জাতীয় দৈনিক পত্রিকা

ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র
পত্রিকা: সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উত্তাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তদন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি- আজকের পত্রিকাগুলোর শিরোনামে উঠে এসেছে এসব বিষয়।   প্রথম আলো— “সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যও পাল্টে যায়”      প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন বক্তব্যে তাদের প্রশংসা করেছেন, যদিও সরকারগুলো একই রাজনৈতিক ধারার নয়। যে রাষ্ট্রপতিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত হিসেবে দেখা হয়েছে, তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে।   তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তিনি শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন।   বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যখন ফ্যাসিবাদী সরকারের কথা বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।   রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে দুই বছর আগের অবস্থানের স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, একটি মহল সহিংসতা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে।   তখন তিনি বক্তব্য শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। আর এবার তিনি বক্তব্য শেষ করেন “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” বলে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি কারণ এর প্রকৃতি। সাধারণত এই ভাষণ রাষ্ট্রপতি নিজে লেখেন না; এটি সরকার বা মন্ত্রিসভা প্রস্তুত করে থাকে। রাষ্ট্রপতি সংসদে তা পাঠ করেন এবং পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। তবে এবারের সংসদ গঠিত হয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়।   সমকাল— “তেল সরবরাহ কমেছে ৪৫%, কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লাইন”     খবরে বলা হয়েছে, কোটা নীতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিক ও পরিবেশকরা।   তাদের দাবি, কাগজে সরবরাহ কমানো হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ; কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেশি কমে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।   মাঠের চিত্রেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সরকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।   মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প একবেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ডিপো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বেড়েছে এলএনজির দামও। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এপ্রিল–মে মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।   নিউ এইজ— “13th JS maiden session begins amid walkout”, অর্থাৎ ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু     খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে প্রায় ২০ মাস আগে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন বসেছিল।   নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও ওয়াকআউট করেন। এতে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।   তবে বিরোধী দল সংসদের গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।   স্পিকার না থাকায় তাঁর চেয়ার ফাঁকা রেখেই অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে যথাক্রমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও কায়সার কামাল–এর মনোনয়নের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পরে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন।   এরপর সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয় এবং স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   বণিক বার্তা— “বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও সিমেন্ট খাতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র”     খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও সিমেন্ট উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদনের লক্ষণ রয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত এ ধারণাকে আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছে দেশটি।   এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি অর্থনীতিকে নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।   এ বিষয়ে গত বুধবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উদ্বৃত্ত উৎপাদনসংক্রান্ত বিষয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে বিভিন্ন অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চার ওপর তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।   এই তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সংকুচিত করছে কি না তা যাচাই করা হবে।   তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের — “US probes Bangladesh's export incentives, BGMEA ‘uncomfortable’।” অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি প্রণোদনা নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র; এ বিষয়ে বিজিএমইএ বলছে, বিষয়টি ‘অস্বস্তিকর’     খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাকে অস্বস্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।   তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্কারোপ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রণোদনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তের বড় অংশ এসেছে টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালে দেশের মোট সিমেন্ট ব্যবহার ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ টন, যা মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। ২০২৫ সালে এ ব্যবহার আরও কমেছে।   বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।   আজকের পত্রিকা — “দিনে আটকা ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য”     খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টন রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ছে।   পরিস্থিতি সমাধানে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, যাতে পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিয়মিত ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিমানবন্দরে আটকে পড়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, কারণ নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে যেতে পারেন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   এজন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনা করে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।   নয়া দিগন্তে —“দুবাই, লেবানন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্মুখী সঙ্কটে বাংলাদেশিরা”     খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, কাতার, কুয়েতসহ অন্যান্য দেশে থাকা বাংলাদেশিরা চরম অসুবিধার মুখে পড়েছেন।   কোনো দেশে চাকরি হারানো, আবার কোনো দেশে চাকরি থাকলেও ঠিকমতো বেতন বা ভাতা না পাওয়া, এবং ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। ফলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।   যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রবাসীদের মৃত্যু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ তাদের লাশ দেশে পাঠাতে পারছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রবাসীর লাশ স্থানীয়ভাবেই দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   কালের কণ্ঠ — “বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ নিহত ১৪” খবরে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বর-কনের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।   দুর্ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাস রামপালের বেলাই ব্রিজে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে চারজন মারা যান।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র
পত্রিকা: ‘মব করে ৭০ হাজারের বেতন ৫ লাখ’

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার শিরোনামগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ, শ্রমিকদের বেতন–বোনাস পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘মব করে ৭০ হাজারের বেতন ৫ লাখ’ এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বলা হয়েছে, পাঁচই অগাস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সরকারি সেবা কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রধান কেন্দ্র এসপায়ার টু ইনোভেটে (এটুআই) 'মবের' মাধ্যমে চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে।   এ বিষয়ে যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এসেছে, তিনি হলেন ফাহিম আবদুল্লাহ। যিনি একসময় এটুআই ই-ফাইলিং সিস্টেমের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ছিলেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০২৩ সালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে পরে চাকরি হারান এটুআই থেকে।   আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরদিনই একদল বহিরাগত অনুসারী নিয়ে এটুআই কার্যালয়ে হাজির হয়ে ফাহিম আবদুল্লাহ এটুআইয়ের কর্মকর্তাদের নানা হুমকি দেন চাকরি ফিরিয়ে দিতে। শেষ পর্যন্ত বড় পদ 'প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট হেড' দখল করে নিতে সক্ষম হন তিনি। এই ব্যক্তি আগে বেতন পেতেন ৭০ হাজার টাকা, তা এখন পাঁচ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।   'মবের' ওই চক্রের মাধ্যমে আরও অনেকে উচ্চ বেতনে এটুআইয়ে জায়গা করে নেন। পাশপাশি মবের কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এসব ঘটনার এক পর্যায়ে এটুআইয়ের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মব করে কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের অপসারণ ঘটনার জেরে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভার্বাল পাঠায় ইউএনডিপি।   এতে বলা হয়, যারা ন্যাশনাল পার্সোনাল সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তির অধীনে ইউএনডিপির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কর্মচারী নন। তাদের নিয়োগ ও কার্যক্রম ইউএনডিপির নীতিমালা ও জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।   এই নোটটি দেওয়া হয় এটুআই প্রকল্প থেকে বাদ পড়া ইউএনডিপির অধীন ৯ জন কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টের জন্য। ২০২৫ সালের জুনে ইউএনডিপির তদারকি ও তদন্তকারী দপ্তর অডিট ও ইনভেস্টিগেশনস (ওএআই) অফিস এই অভিযোগের তদন্ত করতে আসে। তারা পরে সাফ জানিয়ে দেয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই। মানবজমিন: ‘প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের সংসদ বসছে আজ’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে তৈরি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল যে অঙ্গীকার করেছে, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আজ শুরু হওয়া সংসদের মেয়াদকাল থাকবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া সরকারি দল বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের দায়িত্বে থাকা জামায়াত এনসিপি জোটের সামনে রয়েছে সরকার ও সরকারি দলের এমপিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব। সমকাল: ‘প্রথম অধিবেশনে উত্তাপ ছড়াবে জুলাই সনদ’ আজ বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎও এই অধিবেশনেই নির্ধারণ হবে। প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। অধিবেশনকে সামনে রেখে গতকাল সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলের অবস্থান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্টসহ এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি জোটের সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া সনদ হুবহু বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি এবং কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রথম আলো: ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা, গোপন রাখল বিএনপি’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রেখেছে বিএনপি। স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দু’জনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে হাফিজউদ্দিন আহমদ নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে বিরোধী দল তা গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিরোধী দল এই পদ না নিলে বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। নয়া দিগন্ত: ‘মন্ত্রী–এমপিদের চলনে-বলনে মার্জিত থাকার নির্দেশনা’ চলনে-বলনে মার্জিত থাকা এবং দায়িত্বের বাইরে মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি বলেন, যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান তিনি। দ্য ডেইলি স্টার: ‘রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল ঢাকা’ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রাশিয়ার তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাময়িক ছাড় চেয়েছে।   অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ভারত যেহেতু রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় পেয়েছে, বাংলাদেশও সেই সুযোগ প্রত্যাশা করে।   বণিক বার্তা: ‘ফেব্রুয়ারির বেতন হয়নি ৫৩% কারখানায়, ঈদ বোনাস দেয়নি ৮৪%’   আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে দেশের শিল্প-কারখানার বড় অংশে এখনো ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়নি।   শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ১০০টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কারখানায় বেতন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানায় এখনো বেতন বকেয়া রয়েছে। একই সঙ্গে ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ কারখানায়, বাকি ৮৪ শতাংশ কারখানায় বোনাস এখনো পরিশোধ হয়নি।   আজকের পত্রিকা: ‘ডেমু বদলে হচ্ছে কমিউটার, নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন’   রেলপথ মন্ত্রণালয় পুরোনো ডেমু ট্রেনকে কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে।   ঢাকা–পাবনা ও ঢাকা–খুলনা রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, পুরোনো কারখানার আধুনিকায়ন এবং নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রা সময় চার ঘণ্টায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।   নিউ এইজ: ‘ডিজেল সংকটে বোরোর সেচ ব্যাহত’   ডিজেল সংকটের কারণে কয়েকটি জেলায় বোরো ধানের জমিতে সেচ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।   যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে সেচ কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।   দেশ রূপান্তর: ‘হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা’   তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাইন স্থাপনে ব্যবহৃত ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0