ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) অভিযোগ করে বলেছেন, ইসলামের নামে একটি দল ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। তিনি বলেন, “আমরা যখন ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স ঘোষণা করেছিলাম, তখন দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিল। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তখন ইসলামের নামে একটি দল ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে।” রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলার চরফ্যাশনের টি বি স্কুল মাঠে ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা আর আমেরিকা ও ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না। আমরা মদিনা এবং ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, যারা এখন বলছেন শরীয়াহ বাস্তবায়ন করবেন না এবং প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনা করবেন, বাস্তবে তাদের বাহ্যিক রূপ যত সুন্দরই হোক, ভেতরের অবস্থা ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ধিক্কারসহকারে বলতে চাই, এই দেশ যখন দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন ইসলামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সেই দুর্নীতিবাজদের অংশীদার ছিলেন আপনারাই। এ দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।” চরমোনাই পীর বলেন, দেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছিল, তার প্রতিফলন মানুষ দেখেনি। তাঁর ভাষায়, “এখন পরিবর্তনের জন্য একমাত্র নীতি ও আদর্শ হলো ইসলাম। এটি একটি কালজয়ী আদর্শ।” তিনি আরও বলেন, শরীয়াহ শব্দ শুনে অনেকে ভয় পান, অথচ ইসলাম মানেই শরীয়াহ—রোজা, নামাজ, হজ, যাকাতসহ ইসলামের সব বিধানই শরীয়াহর অন্তর্ভুক্ত। জনসভায় ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করিম আকরাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কে এম শরিয়াতুল্লাহ, ইসলামী স্কলার মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও মাওলানা হাসিব আর রহমান। এর আগে ও পরে চরমোনাই পীর ভোলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি ভোলার লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মোসলেহ উদ্দিনের জনসভায় এবং সন্ধ্যার পর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমানের জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) জানিয়েছেন, জামায়াতের অসৎ আচরণের কারণে তারা ১১ দলীয় জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তৈরি করিনি; আমরা ৮ দলীয় সমঝোতায় অংশ নিয়েছিলাম। সমঝোতা ও জোটের মধ্যে পার্থক্য হলো—জোটে একজনকে নেতৃত্বে থাকতে হয়, সমঝোতায় কোনো একক নেতৃত্ব থাকে না। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনের ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় দলের নির্বাচনি ইশতেহারও প্রকাশ করা হয়। চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, সমঝোতার ভেতরে আমাদের পরামর্শ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী অন্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেখানে ইসলাম, দেশের স্বার্থ বা সৌহার্দ্য নেই, সেখানে আমরা বড় আশা নিয়ে একত্র হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসৎ আচরণের কারণে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। তিনি আরও বলেন, জামায়াত মার্কিন দূতাবাসে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশে কখনও সত্য হয়নি। বাংলাদেশে কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত জঙ্গি বা উগ্রবাদী হিসেবে পরিচিত নয়। তবে জামায়াত আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। চরমোনাই পীরের এ মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন দেশের স্বার্থ ও ন্যায়পরায়ণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবে, এবং তারা অন্য দলের অসৎ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত ইসলামের কথা বললেও দলটির মাঝে প্রকৃত ইসলামের অভাব রয়েছে এবং তাদের কথা ও কাজের কোনো মিল নেই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে একটি দল আছে যারা ইসলামের লেবাস পরে চলে, কিন্তু স্বার্থের জন্য তারা ভিনদেশের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। জামায়াত কখনোই প্রকৃত ইসলামী দল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। তাদের নীতি ও আদর্শের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।” আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর আরও জানান, তার দল কারো ওপর নির্ভরশীল নয়। জনগণের ওপর আস্থা রেখে তারা দেশের ২৭৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত সরকারগুলোর আমলের দুর্নীতি, অপশাসন এবং বিদেশে টাকা পাচারের মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বা শরীয়া আইন কায়েম করা অপরিহার্য। ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী হুকুমত ছাড়া প্রকৃত শান্তি আসা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। নবীনগর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা জসিমউদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।