গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত ত্রাণকর্মী নিহতের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইসরায়েলের কাছে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় প্রাণ হারানো তিন ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবার দীর্ঘ দুই বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান। ফ্যালকনার এই হামলাকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, জীবন রক্ষাকারী সেবা দেওয়ার সময় কোনো ত্রাণকর্মীকে হত্যার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় খাবার বিতরণের সময় একটি কনভয়ে হামলা চালিয়ে সাতজন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছিল এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসরায়েল সে সময় এটিকে একটি ভুল হিসেবে বর্ণনা করলেও ত্রাণ সংস্থাটি একে সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে। ব্রিটিশ মন্ত্রী নিহত সাবেক সেনা জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন এবং জেমস কিরবির সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন যে, এই পরিবারগুলোর জানার অধিকার রয়েছে কেন তাদের প্রিয়জনদের এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পাঁচ শতাধিক ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে ফ্যালকনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, যুদ্ধবিরতির আগে গাজা ছিল বিশ্বের সবচাইতে বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা মনে করে যে, এই ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ব্রিটেনের এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে যে, কেবল মৌখিক দুঃখ প্রকাশ নয় বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। সবশেষে ব্রিটিশ মন্ত্রী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন সত্য জানতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলকে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: নিষিদ্ধের পরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নেতৃত্বে এখনো শেখ পরিবারের প্রভাব বজায় রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিয়মিত বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে দলের অবস্থান জানাচ্ছেন। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হতে পারে। প্রথম আলো: টিকা সংকটে উদ্বেগ, হামে বাড়ছে শিশুমৃত্যু দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়ছে, যা ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে পরিচিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা বেড়েছে। ফলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একসময় পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দ্য ডেইলি স্টার: হামের প্রাদুর্ভাবে বেড়েছে শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় চলতি বছর অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪৬ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং মার্চ মাসে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোটিশ উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিক আলোচনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কার্যসূচি আগে না নোটিশ আগে এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ কক্ষে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ জানায়, নির্ধারিত কার্যসূচি শেষ না করে এ বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অবস্থানকে অপরিণত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। যুগান্তর: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ১৮ বাংলাদেশি, শোকে স্বজনরা লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা বড় নৌকায় ইতালি বা গ্রিসে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রীদের তুলে দেয়। যাত্রাপথে ভুল রুটে গিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করতে হওয়ায় খাবার ও পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়। আজকের পত্রিকা: গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে না তোলায় মতবিরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পক্ষ বলছে, অধ্যাদেশটির উদ্দেশ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই এটি নতুন করে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। নয়া দিগন্ত: নেপালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বড় সংস্কার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দুই মাসের মধ্যে এসব সংগঠন অপসারণ করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিউ এইজ: দুর্নীতি মামলার জট বেড়ে ৮ হাজারের বেশি দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জট বেড়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালে কমিশন গঠনের পর থেকে জমে থাকা মামলার সঙ্গে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার নতুন মামলা যুক্ত হলেও নিষ্পত্তির হার কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে। দেশ রূপান্তর: ‘ওয়ান ইলেভেন’ সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন-এর সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ১১৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরতদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইন্টারপোলের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। টাইমস অব বাংলাদেশ: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী নয় মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণে পুরনো গড় হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টিসেমিটিক) ঘৃণাজনিত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ‘হাতজোলা নর্থওয়েস্ট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্তত চারটি অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পুড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িগুলোতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হয়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষী অগ্নিসংযোগ” বলে উল্লেখ করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখন কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট পরিচালনা করছে। যদিও এটিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা বলা হয়নি, তবুও এর পেছনে সংগঠিত কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামনে পাসওভার উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার-এ একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন তুরস্কের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ছিলেন তুর্কি সেনাবাহিনীর সদস্য। বাকি দুজন দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসান-এর নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনী-এর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। রোববার ভোরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, সাতজনই নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম Voice of America (ভয়েস অব আমেরিকা)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেন। তবে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক Royce Lamberth গত মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে বলেন, ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী ছিল। একই সঙ্গে তিনি শত শত সাংবাদিককে পুনরায় কাজে বহাল করার নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রোপাগান্ডার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই গণমাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্যসেবা প্রদান করত। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকার কনটেন্টে পক্ষপাত রয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করে US Agency for Global Media। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া Kari Lake দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। ভয়েস অব আমেরিকায় এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান। তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ক্যারি লেকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক। ভয়েস অব আমেরিকার তিনজন সাংবাদিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়েই আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। মামলাকারীদের একজন প্যাটসি উইডাকুসওয়ারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁরা আশা করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার এই উদ্যোগ আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। এদিকে, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে সশস্ত্র বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন। তবে দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে বা নিহত সেনাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান আগেও স্পষ্ট ছিল এবং এখনও একই রয়েছে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলায় অংশ নেবে না এবং এ ধরনের সংঘাতে জড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai–এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছোড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা যায়, দুবাইয়ের বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে ওই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনার আগে Islamic Revolutionary Guard Corps দাবি করেছিল, দুবাইয়ের মারিনা এলাকায় অবস্থিত United States Central Command–এর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে Iran। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা গেছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে যে, সুপ্রিম লিডার নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা Assembly of Experts (Iran) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। সংস্থাটির সদস্য হোসেন মোজাফারি বলেন, ঐশ্বরিক সহায়তা নিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে খামেনির ছেলে Mojtaba Khamenei–এর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
দখলকৃত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে Iran। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই নতুন হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর Israel–এর উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নতুন হামলায় ইরান কতটি মিসাইল ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel–এর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় Iran–কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত United States–এর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য মস্কো তেহরানে সরবরাহ করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কী পরিমাণ তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে। এ বিষয়ে The White House–এর এক মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এবং United Nations–এ রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন করে আবারও মিসাইল ছুড়েছে ইরান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। তারা বলেছে, দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ইরান নতুন করে আবারও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। মিসাইলের প্রভাবে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমা্ধ্যমটি। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানে কুর্দি যোদ্ধারা হামলা চালালে তা সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন Donald Trump। তিনি বলেছেন, কুর্দিরা যদি ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি তাদের সমর্থন দিতে প্রস্তুত। এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কুর্দিদের এমন পরিকল্পনা “অসাধারণ উদ্যোগ” হতে পারে। তবে সামরিকভাবে তাদের সহযোগিতা দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু জানাননি। বার্তা সংস্থা Reuters–কে ট্রাম্প বলেন, কুর্দি যোদ্ধারা হামলা চালালে তারা জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই অভিযান পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সম্ভাব্য স্থল হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে কি না, সে বিষয়টি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে কুর্দি যোদ্ধারা Iran–এর ভেতরে হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান সরকার পরবর্তীতে এ তথ্য অস্বীকার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে United States ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বাড়তে পারে।
যুক্তরাজ্য সরকার আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান এর শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টাডি ভিসা’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি আফগান নাগরিকদের জন্য কাজের অনুমতিও (ওয়ার্ক ভিসা) সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভিসায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই চার দেশের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রায় ৪৭০ শতাংশ বেড়েছে। ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্য সবসময় যুদ্ধ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে আশ্রয় দেবে। তবে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার সহ্য করা হবে না। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে রিফর্ম ইউকে জনমতে প্রভাব বিস্তার করছে। জনমতের চাপ কমাতে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কিয়ার স্টারমার এর সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (PA) জানিয়েছে, নতুন অভিবাসন বিধি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের শরণার্থী মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের আশ্রয় আবেদন প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনও স্টাডি ভিসার মাধ্যমে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোম অফিস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Agence France-Presse (এএফপি)। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরান–এর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তাকে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে, যেখানে তার বাবার কবর রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েল–এর সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান সরকার নিশ্চিত করে। তবে তার জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই শহরেই খামেনির জন্ম হয়েছিল। খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেট দুবাই ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। হামলার পর ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ২টার দিকে এ তথ্য প্রকাশ করে Reuters। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গতকাল ভোরে সৌদি আরব–এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবারের হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইরান–এ চলমান সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর যৌথ হামলার পর এই পাল্টা অভিযান শুরু হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবী গার্ড স্বাধীনভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এসব অভিযানে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা নেই। ওমান–এর বন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরাগচি বলেন, ওই হামলার সিদ্ধান্ত ইরান সরকার নেয়নি। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি–এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তখন সামরিক দায়িত্ব ভাগ করা হয়। সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিপ্লবী গার্ডকে ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা সুপ্রিম লিডারের কাছে সাধারণত এই বাহিনীর কার্যক্রম রিপোর্ট করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর মৃত্যুর পর বাহিনীর কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরাগচির বক্তব্য কৌশলগত রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে তেহরান। সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান-এর কম খরচে তৈরি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হতে পারে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এই ব্যয় বৈষম্যকে সামরিক কৌশলবিদদের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং সৌদি আরব-এ অবস্থিত মার্কিন ও মিত্র সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য বলছে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন মজুত থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির। ২০২৫ সালের জুন মাসের সংঘাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) প্রায় ১৫০টি ‘THAAD’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে প্রতিটি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে কয়েক বছর সময় লাগে। স্টিমসন সেন্টার–এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার উৎপাদনের চেয়ে বেশি হওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্যাসিফিক ফোরাম–এর উইলিয়াম আলবার্ক জানিয়েছেন, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই সীমিত ছিল। চলমান সংঘাতে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব অস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যয় কমাতে পশ্চিমা সামরিক মহল এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েল–এর ‘আয়রন বিম’ লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে লেজার প্রযুক্তির সীমিত ইউনিট বর্তমানে কেবল ইসরায়েলেই চালু রয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার ইয়াল পিনকো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং দেশটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র–এর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরান-এর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না। তার মতে, এই অভিযান ইরাক-এ পরিচালিত সামরিক অভিযানের মতো দীর্ঘ সময় চলবে না। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল বাস্তবায়ন করবে। হেগসেথ জানান, অপারেশন এপিক ফিউরি এক রাতের মধ্যে শেষ হবে না। ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে, তবে কোনো তাড়াহুড়া করে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন নেই। ভবিষ্যতে এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ এই পরিস্থিতিকে একটি “অবিশ্বাস্য সুযোগ” হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এখনই তোমাদের সময়”—এই বার্তাটি ইরানের জনগণের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্বের ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য সরাসরি দায়ী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে মোট ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ৩১ জন প্রাণ হারান। সিপিজে এটি তিন দশকের ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী একক হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ‘ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৮১ শতাংশের নেপথ্যে ইসরায়েল। তবে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরেও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সুদানে ৯ জন, মেক্সিকোতে ৬ জন, ইউক্রেনে ৪ জন এবং ফিলিপাইনে ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সিপিজের তথ্যে বলা হয়েছে, তিন দশকের তথ্য সংগ্রহের ইতিহাসে কোনো দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিকল্পিত সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে যুক্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।