- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের ম দ, কিছু দুগ্ধপণ্য এবং মোটরসাইকেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষে ধাজ্ঞা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ সেপ্টেম্বর এসব আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, অটোমোবাইল ও ম দজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পরই ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপ নেয়। নতুন ব্যবস্থায় বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম, টেকিলা, ব্র্যান্ডি ও অন্যান্য ম দজাত পানীয়ের বেশির ভাগই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে হুই প্রোটিনসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং মোলাসেসের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ৮০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনযুক্ত কিছু মোটরসাইকেল ও মোপেডও তালিকায় রয়েছে। কানাডার ম দ শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ম দ রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞায় বিশেষ করে ছোট উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও খাতগুলো বাস্তব চাপের মুখে পড়বে। তবে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় নিষে ধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এদিকে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা এখনো স্থবির। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর তাড়া নেই। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ সহজে কাটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পদক্ষেপের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক ও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
গাড়ির দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জ্বালানি সাশ্রয় নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে গাড়ি নির্মাতাদের ওপর জ্বালানি সাশ্রয়ের যে চাপ রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়িতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নির্গমন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে গাড়ি তৈরির খরচ কমবে এবং এর প্রভাব নতুন গাড়ির দামের ওপরও পড়বে। তাঁর দাবি, আগের নিয়মগুলো গাড়ি নির্মাতাদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে তাদের বেশি উৎসাহিত করেছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি সাশ্রয়ের মান প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালন করা হবে। বর্তমান নিয়মে এই মান ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। রয়টার্সের হিসাবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একটি গড় নতুন গাড়ির দাম প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। পরিবহন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে গাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও স্বাধীনভাবে গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়মকে পুনর্বিন্যাস করে নির্মাতাদের জন্য তা সহজ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ। রয়টার্সকে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি-কেন্দ্রিক নীতির বিপরীতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মার্কিন পরিবহন বিভাগের নথিতে বিষয়টি মূলত ‘করপোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি’ বা CAFE মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান। টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়। টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।
অ্যাপল, অ্যামাজন, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মেটা, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী জোট ‘টেকনেট’ সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এইচ-১বি ভিসা ফি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। নির্দিষ্ট এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ওপর ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের নতুন এই ফি আরোপের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) কাছে নিজেদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জমা দিয়েছে জোটটি। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত এই ফি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশাল এক আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি কর্মীদের দিয়ে বিশেষায়িত কাজ করানোর এই কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের ধারা অব্যাহত রেখেছে, তখন এই পদক্ষেপ মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে বলে মনে করে টেকনেট। জোটটি জোর দিয়ে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মেধার সহজলভ্যতা একান্ত প্রয়োজন। গত আগস্ট মাসে ডিএইচএস এই ফি প্রস্তাবটি প্রকাশ করে। এতে বার্ষিক কোটার আওতাভুক্ত এইচ-১বি ভিসার আবেদনগুলোতে (এমনকি ২০ হাজার উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনও এর অন্তর্ভুক্ত) ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের কথা বলা হয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক প্রায় ৮৫ হাজার আবেদনের ভিত্তিতে এই ফি থেকে বছরে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে এই ফি সাধারণ এইচ-১বি ফাইলিং ফি এবং প্রশাসনের আগে থেকেই চালু থাকা আলাদা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি পেমেন্ট শর্তের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাব করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার মতো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার রোধ করতেই এই কঠোর নীতিগুলো অপরিহার্য। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে বলা হয়, এইচ-১বি আবেদনের পর্যালোচনার সময় স্পন্সর করা নিয়োগকর্তা সম্প্রতি সমমানের কোনো মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন কি না বা করার পরিকল্পনা করছেন কি না, তা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এদিকে, হোয়াইট হাউস তাদের কড়াকড়ির ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে এইচ-১বি ফাইলিংয়ের ধরন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রশাসনের একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে শীর্ষ আইটি আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন প্রায় ৯২ শতাংশ কমে গেছে। তবে টেকনেট সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি বিশেষ করে প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম বিপাকে ফেলবে, যারা পুরোপুরি বিশেষায়িত কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তি শিল্পে যখন এআই খাতের মতো জায়গায় বিশেষায়িত কর্মীর ব্যাপক চাহিদা চলছে, ঠিক তখন এই অতিরিক্ত ব্যয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উদ্ভাবন অব্যাহত রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও এর আগে এআই মেধা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, কঠোর মার্কিন অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এবং প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএইচএস-এর এই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে মন্তব্য করার সময়সীমা গত ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এখন জমা পড়া মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে দপ্তরটি প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি। বৃহস্পতিবার দেওয়া আদেশে তিনি তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই অন্তর্বর্তী আদেশ ১৪ দিন কার্যকর থাকবে। ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে তিন সংবাদমাধ্যমের করা মা মলার পর এই আদেশ দেওয়া হয়। মা মলায় তারা অভিযোগ করে, তাদের সংবাদ কভারেজের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছিল। বিচারক কেলি তার আদেশে বলেন, প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার সীমিত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হয়। এর আগে ট্রাম্প তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নি ষি দ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি তাদের কভারেজকে মি থ্যা ও বা নো য়াট বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে নিষে ধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নি রা পত্তা এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তবে বিচারক কেলি ওই জাতীয় নি রা পত্তার যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নিষে ধাজ্ঞার আগে থাকা তথ্যপ্রমাণে পাস বাতিলের সিদ্ধান্তটি জাতীয় নি রা পত্তার কারণে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মা মলা করে। তাদের আবেদনে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। পরদিন বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয় এবং বুধবার মা মলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর বৃহস্পতিবার বিচারক কেলি লিখিত আদেশে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশটি মূল মা মলার চূড়ান্ত রায় নয়। এটি মা মলা চলার সময় তিন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বহাল রাখার জন্য দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশ। ১৪ দিনের মধ্যে মা মলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে এবং আদালত পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারেন। ফলে আপাতত সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের প্রেস কাভারেজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নিষে ধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তিন সংবাদমাধ্যমের আইনি বি রো ধ এখনো চলমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রয়েছে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। ট্রাম্পের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জেলেনস্কি ইতোমধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি বার্নহামের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয় নিউইয়র্কে বার্নহামের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গেও ট্রাম্প বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের আগে এই আলোচনা হচ্ছে। জাপান টাইমস জানিয়েছে, চীন নিয়ে টোকিওর অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন তাকাইচি। তবে নিউইয়র্কের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে প্রকাশিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহও বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কূটনীতিকেরা হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সংকটে অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ খুঁজছেন। জাতিসংঘের এই সপ্তাহে কূটনৈতিক ব্যস্ততার মাত্রাও ব্যাপক। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের বরাত দিয়ে দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অনুরোধ এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা এসব বৈঠকের বড় অংশজুড়ে থাকবে। ফলে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন শুধু বিশ্বনেতাদের আনুষ্ঠানিক ভাষণের মঞ্চ নয়; ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—একাধিক বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পর্দার আড়ালের কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে। বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক। অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে অন্তত ৮৯০ বার বাইডেনের নাম এসেছে। প্রায় ২০০টি অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার এবং ১৯০টি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, গড়ে দিনে প্রায় তিনবার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২১০ বার বাইডেনের নাম তুলেছেন। অভিবাসন প্রসঙ্গে ১৬৮ বার এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ১৩৮ বার সাবেক প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও বাইডেনের প্রশাসনের দিকে দায় ঠেলে দিতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বাইডেন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। অর্থনীতির পাশাপাশি বাড়ির দাম, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও বাইডেনের প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি। অভিবাসনও ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের নাম আসার অন্যতম বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনিবন্ধিত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বি তাড় ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলে তার জবাবেও বাইডেন আমলের নীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিষয়ে অন্তত ১৩৮ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রসঙ্গও রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এক দিনেই ১৬ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা এক দিনে তার সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের বাইডেনকে বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপেও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের প্রশাসনের নীতিকে সামনে আনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে কাজ করছে। অন্যদিকে বাইডেনের সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বারবার তার পূর্বসূরির নাম উল্লেখ করার সমালোচনা করেছেন। তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—২০২৬ সালের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাইডেন এখনো ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা ২৫০ ফুট উঁচু ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’কে সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্থাপনায় ড্রোন, স্নাইপার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা হবে। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধে তিনি আর্চটিকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটির ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ড্রোন রাখা হবে। স্নাইপারদের জন্য বড় পরিমাণ গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। আর্চটি ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের পাশে, লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এর আগে আর্চটিকে ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেটির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার কথা জানালেন তিনি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠন, ভেটেরানদের একটি অংশ এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এর বিরোধিতা করছেন। আর্চটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আর্চটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলছেন, স্থাপনাটি ওয়াশিংটনের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন। সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান। এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের “ডিভিডেন্ড” নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, ট্রাম্প সেই অর্থ বাস্তবে দেবেন কি না, সে প্রশ্নে চিত্রটি ভিন্ন। ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে এই ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড দেবেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে তা করবেন না। জরিপটির মার্জিন অব এরর প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। জরিপে ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্প এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে তারা মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ। ট্রাম্প গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের “ট্রাম্প ডিভিডেন্ড” দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে একই সময়ে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসস জরিপেও প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা গেছে। ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রাম্পের এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে ৫ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কোনো অনুমোদিত ফেডারেল বেনিফিট নয়। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগ এমন উপায় খতিয়ে দেখছে যাতে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে ফেডারেল ঘাটতিও না বাড়ে। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পথেও প্রশাসন এগোতে পারে বলে তিনি জানান। প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড় একটি প্রশ্ন। সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে হিসাব করা হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ পাবেন, কোনো আয়সীমা থাকবে কি না এবং অর্থের নির্দিষ্ট উৎস কী হবে, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক দুটি জরিপের ফলাফলে তাই দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সুদের হার দ্রুত কমিয়ে ১ শতাংশ বা তারও নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, তাই দ্রুত সুদ কমানো উচিত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরপরই। বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে বুধবারের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী। তাই তিনি দ্রুত সুদ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার দ্রুত কমান” - একই পোস্টে তিনি হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত বলে দাবি করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি; এ হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি তিনি পোস্টে দেননি। এদিকে ফেডের সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার মধ্যম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ। ফলে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং ফেডের বর্তমান নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দ্রুত সুদ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদ বাড়িয়েছে। সোর্স: রয়টার্স, ফেডারেল রিজার্ভ
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে। ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিলের পাশাপাশি সেগুলো কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে মামলায় বাদী হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি। তাদের সঙ্গে রয়েছে পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট। নতুন বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গ্রিন কার্ডের আবেদন পর্যালোচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃতভাবে বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়ন করা হতে পারে। মামদানি অভিযোগ করেন, নতুন এই নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে বা আইনসম্মত সরকারি সহায়তা চাইতে গিয়ে অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক মানুষও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন। মেয়র বলেন, অভিবাসী কমিউনিটিকে বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, অভিবাসীরাই নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টিগুলোর জোটকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও জানান তিনি। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই শব্দটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, যারা জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে নগদ সরকারি সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাদীপক্ষের অভিযোগ, নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ান—কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে। একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি মামলাও করা হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নতুন বিধিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা চাইলে ডি পোর্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ বিভিন্ন অভিবাসী পরিবারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক পরিবার মেডিকেইড ও স্ন্যাপের মতো সরকারি কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কেউ কেউ ভয়ের কারণে আইনসম্মত সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসের পাশাপাশি তাঁর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। এদিকে নিউইয়র্কবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনা মূল্যের, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তা পেতে মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললেও নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কয়েকদিন আগে দেশটির সুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ফেডের নীতিনির্ধারকরা চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াবেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে ফেডের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তিনি। গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকে দেখা যায়, চার মাসের মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবারের বৈঠকে ফেড তাদের সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫%-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারে। ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি যত বেশি সময় ধরে চড়া থাকবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সুদের হার বাড়ানো হলে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। টানা মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সুদের হারের কারণে মূলত অন্য দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কারও চেয়ে ফর্মুলা বেশি ভালো বুঝি এবং বিশ্বের সেরা ক্রেডিটের অধিকারী হয়েও আমরা অন্য দেশগুলোকে ধনী করছি।” নিজের মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমানো না হলে যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, ফেড সুদের হার নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শের কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন।
আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেটের রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে এটি বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ, কারণ দেশে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আসছে, যার মাধ্যমে সবাইকে এই অর্থ সহজেই দেওয়া সম্ভব। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশনে দেওয়া এক ভাষণেই তিনি প্রথম এই ৫ হাজার ডলার প্রদানের ধারণাটি প্রকাশ্যে আনেন। তবে ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই কিছুটা সতর্কতা দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও লুইসিয়ানার রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এ ধরনের যেকোনো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললারও সরাসরি এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি। নাগরিকদের পকেটে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে থাকা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের বিষয়টি মাথায় রেখে এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি অবাস্তব ও রাজনৈতিক স্টান্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস এটিকে একটি 'গুরুত্বহীন প্রস্তাব' আখ্যা দিয়েছেন। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো অতীতে রিপাবলিকানদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই চেক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, উপভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা 'পাবলিক সিটিজেন'-এর সহ-সভাপতি লিসা গিলবার্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে 'ভোট কেনার মরিয়া চেষ্টা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য নগদ অর্থের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা মার্কিন গণতন্ত্রের মূল নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।