ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি এক বার্তায় তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নতুন করে নিয়োগের প্রয়োজন নেই। তারা আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবদ্দশায় যে নির্দেশনা পেয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও মোজতাবা খামেনিকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার কোনো ছবি বা ভিডিওও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ১২ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে তার একটি বার্তা সম্প্রচার করা হয়েছে। এদিকে পিট হেগসেথ ১৩ মার্চ দাবি করেন, তেহরানে প্রথম বিমান হামলার সময় খামেনি আহত এবং সম্ভবত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-এর ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান ১১ মার্চ জানান, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। সূত্র: বিবিসি নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হলেন তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি। সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজনানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই হামলায় মোজতবা তাঁর মা, স্ত্রী ও এক বোনকেও হারিয়েছেন; কেবল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার এক রহস্যময় অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে উঠেছেন ইসলামি বিপ্লবের উত্তাল সময়ে। তেহরানের এলিট আলাভি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি দীর্ঘ সময় তেহরান ও কুমে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। যদিও ধর্মীয় পদমর্যাদায় তিনি এখনো ‘আয়াতুল্লাহ’ নন, তবুও গত কয়েক দশক ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ‘গেটকিপার’ বা আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা প্রায়ই তাঁর এই ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির ক্ষমতার সাথে তুলনা করে থাকেন। মোজতবার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান উৎস হলো ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা। ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মোজতবা দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা সরাসরি জনসম্মুখে আসেননি, তবুও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করেছিল যে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা মোজতবার হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। তবে মোজতবা খামেনির এই উত্তরণ ইরানের সংবিধানে থাকা কিছু প্রথাগত নিয়মের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতাকে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম হতে হয়, যেখানে মোজতবা একজন মধ্যম সারির আলেম। তদুপরি, রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থায় বাবার পর ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত মোজতবার হাতেই ন্যস্ত হলো ইরানের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন সময়ে নতুন প্রজন্মের এই নেতা কীভাবে ইরানকে পরিচালনা করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের একজন সদস্য জানিয়েছেন, দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখতে চান পরিষদের অধিকাংশ সদস্য। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিষদের সদস্য আসগর দিরবাজ বলেন, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সদস্যদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত মোজতাবা খামেনির পক্ষেই রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ বিভিন্ন হামলার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সরাসরি বৈঠক ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তবে এসব সত্ত্বেও সদস্যরা প্রায় একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন। দিরবাজ বলেন, পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যের মতামত হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনির পুত্রের পক্ষেই রয়েছে। ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, যা দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষগুলোর একটি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইরান-এর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে অভূতপূর্ব জনসমাগমের আশঙ্কায় জানাজার অনুষ্ঠান পেছানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরান-এ রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনের কথা ছিল। সম্প্রচারে বলা হয়, “শহীদ ইমামের বিদায়ী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।” গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তেহরানে খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তার মৃত্যুতে দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। এর আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবে অংশ নেন। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আলী মোয়ালেমি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিচালিত বার্তা সংস্থা আইএসএনএ–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে। আলী মোয়ালেমি বলেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন যে নতুন নেতা নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক বা দলীয় গোষ্ঠীর প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ প্রভাব ফেলবে না। তারা নিজেদের বিবেচনাবোধ ও ধর্মীয় বিধির আলোকে ভোট দেবেন। তিনি আরও বলেন, অতীতের মতোই বিশেষজ্ঞ পরিষদ শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মতো একজন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচিত করবে। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই রুট দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা পুড়িয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। মঙ্গলবার আইআরজিসি কমান্ডারের পক্ষ থেকে প্রণালীটি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কৌশলগত পয়েন্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের তেল ও গ্যাস বহিঃবিশ্বে রপ্তানির জন্য মূলত এই রুটের ওপরই নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। এর আগে ইরান একাধিকবার এই রুট বন্ধের হুমকি দিলেও এবার সরাসরি জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা জোরদার করেছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তান ও ইরাকে সংঘটিত বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ইরান খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে জানানো হয়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। তারা কনস্যুলেটের রিসিপশনে প্রবেশ করলে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পৃথক আরেক ঘটনায় দেশটির গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলে আরও ১০ জন নিহত হন। অন্যদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে দুইজন নিহত হন। বিক্ষোভকারীরা বাগদাদের গ্রিনজোন এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ওই এলাকাতেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অবস্থিত। ৮৬ বছর বয়সী খামেনিকে রাজধানী তেহরানে তার প্রাসাদ কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত এবং দেশটিতে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় ও আপসহীন কণ্ঠস্বর। তিনি আজীবন মজলুম মানুষের পক্ষে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তারা বলেন, ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য তিনি ছিলেন এক দৃঢ় আশ্রয়স্থল। সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত ন্যায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। তবে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন—সত্যের সৈনিকরা কখনো মাথা নত করে না। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন, এই পরিকল্পিত আগ্রাসন তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। শনিবার থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে তারা জানান, এসব হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে, দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিরীহ শিশুশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে। এই নৃশংস হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তারা। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে আমেরিকা ও ইসরাইল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে আধিপত্যবাদী আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা বিশ্বশান্তিকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং ইরানের ওপর এই নগ্ন হামলা একই সূত্রে গাঁথা। আয়াতুল্লাহ খামেনি সবসময় এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁকে শহীদ করে জায়নবাদীরা মুসলিম উম্মাহর প্রতিরোধ ভাঙতে চাইলেও, এই রক্ত থেকেই নতুন করে অসংখ্য প্রতিবাদী কণ্ঠ জন্ম নেবে। তাই এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। তারা আরও বলেন, শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষের হত্যা বিশ্বকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে ইরানে চলমান নৃশংসতা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। বিবৃতির শেষাংশে নেতৃবৃন্দ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং শহীদ খামেনিসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রদান করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান ও বর্তমান অন্তর্বর্তী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই এই বার্তায় পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহসেনি-ইজেই তার প্রথম বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি লক্ষ্য করে বলেন, মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে লালিত মহান মুজাহিদিনদের ইস্পাতকঠিন ইচ্ছাশক্তিকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কখনোই স্তব্ধ করা যাবে না। উল্লেখ্য, গতকাল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর থেকে দেশটির সংসদ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা জনসম্মুখের আড়ালে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও এই হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। এই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী পরিষদের পক্ষ থেকে এমন হুঙ্কার এল। ইরানের সংবিধানের ১১১ ধারা অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার তদারকি করবে এই অন্তর্বর্তী পরিষদ। বর্তমানে দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরির সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ কমিটি সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিষদ কীভাবে উত্তরসূরি নির্বাচন করে এবং বহিঃশক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, তা-ই এখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী এবং ঝানু রাজনীতিক আলি লারিজানিকে কার্যত দেশের ‘ডি-ফ্যাক্টো’ বা ছায়া নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক হামলার হুমকি এবং খামেনিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনেকাংশেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে পড়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, গত জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন তুঙ্গে ছিল, তখনই লারিজানিকে এই বিশেষ দায়িত্ব দেন খামেনি। মূলত সর্বোচ্চ নেতার অবর্তমানে বা কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ইসলামিক রিপাবলিকের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত ক্ষমতা লারিজানির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। খামেনি ইতিমধ্যেই লারিজানি ও একটি বিশেষ ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে হত্যা করা হলে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একজন চিকিৎসক এবং সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে তার ক্ষমতা অনেকটা নামমাত্র। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত বা বিদেশি দূতের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রেও পেজেশকিয়ানকে এখন লারিজানির সম্মতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, মার্কিন দূতের এক বার্তার উত্তর দেওয়ার আগে পেজেশকিয়ানকে লারিজানির পরামর্শ নিতে হয়েছিল। আলি লারিজানি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক কমান্ডার, পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার এবং বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতর ধর্মীয় যোগ্যতা (আয়াতুল্লাহ পদবী) তার নেই, তবুও বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে খামেনি তাকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানিকে সামনে আনা মানে হলো ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। লারিজানি বর্তমানে পরমাণু আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধের সময়কার আপদকালীন পরিকল্পনা সবই তদারকি করছেন। এর মাধ্যমে খামেনি একটি শক্তিশালী ‘সারভাইভাল প্ল্যান’ বা টিকে থাকার কৌশল তৈরি করছেন যাতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি না হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের ভেতরে বিক্ষোভ এবং বাইরে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে এর জবাবে দখলদার ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন। ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, উপদেষ্টা শামখানি বলেছেন, “শত্রুর যে কোনো পদক্ষেপের বিপরীতে আনুপাতিক, কার্যকর এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করছে সেটি তারা জেনে গেছেন এবং এর বিপরীতে কি পদক্ষেপ নিতে হবে সেখানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি হুমকি দেন, সময়মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যেটি তাদের পরিকল্পনাকে শুরুতেই চেপে ধরবে। এরআগে ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সতর্কতা দেন। তিনি হুমকির সুরে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পর ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, শত্রু যদি ভুল করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা নিজের নিরাপত্তা, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলবে। আমির হাতামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক প্রস্তুতিতে’’ রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দুই সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ-বহর পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই রণসজ্জায় ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। সূত্র: আনাদোলু
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।