আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কারাদণ্ড

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কা’রাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানে এক নারীর কা’রাদণ্ড

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন এমন অভিযোগে এক নারীকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কানেকটিকাটের একটি ফেডারেল আদালত। কানেকটিকাটে বসবাসকারী ওই নারী বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন বলে মিথ্যা তথ্য দেন।

 

কোনো এক সময়ে বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধী নাদা রাদোভান তোমানিচ হার্টফোর্ড থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যান, কিন্তু দূরত্বও তাকে তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।


৫৩ বছর বয়সী নাদা রাদোভান তোমানিচকে বুধবার ব্রিজপোর্ট ফেডারেল আদালত আড়াই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ডেভিড সুলিভান-এর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ সালে হার্টফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তার অপরাধমূলক অতীত গোপন করেন।


অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়া যুদ্ধের সময় তোমানিচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেনাবাহিনী-এর ‘জুলফিকার স্পেশাল ইউনিট’-এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ও তার ইউনিটের অন্য সদস্যরা বসনিয়ান সার্ব বেসামরিক বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান, যার মধ্যে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।


তবে নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো আটক কেন্দ্রে কাজ করেননি বা কাউকে আটক রাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি তিনি কোনো যুদ্ধাপরাধেও জড়িত ছিলেন না বলে শপথ করে মিথ্যা তথ্য দেন।


তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) -এর কর্মকর্তার সামনে সাক্ষাৎকারের সময়ও তিনি শপথ নিয়ে এসব তথ্য অস্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।


রায় ঘোষণার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, বহু বছর পর হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার তদন্তকারীদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।


এফবিআইয়ের নিউ হ্যাভেন ফিল্ড অফিস-এর কর্মকর্তারা জানান, এই মামলাটি শুধু নাগরিকত্ব আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয় নয়; বরং তার অতীতের সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ও ছিল।


এই মামলাটি তদন্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সমন্বয় সহায়তা দেয় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ-এর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেটরস অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস সেন্টার (এইচআরভিডব্লিউসিসি) এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি (এফডিএনএস) অফিস, পাশাপাশি এফবিআই-এর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিট (আইএইচআরইউ)।


এই তদন্তে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কর্তৃপক্ষকে—বিশেষ করে তাদের বিচার মন্ত্রণালয় ও রিপাবলিকা সার্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ফৌজদারি ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট প্রক্রিয়া-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যারা তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে।


মামলাটি পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশন্স সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি এলিজাবেথ নিলসেন এবং কানেকটিকাট জেলার সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি আনাস্তাসিয়া কিং ও অ্যাঞ্জেল ক্রুল, এইচআরএসপি ইতিহাসবিদদের সহায়তায়। এছাড়া, বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও এ মামলায় সহযোগিতা করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মতো আটলান্টাতেও সস্তায় বিশ্বকাপের টিকিট চাইছেন ফুটবল ভক্তরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ফিফার সাথে একটি চুক্তি করেছেন, যার মাধ্যমে শহরটির বাসিন্দারা মাত্র ৫০ ডলারে এক হাজারটি বিশ্বকাপের টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এই খবর প্রকাশের পর আটলান্টার ফুটবল ভক্তরা মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্সের কাছেও নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য ছাড়যুক্ত টিকিটের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।   'প্লে ফেয়ার এটিএল' নামের একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে এই দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তাদের দাবি, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও আটলান্টার সাধারণ বাসিন্দাদের নিজ শহরে আয়োজিত বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকা উচিত।   সমর্থকদের মতে, যুব লিগ থেকে শুরু করে 'আটলান্টা ইউনাইটেড'-এর মতো স্থানীয় দলগুলোর কারণে শহরের বৈচিত্র্যময় 'মেল্টিং পট' বা মিশ্র সংস্কৃতি গভীরভাবে ফুটবলের সাথে যুক্ত। তাদের আশঙ্কা, টিকিটের এই অত্যধিক দাম সেইসব স্থানীয় ভক্তদের খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করবে, যারা মূলত এই খেলাকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।   বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এবং সিজন টিকিট হোল্ডার অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বকাপের বৈশ্বিক ঐক্যের বার্তার সাথে বর্তমানের এই অত্যধিক ব্যয়বহুল বা অর্থনির্ভর ব্যবস্থা পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।   এর পাশাপাশি, তারা যাতায়াত খরচের সুবিধাটিও তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটির কাছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য যেখানে দর্শকদের অনেক বেশি ট্রানজিট ভাড়া গুনতে হয়, সেখানে আটলান্টায় 'মার্টা' (MARTA) ট্রানজিট ভাড়া প্রতি যাত্রায় মাত্র আড়াই ডলার। তাই যাতায়াত সহজ হলেও টিকিটের দামই এখানে প্রধান অন্তরায়।   ভক্তদের মতে, বর্তমানে গ্যালারির ওপরের দিকের সাধারণ আসনের জন্যও গড়ে ৪০০ ডলারের বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে। এ কারণেই শহর কর্তৃপক্ষের কাছে ছাড়যুক্ত টিকিটের জন্য ফিফার সাথে আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।   'প্লে ফেয়ার এটিএল'-এর পরিচালক মাইকেল কলিন্স বলেন, নিউইয়র্ক যদি সস্তায় টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারে, তবে আটলান্টারও তা পারা উচিত; বিশেষ করে যখন এই শহরেই ইউএস সকারের জাতীয় সদর দপ্তর অবস্থিত এবং এটি বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান একটি ভেন্যু হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম—যা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে 'আটলান্টা স্টেডিয়াম' নামে পরিচিত—একটি সেমিফাইনালসহ বিশ্বকাপের মোট আটটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১৯:৪
ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা পেরিয়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় চোখের পলকে ডাকাতি, ১৫ হাজার ডলারের পোকেমন কার্ড নিয়ে চম্পট

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাবা ও পোষা কুকুরকে আগুনে পুড়িয়ে মারার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরান আমাদের বোকা বানাচ্ছে, আজই আবার হামলা চালাব: ট্রাম্প

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় আজ বুধবার আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই নতুন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, পারমাণবিক চুক্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা টেবিলে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ইরান এত দিন ধরে আমাদের বোকা বানাচ্ছে। এবার আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।" সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "যদি আপনারা টেলিভিশন সেট অন না করার কারণে রাতের ঘটনা মিস করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—আজ আমরা তাদের ওপর আবারও কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। এরপর দেখা যাবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়।"   দুই দেশের মধ্যে এই আকস্মিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির একটি ঘটনা। গত সোমবার ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (এএইচ-৬৪) বিধ্বস্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এবং এর জবাবেই মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানি রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অবশ্য দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলাটি এমনভাবে পরিমাপ বা ক্যালিব্রেট করা হয়েছিল যাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত না হয়।    ট্রাম্প বলেন, "আমাদের একটি অত্যন্ত দামি হেলিকপ্টারে তারা গুলি চালিয়েছে। এই একটি ঘটনাই আমাদের তাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য বেঁচে গেছেন।"   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মূর্তির মধ্যেও কূটনীতির পথ অবশ্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা আবার শুরু করা যায়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, "আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেবলই সময় নষ্ট করছে, আমাদের সঙ্গে টালবাহানা খেলছে। যুক্তরাষ্ট্রকে আর বোকা বানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।" আপাতত ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ২:৫৩
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের হুমকির মুখে শক্ত অবস্থানে থাকার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের

ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচিতে চাকরি পেল আটলান্টার হাজারো তরুণ

নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি | ছবি: সংগৃহীত

আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মুখে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ৪৮ ঘণ্টা: ভিসা জটিলতায় বিতর্কের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারি ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোর ভিসা পুনঃপর্যালোচনার আওতায় নেওয়া হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে সক্ষম হন। একই সময়ে ইরাক জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় আইমান হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।   ইরান জাতীয় দলকেও ভিসা পেতে দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে কয়েক দিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় দলটিকে। পরে ম্যাচের দিনগুলোতে কেবল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদলের ১৫ সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ২০২৫ সালের সেরা রেফারি নির্বাচিত সোমালিয়ার ওমর আবদুলকাদির আরতানও ভিসা পাননি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ফেরত পাঠানো হয়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, তিনি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।   দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলও ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলের সফর বিলম্বিত হয়।   এদিকে সেনেগাল জাতীয় দলের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দীর্ঘ তল্লাশির শিকার হন। তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয়। এ ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও উঠেছে।   উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   শুধু দল বা কর্মকর্তারাই নন, ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সমর্থকরাও। স্কটল্যান্ডের কিছু সমর্থক, যারা ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন, তাদের ভ্রমণ অনুমোদন যাত্রার মাত্র কয়েক দিন আগে বাতিল করা হয়।   এছাড়া অনেক সমর্থক ম্যাচের টিকিট ও আবাসন বুকিং সম্পন্ন করার পরও ভিসা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে বিশ্বকাপ ঘিরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো দর্শকের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে।   বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের মধ্যে একের পর এক ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমন্বিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:০
ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ভয়াবহ ঝড় ও উপড়ে পড়া গাছে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশ, ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড

0 Comments