সরকার

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় নতুন নিয়ম চালু নেপালে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। দেশের মজুদ তেলের সাশ্রয় করতে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে দুই দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। রবিবার কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি মুখপাত্র সসমিত পোখারেল সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় দেশ বর্তমানে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    তবে ছুটির পরিমাণ বাড়লেও কাজের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সরকারি অফিসগুলোর কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রতিদিন কাজের সময় এক ঘণ্টা করে বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নেপাল তার প্রয়োজনীয় সব জ্বালানি তেল ভারত থেকে আমদানি করে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিকৃত জ্বালানির সরবরাহ ও দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।  এরই মধ্যে নেপাল এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটন খাতের ওপর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুই দিনের ছুটির বিধান বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া তুলে দিচ্ছে সরকার

ঢাকা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে অবশেষে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ প্রত্যাহার করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের পকেটের বাড়তি খরচ কমাতে এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই জনবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, "প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ আদায় নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং একটি জনবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা গড়ে তুলতে আমরা এই মিটার চার্জ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিচ্ছি।" উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রতিটি গ্রাহককে প্রতি মাসে রিচার্জ করার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা 'মিটার ভাড়া' হিসেবে গুনতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এই টাকা কেটে নেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র আপত্তি ছিল। অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, মিটারের প্রকৃত দাম বহু আগেই উসুল হয়ে যাওয়ার পরও কেন এই বাড়তি টাকা কাটা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে মিটার ক্রয়ে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক দায়ভার সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই বোঝা সরিয়ে নিয়ে বিদ্যুৎ খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সব পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিচ্ছে সরকার

দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত নিয়মে কাজ করবেন। পাম্পের প্রতিদিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিপিসি সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেবেন। এদিকে পৃথক এক বার্তায় মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুদ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তিন মাসের ‘বাফার স্টক’ গড়ছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
১২০টি অধ্যাদেশে চূড়ান্ত সিলমোহর: আইনমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের গত কয়েক মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বুধবার (২৫ মার্চ) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনমন্ত্রী জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দেশের বিদ্যমান সংবিধান এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের 'জুলাই সনদ'-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে একমত পোষণ করেছেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে। পর্যালোচনার এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত জুলাই সনদের চেতনার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সরকারের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শ্রদ্ধার জায়গা। চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরপরই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ঈদের পর ত্রিমুখী সংকটে নতুন সরকার: অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কঠিন পরীক্ষার আভাস

দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে ঈদ পরবর্তী সময়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশের নতুন সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সব মিলিয়ে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ এখন সরকারের সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে এই মুহূর্তের প্রধান কাজ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সেচ মৌসুমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম জানিয়েছেন, অফিস-আদালত ও কলকারখানা পূর্ণোদ্যমে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থনীতির টানাপোড়েন ও রিজার্ভ সংকট বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, অন্যদিকে চড়া দামে জ্বালানি কেনা—এই দুইয়ের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এখনই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ভাবা ছাড়া উপায় থাকবে না। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সংস্কারের চাপ কেবল অর্থনীতি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হওয়ার আভাস দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে অতিরিক্ত দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নতুন করে আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার কীভাবে এই সংকট উত্তরণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
সরকারের এক মাস
বিএনপি সরকারের এক মাস, জনতুষ্টি নাকি সুশাসনের পথে যাত্রা?

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছরে উন্নয়ন হয়নি, প্রত্যাশিত দেশ গড়তে রাত-দিন কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মকভাবে দিন-রাত কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে দেশে উন্নয়ন হয়নি এবং দেশের উন্নয়নের জন্য তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি।   সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নানাবাড়ির স্মৃতির কথা উল্লেখ করে দিনাজপুর এলাকার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।   তিনি জানান, শিগগিরই দেশের শিল্প কারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে সারা দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করে কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দিনাজপুরে শিল্প কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।   তারেক রহমান বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ সারা দেশের পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি জমিতে সেচের জন্য পানির সংকট কমবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যাও কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
৫ সিটিতে নতুন প্রশাসক: সবখানেই বিএনপির শীর্ষ নেতা

দেশের আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনই রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, মাহফুজুর রহমান, রুকুনোজ্জামান রোকন, মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং মো. ইউসুফ মোল্লা।   দায়িত্বপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয়:   বরিশাল: বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন (বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিভাগ)।   রাজশাহী: মাহফুজুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি)।   ময়মনসিংহ: রুকুনোজ্জামান রোকন (সদস্যসচিব, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি)।   রংপুর: মাহফুজ উন নবী চৌধুরী (সদস্যসচিব, রংপুর মহানগর বিএনপি)।   কুমিল্লা: মো. ইউসুফ মোল্লা (সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি)।   স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ অনুযায়ী, এই প্রশাসকেরা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা ও সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি আসার আগ পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন।   উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আজকের নিয়োগসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস (এমপি)
সরকার পতনের স্বপ্ন দেখলে সতর্ক হোন: মির্জা আব্বাস

সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস (এমপি)। তিনি বলেন, সরকার মাত্র কাজ শুরু করেছে, তাই ধৈর্য ধরে তাদের সময় দেওয়া উচিত।   রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন তারা সাবধান হয়ে যান। ক্ষমতায় আসা এত সহজ নয়। যারা আসবেন তারাও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবেন না।”   তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। তাই সামান্য চাপ বা টোকায় এই দলকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি অযথা কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তবে কেউ উসকানি দিলে তার জবাব দিতে দল প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   কোটা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই চাকরি পাওয়ার আশায় ওই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতার মোহে পড়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাকারীদেরও সতর্ক করেন মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
সরকারি চাকরিজীবীরা ঈদে উপভোগ করতে পারেন টানা ১২ দিনের ছুটি
সরকারি চাকরিজীবীরা ঈদে উপভোগ করতে পারেন টানা ১২ দিনের ছুটি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সুবিধা দিতে সরকার একদিন অতিরিক্ত ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এই ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে।   বিষয়টি ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৬ মার্চ অফিস করার পর থেকেই কার্যত ঈদের ছুটিতে যোগ দিতে পারবেন।   সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায়, যদি ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়, তবে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি হবে।   এছাড়া, ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) অফিস খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি রয়েছে। পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি ২৭ ও ২৮ মার্চ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ২৪ ও ২৫ মার্চ ব্যক্তিগত ছুটি নেন, তবে ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১২ দিনের দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সম্ভব হবে।   জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।   পবিত্র রমজান মাস ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
মন্ত্রিসভায় রদবদল: ৮ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, কার দফতর কোথায়?

সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৮ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন এই বিন্যাসে বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের পরিধি সংকুচিত ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিস্তারিত চিত্র: মো. শরীফুল আলম: বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন থেকে তিনি শুধুমাত্র বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও এখন তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ: তাকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর আগে তিনি সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। মো. রাজিব আহসান: সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন থেকে সরিয়ে তাকে এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন। ফারজানা শারমীন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন থেকে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মো. নুরুল হক: শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ববি হাজ্জাজ: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই প্রতিমন্ত্রীকে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সে লক্ষ্যেই যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর আগের তুলনায় দেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়েছে।   পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   নিজ আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর অব্যাহত সমর্থনে তিনি সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং এই ভালোবাসার কাছে তিনি ঋণী।   অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যমুনা
যমুনায় উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায় থাকবেন

রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি বাসভবন। নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামেও সরকারি বাংলো বরাদ্দের কাজ শেষ করেছে আবাসন পরিদফতর। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন। এরপর দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয় ও কার্যালয়ে অফিস করছেন। তবে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং রমজানের ইফতার অনুষ্ঠান যমুনাতেই করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরবর্তীতে সেটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্তের ফলে সেটি এখন আর বসবাসের উপযোগী নয়। তাই সোয়া তিন একর আয়তনের যমুনাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো দুটিও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা কে কোথায় থাকছেন: সরকারি আবাসন পরিদফতরের তালিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কিছু বরাদ্দ নিচে দেওয়া হলো: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী): ৩৫ হেয়ার রোড। সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী): ২৪ বেইলি রোড। হাফিজ উদ্দিন আহমদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী): ৫ হেয়ার রোড। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী): গুলশান। আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী): ৩৪ মিন্টো রোড। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (পানিসম্পদমন্ত্রী): ৬ হেয়ার রোড। খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী): ৩৩ মিন্টো রোড (পূর্বের বাসভবন বহাল)। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের পরেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অধিকাংশ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নতুন বাসভবনে উঠতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
কৃষকদের জন্য আসছে ‘কৃষক কার্ড’

দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের অনুকরণে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই এ পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের এ উদ্যোগের বিস্তারিত জানান।   তিনি বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণ ছিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। নীতিগত সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।   পাইলট প্রকল্পের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জানান, বড় পরিসরের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে কাঠামোগত ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ছবি: সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
পরিবহনে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলে মন্ত্রী কি তবে বৈধতা দিলেন?

নতুন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর নামে তোলা চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থ’ হিসেবে দেখার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি জোরপূর্বক আদায় করা হয় না, তাই সাধারণ চাঁদা হিসেবে গণ্য করা যায় না।   গত বৃহস্পতিবার নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এই অর্থ তাদের কল্যাণে ব্যয় করে। এখানে বিতর্কের বিষয় হতে পারে, কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এটি করছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করবে যে, এই সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনস্বার্থে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না।   সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা নিয়ে বলা হয়— রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর পদক্ষেপ। ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস বিশেষ লেন (বিআরটি) প্রকল্প পুনঃপর্যালোচনা।   পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা এই মনোভাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, পরিবহন খাতে যেকোনো ছায়া খরচ বা চাঁদা অপ্রকাশ্য চাপ তৈরি করে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শুধু নিয়োগপত্র ও বেতন যথেষ্ট।   ২০২৪ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে প্রায় ১,০৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু, গঠন হলো মন্ত্রিসভা কমিটি

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও যথাযথ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতির প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে।   ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মব জাস্টিস দমনে কঠোর সরকার, অগ্রাধিকার পাবে তৃণমূলের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং ‘মব জাস্টিস’ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সচিবালয়ে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস প্রসঙ্গ গত দেড় বছরের মব জাস্টিস সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সরকার এখন এটি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, আগের তুলনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এটি আরও সুসংহত করা হবে।   সরকারের চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ‘দেশ পুনর্গঠন’ বা 'টু বিল্ড দ্য নেশন'-কে চিহ্নিত করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনমানুষের সমস্যার সমাধান এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়াই মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততায় আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।   অর্থনীতি ও নির্বাচন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছিল এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন।   অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তারা গণতন্ত্রে উত্তরণের যে মূল দায়িত্বটি পেয়েছিল, তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই আলাদা করে কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরবর্তীতে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
শপথ নিচ্ছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা
বিএনপির সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলটির মিডিয়া সেল থেকে মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।   পূর্ণমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী — অর্থ সালাহউদ্দিন আহমদ — স্বরাষ্ট্র ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) — পররাষ্ট্র মো. আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ইকবাল হাসান মাহমুদ — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ আব্দুল আওয়াল মিন্টু — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ — ধর্ম বিষয়ক মিজানুর রহমান মিনু — ভূমি নিতাই রায় চৌধুরী — সংস্কৃতি খন্দকার আব্দুল মোকতাদির — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট   এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন— আরিফুল হক চৌধুরী — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান জহির উদ্দিন স্বপন — তথ্য ও সম্প্রচার আফরোজা খানম রিতা — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মো. শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি — পানি সম্পদ আসাদুল হাবিব বুলু — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মো. আসাদুজ্জামান — আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক জাকারিয়া তাহের — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত দীপেন দেওয়ান — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আ ন ম এহসানুল হক মিলন — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন — ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি শেখ রবিউল আলম — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন   প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— এম রশিদুল জামান মিল্লাত — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মো. শরিফুল আলম — বাণিজ্য; শিল্প; বস্ত্র ও পাট শ্যামা ওবায়েদ — পররাষ্ট্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকু — কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; খাদ্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল — ভূমি ফরহাদ হোসেন আজাদ — পানি সম্পদ আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া মীর হেলাল উদ্দীন — পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান — সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ; নৌ পরিবহন মো. আব্দুল বারী — জনপ্রশাসন মীর শাহে আলম — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি — অর্থ; পরিকল্পনা ইশরাক হোসেন — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ফারজানা শারমিন — মহিলা ও শিশু বিষয়ক; সমাজকল্যাণ শেখ ফরিদুল ইসলাম — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মো. নুরুল হক নুর — শ্রম ও কর্মসংস্থান; প্রবাসী কল্যাণ ইয়াসের খান চৌধুরী — তথ্য ও সম্প্রচার এম ইকবাল হোসেইন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এম এ মুহিত — স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর — গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ববি হাজ্জাজ — শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম — সংস্কৃতি   নতুন সরকার শিগগিরই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চেক জালিয়াতিতে নতুন অধ্যাদেশ: মামলার বিচারিক এখতিয়ারে বড় পরিবর্তন

সরকার চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক গেজেটের মাধ্যমে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) অর্ডিনেন্স, ২০২৬’ জারি করার বিষয়টি প্রকাশ করে।   নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ১৪১ ধারার (সি) উপ-দফায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে, চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে সেই মামলাটি শুধুমাত্র মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে শুনানি করা যাবে। অন্য সব চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন হবে।   অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0