ইসরাইল

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলে মৃত্যুদণ্ড আইন পাস, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র

ইসরাইলের সংসদ নেসেটে সোমবার একটি আইন পাস হয়েছে, যা প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমতি দেয়। মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি নেতারা এই আইনকে বৈষম্যমূলক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।   আইনটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পাস করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হবে প্রধান শাস্তি।   আইনটির পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর সংসদে শ্যাম্পেনের মাধ্যমে উদযাপন করেন।   এই আইনটি এমন সময় এসেছে যখন গাজায় ইসরাইলি হামলা, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণ এবং হাজার হাজার গ্রেফতারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।   ইসরাইলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনটির বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।   ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্বাধীন নয়। ফিলিস্তিনি দল হামাসও আইনটি তীব্রভাবে নিন্দা করেছে, বলেছে এটি বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে।   গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র পিএইচসিআর এই আইনকে “আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইসরাইলি দীর্ঘদিনের নীতি আরও দৃঢ় করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ইসরাইলকে আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে সংঘাতে আরও ৪ ইসরাইলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে আরও চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবরটি এসেছে আল জাজিরা থেকে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ২১ বছর এবং একজনের বয়স ২২ বছর। চতুর্থ সেনার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ ‘তার নাম প্রকাশের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি’।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লিটানি নদীর দক্ষিণে ইসরাইল তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছে। এ সময়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরাইলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি। সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে হঠাৎ নরম ট্রাম্প, কী বদলে দিল অবস্থান?

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। এরপর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি পুনরুদ্ধারে সফল হননি। তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   সোমবার (৩০ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক—এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও। তবে তার এই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো। তাদের মতে, প্রণালি বন্ধ রেখেই পরিস্থিতি ছেড়ে দেওয়া মানে কার্যত পরাজয় স্বীকার করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা—প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে তা নির্ধারিত সময়সীমা (চার থেকে ছয় সপ্তাহ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়াতে চান না ট্রাম্প।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার মতো প্রধান লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। তাই এখন সংঘাত ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে প্রণালি খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাপ দেওয়া হতে পারে।   বর্তমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি একটি কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মাইন পাতা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। অথচ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।   প্রণালি বন্ধ থাকায় গত এক মাসে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ৬ এপ্রিলের মধ্যে পথটি খুলে না দিলে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।   অন্যদিকে, ইরান এসব আহ্বান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করেছে। বরং গত এক মাসে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য পূরণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায় এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়ে—সেদিকেই এখন নজর সবার।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইরানের অস্ত্র কারখানায় ৮০ টিরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করেছে ইসরাইল। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের অস্ত্র কারখানায় ইসরাইলের ৮০টির বেশি বোমা হামলা

ইসরাইল–এর বিমানবাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এই হামলা পরিচালিত হয়।   ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের সময় ৮০টিরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।   এর মধ্যে দীর্ঘ পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন কেন্দ্র, ট্যাঙ্কবিরোধী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপাদান তৈরির কারখানা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জটিল স্থাপনাও রয়েছে।   সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দুর্বল করতে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। গত দুই দিনে প্রায় ৪০টি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলেও জানানো হয়।   তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি
ইরানে আগ্রাসন বন্ধ না করলে সরাসরি যুদ্ধে নামার হুঁশিয়ারি ইয়েমেনের

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসন বন্ধ না হলে সরাসরি যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী।  শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমাদের হাত এখন ট্রিগারেই রয়েছে।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে এই কড়া বার্তা দিলো সানা। ইয়েমেনের দাবি, লোহিত সাগর ব্যবহার করে কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসন চালানো হলে তারা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জেনারেল সারি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ মূলত 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠার একটি নীল নকশা। এর প্রতিরোধ করাকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে ইয়েমেন। এরই মধ্যে শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা।  যদিও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই হামলার জেরে বিয়ারশেবাসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ
ইয়েমেন থেকে ইসরাইলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।   শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও হুমকি মোকাবিলার জন্য দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়ার হুমকি দেয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও শুরু থেকেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল, তবে সরকারি ভাবে ইয়েমেন থেকে আসা কোনো হামলার কথা এবার প্রথমবার স্বীকার করা হলো।   এর ঠিক একদিন আগে তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরান থেকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, যা পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছিল এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। ইয়েমেন থেকে শুরু হওয়া এই নতুন ফ্রন্ট মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরান ও লেবাননে ঘরছাড়া প্রায় ৪০ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ফলে ইরান ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি স্থল অভিযানের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ। দুই দেশ মিলিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ লাখে।   ইরানে টানা ২৭ দিনের সংঘাতে অন্তত এক হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরে ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৮২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৬০০টি স্কুল এবং প্রায় ৬৫ হাজার ঘরবাড়ি। রাজধানী তেহরানেই অন্তত ১৪ হাজার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে ইরানের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটছেন। পাকিস্তান, তুরস্ক ও আজারবাইজান সীমান্ত এখনো স্থিতিশীল থাকলেও দেশত্যাগী মানুষের চাপ বাড়ছে।   অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। লিটানি নদী থেকে জাহরানি নদী পর্যন্ত এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড জনশূন্য হয়ে পড়েছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এখন বাস্তুচ্যুত। আশ্রয়ের অভাবে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের অর্ধেকই শিশু।   যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। কাসমিয়েহ, আল-কানতারা ও খর্দালিসহ একাধিক সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি দক্ষিণাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির চেষ্টা। এতে সাধারণ মানুষের পালানোর পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন দলের এক সভায় এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন।   এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ আমাদের অঞ্চলকে রক্ত ও বারুদের গন্ধে ডুবিয়ে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নিরীহ শিশুরাও এই সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, যা মানবিক মূল্যকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।   এরদোয়ান এই সংঘাতকে ইসরাইলের যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর খেসারত দিতে হচ্ছে সমগ্র মানবজাতিকে।   তিনি আরও জানান, কঠিন এই সময়ে তুরস্ক তার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর পাশে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ সংকট: যুদ্ধ না করেও সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে ভারত?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় ইরান ও ইসরাইল সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারতের ক্ষতিই হবে সবচেয়ে গভীর ও বহুমাত্রিক। কারণ, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহন হয়, আর ভারত প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এখান থেকেই আমদানি করে।   তবে শুধু জ্বালানি নয়—ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তায়। দেশটির কৃষি পুরোপুরি নির্ভরশীল আমদানিকৃত রাসায়নিক সারের ওপর, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বাড়বে, আর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়লেই ভারতে অতিরিক্ত কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।   এদিকে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, কমে যেতে পারে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   সব মিলিয়ে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থাকলেও একটি দেশ কতটা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যদি তার অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির/ফাইল ছবি
ইসরাইলি বাহিনী সংকটে, স্বীকার করলেন সেনাপ্রধান

ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, একাধিক ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের চাপে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী—আইডিএফ—গুরুতর সংকটে পড়েছে। তাদের মতে, জনবল ঘাটতি ও সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, আহত সেনাদের যথাযথ সহায়তা ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখা হচ্ছে। এর আগের দিন, সেনাপ্রধান এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়।   লাপিদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সরঞ্জাম ও জনবল ছাড়াই সরকার বাহিনীকে বহুমুখী সংঘাতে নিয়োজিত করছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জামির মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে।   অন্যদিকে, সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানান, বিভিন্ন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বাড়তি বাহিনী দরকার। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়া সীমান্তেও সেনা চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   লাপিদের মতে, রিজার্ভ বা সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা বারবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে করে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং বাহিনীর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   এ পরিস্থিতিতে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত থাকার কারণে তারা সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।   লাপিদ বলেন, যারা খসড়া (ড্রাফট) এড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—যার মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা বন্ধ করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   উল্লেখ্য, ইসরাইলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ ছাড় চালু রয়েছে, যা এখন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
তেলআবিবের আকাশে হাজারো কাকের ঝাঁক, আতঙ্কে স্থানীয়রা
তেলআবিবের আকাশে হাজারো কাকের ঝাঁক, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ইসরাইলের বাণিজ্যিক নগরী তেলআবিব–এর আকাশে হঠাৎই দেখা গেছে অসংখ্য কাকের বিশাল ঝাঁক, যা মুহূর্তেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার কালো পাখি একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।   আকাশজুড়ে তাদের ঘূর্ণায়মান উড্ডয়ন এমন দৃশ্য তৈরি করে, যেন পুরো শহর একটি অন্ধকার পর্দায় ঢেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে আজরিয়েলি টাওয়ার–এর মতো উঁচু ভবনের ওপর দিয়ে পাখির দল উড়তে থাকায় অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন।   এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই এই অস্বাভাবিক দৃশ্যকে অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য বড় কোনো বিপর্যয়ের পূর্বাভাস বলেও মন্তব্য করেছেন।   ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। কিছু মানুষ বুক অব রেভেলেশন–এর উল্লেখ করে বলছেন, ইতিহাসে বড় সংঘাতের আগে এমন লক্ষণ দেখা যাওয়ার কথা বলা আছে। ফলে ধর্মবিশ্বাসী মহলেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে একেবারেই স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আচরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মতে, ইসরাইল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির পরিযায়ন পথের মধ্যে পড়ে। প্রতি বছর বসন্ত মৌসুমে বিপুল সংখ্যক পাখি এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলাচল করে।   পক্ষীবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে ‘হুডেড ক্রো’ নামের এক ধরনের কাক খুব সাধারণ। এই সময়টায় তাদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে এবং শহরের উঁচু ভবন ও সহজলভ্য খাদ্যের কারণে বড় ঝাঁক তৈরি করে।   বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, পরিবেশগত পরিবর্তন, শব্দ বা হঠাৎ কোনো ভীতি থেকেও পাখিরা এভাবে একসঙ্গে আকাশে উড়তে পারে। তাই এটিকে অতিপ্রাকৃত বা অশুভ কিছু হিসেবে দেখার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।   তবুও চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির প্রভাবেই অনেকে এই স্বাভাবিক ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন।   সূত্র: ডেইলি মেইল

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া, কৌশলগত বাধ্যবাধকতা নাকি ঐতিহাসিক ভুল

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইসরাইল-এর সরাসরি সংঘাত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র-এর সক্রিয় সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। এটি শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।   প্রশ্ন এখন একটাই—এটি কি মিত্র রক্ষার বাধ্যবাধকতা, নাকি এমন এক কৌশলগত ফাঁদ, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবকে দুর্বল করে দিতে পারে?   ঐতিহাসিকভাবে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইল ছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তাই বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে অনেকেই ‘কৌশলগত বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে দেখছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সময়ে নিষ্ক্রিয় থাকত, তাহলে সৌদি আরব বা জর্ডানের মতো মিত্রদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এতে চীন ও রাশিয়া-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতো।   তবে পরিস্থিতির আরেকটি দিকও রয়েছে। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো একটি বড় ঝুঁকি।   ইরানের ভৌগোলিক বিস্তৃতি, কৌশলগত অবস্থান এবং শক্তিশালী প্রক্সি নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে টেনে নিতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়বে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।   এছাড়া নৈতিকতার প্রশ্নেও যুক্তরাষ্ট্র চাপে রয়েছে। একদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থন—এই দ্বিমুখী অবস্থান উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে।   সব মিলিয়ে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে। যদি এটি সীমিত প্রতিরক্ষা ও দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের মধ্যে থাকে, তবে তা কৌশলগতভাবে সফল হতে পারে। কিন্তু পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিলে, তা একবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, সিদ্ধান্ত নেবে তেহরানই

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বুধবার (২৫ মার্চ) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   প্রেস টিভির প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আমেরিকার দেওয়া প্রস্তাবে ইরান নেতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধের সমাপ্তি তখনই হবে যখন ইরান নিজে তা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কল্পনা অনুযায়ী নয়।   এর আগে ইরান জানিয়েছিল, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ৮০তম দফায় ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইসরাইলি পুলিশ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনার একটি আবাসিক এলাকায় একটি ক্লাস্টার মিসাইল আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি লেবানন থেকে ছোড়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।   এর আগে হিজবুল্লাহ কিরিয়াত শমোনাসহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে হামলার দাবি করেছিল।   সূত্র: আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৯

দক্ষিণ লেবাননে পৃথক দুটি ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে।   বুধবার (২৫ মার্চ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাইদা অঞ্চলের একটি শহর ও একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে চালানো হামলায় মোট ছয়জন প্রাণ হারান। একই সময় অন্য একটি শহরে আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।   লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আদলুন শহরে হামলায় চারজন নিহত হন। এছাড়া মিহ মিহ শরণার্থী শিবিরের একটি বসতবাড়িতে আঘাত হানলে সেখানে দুইজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। এর আগে হাব্বুশ এলাকায় আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়।   ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তারা বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করেছিল, যেগুলো হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।   ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র আভিচাই আদরাই জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে বৈরুতের উপকণ্ঠে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত এলাকা ছাড়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।   ইসরাইল জানিয়েছে, তারা সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে লিতানি নদী পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।   লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৭২ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।   অন্যদিকে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলার কারণে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারের এক হামলায় সেখানে একজন নারী নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে আহত ৪৮২৯, গুরুতর ১২

ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ৪ হাজার ৮২৯ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।   এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরাইল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে ইরান নতুন করে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর জানায়, তারা ‘৭৭তম’ বারের মতো হামলা চালিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর, কেন্দ্র ও দক্ষিণ ইসরাইলে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে ‘সুপার-হেভি’ ও ‘পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট’ সিস্টেম, খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।   এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা ঘাঁটি রয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
মঙ্গলবার ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন
ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, আহত অন্তত ৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার সরাসরি ইসরাইলের হৃদপিণ্ড তেল আবিবে আঘাত হানল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ২৫তম দিনে ইরান তার সামরিক শক্তির জানান দিতে শুরু করেছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’।  মঙ্গলবার সকালে আইআরজিসি-র ছোড়া শক্তিশালী ‘ইমাদ’ ও ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে পুরো তেল আবিব এলাকা। ইসরাইলি জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ নিশ্চিত করেছে যে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ এবং সরাসরি আঘাতের ফলে অন্তত ছয়জন ইসরাইলি গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশি তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনাকীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। আল জাজিরার সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের রাস্তাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একাধিক যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং একটি গাড়ি উল্টে থাকতে দেখা গেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ইরানের এই ৭৮তম ধাপের হামলা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের মিসাইল দেখে দৌড়ে পালালেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট

ইরান ও ইসরাইল-এর চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ভিডিও, যেখানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-কে মিসাইল হামলার সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা যায়।   সোমবার উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। বক্তব্য শেষ করার পরপরই ওই এলাকায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়।   এসময় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের রেখে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান হারজগ। পরে তার নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   সংবাদ সম্মেলনে হারজগ বলেছিলেন, ইসরাইল আগের যুদ্ধবিরতির অবস্থানে ফিরতে পারবে না এবং লেবাননের ভেতরে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   এর আগে ইরানের হামলায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে ঘিরেও বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়ায়, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   সূত্র: আল জাজিরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলার আগে মার্কিন রণতরীর সমরাস্ত্র মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর আগে আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ারসহ ব্যাপক সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়।   হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন থাকলেও কূলকিনারা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আরব সাগরে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে মাঝপথে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং লোহিত সাগর থেকে রণতরী ফিরে আসে।   রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে ফেরার পথে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকে গ্রিসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয় মেরামতের জন্য। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রণতরী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিল।   ফেব্রুয়ারিতে গ্রিসে পৌঁছানোর আগে ১২ মার্চ রণতরী লন্ড্রিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হন। রণতরী তখন খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আলটিমেটামে বিশ্ববাজারে বেড়ে গেছে তেলের দাম

ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং ইসরাইল-এর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে।   বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাজার খোলার পরপরই মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যদিও কিছুক্ষণ পর তা কিছুটা কমে আসে।   একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়ায়, পরে তা সামান্য কমে ১১১ ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল হয়।   উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা শুরুর আগে এই দুই ধরনের তেলের দাম অনেক কম ছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।   বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানকে এই জলপথ খুলে দিতে হবে।   তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে এবং তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে খোলা জায়গায় ঈদের জামাত বন্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে খোলা জায়গায় ঈদের জামাত বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় আয়োজনেও। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) আল-জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে—এ বছর খোলা মাঠ বা বড় উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজন করা হবে না।   গালফ নিউজ–এর তথ্য অনুযায়ী, রমজান শেষে ঈদের নামাজ সাধারণত বড় খোলা ময়দান বা ঈদগাহে বিপুল মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যা দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।   আল-জাজিরা–এর দুবাই প্রতিনিধি জেইন বাসরভি জানান, উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি দেখায় যে, চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনে গভীর প্রভাব ফেলছে।   এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ভোরে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে এবং একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগে।   অন্যদিকে, বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার একটি গুদামে পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবও জানিয়েছে, তারা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে বেশ কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপসাগরীয় দেশগুলো নির্দেশ দিয়েছে, এবারের ঈদের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতেই হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
এক জাহাজে ২০ লাখ ডলার টোল নিল ইরান
এক জাহাজে ২০ লাখ ডলার টোল নিল ইরান

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে ইরান-সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জবাব দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসছে, যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।   এদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি। ইরানের পক্ষ থেকে এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের একটি বড় অংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ফি আরোপের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা কার্যত নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য নৌ চলাচলে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন যাচাইকরণ বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জাহাজগুলোকে আগে থেকেই নিবন্ধন করতে হবে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0