ইরান স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দাবি যে ইরানের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে, তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি। খবরের মধ্যে বলা ‘পাঁচ দফা প্রস্তাব’ শুধু অনুমান ছাড়া কিছু নয়।” তিনি আরও জানান, যতক্ষণ না আক্রমণকারী দেশকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে তাঁর তুলনা করেছেন পূর্ববর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে, এবং উল্লেখ করেছেন যে নতুন প্রেসিডেন্ট “অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান।” ইরানের এই বক্তব্যের ফলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে এমন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল করে তুলতে পারে।
জ্বালানি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ খলিলুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে মার্কিন জ্বালানি সচিব জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। এ সময় উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসহাক দার জানান, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেরই ইঙ্গিত নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তাও দেওয়া হয়। জয়স্বাল জানান, ওই বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে কীভাবে আরও গভীর ও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সময় হলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জয়স্বাল বলেন, সে সময় সংঘটিত নৃশংসতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবগত এবং এই গণহত্যার বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারত সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি নারীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয় এবং অসংখ্য মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
সম্প্রতি ইরানের তেহরান এলাকায় পাকিস্তান দূতাবাসের নিকটে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।” হামলার কিছু অংশ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের কাছাকাছি ঘটলেও, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের ভবনগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন ২৮ দিনে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছেই। পাকিস্তান ইসলামাবাদ এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখতে চাচ্ছে। দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত। এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এই স্থগিত সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল–জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তজনার মধ্যে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফকে নিজেদের ‘হিটলিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে এই দুই শীর্ষ নেতার অবস্থান বা স্থানাঙ্ক (coordinates) সুনির্দিষ্টভাবে ছিল এবং তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয় যে, যদি ইরানের এই রাজনৈতিক নেতাদেরও নির্মূল করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার বা কূটনীতির জন্য আর কোনো পক্ষ অবশিষ্ট থাকবে না। পাকিস্তানের এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসার অনুরোধ জানায়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার একটি পথ খোলা রাখতে চাইছে, যার অংশ হিসেবে এই দুই কর্মকর্তাকে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ‘ডেকাপিটেট’ বা শিরশ্ছেদ কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বারাবাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে দেশটির অন্যতম অভিজ্ঞ কূটনীতিক এবং স্পিকার ঘালিবাফকে হোয়াইট হাউসের একাংশ ‘কার্যকর অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে দোটানায় রয়েছে, তবুও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা বড় ধরনের রক্তক্ষয় এড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে’ একমত হতে পেরেছে। তিনি বলেছেন, এটি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দর থেকে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, রবিবার শুরু হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। প্রধান প্রধান বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি এবং অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি ঐকমত্য হয়েছে।” ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও সমঝোতায় আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সোমবার ফোনের মাধ্যমে আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। ইরানের পক্ষের প্রতিনিধির নাম স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প উল্লেখ করেন, আলোচনায় একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অংশগ্রহণ করেছেন। যাইহোক, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো তথ্য জানতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর কোনো কামনা নেই।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মোদি। পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নৌপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মোদি আরও বলেন, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মঙ্গলবার আবুধাবিতে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘর্ষের আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে নেতারা এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধ করার গুরুত্বের উপর জোর দেন এবং কূটনীতিক পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট আল-সিসি ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষা করার পদক্ষেপগুলোর প্রতি মিসরের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধে দেশটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাত ৩৩৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
ইরানে এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি তেহরান আগেই ঘোষণা করেছিল। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমাকে জানাতে হচ্ছে যে, আজ ভোরে ইরানে একজন সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মপীড়াদায়ক।" প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে সুইডেন সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নাগরিকের মুক্তি বা আইনি সহায়তার বিষয়ে বারবার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরান তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিলেন। তবে সুইডেন বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সুইডিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরান হামলা বন্ধ না করলে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, হামলা চলতে থাকলে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তারা যদি হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠনের সময় নয়। আল-আনসারি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি যে কমিটির কথা উল্লেখ করেন, সেটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাবিত ওই কমিটির উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করা। যদিও ইরান এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে কাতার সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-আনসারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা বন্ধ হয়নি। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দোহার একটি আবাসিক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। ওই সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কিছু এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, সরিয়ে নেওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে Google, American Express এবং Microsoft। আল-আনসারি বলেন, কাতার পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে বলে তিনি জানেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির আবু মুসা ও খার্গ দ্বীপ বর্তমানে তীব্র হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে দেশের জনগণের সমর্থন ও জাতীয় শক্তির ভিত্তিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ও লেবাননে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনায় দুই দেশের নাগরিকদের কনসুলার বিষয়, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে আটক নাগরিকদের বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উর্দু ভাষায় দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার মুখে ইরান ও ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি এবং দৃঢ় সমর্থন জানানোয় পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেসব অঞ্চল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন-সৌদি সমীকরণ পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করেনি। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রিয়াদ সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদে যাওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীন, সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আগেই ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনে নিক্ষিপ্ত’ হতে পারে। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে এবং পুরো অঞ্চল আগুনে জড়িয়ে পড়ার আগেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হলে তা সম্ভব।” এরদোয়ান জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তুরস্ক খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা থেকে তুরস্ককে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এর আগে গত সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বিমান ও রাডার ঘাঁটি রয়েছে। হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার পর সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর থেকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এরদোয়ান সরাসরি তার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। বরং এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও উৎসাহিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তবে অনেক বিশ্বনেতার মতো তিনিও বক্তব্যে সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। সূত্র: রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপে মিলিত হয়েছে মালয়েশিয়া, কুয়েত ও ওমান। সম্প্রতি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আব্দুল্লাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদির সাথে পৃথক ফোনালাপে এই সংহতি প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কুয়েত ও ওমানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহানুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখতে ওমানের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। উভয় দেশের সরকার সেখানে অবস্থানরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েত ও ওমানের প্রতিশ্রুতিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয় এবং পবিত্র রমজানের বরকতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শেষ হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে পৌঁছেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ রোববার সকালে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন দলের শীর্ষ নেতারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দূতাবাসে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহান আবাদি। শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং ইরানের শোকার্ত জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ এবং কেন্দ্রীয় শ্রম ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে নেতারা এই কঠিন সময়ে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে এই সহমর্মিতার জন্য ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলায় অংশ না নিতে যুক্তরাজ্যকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মৌসাভি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্রিটেনের যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না। সম্প্রতি ‘সানডে উইথ লরা কুইন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মৌসাভি এই হুঁশিয়ারি দেন। সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যদি ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে, তবে সেগুলোকে ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে কি না। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "নিজেদের রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই। আমরা আশা করি ব্রিটিশ সরকারসহ অন্যান্য পক্ষগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের সংবেদনশীলতা বুঝতে পারবে এবং অত্যন্ত সতর্ক থাকবে।" সাক্ষাৎকারে মৌসাভি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্রিটেন এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আগ্রাসনে জড়ায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং যেকোনো অবৈধ আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে তারা অবগত।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় দেশটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, "আমরা সৌদি আরবের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করি। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের আকাশসীমা, জলসীমা বা কোনো ভূখণ্ড ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।" মূলত যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরব শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রিয়াদের এই অবস্থানকে তেহরান একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বার্তায় জানিয়েছে, সফরকালে পল কাপুর বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন, যেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।