সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।   ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার।   ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।   লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।   বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে।   নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।   যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি
বাংলাদেশে ভ্রমণ না করতে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইসরায়েল ও ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়া। এসব দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, এই মূল্যায়ন নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি নয়। বরং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।  মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।  আগামী অক্টোবর মাসে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে এবং একই সময়ে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর, বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপে, সর্বোচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ না করতে এবং অবস্থান করলে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ রয়েছে।  বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয়ের চিহ্ন প্রদর্শন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং সিনাগগ, কোশার রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ইহুদি সমাবেশস্থলের আশপাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে বাড়ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ। সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানে বাড়ানো হয়েছে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জ্বালানির দাম। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট।   ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।   আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদির কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবিগুলোই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসূত্র।   ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যের জন্য বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহনপথ জোরদার করছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পাইপলাইন তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালির পুরো বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি।    সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।   অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করেছে ইরান। নতুন নিয়মে মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রল ব্যবহার করলে প্রতি লিটারে ১ লাখ রিয়াল দিতে হবে। আগের দাম ছিল ৫০ হাজার রিয়াল।    ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানিয়েছেন, নতুন দাম প্রায় ১৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর প্রভাব ফেলবে। আগস্টে দেশটিতে দৈনিক পেট্রোল ব্যবহার রেকর্ড ১৪ কোটি ৫০ লাখ লিটারে পৌঁছেছিল, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ লিটার। ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।    ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতিও প্রায় ৬৭ শতাংশে রয়েছে। ফলে নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ায় খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির বাসিন্দারা।    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিন দিনের ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।   কাফর রুম্মানে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও চার নারী ছিলেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক টিকে থাকাকে দেশের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট।   সোমবার রোশ হাইনের এক সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর প্রায় তিন বছর ধরে নেতানিয়াহু জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন।    আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর জরিপে দলটি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেতে পারে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি নেই।    সৌদি আরবে হুথি হামলা, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সংঘাতে একাধিক ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, তেহরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের সমন্বয় করে একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে কাজ করছে।   জেরুজালেম পোস্টের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য হলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভবিষ্যতে তা এড়ানো। ওই হামলায় হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালালেও একই সময়ে ইরানপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠী বড় পরিসরে আলাদা ফ্রন্ট খুলতে পারেনি। নতুন পরিকল্পনায় শুরু থেকেই একাধিক ফ্রন্টকে একই অভিযানের অংশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে বলা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রম যেন বিচ্ছিন্নভাবে না চলে, বরং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।   ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়নে এরই মধ্যে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় বাড়ার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে জেরুজালেম পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়াচ্ছে।   নতুন কৌশলের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের ওই হামলার পর হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলেও শুরুতেই হামাসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়নি। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ও হিজবুল্লাহ হামাসের ওই অভিযানের সব বিস্তারিত তথ্য বা সঠিক সময় সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না।   এবার তেহরান সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে আগাম সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানপন্থি এই নেটওয়ার্কে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় একযোগে তাদের সক্রিয় করা হলে ইসরায়েলের ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি হতে পারে বলে ইসরায়েলি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও ইরানের কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরাক ও ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।   জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট হামলার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় এসেছে।   এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগত এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল নেটওয়ার্ক থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের কাছে তাই ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে সক্রিয় হলে সংঘাত শুধু ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।   তবে ইরান সত্যিই এমন একটি সমন্বিত হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযান বাস্তবে কবে বা কীভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়
বিয়ের চার মাস না যেতেই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হলো গাজার নবদম্পতির স্বপ্নের ঘর

গাজার জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নেভিন আবু হাতাব ও তার স্বামী মোহাম্মদ। বিয়ের চার মাসও পূর্ণ হয়নি তাদের। যুদ্ধের মধ্যেই অল্প সামর্থ্যে নতুন সংসার গুছিয়ে স্থিতিশীল জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা।   হঠাৎ মধ্যরাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় দুজনের। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পান শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ ও কাজের একটি ল্যাপটপ।   বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ধ্বংস হয়ে যায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ পুরো ভবন।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন নেভিন। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জীবনের সবকিছু হারিয়ে গেছে।   যুদ্ধের কারণে আগেই তাদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিন পাননি তারা। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঘর সাজিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি।   এদিকে গাজায় হামলা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক রাতের হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামাসের কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি।   অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।   যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগও অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সপ্তাহান্তে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সড়কে ছুটির দিনে একের পর এক দুর্ঘটনা, নিহত ২, আহত ৬

ইসরায়েলে সপ্তাহান্তজুড়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। আরেকজন নিহত হয়েছেন গাড়ির ধাক্কায়, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।   শনিবার মোশাভ পোরাতের কাছে ৫৫৩ নম্বর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় ৪০-এর কোঠার এক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদমের (এমডিএ) চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গুরুতর বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগে ৩০-এর কোঠার এক নারীকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ওই সময় গাড়িটি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এর আগের রাতে, শুক্রবার, সোরেক ইন্টারচেঞ্জের কাছে ৭ নম্বর মহাসড়কে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এমডিএর চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সড়কের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ছিল না। চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবারই জেরুজালেমের পিসগাত জিভ এলাকায় বাড়ির পার্কিংয়ের কাছে একটি গাড়ির ধাক্কায় চার বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। তাকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ৩৭৫৫ নম্বর সড়কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আরও দুজন সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার আঘাত পান। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুজনকে উদ্ধার করতে দমকলকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কায়সারিয়া বন্দরের কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   নেতানিয়ায়ও একটি গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এমডিএর প্যারামেডিক ওরিয়ান লুকাক এবং জ্যেষ্ঠ জরুরি চিকিৎসাকর্মী মাওর নিনো জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, একটি গাড়ি ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিয়েছিল। আহত ব্যক্তি অচেতন ছিলেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার পর নিবিড় চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়।   সড়ক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন মহাসড়ক ও শহর এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে একাধিকবার কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ইসরায়েলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপদ গতিসীমা, চালকদের সতর্কতা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে সপ্তাহান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত সাত বছরের শিশু ইসরা আল-হিসি। ছবি: সংগৃহীত
জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব

মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান।   ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০০টির বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০০টির বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা চলাকালে নিজস্ব অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীর ২০০টিরও বেশি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা এই সামরিক সাফল্যের তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।   প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অস্ত্রের ক্ষমতা এতটাই গোপন ও আধুনিক ছিল যে, হামলাকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বুঝতেই পারেনি ঠিক কোথা থেকে তাদের বিমানে আঘাত হানা হচ্ছে।   দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে মরুভূমি, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্বীপসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০টির বেশি দুর্গম স্থানে ইরানের প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।   ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আকাশপথে যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন বা উড়োজাহাজ শনাক্ত হওয়ামাত্রই তা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এক দৃঢ়বার্তায় জানান, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে আগামী ২০ প্রজন্ম ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইরানের জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারান।   এই ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি
গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি

ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় গ্রিসের জন্য একটি বহুস্তরীয় সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে ইসরায়েল।   ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের এই প্রকল্পে রাফায়েলের ডেভিডস স্লিং ও স্পাইডার এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের বারাক এমএক্সসহ কয়েকটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এবং গ্রিসের পক্ষ থেকে ইওনিস বুরাস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।   ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এটি ইসরায়েল-গ্রিসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম বৃহৎ চুক্তি।   চুক্তির আওতায় এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।   ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে দেশটির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি রাফায়েলের ড্রোন ডোম ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর একটি চুক্তিও হয়েছে।   চুক্তির অংশ হিসেবে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গ্রিসের স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের মধ্যে এটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ
ইসরায়েলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে স্কুলে ক্ষোভ, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা অভিভাবকদের

ইসরায়েলের তেল আবিবে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের একটি স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ তেল আবিবের রোনিত এলকাবেতজ স্কুলের অভিভাবক কমিটি জানিয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিযোগের সমাধান না হলে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার কথা রয়েছে।    অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলটি মূলত আশপাশের এলাকার শিশুদের জন্য নির্ধারিত হলেও বাইরে থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের কিছু সন্তানকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভর্তি নীতি ও শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এ নিয়ে স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।    তবে তেল আবিব সিটি কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। শহর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্কুলটিতে ভর্তি হওয়া অভিবাসী পরিবারের শিশুর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশেরও কম। তাদের দাবি, এসব শিক্ষার্থী বিশেষায়িত আর্টস প্রোগ্রামে ভর্তি হয়নি এবং ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম পাশ কাটিয়ে তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সঠিক নয়।    বিতর্কের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ তেল আবিবের স্কুলগুলোতে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। চলতি আগস্টে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দক্ষিণ তেল আবিবের দুটি স্কুলে বিদেশি শিশুদের অতিরিক্ত ঘনত্বকে জাতিগত বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রায় দেয়। আদালত শিশুদের বিভিন্ন স্কুলে আরও সমন্বিতভাবে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেয়।    এর আগে দক্ষিণ তেল আবিবের কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য বিদেশি পরিবারের শিশুদের আলাদা হয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু অভিবাসী শিশুকে ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা স্কুলে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    তেল আবিবের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে শিক্ষার্থী বণ্টনের ক্ষেত্রে বসবাসের এলাকার দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত আবেদন হলে জায়গার প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী বণ্টন করা হয়।   রোনিত এলকাবেতজ স্কুলকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ তাই শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় শিশুদের জন্য স্কুলে জায়গা, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার অধিকার, ভর্তি নীতির স্বচ্ছতা এবং ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিশুদের একীভূত করার বৃহত্তর প্রশ্ন। অভিভাবকদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণার পর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সিটি প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে
খেলাধুলার বয়সে কারাগারে, খাবার-পানির সংকটে প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে মেগিদ্দো ও ওফার কারাগারে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মধ্যে এসব শিশুও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শিশুদের আটক এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে।   সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ২৭৬ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আটক রাখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বন্দিদের মারধর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় রয়েছে।   তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। আটক শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ
বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ

দক্ষিণ লেবাননের আরবসালিম শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী সজা মুসা শারারা। হামলার সময় বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েছিল তার। লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি ও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।    বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ এলাকায় শারারার পরিবারের বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শারারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন।    লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শারারা বিয়ের মাত্র দুই দিন আগে বিয়ে করেছিলেন এবং নতুন জীবনের শুরুতেই ওই বাড়িতে উঠেছিলেন। হামলার পর আশপাশের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক হামলার কয়েক মিনিট পর একই এলাকায় আবারও হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হন। দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকাতেও একই সময়ে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।    শারারার নিহত হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। শুক্রবার আরবসালিমে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।    দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী এসব হামলাকে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইয়াইর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরানি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফেরানো হলো নেতানিয়াহু-পুত্রকে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তাকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।   মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে তিনি ইরানের গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন—এমন গুরুতর আশঙ্কার কারণেই তড়িঘড়ি করে এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন।   কয়েকদিন আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউজম্যাক্স'-এর এক প্রতিবেদনে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থান করার সময় তিনি ইরানি গুপ্তঘাতকদের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তার নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে ত্বরিতগতিতে দেশে ফেরানো হলো।   অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর পিতা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও বর্তমানে মারাত্মক আন্তর্জাতিক আইনি চাপের মুখে রয়েছেন।   ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।   একদিকে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অন্যদিকে ছেলের ওপর সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার শঙ্কা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহু পরিবার এখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পরে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে তাদের পাশে থাকার জন্য পরিচালিত একটি ‘প্রটেকটিভ প্রেজেন্স’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা ওই বিদেশি কর্মীকে উম্ম আল-খায়ের থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত একটি ইসরায়েলি বসতিতে নিয়ে যায়।   এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে করলে ওই কর্মীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় ওয়াফা।   পরে ইসরায়েলি পুলিশ ওই কর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়।   তবে ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাওন এলাকার একটি বসতির নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ইসরায়েলি সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নাদাভ ওয়েইমান অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল নিয়ে নেয়। এরপর সশস্ত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ডেকে এনে ওই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।   ঘটনার দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।   তবে ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; বিষয়টির স্বাধীন যাচাই এখনো স্পষ্ট নয়।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

ইরানের নিজস্ব ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরোপুরি ব্যর্থ ও অক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   তিনি দাবি করেছেন, এই পরাশক্তিগুলোর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করার মতো কোনো কার্যকর উপায় নেই। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর (IRNA) বরাত দিয়ে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি একটি প্রমাণিত ও দৃশ্যমান বাস্তবতা।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের (অধিকৃত অঞ্চল) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার চিত্রগুলোই বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছে যে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ প্রতিহত করতে কতটা অক্ষম।   নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি এই মিসাইলগুলোর নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা এবং গতির সামনে পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে কার্যত অকার্যকর, সেটাই আরাগচি এই বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। মুক্তির পর পশ্চিম তীরের জিফনা গ্রামে ফিরলে দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    ৩১ বছর বয়সী আওয়াদকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিফনায় তার পারিবারিক বাড়ি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা বাড়িতে ঢুকে তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর তাকে নিয়ে যায়। সে সময় পরিবারকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।    আওয়াদের আটকের ঘটনাই তার জীবনে প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানি নয়। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের জিফনায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় তার উরুতে গুলি লাগে বলে সিপিজে ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আটকের পর তাকে ওফের কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে সিপিজের তথ্য থেকে জানা যায়।    ফলে আওয়াদের ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের মুক্তির খবর নয়, পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজ করতে গিয়ে আটক ও হামলার ঝুঁকিরও একটি উদাহরণ। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক, গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য হয়রানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে।    দুই বছর পর বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে আওয়াদের সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য তাই তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে।   তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান।   আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।   হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।   হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন।   ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।   চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।   বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে।   বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।   এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে।   এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার I ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কারাগারে ৩০ মাস, ১৪০ কেজি থেকে অর্ধেক ওজনে নেমে এলেন ফিলিস্তিনি বন্দি; হারালেন স্ত্রীকেও

দীর্ঘ ৩০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বিনা বিচারে (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন) আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক আব্দুল জাব্বার জারার। তবে তাঁর এই মুক্তি কোনো স্বস্তি বা আনন্দ বয়ে আনেনি, বরং সামনে এনেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।   জীবনের বিভিন্ন সময়ে ৩০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হওয়া জারার তাঁর জীবনের মোট ১৬টি বছরই কাটিয়েছেন ইসরায়েলি বন্দিশালায়। মুক্তির পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁর শারীরিক ওজন ছিল ১৪০ কেজি।   কিন্তু দীর্ঘ এই বন্দিজীবনে চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছেন যে, তাঁকে এখন চেনাই দায়। তবে শারীরিক এই কষ্টের চেয়েও তাঁকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে স্ত্রীর মৃত্যুশোক।   জারার যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী ওয়াফা জারারকেও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। পরবর্তীতে আটক অবস্থায় একটি বিস্ফোরণে ওয়াফা নিহত হন। কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার কারণে প্রিয় স্ত্রীকে শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারেননি এই হতভাগ্য ফিলিস্তিনি।   তাঁর এই করুন পরিণতি ও চোখের জল ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা নির্মম অমানবিকতার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়কে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ঘুড়ি ওড়ালেও মিলবে ড্রোনের মতো জবাব, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে সাধারণ ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকেও আর হালকাভাবে নিচ্ছে না তেল আবিব। গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড়ন্ত বস্তু বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।   সাম্প্রতিক সময়ে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতস এলাকায় এসে পড়ার পর এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হলো। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক বা বিস্ফোরক কোনো বস্তু ছিল না এবং তা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।   তবে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর একাধিক নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে আসা যেকোনো বস্তুকে তিনি সরাসরি ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   তার স্পষ্ট বার্তা হলো—বেলুনকে এখন থেকে ঘুড়ি এবং ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে গণ্য করা হবে, সেগুলোর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক। যারা এসব বস্তু তৈরি, উৎক্ষেপণ বা কাজে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।   উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ করে আসছে তেল আবিব। এসবের কারণে বিভিন্ন সময়ে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ ঘুড়ি ও বেলুনের আড়ালে এমন নাশকতা ঠেকাতেই এবার শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করল ইসরায়েল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০