ভয়াবহ সৈন্য সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নতুন আইন প্রণয়ন করে আরও বেশি জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফতি দেফরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর অনবরত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে তাদের চারটি শক্তিশালী সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে যা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল ইরান বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলের বিশাল একটি বাহিনী সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। এতগুলো ফ্রন্টে একসাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক গোপন বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনবল সংকটের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পুরো সামরিক কাঠামো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কট্টরপন্থী হারেদি ইহুদিদের অনীহা এবং আইনি জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একসাথে একাধিক রণাঙ্গনে লড়াই করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। অতিরিক্ত ডিউটি এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া গাজা ও লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে নতুন করে সৈন্য সংস্থাপন করা না গেলে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ সেনাবাহিনীকে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তেই সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি ইসরায়েলের সামরিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই সংকট উত্তরণে সরকারের নতুন আইন তৈরির পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
লেবানন সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ভয়াবহ রকেট হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার উত্তর ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহর কিরিয়াত শমোনায় হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। তবে সাইরেন বাজার অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক রকেট এসে আঘাত হানে। এতে কিরিয়াত শমোনার বেশ কিছু স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভ ব্যানন এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন ইয়ার কেন মায়ামিতে ছুটি কাটাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে নেতানিয়াহুর ছেলেকে দেশটি থেকে বের করে দিয়ে তার গায়ে যুদ্ধের ইউনিফর্ম পরিয়ে প্রথম সারির যোদ্ধাদের সাথে পাঠানো উচিত। ব্যানন কেবল ইয়ার নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং লন্ডনে অবস্থানরত আরবের মিত্র দেশগুলোর রাজপুত্রদেরও একই কায়দায় বিতাড়িত করে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষায় যুদ্ধে পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জানা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার এবং আবনার কেউই ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করেননি, যা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই বর্তমানে বেশ সমালোচনা ও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। স্টিভ ব্যানন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও রয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ব্যাননের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, অথচ ইসরায়েল সেই অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্র দেশের নেতার ছেলের বিলাসী জীবন নিয়ে ব্যাননের এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
ইরানে সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানে অংশ না নেওয়ার সাফ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাতে যোগ দেবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের ভয়াবহ অভিযানের সব ঝুঁকি ও দায়ভার কেবল আমেরিকার ওপরই ছেড়ে দিতে চায় তেল আবিব। এদিকে পেন্টাগন ইরানে সীমিত আকারে বিশেষ অভিযান চালানোর বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই ধরনের কোনো স্থল অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে। আমেরিকার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন সৈন্যরা যদি তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তাদের শোচনীয় পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হবে। সামরিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো একটি ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দশ দিন নির্ধারণ করবে এই বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত স্থল যুদ্ধে রূপ নেবে কি না। ইসরায়েলের এই অস্বীকৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরোধী কর্মীরা বলছেন যে, যে যুদ্ধের নেপথ্যে ইসরায়েলের বড় ভূমিকা ছিল, এখন তার সব ঝুঁকি আমেরিকান সৈন্যদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন কেবল আমেরিকানদের জীবন বাজি রাখা হবে? এই নিয়ে দেশটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ যদি আমেরিকার জন্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে তা বিশ্বমঞ্চে দেশটির আধিপত্যের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কেবল একটি দায়ভার হিসেবেই দেখা হতে পারে যা ওয়াশিংটনকে বিপদে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো ছোট ভুল বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, আমেরিকা একা এই যুদ্ধের ভার কতদিন বয়ে নিতে সক্ষম হবে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পিছু হটা আমেরিকার সামরিক মহলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই একতরফা যুদ্ধের পথে হাঁটেন নাকি কোনো বিকল্প কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করেন।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে তৃতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে। হুতিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে “ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু” নিক্ষেপ করেছে। যদিও হামলা চালানো হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই গোষ্ঠী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তবে তিন ঘণ্টার মধ্যে হুতির বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সানা থেকে আল জাজিরা-এর সংবাদদাতা ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, হুতিরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। হুতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা এবং ইরান-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা। হুতিদের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করার জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ৩৩ দিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মেয়র মামদানি বলেন, একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই টেকসই সমাধান আনতে পারে না। তিনি এই যুদ্ধকে ‘নিরর্থক’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তার মতে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের যুদ্ধনীতি অতীতেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এমন ব্যয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিপুল অর্থ যদি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হতো, তবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিক্ষাঋণ মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। কিন্তু যুদ্ধনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইরান জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ করার জন্য তাদের সদিচ্ছা রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপে এই মন্তব্য করেন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র সংবাদ প্রতিবেদক জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, খবর প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষক ইরানের এই সদিচ্ছাকে পুরোপুরি আশার আলো হিসেবে দেখছেন না। জন সাডওয়ার্থ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ‘সদিচ্ছার’ সঙ্গে কঠোর শর্তও জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না এ ধরনের নিশ্চয়তা ইরান চাচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানও একই ধরনের আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিল। একই সময়ে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন হুমকি জারি করেছে। তারা পাল্টা আঘাতের পরিধি সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে, যেখানে ইরানের সদিচ্ছা ও শর্তের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ সকালে ইসরায়েলের অন্তত ২০টি স্থানে অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থানগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বেনি ব্রাক এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী এক বালক এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হামলার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে পবিত্র স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী সহিংসতা। আল জাজিরার সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো এখনো কার্যত অবরুদ্ধ। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ি ও তল্লাশির নামে হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পবিত্র নগরীজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জেনিন, নাবলুস এবং তুলকারেম এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকরা তাদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন। সহিংসতার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পথে, যেখানে হাজার হাজার আহত মানুষ নূন্যতম চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। ফিলিস্তিনে চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ইবাদতের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র স্থানগুলো বন্ধ রাখা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মৃত্যুদণ্ড আইনের কঠোর সমালোচনা করে একে 'বর্ণবাদের পথে আরও এক ধাপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এই আইন বিচারব্যবস্থাকে চরম বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে সানচেজ সরাসরি এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আইনটি কেবলমাত্র অ-ইহুদি বা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, একই অপরাধের জন্য ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলাদা শাস্তির বিধান কোনোভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না। তিনি একে "অপ্রতিসম ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "একই অপরাধ কিন্তু ভিন্ন শাস্তি—এটি বিচার নয়। এটি বর্ণবাদের (Apartheid) দিকে আরও একটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। বিশ্ববাসী এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে পারে না।" আন্তর্জাতিক মহলে সানচেজের এই মন্তব্য বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেখানে সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, অথচ একই ধরণের অপরাধে ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। স্পেনের এই অবস্থানকে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের লক্ষ্যে ইসরায়েলের বিতর্কিত নতুন আইন পাসের পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জার্মানি এই পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘পশ্চাৎপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনোউনি বলেন, "ইসরায়েলের এই মৃত্যুদণ্ড বিলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনের এই বৈষম্যমূলক প্রকৃতি স্পষ্টতই একটি পশ্চাৎপদ পদক্ষেপ।" এদিকে, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এই বিল পাসের সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানান, তারা নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আইনটি কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিদের ওপর একচেটিয়াভাবে প্রয়োগ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চরম উদ্বেগের বিষয়। ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েল সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বললেও, এমন আইন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বার্লিন।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিল ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ইসরায়েল একটি স্থায়ী 'বাফার জোন' হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবানিজ গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আক্রমণগুলোকে একটি 'পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি। জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প। এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পারস্য উপসাগরের ওমান উপকূলে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি বিশাল মালবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওমানের মাস্কাট বন্দরের কাছে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটির দুইজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এমটি মার্সার স্ট্রিট’, যা লন্ডন ভিত্তিক একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এর মূল ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই ওমানের কোস্টগার্ড এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। নিহত দুই নাবিকের মধ্যে একজন ব্রিটিশ এবং অন্যজন রোমানিয়ান নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান কেবল ইসরায়েলের শত্রু নয়, তারা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।” বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ওমান বরাবরই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, তাদের জলসীমার এত কাছে এই হামলা ওমানের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (5th Fleet) আক্রান্ত জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ টানা ৩০ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পর, মসজিদ চত্বরে পশু নিয়ে ঢোকার চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গভর্নরেট জানিয়েছে, এই উদ্যোগ মসজিদে নতুন ধর্মীয় আচারের প্রবর্তনের জন্য করা হচ্ছে, যা একটি বিপজ্জনক উসকানির অংশ। পাসওভার উৎসবের সময় ভেড়া বা ছাগল আনা ও বলি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘টেম্পল মাউন্ট সংগঠনগুলো’ চলমান বন্ধের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে সমর্থকদের এই কার্যক্রমে উৎসাহিত করছে। গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইতিমধ্যে মসজিদ চত্বরে তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পশু জবাই করা হয়েছে বা রক্তমাখা মাংস আনা হয়েছে। এটি মসজিদের ভেতরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত উসকানির অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় আন্দোলনের একটি অংশের লক্ষ্য হলো মসজিদে নতুন আচার চালু করা এবং ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মর্যাদা পরিবর্তন করা। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, ২ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাসওভার উৎসব চলাকালীন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। সোমবার (৩০ মার্চ) বিলটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পাঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়। ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলটির পক্ষে ৬২ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৮টি এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। আইনটির পক্ষে ভোট দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। আইনটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ উন্মুক্ত হলো, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-র ‘বাজান’ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ মার্চও একই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে সময় ইরান দাবি করে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং Al Jazeera কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে সর্বশেষ এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। আলিরেজা তাংসিরি আইআরজিসির একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যু চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাংসিরির বিরুদ্ধে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুই দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তদারকি করতেন এবং সশস্ত্র ড্রোন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তাংসিরির নেতৃত্বে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ তৎপরতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই ক্ষতি সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং তাংসিরির দেখানো পথেই তারা এগিয়ে যাবে। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ইরান ইতোমধ্যে এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল স্থল ও আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই, সমুদ্রপথেও এর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আইআরজিসির নতুন নেতৃত্ব কীভাবে দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির শিক্ষা ও একাডেমিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলার মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজকে ধ্বংস করা। আরাঘচির মতে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ইরানকে ‘জ্ঞানশূন্য’ (brain-drain) করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করাই এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের হামলা চালিয়ে ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আরাঘচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ‘সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ময়দান যখন সাধারণ অবকাঠামো থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে মোড় নেয়, তখন তা দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের রূপ ধারণ করে। ইরানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের ওপর এই আঘাত দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দুর্বল করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কার করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই হামলার প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।
আজ ৩০ মার্চ, ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক 'ভূমি দিবস' (Land Day)-এর ৫০তম বার্ষিকী। তবে এমন এক সময়ে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকাংশ ভূমি হারিয়ে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং ভূমি দখলের হার নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫,০০০ দুনাম জমি নতুন করে বাজেয়াপ্ত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, যা ফিলিস্তিনিদের বসবাসের জায়গাকে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্যালিলি অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বিশাল জমি দখলের ঘোষণা দিলে শুরু হয় প্রতিবাদ ও ধর্মঘট। সেই আন্দোলনে ছয়জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান, যার স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়। তবে ৫০ বছর পর এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পশ্চিম তীরের 'এরিয়া সি' (Area C) অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও উচ্ছেদের কারণে পুরো বেদুইন গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে প্রায় ৪,৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভূমি দখলের এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক তাদের কয়েক দশকের পুরনো জলপাই গাছ নিজ হাতে কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন যেন ইসরায়েলি বুলডোজার সেগুলো উপড়ে না ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই 'ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন' বা কার্যত দখলদারিত্বের ফলে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এই ভূমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও মাঠ পর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও লাঞ্ছনা অব্যাহত রয়েছে, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।