শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরবঙ্গের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘অনলাইন ক্যাপ্টেন’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। সংক্ষিপ্ত হলেও পোস্টটি ঘিরে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া একটি কটাক্ষ। এদিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্য দেন বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ‘ক্যাপ্টেন’ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ‘ট্রফি’ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, মীর শাহে আলমের এই বক্তব্যকে ঘিরেই পরোক্ষভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘অনলাইন ক্যাপটেইন’ মন্তব্যটি করেছেন সারজিস আলম। যদিও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংক্ষিপ্ত এই পোস্টটি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনের চলমান উত্তাপকে আরও উসকে দিচ্ছে।
ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা দেশটির সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে অবিলম্বে অপসারণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যারিজোনার কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারী এই দাবিতে সর্বশেষ যুক্ত হয়ে বলেন, "ট্রাম্প একটি বিধ্বংসী ও অবৈধ যুদ্ধ উসকে দিচ্ছেন এবং ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার বক্তব্য সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।" এর আগে মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ট্রাম্পকে 'উন্মাদ' আখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত পদচ্যুত করার দাবি জানান। নিউ মেক্সিকোর মেলানি স্ট্যানসবারি এবং ইলিনয়ের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জো ওয়ালশও একই সুরে কথা বলেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং তিনি আরও হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারেন। মূলত মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, যদি প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অনুপযুক্ত হন, তবে মন্ত্রিসভা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মিলে তাকে সরিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত এই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তারা লিখিতভাবে সেটি কংগ্রেসকে জানাতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট' হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধাক্কা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ, অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও অন্যান্য নীতি-প্রয়োগ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি অসন্তুষ্টি ও অনুশোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের সাম্প্রতিক YouGov জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৩৮ শতাংশ ভোটার এখন তার ওপর আগের মতো ভরসা রাখতে পারছেন না। কমলা হ্যারিসের ভোটারদের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ। জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ‘শ্রমজীবী শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের’ মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ৬৩ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা এখন ট্রাম্পের নীতি ও কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৪৫%), মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা (৩৯%), অর্থনৈতিক নীতি (৩০%) এবং ইরান নীতি (২৮%)–এর কারণে ভোটাররা তার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটারদের অনুশোচনা স্পষ্ট করে, ৫ শতাংশ সরাসরি বলেছেন যে তারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন। ১৬ শতাংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে পুনরায় নির্বাচনে ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী এবং হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এই অনুশোচনার হার যথাক্রমে ১৭% ও ১৬%। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ভোটারদের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং অসন্তুষ্টি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী বা পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পাম বন্ডির নাটকীয় বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এক নজিরবিহীন ও অবমাননাকর ঘটনা সামনে এসেছে। দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খোদ বিচার বিভাগের ভেতরে একটি ডাস্টবিনে তার ফ্রেমবন্দি ছবি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও সমালোচনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় পাম বন্ডিকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এই ঘটনার পরদিন শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড (TMZ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিচার বিভাগের করিডোরে রাখা একটি ময়লার ঝুড়িতে বন্ডির বাঁধাই করা ছবিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার ছবি এভাবে ডাস্টবিনে কে বা কারা ফেলল, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। পাম বন্ডির ১৪ মাসের দায়িত্বকাল শুরু থেকেই ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। বিশেষ করে কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন মামলার নথি প্রকাশে অস্বচ্ছতার অভিযোগে তিনি শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিলেন। এছাড়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচার বিভাগে গণহারে বরখাস্তের ঘটনায় খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতরেই তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায়লগ্নে বন্ডিকে 'মহান দেশপ্রেমিক' বলে অভিহিত করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই বিদায় ছিল অত্যন্ত তিক্ত। ডাস্টবিনে ছবি পাওয়ার ঘটনাটি বিচার বিভাগের কর্মীদের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ডির পদত্যাগের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির সামনে বন্ডির হাজির হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তাল মার্কিন রাজনীতি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনে। অভিজ্ঞ জেনারেলদের একের পর এক বরখাস্তের পেছনে ইরান নিয়ে হেগসেথের 'অবাস্তব' পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের অভিজ্ঞ জেনারেলরা সম্ভবত হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে— ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনা একেবারেই 'অকার্যকর' এবং 'বিপজ্জনক'। আর এই সত্য বলার কারণেই এখন কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ঝানু সামরিক কর্মকর্তাদের। মারফির মতে, হেগসেথ এমন এক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন যার বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিজ্ঞ জেনারেলরা যখনই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন, তখনই তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে এই 'শুদ্ধি অভিযান'। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার দেশটির সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী এই সেনাপ্রধানের কর্তৃত্বই রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সুসংহত হলো। রাজধানী নেপিডোয় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ৫৬৬ সদস্যের মধ্যে ৪২৯ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং। উল্লেখ্য, গত সোমবারই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, কোনো চাকুরীরত সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না—আর সেই আইনি বাধা দূর করতেই তার এই পদত্যাগ। এই নির্বাচনে জান্তা প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক জেনারেল নিও সও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কায়িন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নান নি নি আয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্বাচনটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। জান্তা সরকার আয়োজিত গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট ইউএসডিপি (USDP) দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পার্লামেন্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসনই এখন জান্তা সমর্থিত ও অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধিদের দখলে। ফলে বিরোধী দল এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াকে একটি 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এবং তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো বন্দি রয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (NLD) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জান্তা। আগামী সপ্তাহেই নতুন প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। টোকিও’র আকাসাকা প্রাসাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বিশ্বনেতা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাপান সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও জাপান উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুকতা তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের দ্রুত প্রশমন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিবেশে ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গভীর হওয়া অত্যন্ত অর্থবহ। দুই নেতাই মনে করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews