আমেরিকা

মর্কিন সেনার শীর্ষ তিন জেনারেল ছাঁটাই, হেগসেথের পরিকল্পনা নিয়ে পেন্টাগনে চরম অস্থিরতা!

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১:০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনে। অভিজ্ঞ জেনারেলদের একের পর এক বরখাস্তের পেছনে ইরান নিয়ে হেগসেথের 'অবাস্তব' পরিকল্পনাকে দায়ী করছেন দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকরা। 


মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্য সিনেটর ক্রিস মারফি এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের অভিজ্ঞ জেনারেলরা সম্ভবত হেগসেথকে সতর্ক করেছিলেন যে— ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ পরিকল্পনা একেবারেই 'অকার্যকর' এবং 'বিপজ্জনক'। আর এই সত্য বলার কারণেই এখন কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে ঝানু সামরিক কর্মকর্তাদের।


মারফির মতে, হেগসেথ এমন এক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছেন যার বাস্তব ভিত্তি নেই। অভিজ্ঞ জেনারেলরা যখনই যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন, তখনই তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 


একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে এই 'শুদ্ধি অভিযান'। সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এভাবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেরিয়াম খান, কানেকটিকাটের স্টেট হাউসের পর এবার স্টেট সিনেটের পথে | ছবি: সংগৃহীত
কানেকটিকাটের স্টেট হাউসের পর এবার সিনেটের পথে মেরিয়াম খান, জিতলে গড়বেন নতুন ইতিহাস

কানেকটিকাটের স্টেট সিনেট নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মুসলিম নারী রাজনীতিক মেরিয়াম খানের সামনে। ১১ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে জয়ী হলে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হবেন।   প্রাইমারিতে খান ৩ হাজার ৫২১ ভোট পেয়ে বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরিকে পরাজিত করেন। উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পান ২ হাজার ৮৭৪ ভোট এবং ম্যাকক্রোরি পান ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এর মধ্য দিয়ে খান তার নিজ দলের প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের অংশ রয়েছে।   মেরিয়াম খান এর আগে কখনো স্টেট সিনেটর ছিলেন না। তিনি ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। ওই জয়ের মাধ্যমে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম হিসেবে স্টেট হাউসে নির্বাচিত হন এবং প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও ইতিহাস তৈরি করেন। পরে তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে এবং ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন।   তবে মেরিয়াম খান কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা নন এবং স্টেট সিনেটেও তিনি প্রথম মুসলিম প্রার্থী নন। তার আগে ডেমোক্র্যাট সৌদ আনোয়ার ২০১৯ সালে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে ৩য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিত।   সুতরাং মেরিয়াম খানের সম্ভাব্য ইতিহাসটি হবে ভিন্ন। নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হবেন। অর্থাৎ স্টেট হাউসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার রাজ্যের সিনেটে মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ রয়েছে তার।   মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলার সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও জড়িত। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে স্টেট হাউসে তিনি ডেপুটি মেজরিটি লিডার এবং স্পেশাল এডুকেশন সিলেক্ট কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   অন্যদিকে, ২য় সিনেট ডিস্ট্রিক্টে তার প্রাইমারি জয় আসে বর্তমান সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে। ম্যাকক্রোরি ২০১৭ সালে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার এই সিনেট আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৬ সালের প্রাইমারির আগে তিনি দলীয় মনোনয়ন হারিয়েছিলেন এবং মেরিয়াম খান দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন।   মেরিয়াম খানের জন্য এখন মূল লক্ষ্য নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে জয় পেলে স্টেট হাউস থেকে স্টেট সিনেটে তার রাজনৈতিক যাত্রা এগিয়ে যাবে এবং একই সঙ্গে কানেকটিকাটের মুসলিম নারী প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১২:৩৫
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহ থেকে অঙ্গ চুরি করে বিক্রির ঘটনায় বড় অঙ্কের সমঝোতায় যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় দান করা মরদেহ কালোবাজারে বিক্রি! ৫৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

অ্যারিজোনার ফিনিক্সে একটি পার্কে সংঘর্ষে হামলায় নিহত হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তুমুসিফু বাজিরাকে। ছবি: সংগৃহীত

ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ফুটবল মাঠে গণপিটুনি! প্রাণ গেল ১৯ বছরের তরুণের

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসি প্রেসিডেন্টের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আলাস্কার ইউএস সিনেট প্রাইমারিতে বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে (বামে) পেছনে ফেলে বড় চমক দেখিয়েছেন মেরি পেল্টোলা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
আলাস্কায় দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে সুলিভানকে পেছনে ফেললেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা

আলাস্কার ২০২৬ সালের ইউএস সিনেট নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সাবেক কংগ্রেসওম্যান মেরি পেল্টোলা। মঙ্গলবারের দলনিরপেক্ষ সিনেট প্রাইমারিতে রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভানকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আলাস্কার এই নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীরা একই ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং শীর্ষ চার প্রার্থী নভেম্বরের নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ পান।   প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গণনার সময় পেল্টোলা ৪৮ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভান পেয়েছেন প্রায় ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তবে প্রাথমিক ফল এখনো আনঅফিশিয়াল এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। আলাস্কা ডিভিশন অব ইলেকশনসের সূচি অনুযায়ী, অনুপস্থিত, আগাম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যালটের গণনা পরবর্তী দিনগুলোতেও চলবে এবং ৩১ আগস্টের মধ্যে ফলাফল সার্টিফাই করার লক্ষ্য রয়েছে।    এই প্রাইমারিতে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দলনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় প্রার্থীদের জন্য আলাদা রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি হয়নি। ভোটের ফল অনুযায়ী শীর্ষ চারজন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।    পেল্টোলা ও সুলিভান দুজনই নভেম্বরের নির্বাচনে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে একই নামের আরেক প্রার্থী ড্যানিয়েল জে. সুলিভানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তদন্ত করছে। তবে তদন্ত চলমান থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বা অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হবে।    নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আলাস্কায় র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ ভোটাররা প্রার্থীদের পছন্দের ক্রমে র‍্যাঙ্ক করতে পারবেন। প্রথম পছন্দের ভোট গণনার পর কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থী বাদ পড়বেন এবং তার ভোট পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন হবে। এভাবে একজন প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভোট গণনা চলবে।    মেরি পেল্টোলা ২০২২ সালে আলাস্কার ইউএস হাউস আসনের বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। তিনি ছিলেন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আলাস্কা নেটিভ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি হাউস আসনটি ধরে রাখতে পারেননি। এবার তিনি রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে সিনেটের আসন দখলের লড়াইয়ে নেমেছেন।    নভেম্বরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই জাতীয়ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যার ব্যবধান খুব বেশি না থাকায় আলাস্কার এই আসনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আগস্টের প্রাইমারি ফলকে নভেম্বরের চূড়ান্ত ফলের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যাবে না। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১১:৯
বিমানশিল্পে কর্মীর সংকট দূর করতে মেট্রো আটলান্টার বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পাইলট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পাইলট সংকট কাটাতে আটলান্টার স্কুলে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ

রোগীদের চিকিৎসা নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে হিউস্টনের সাবেক ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসক ডা. জন স্টিভেনসন বাইনন জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ঠেকানোর অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা

গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব

পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত
আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের

প্রতিদিন হাজার হাজার ফুট ওপরে কাজ করা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের জন্য সামনে এসেছে উদ্বেগজনক এক গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েক ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পাইলটরা। এমনকি নিয়মিত তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করা কিছু পেশার কর্মীদের তুলনায়ও তাদের হার বেশি পাওয়া গেছে।   হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের নেতৃত্বে করা গবেষণাটি ১৭ আগস্ট জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস সিস্টেমের ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের এক কোটি ২০ লাখের বেশি ডেথ সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ করা হয়েছে এতে।   গবেষণায় পাঁচ শতাধিক পেশার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে মৃত্যুর সম্পর্ক তুলনা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট এবং সাত হাজারের বেশি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মৃত্যুর তথ্য ছিল।   ফলাফলে দেখা যায়, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মোট মৃত্যুর প্রায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পাইলটদের মৃত্যুর প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এমন ক্যানসারে, যেগুলোকে গবেষণায় রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সাধারণ কর্মজীবী জনগোষ্ঠীতে এই হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।   গবেষকেরা স্তন ক্যানসার, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ক্যানসার, মাল্টিপল মায়েলোমা, নির্দিষ্ট ধরনের লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমা, থাইরয়েড ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, মেলানোমা এবং নন-মেলানোমা স্কিন ক্যানসারকে বিশ্লেষণের আওতায় রেখেছিলেন।   পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট উভয়ের মধ্যেই স্তন, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ও প্রোস্টেট ক্যানসার এবং মেলানোমায় মৃত্যুর হার পরিসংখ্যানগতভাবে বেশি পাওয়া গেছে। পাইলটদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়ায় মৃত্যুর হারও বেশি ছিল।   আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদান নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারপরও রেডিয়েশনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও পাইলটরা তাদের ওপরে অবস্থান করেছেন। নিউক্লিয়ার টেকনোলজিস্টরা এই তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিলেন বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।   কিন্তু বিমানকর্মীদের ক্ষেত্রে রেডিয়েশন আসে কোথা থেকে? মূল কারণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে কসমিক আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। মহাকাশ ও সূর্য থেকে আসা উচ্চশক্তির কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ভূপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলের পুরু স্তর মানুষের জন্য অনেকটা প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বাণিজ্যিক বিমান যখন প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে, তখন সেই সুরক্ষা অনেকটাই কমে যায়।   ফলে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ভূপৃষ্ঠে থাকা মানুষের তুলনায় বেশি কসমিক রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসেন। এটি একবারের কোনো বড় রেডিয়েশন ডোজ নয়। বরং বছরের পর বছর নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার কারণে অল্প অল্প করে জমতে থাকা এক্সপোজার নিয়েই গবেষকদের উদ্বেগ।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও দীর্ঘদিন ধরে স্বীকার করে আসছে যে ফ্লাইট ক্রুরা পেশাগতভাবে আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসেন। আগের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট ক্রুদের বছরে গড়ে প্রায় ৩ মিলিসিভার্ট কার্যকর রেডিয়েশন ডোজ পাওয়ার হিসাবও উঠে এসেছে।   তবে নতুন গবেষণার ফলাফলকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যে রেডিয়েশনই প্রত্যেক পাইলট বা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের ক্যানসারের সরাসরি কারণ। গবেষকেরা ব্যক্তিভিত্তিক রেডিয়েশন এক্সপোজারের মাত্রা পরিমাপ করেননি। ডেথ সার্টিফিকেটের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পেশার মধ্যে মৃত্যুর ধরন তুলনা করা হয়েছে।   এ ছাড়া ফ্লাইট ক্রুদের কর্মজীবনে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যা ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। রাতের শিফট, বারবার টাইম জোন পরিবর্তন, শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদমে ব্যাঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত চাপও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গবেষণায় আলোচিত হয়েছে।   আগের গবেষণাগুলোতেও পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের হার বেশি পাওয়া গেছে। তবে কসমিক রেডিয়েশন এবং ক্যানসারের মধ্যে সরাসরি কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নতুন গবেষণাটি মূলত ক্যানসারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পেশাভিত্তিক পার্থক্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট ক্রুদের কসমিক রেডিয়েশন এক্সপোজারের জন্য বর্তমানে অন্যান্য কিছু রেডিয়েশন কর্মীর মতো বাধ্যতামূলক ফেডারেল ডোজ সীমা বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়মিত রেডিয়েশন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই।   গবেষকেরা মনে করছেন, নতুন ফলাফল বিমানকর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি রেডিয়েশন এক্সপোজার পর্যবেক্ষণ, কর্মীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   একই সঙ্গে সাধারণ বিমানযাত্রীদের জন্য গবেষণাটিকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখছেন না গবেষকেরা। পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা বছরের পর বছর কর্মজীবনের বড় একটি অংশ আকাশে কাটান। সাধারণ যাত্রীর কয়েক ঘণ্টার বিমান ভ্রমণের সঙ্গে সেই দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত এক্সপোজার সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়।   নতুন গবেষণাটি তাই বিমান ভ্রমণের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছে তাদের নিয়ে, যাদের কর্মক্ষেত্রই আকাশ। প্রতিদিন যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে পর্যবেক্ষণ ও কমানো যায়, এখন সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:৪০
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন আবদুল এল সাইদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!

ভালোবাসার মানুষ ডনেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী

বর কনে বিমান থেকে লাফ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে

0 Comments