- প্রচ্ছদ
- Topic
ইসরায়েল
ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ ঘটনার পর পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য অভিযানে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান এবং সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। তাঁরা সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। একই ব্যাটালিয়নের আহত তিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালে হেবরনের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। সেখানে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবিনিময় হয়। বন্দুকধারীদের কাছে একটি পিস্তল ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই দুই ব্যক্তি নিহত হন। হামলার পর পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। পরে হেবরন সফর করে তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে অত্যন্ত বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তাঁর দাবি, ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে এমন বড় অভিযান আর পরিচালনা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি তিনি। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, পরিকল্পিত অভিযানের প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল যেসব স্থাপনাকে সন্ত্রাসী অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ পশ্চিম তীরে গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের দাবি তুলেছেন। তবে শুক্রবারের হামলার সঙ্গে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি হামলার প্রশংসা করেছে এবং নিহত দুই ফিলিস্তিনির জন্য শোক জানিয়েছে। হামাস এ ঘটনাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এ হামলা এবং নেতানিয়াহুর সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হামলার পর নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। নেতানিয়াহুর নতুন পরিকল্পনায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য অভিযান ঘিরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির তৈরি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজার ১১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন বড় সামরিক অভিযান শুরু হলে পশ্চিম তীরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের সাতটি গভর্নরেটে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফিলিস্তিনি কৃষক, তাদের কৃষিজমি ও সংহতি কর্মীদের ওপর ২৩টি হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চলমান জলপাই উত্তোলন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো হয়। হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে সরাসরি গুলি বর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, ফসল ও যন্ত্রপাতি লুটপাট এবং কৃষিজমি পুড়িয়ে দেওয়া বা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে নাবলুসে। সেখানে ওসারিন গ্রামে জলপাই তোলার সময় এক কৃষকের হাতে সরাসরি গুলি করা হয়। এছাড়া সালফিত গভর্নরেটে পেপার স্প্রে করার ফলে আরেক কৃষক গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভোগেন। বেথলেহেমের নাহালিন শহরে কৃষকদের ওপর হামলার পাশাপাশি এক বৃদ্ধা এবং মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারসহ বেশ কয়েকজন সংহতি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রামাল্লা, জেনিন ও কালকিলিয়ার মতো অঞ্চলগুলোতেও কৃষকদের জমি থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে জলপাই গাছ কেটে ফেলা এবং বন্দুকের মুখে ফসল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কৃষকদের সহায়তায় আসা একজন রুশ সংহতি কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া জলপাই তোলার এই মৌসুম হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ ফাঁড়ি ও ১৯৪টি বসতিতে সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, ফিলিস্তিনিদের জীবন-জীবিকার ওপর অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের এই ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে বা দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টো সামরিক অবরোধ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কৃষকদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকারকে দৈনন্দিন এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারীদের জোর করে হিজাব খুলিয়ে চুল তল্লাশি, মারধর ও গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের বরাতে ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ অক্টোবরের এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম সাফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর একজন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তা নারী বন্দিদের চুল পরীক্ষা করতে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। এরপর ১৭ জন নারীকে প্রায় তিন ঘণ্টা ১৩ নম্বর সেলে আটকে রেখে তাঁদের চুলের বেণি খুলতে বলা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবরণের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, ১৭ নারীকে আইসোলেশন সেলে রাখা হয়েছিল। তবে সাফার বিস্তারিত বিবরণে তাঁদের একটি সেলে একসঙ্গে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রত্যেককে পৃথকভাবে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, নারী বন্দিদের সেল ও গোসলের জায়গায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বয়স্ক নারীসহ ১৫ জন বন্দি থাকা একটি কক্ষে পেপার স্প্রে ছোড়া হলে কয়েকজন বমি করেন। এসব ঘটনার মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সাফা। এর আগে ১৪ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, দামন কারাগারে আটক দুই নারী আইনজীবীর কাছে তাঁদের সেলে বারবার অভিযান এবং ৭ অক্টোবর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস নারী বন্দিদের সুরক্ষা, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসা এবং আটক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সঠিক অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইরানের মতাদর্শগত হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন 'মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী' এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শান্তির এক অকৃত্রিম অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে 'ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগান দিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান একসময় এই হুমকি বাস্তবায়ন করত। তিনি জানান, সামরিক ও আর্থিকভাবে তাদের পদ্ধতিগতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং দ্রুত তারা নিজেদের না শোধরালে যুক্তরাষ্ট্র অচিরেই তাদের কাজ শেষ করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলে যদি নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো নেতা নির্বাচিত হন, তবে এই অসমাপ্ত কাজ আমেরিকাকে একাই করতে হবে, যা করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকে আসা প্রবল বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহু দুর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, সাধারণ কোনো মানুষ এই ধরনের প্রচণ্ড চাপে ভেঙে পড়লেও, নেতানিয়াহু বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছু করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার ঠিক এমন একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদারই প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নেতানিয়াহু তাদের কখনোই হতাশ করবেন না।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের জমি হারানো ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইহুদিরা বিদেশি দখলদার নয়। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংরেজিতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নিজেদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে ইহুদিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার আপসযোগ্য নয়। ইসরায়েলের ইতিহাসকে ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের ভূমি চুরি করা নয়। এর আগে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কথা বলেন ওবামা। তাঁর বক্তব্যে ইহুদিদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ইতিহাস এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, দুটি বিষয়ই উঠে আসে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওবামা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিরা নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যার শিকার হয়েছেন। ফলে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি স্থানে তাঁদের আশ্রয় খোঁজা বোধগম্য। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে অন্য মানুষের জমি নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই মানুষদের নিজেদের প্রতি অবিচার হয়েছে বলে মনে করা এবং জমি ফেরত চাওয়াও বোধগম্য। বেলফাস্টের ওই আলোচনায় ওবামা সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর নির্ভর করে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতিরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শক্তির জোরে যা প্রয়োজন তা করা এবং যা চাই তা নেওয়ার অবস্থান স্বল্প মেয়াদে কার্যকর হতে পারে। তবে এমন অবস্থান নিলে ইসরায়েল তার নৈতিক ভিত্তি হারায়। জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, শান্তির পথে বাধা ইসরায়েল নয়। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো সীমানার মধ্যে ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকার অধিকার মেনে নিতে প্রতিপক্ষের অস্বীকৃতিই মূল বাধা। ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার অস্বীকারকারীদের সন্তুষ্ট করতে দেশের টিকে থাকা নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না বলেও জানান তিনি।
বিখ্যাত র্যাপার ম্যাকলেমোরের আসন্ন যুক্তরাজ্য ট্যুরের আয়ের একটি অংশ এমন একটি গোষ্ঠীর তহবিলে যাচ্ছে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের জিম্মি করার ঘটনাকে 'বৈধ' এবং 'কার্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছিল। দ্য জিউইশ ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ১২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার ওয়েম্বলি অ্যারেনায় ম্যাকলেমোরের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। লাইভ নেশন পরিচালিত এই কনসার্টের আয় থেকে 'প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট'সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টের যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জেনিন হুরানি ৭ অক্টোবরের হামলা ও জিম্মি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন এবং সংগঠনটি এই হত্যাযজ্ঞকে 'কারাগার ভাঙার' (prison break) সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছিল। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল (জেএলসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, কনসার্টের আয়ের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্টকে অর্থায়ন করার অর্থ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া। জেএলসি কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান লাইভ নেশনের কাছে তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইহুদি কর্মী ও দর্শকদের সুরক্ষায় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, বেঞ্জামিন হ্যাগারটি, যিনি সংগীতাঙ্গনে ম্যাকলেমোর নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি পপ তারকা অ্যাড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। যদিও ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার এই মন্তব্যের পর জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটসহ বেশ কয়েকজন ভেন্যু মালিক আয়োজকদের জানিয়ে দেন যে তারা ম্যাকলেমোরকে তাদের ভেন্যুতে পারফর্ম করতে দেবেন না। ফলশ্রুতিতে আয়োজক সংস্থা মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ তাকে ট্যুর থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। ম্যাকলেমোরকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল। তারা একে 'ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্য' থেকে হাজার হাজার দর্শককে বাঁচানোর একটি সঠিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটির মতে, বাকস্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো অধিকার তার নেই। তবে মার্কিন ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলেমোর দমে যাননি, বরং নিজস্ব উদ্যোগে 'ম্যাকলেমোর অ্যান্ড ফ্রেন্ডস — ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর' নামের এই নতুন কনসার্ট সিরিজের ঘোষণা দিয়েছেন, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউরোপের একদল কূটনীতিক। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক প্রতিনিধিরা। এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রও হামলার শিকার হন এবং বেলজিয়ামের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেভো। জলপাই সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় গুলতি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেভো এ হামলার জন্য ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের দায়মুক্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বেলজিয়াম কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং বসতি সম্প্রসারণেরও নিন্দা জানান তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা অ্যামিত ওরফালি নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। একটি ভিডিওতে ফ্রান্সের মেয়রকে ধুলোমাখা মাটিতে বসে একটি গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পরনে ছিল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙের ফিতা। অন্য ভিডিওতে মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় বারবার আঘাত করতে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে দেখা যায়। দূরে লাঠি হাতে আরও কয়েকজনকে এগিয়ে আসতেও দেখা যায়। ওরফালির দাবি, মুখোশধারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা বলে নিন্দা জানায়। তবে তাদের বক্তব্য, কূটনীতিকদের এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনো সেনা সদস্য ছিলেন না। ইসরায়েলি পুলিশও তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে। তদন্তে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের সহিংসতাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয় যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। দপ্তরের বক্তব্যে ইসরায়েলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত প্রচারণা চালানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই হামলার আগের দিন, শুক্রবার, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। শনিবার হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বক্তব্যে লেভিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে তিনি আগে কখনো এমন অবস্থায় দেখেননি। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে নেতানিয়াহু কথিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান। নেতানিয়াহু অতীতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য অল্পসংখ্যক বিশৃঙ্খলাকারীকে দায়ী করেছেন। তবে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, জলপাইগাছের ক্ষতি করা এবং মানুষকে আহত করার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চলতি মৌসুমকে কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম বলেও বর্ণনা করছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। নির্বাচনে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অল্প কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। সেখানে অনেক বসতি এখন উন্নত আবাসিক এলাকার রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই শত শত নতুন বসতি-চৌকি গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা পেলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় না। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। পশ্চিম তীর এখনো ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। সম্প্রতি চীনও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে চীনা পক্ষের একজন মুখপাত্র জানান। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষক, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিন। জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চালানো এই অতর্কিত হামলায় লেভিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে রামাল্লাহর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমতীরের আবু ফালাহ নামক একটি গ্রামে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কৃষকরা যখন তাদের বাগানে আনন্দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন এবং সাংবাদিক লেভিন সেখানে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মুখ ঢাকা একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা লেভিনকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এই মার্কিন সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে মাটিতে ফেলে একের পর এক লাথি মারতে থাকে। তার গায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ভেঙে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ অন্যের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালাতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং জলপাই গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই তাণ্ডবে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও ৪০ বছরের এক পুরুষ কৃষকও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হামলার সময় কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নীরব ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন (এফপিএ) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এবারও হয়তো অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন এই নির্দেশনা কর্মী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থার পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক রয়েছেন, তাদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নিয়মটি বিবেচনায় নিতে হবে। ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম যাত্রীদের পাশাপাশি বিমান সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও বিমান সংস্থাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ বিধিনিষেধের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ক্ষেত্রে ৩১টি দেশের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে ২৯টি দেশের তালিকার উল্লেখ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। এদিকে, বিধিনিষেধ জারির আগের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করা হয়। ঘটনায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরদিন জারি করা নির্দেশনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই দুটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারা নির্দেশনাটি পেয়েছেন এবং তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করছেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংস্থাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি। ইসরায়েলের এই নির্দেশনা কার্যকর থাকলে বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের ওপর।
ইসরায়েলের নাগরিকত্বভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ মেনে নিজেদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখছে ফরাসি এয়ারলাইন এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'মিডিয়াপার্ট'-এর হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ক্রু ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকত্বের পাশাপাশি কারও যদি ফরাসি নাগরিকত্বও থাকে, তবুও তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা যেসব দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশের নিয়মকানুন যাত্রী ও কর্মীদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম টিএসএ-এর প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের নাম রয়েছে। তবে শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশই নয়, নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দেশনার মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা। আনাদোলু এজেন্সি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী 'ফ্লাইদুবাই'-এর একটি ফ্লাইটে সংঘটিত ঘটনার পরই মূলত ইসরায়েল এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই ফ্লাইটে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে সেটি পরে সৌদি আরবে অবতরণে বাধ্য হয়। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে ক্রুদের দায়িত্ব থেকে এভাবে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে ব্যাপক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। প্যারিসের বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের সব নাগরিককে ঢালাওভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করাটা সরাসরি ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।
ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন মার্কিন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ১৬৮ শিশুসহ ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের এই নিষ্ঠুর পরিসংখ্যানের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে অসংখ্য মানবিক ট্র্যাজেডি। নিহত মার্কিন সেনাদের কেউ ছিলেন সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণী, কেউবা ঘরে ফেরা মাত্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন দেখা এক বাগদত্তা, আবার কেউ ছিলেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাওয়া স্নেহময় পিতা। যুদ্ধে প্রথম মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটে গত ১ মার্চ, যখন কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে ইরানি হামলায় ছয়জন আর্মি রিজার্ভ সদস্য প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ছিলেন আইওয়ার ২০ বছর বয়সী তরুণ ডেক্লান কোডি, যিনি বিদেশে থেকেও পরিবারের সাথে নিয়মিত ভিডিও গেম খেলে ও অ্যানিমে নিয়ে গল্প করে যোগাযোগ রাখতেন। একই হামলায় নিহত হন মিনেসোটার ৩৯ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী সার্জেন্ট নিকোল আমোর, যার মাত্র কয়েক দিন পরেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এছাড়াও ওই হামলায় প্রাণ হারান ফ্লোরিডার ৩৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন কোডি খর্ক, মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী নেব্রাস্কার ৪২ বছর বয়সী সার্জেন্ট নোয়াহ টিটজেনস, তিন সন্তানের জনক আইওয়ার ৪৫ বছর বয়সী মেজর জেফ্রি ও’ব্রায়েন এবং অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা ভার্জিনিয়ার ৫৪ বছর বয়সী রবার্ট মারজান। এর কয়েকদিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত হয়ে ৮ মার্চ মারা যান কেনটাকির ২৬ বছর বয়সী সার্জেন্ট বেঞ্জামিন পেনিংটন। একই সময়ে ইরাকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘কেসি-১৩৫’ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। এদের মধ্যে ছিলেন মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনার, যিনি দুই বছর বয়সী এক সন্তান ও সাত মাস বয়সী যমজ সন্তানের জনক ছিলেন। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩১ বছর বয়সী নারী পাইলট ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি. সাভিনো, দুই সন্তানের জননী ৩৪ বছর বয়সী টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলে বি. প্রুইট, ওহাইওর ৩৮ বছর বয়সী পাইলট ক্যাপ্টেন সেথ আর. কোভাল এবং ৩০ বছর বয়সী অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন কার্টিস জে. অ্যাংস্ট। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান টেকনিক্যাল সার্জেন্ট টাইলার এইচ. সিমন্স, যিনি মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে বাবাকে ফোনে বলেছিলেন যে তার হয়তো আর বাড়ি ফেরা হবে না। জুলাই মাসে এসে প্রাণহানির এই তালিকা আরও দীর্ঘ হয়। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। তাদের একজন ছিলেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী তরুণী ইসাবেলা গঞ্জালেস, যিনি গত বসন্তেই হাইস্কুল শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। আরেকজন ছিলেন ত্রিনিদাদে জন্ম নেওয়া এবং নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা তরুণী অ্যাঞ্জেল রামপারসাদ। একই ঘটনায় ১৮ জুলাই প্রাণ হারান হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান। এমবিএ শেষ করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে থাকা ফিহানের দেশে ফিরেই প্রেমিকা ক্লেয়ার ফ্লেচারকে বিয়ে করার এবং ল’ স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর আগে প্রেমিকাকে পাঠানো তার শেষ বার্তাটি ছিল—‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। এর পরদিন ১৯ জুলাই উত্তর ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে একটি ভূপাতিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় নিহত হন ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন। চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের এই জনক মৃত্যুর এক মাস আগে স্ত্রীকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেছিলেন, তিনি মারা গেলে সন্তানরা যেন জানতে পারে বাবা তাদের কতটা ভালোবাসতেন। এছাড়া আরব সাগরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৪ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে ১০০ ঘণ্টার বেশি তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ মেলেনি দুই সন্তানের জনক ও নৌবাহিনীর কমান্ডার গ্যাব্রিয়েল এডওয়ার্ডসের; গত ৫ জুলাই তার উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও সামরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই কর্মকর্তা। গত ৬ মার্চ কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ে দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক অসুস্থতায় মারা যান নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ও ন্যাশনাল গার্ডের ৪৬ বছর বয়সী মেজর সর্ফলি ডেভিয়াস, যিনি ছয় সন্তানের জনক ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাতারে সামরিক অভিযানে সহায়তার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে বিমানের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী মেজর বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন যে, নিহত সেনাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং সামনে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে। ওয়াশিংটনের সেই পূর্বাভাস সত্যি করে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, আর প্রিয়জন হারানোর অপূরণীয় শূন্যতা নিয়ে দিন কাটছে স্বজনহারা পরিবারগুলোর।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশেষ করে তেল স্থাপনা, শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর ধরে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রোববার ১১ অক্টোবর তেহরানে পরিবেশ ধ্বংস ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাঘচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিকে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের সময় পানি, মাটি, বাতাস, বন, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের যে ক্ষতি হয়, তা লড়াই থামলেই শেষ হয়ে যায় না। এসব ক্ষতির প্রভাব বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইরানের পাশাপাশি গাজা ও লেবাননের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানে তেল স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ইউএনইপির মার্চ মাসের বিবৃতির কথা তুলে ধরেন আরাঘচি। নূর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। ইউএনইপি গত ১৩ মার্চ জানিয়েছিল, দূর থেকে পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেহরানসহ শহর ও শহরসংলগ্ন এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বলন্ত তেলের ধোঁয়ায় থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক শ্বাসের সঙ্গে শিশুদের শরীরেও প্রবেশ করছে বলে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত আগুনের দূষণ মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছাতে পারে। ফসলেও দূষক জমা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এসব ছিল সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সংস্থাটির মার্চের মূল্যায়ন। সম্মেলনে আরাঘচি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ করা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ব্যাপক পরিবেশ ধ্বংস বা ‘ইকোসাইডকে’ পৃথক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আইনি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনায় ইরানের সমর্থনও জানান তিনি।
চলতি বছর ইসরায়েলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বাস্তুচ্যুত হওয়া লেবাননের নাগরিকদের সহায়তার জন্য ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পেয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে এটিকে হিজবুল্লাহর 'মুখ রক্ষার ভুয়া গল্প' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, তাদের কাছে এমন কোনো অর্থ নেই। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তীব্র নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা তেহরানের হাতে অর্থ স্থানান্তর বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তহবিল জোগানোর মতো অর্থ নেই। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নজরদারি সত্ত্বেও গত মাসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈরুতে পৌঁছেছে। চরম ঝুঁকির কারণে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীরা স্বাভাবিকের তুলনায় চার গুণ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ কমিশন কেটে রেখেছে। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ না করে নিশ্চিত করেছেন যে একটি তহবিল নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা বণ্টনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইরান ও লেবানন সরকারের কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাপ্ত এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় যেসব গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে কিংবা দখলের কারণে যেগুলোতে আর ফেরা সম্ভব নয়, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত ২ মার্চ আঞ্চলিক যুদ্ধে হিজবুল্লাহ জড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও অভিযানে লেবাননের লাখ লাখ শিয়া মুসলিম বাস্তুচ্যুত হন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লেবানন সরকারের হিসাবে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি পুনর্নির্মাণে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের ছবিটিতে কয়েকজন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব করা হতো। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রটির মূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা গাজায় নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছেন। নির্মাতাদের বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবিগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় যাচাই করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ছবিতে তুলে ধরা প্রতিটি ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের নির্দেশনায় যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে করা হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা থাকে। বাহিনীটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বলেছে, হামলার লক্ষ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্বাচন করেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডাররা। ছবিটি ঘিরে ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্মাতা আব্রাহাম বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা অন্যায় ছিল; একই সঙ্গে সেই হামলা গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে ন্যায্যতা দেয় না। ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিযোগ, নির্মাতাদের বক্তব্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জবাব আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ আরও গভীর হলে ইসরায়েল গৃহসংঘাত কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি গোপন মূল্যায়ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোপন নথিটির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে নথিটি সিআইএ প্রকাশ করেনি এবং সংস্থাটি এ বিষয়ে ড্রপ সাইট নিউজের মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি। ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ বা ‘ভেতর থেকে ভাঙন’ শিরোনামের এই মূল্যায়নটি গত আগস্টে সিআইএর ‘রেড সেল’ ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা তৈরি করেন। সংস্থাটির এই শাখার কাজ হলো প্রচলিত গোয়েন্দা বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে বিকল্প পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্লেষণ করা। দুই মার্কিন সূত্র নথিটির বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমটির কাছে বর্ণনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যায়নে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক চাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাদের মানসিক চাপ, কট্টরপন্থী ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে অসন্তোষ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের সহিংসতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক লড়াই। এসব বিষয় একসঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক সেবা নিয়ে বিরোধকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম বড় বিভাজন হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থী ইহুদি বা হারেদি সম্প্রদায়ের অনেক পুরুষ ধর্মীয় শিক্ষার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। কিন্তু গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে নিয়মিত রিজার্ভ সেনা তলবের কারণে অন্য অংশের নাগরিকদের মধ্যে এই সুবিধা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সময়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক সেনা গুরুতর মানসিক চাপ ও আঘাত নিয়ে ফিরছেন বলেও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে সামরিক ব্যয় বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। ব্যাংক অব ইসরায়েলের গভর্নর আমির ইয়ারন এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের পর দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশে উঠেছে এবং সরকারি ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ হয়েছে। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এই অস্থিরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্টের ২৬তম মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জোট ও তার বিরোধী জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ হলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের ফল ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিআইএর কথিত মূল্যায়নে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতা বাড়ার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যায়নকারীরা আশঙ্কা করছেন, অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হলে বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে পারে, যা ইসরায়েলের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। তবে গোপন নথিতে ইসরায়েলে নিশ্চিতভাবে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে এমন কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত একসঙ্গে আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি ‘গৃহসংঘাতের’ দিকে যেতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের এক মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নথির লেখকেরা পরিস্থিতিটিকে এমন এক পর্যায়ে দেখেছেন যেখানে সামান্য কোনো ঘটনা বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির বিনিয়োগ কমে যাওয়া, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা এবং হামাস বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মূল্যায়নে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সেবা, অর্থনীতি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যেই তীব্র। ফলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন শুধু নতুন সরকার গঠনের বিষয় নয়, যুদ্ধপরবর্তী ইসরায়েলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন কতটা গভীর হয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: ড্রপ সাইট নিউজ, আনাদোলু, রয়টার্স
আকাশে উড়ন্ত বিমানে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হয়েও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সহায়তায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে আগামী বছরের ইসরায়েলি স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক মশাল জ্বালানোর আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। ৩ অক্টোবর নেতানিয়াহু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের সাহসী জনগণের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের কাছেই মচ্ছর একজন নায়ক। নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে ওই ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, মচ্ছর ও নরেন্দ্র মোদিকে আগামী মে মাসে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখতে চান তিনি। অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বালনের দায়িত্ব সাধারণত ইসরায়েলি নাগরিকদের দেওয়া হলেও মচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝ আকাশে ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর হামলা চালান। মচ্ছর গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। হামলার বিষয়ে মচ্ছর নেতানিয়াহুকে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সহ-পাইলট নামাজ পড়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সহ-পাইলট প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকায় তিনি সম্মান দেখিয়ে সামনে তাকিয়ে ছিলেন এবং পেছনে কী ঘটছে তা খেয়াল করেননি। মচ্ছরের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট পর হঠাৎ তাঁর মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, সম্ভবত বিমানের কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ককপিটে থাকা সহ-পাইলটই তাঁকে আক্রমণ করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা পরে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মচ্ছরের ওপর হামলা করেছিলেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আহত অবস্থায় মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তাঁর স্মৃতি পুরোপুরি পরিষ্কার না থাকলেও তিনি জানান, একপর্যায়ে দরজা খুলতে সক্ষম হলেও সহ-পাইলট সেটি আবার বন্ধ করে দেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, দরজা না খুলতে পারলে নিজের পাশাপাশি বিমানের অন্য সবার জীবনও চরম ঝুঁকিতে পড়বে। মচ্ছর নেতানিয়াহুকে বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এটিই হয়তো বাঁচার শেষ সুযোগ। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তিনি আবার দরজার দিকে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সেটি খুলতে সক্ষম হন। দরজার বাইরে থাকা যাত্রী ও ক্রুরা তখন দ্রুত ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এই ঘটনার সময় বিমানটি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করান। ঘটনাটিতে মচ্ছর গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। একই ঘটনায় ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারাও ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম হাসপাতালে মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেন বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সহ-পাইলট কীভাবে এই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সতর্কতামূলক তথ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তাঁর অতীত, হামলার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে এবং সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সূত্র: এএফপি
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে জরুরি সংকেত পাঠায়। সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের আশঙ্কায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি বুধবার সকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা উড়ার পর ককপিটে পাইলটদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে এমন একটি সংকেতও পাঠানো হয়, যা বিমানে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। এত দ্রুত উচ্চতা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানটি তাবুকের দিকে যায় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনার শুরুতে সম্ভাব্য হা ই জ্যাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়। তবে পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, বিমানটি হা ই জ্যাক হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের পর জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটের সংঘর্ষের সময় একজন পাইলট ছু রি কা ঘা তে আহত হন এবং যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তবে এসব বিস্তারিত তথ্য এখনো বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটটিতে একটি ঘটনা ঘটার পর সেটিকে তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। বিমান সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিমানে থাকা যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার সঠিক কারণ এবং ককপিটে পাইলটদের মধ্যে কী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হলো, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত উপলক্ষে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে মসজিদ ও পুরোনো শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় হেবরনের পুরোনো শহরের কয়েকটি সড়ক ও পাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদের পরিচালক মু’তাজ আবু সুনেইনা জানান, ওই দিন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওতে বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। মসজিদ বন্ধের কথা জানিয়ে WAFA বলেছে, কর্তৃপক্ষ সুক্কোত উৎসবের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছে। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথের সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোও বন্ধ করা হয়। পুরোনো শহরের কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি আশপাশের পাড়ায় চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। উৎসব ও বিশেষ সময়ে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রেখে বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।