ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ন্যাটোর সাথে কি সম্পর্ক ছিন্ন করছে যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।  ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চটেছেন ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় চরম হুঁশিয়ারি
ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চটেছেন ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় চরম হুঁশিয়ারি

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইউরোপের দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় ট্রাম্প তীব্র উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিএনএন ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইতালিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ মার্কিন অনুরোধ কঠোরভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তর এবং ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের জন্য যে সমর্থন চেয়েছিল, তার বিপরীতে মিত্র দেশগুলো সংযত থাকার এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই অনুরোধের জবাবে মিত্রদের পক্ষ থেকে সরাসরি 'না' শোনার পরিমাণ বাড়ছে, যা হোয়াইট হাউসকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।   ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে সিসিলির একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে রোম। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই বিমানগুলো কোনো লজিস্টিক বা সাধারণ ফ্লাইটের অংশ ছিল না এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় এই ধরনের অবতরণের সুযোগ নেই। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যাকে সাধারণত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তিনিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইতালি আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এই ঘটনাটি ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। মেলোনির এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর মার্কিন হামলাকে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মনে করছে।   স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মার্কিন হামলার প্রকাশ্য নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, স্পেনের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই যুদ্ধকে 'গভীরভাবে অবৈধ এবং অন্যায্য' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, পোল্যান্ডও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় এবং নেটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষায় তাদের প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারিগুলো পোল্যান্ডেই রাখা জরুরি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র অনানুষ্ঠানিকভাবে এসব সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের অনুরোধ করেছিল, কিন্তু পোলিশ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।   এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিপদের সময় যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে না, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে না। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন যে, তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহসের পরিচয় দিতে না পারে, তবে তাদের নিজেদের জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করা উচিত। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, ফ্রান্স ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী মার্কিন বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ট্রাম্পের ভাষায়, ইউরোপের এই দেশগুলো অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ এবং তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্র আর কতদিন তাদের বিনামূল্যে নিরাপত্তা দেবে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের এই দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট এখন চরমে। নেটো জোটের মূল ভিত্তি ছিল যৌথ প্রতিরক্ষা, কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র এই জোটকে তাদের ব্যক্তিগত সামরিক অভিযানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুমোদনহীন এই যুদ্ধকে ইউরোপের দেশগুলো আত্মরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নির্দেশ মানতে দ্বিধাগ্রস্ত। এই রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ আগামীতে নেটো জোটের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনশেষে, এই সংঘাত কেবল ইরান সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রীর ভিত্তিকেও কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে নতুন নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান, ৮ মে ২০২৫। ছবি: এপি
পোপ লিও চতুর্দশ ট্রাম্পকে আহ্বান: ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে সরে আসুন

ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।   রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।”   তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।   সূত্র: আল–জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরান সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে—ট্রাম্পের দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি মোকাবিলায় এখনো কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সচল করতে পারে।   তিনি আরও মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রণালিটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” খুলে যেতে পারে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন রাজা চার্লস, ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে মরিয়া ব্রিটেন

লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। আগামী ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতেই এই রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন রাজা চার্লস ও কুইন ক্যামিলা। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সফরের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, "মেলানিয়া এবং আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, রাজা ও রানি আগামী ২৭-৩০ এপ্রিল আমাদের দেশে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে আসছেন। ২৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হবে।"   তবে এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিভিন্ন ইস্যুতে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। সম্প্রতি ট্রাম্প যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশকে 'সাহসহীন' বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এছাড়া জ্বালানি আমদানির বিষয়েও ব্রিটেনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার রাজার এই 'সফট পাওয়ার' বা রাজকীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছে। যদিও ব্রিটেনের অভ্যন্তরে এই সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিসহ অনেক বিরোধী রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, যে ব্যক্তি বারবার ব্রিটেনকে অপমান করছেন, তার আমন্ত্রণে রাজার এই সফরে যাওয়া উচিত নয়।   বাকিংহাম প্যালেস থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং আধুনিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। সফরের অংশ হিসেবে রাজা চার্লস বারমুডাও ভ্রমণ করবেন বলে জানা গেছে। রাজা হিসেবে চার্লসের এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে প্রিন্স অফ ওয়েলস থাকাকালীন তিনি ১৯ বার দেশটিতে সফর করেছিলেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাথে তার এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল: ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে মিলছে না আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবি ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হলেও, পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে।   হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই সুরে কথা বলেন পিট হেগসেথ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগের ফলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে।   এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এই পথ দিয়ে অতিরিক্ত ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আজ মাত্র তিনটি জাহাজ ট্র্যাকার চালু রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ মালবাহী জাহাজ এবং অন্যটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার ‘লুইজা’। আরও কয়েকটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।   এ ছাড়া বিশ্লেষণ সংস্থা Kpler জানিয়েছে, গত কয়েক দিনেও জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সোমবার চারটি, রোববার ছয়টি এবং গত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৩টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ বা সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের ট্র্যাকার বন্ধ রাখছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও এটিকে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। তবে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ট্রাম্পের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনড় ফ্রান্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে এলিসি প্যালেস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, "প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, এখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।" ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া দেখালো প্যারিস।  ওই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ফ্রান্স "একদমই সাহায্য করছে না" এবং সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমানগুলোকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই লঞ্চে সন্তান প্রসব, নবজাতকের আজীবন ভাড়া ‘ফ্রি’

চরাঞ্চল থেকে প্রসবব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসার পথে মাঝনদীতে লঞ্চের ভেতরেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা ‘এমভি হাশেমপুর’ লঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর ও মানবিক ঘটনা ঘটে।   লঞ্চঘাটের নৌ-থানা পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি মতলবের জহিরাবাদ চর উমেদ এলাকা থেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই ওই নারীর তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লঞ্চের ভেতরেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।   লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছামাত্রই খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "নবজাতক এবং প্রসূতি উভয়কেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। তবে প্রসবের পর নবজাতকের মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।"   এদিকে এমন মানবিক ঘটনায় দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এমভি হাশেমপুর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। লঞ্চের মালিকপক্ষ ওই প্রসূতি দম্পতিকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, লঞ্চে জন্ম নেওয়া ওই নবজাতকের জন্য এই লঞ্চে আজীবন যাতায়াত ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন’, ক্ষেপে আগুন ট্রাম্প

ধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে মিত্রদেশগুলোকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যের হয়ে লড়াই করবে না; বরং প্রতিটি দেশকে এখন থেকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদেরই ভূমিকা নিতে হবে। ট্রাম্প তার পোস্টে সরাসরি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখন সাহস সঞ্চয় করা। তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর উচিত নিজেরাই প্রণালিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে নেওয়া। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষোভের সুর ছিল স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে শিখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে একা ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে সেখানে থাকবে না—যেমন তোমরা আমাদের জন্য ছিলে না।" মূলত ইরানবিরোধী অভিযানে যেসব দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই এই কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, "ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ এরই মধ্যে শেষ।" পোস্টের একদম শেষে তিনি মিত্রদের প্রতি চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে লেখেন, "নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন!" ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা: ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি বিশাল জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় কুয়েতি মালিকানাধীন ‘আল-সালমি’ নামক জাহাজটির মূল কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর নাগাদ কয়েক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে জাহাজটি থেকে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার (Oil Spill) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কঠোর হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। ট্রাম্প সোমবার স্পষ্ট সতর্কবার্তায় বলেছিলেন, ইরান যদি অবিলম্বে বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালি’ জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেলের খনিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। ট্রাম্পের এই চরম আল্টিমেটামের জবাবেই ইরান দুবাই উপকূলে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে একযোগে হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। দুবাইয়ের এই সর্বশেষ হামলা প্রমাণ করে যে, কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং এটি একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও ইরানে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা পেন্টাগনের
যুদ্ধ থামানোর ‘বিকল্প পথ’ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এক মাস পার হওয়ার পর এবার নতুন এক মোড় নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যুদ্ধের একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের পেতে রাখা মাইন এবং তেহরানের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণার ফলে এই নৌপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।   পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হোক বা না হোক, তিনি যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে একটি আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা যাচাই করছেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী এবং তিনি চান মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাথে নিয়ে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে। ইতিমধ্যেই তিনি অন্যান্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ না পড়ে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘বিকল্প পথ’ খোঁজার অর্থ হতে পারে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখে একটি সমঝোতায় আসা। একদিকে যখন ব্রিটেন আন্ডারওয়াটার ড্রোন মোতায়েন করে মাইন সরানোর কাজ করছে, অন্যদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক চ্যানেলে তেহরানের সাথে একটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অস্থিরতা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে কতটা সফল হতে দেবে, তা নিয়ে এখনও গভীর সংশয় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বড় ধরনের কোনো ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ইরানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পাউন্ড ইউরেনিয়াম ছিনিয়ে আনার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীকে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে।   এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে White House ও Pentagon-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে BBC। অন্যদিকে, The New York Times জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখল বা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।   এর আগে একই সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসফাহানের একটি পাহাড়ের নিচে গভীরে সংরক্ষিত পারমাণবিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা জব্দ করার বিষয়টিও ট্রাম্প গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।   তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে, Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। বিশেষ করে দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টি তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা দাবির বেশিরভাগই তেহরান মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “তারা আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। কেন নেবে না?” তিনি জানান, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতির পথে রয়েছে।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষ্য, “তারা আমাদের ২০ জাহাজভর্তি তেল দিয়েছে, যা আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে।”   মার্কিন প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ইসরায়েল-কে স্বীকৃতি দেওয়া।   তবে সব শর্তে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।   এর আগে রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে,” যোগ করেন তিনি।   পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়? বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।” উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদির যুবরাজকে চরম অপমান ট্রাম্পের: ‘পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে’ মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিস্ফোরক ও অপমানজনক মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সামিট’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি সরাসরি যুবরাজকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সভায় ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেন, “তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাকে বুঝতে হবে যে এখন আমার তোষামোদ করা ছাড়া তার উপায় নেই। এমনকি তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।” সেখানে উপস্থিত সৌদি প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন ভালো ব্যবহার করেন।” ট্রাম্পের এই আচমকা রাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক বছর আগের একটি ঘটনা। ট্রাম্পের দাবি, এক বছর আগে যুবরাজ সালমান আমেরিকাকে একটি ‘মৃতপ্রায় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইরানের হুমকির মুখে পড়ে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব যখন নিজেদের ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে চরম বার্তা দিলেন। তবে বক্তব্যের শেষে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে গিয়ে তিনি যুবরাজকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা’ ও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও অভিহিত করেন। একইসাথে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবসহ কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
বিক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র: ৮০ লাখ মানুষের কণ্ঠে ট্রাম্প হঠানোর ডাক, জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধস

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিশাল গণবিক্ষোভ। ‘নো কিংস ডে’ বা ‘রাজা নয়’ দিবসে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা বন্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলো এখন আন্দোলনকারীদের দখলে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ বর্তমানে তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর এই গণঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং এটি আমেরিকার শাসনব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে সংঘাত ও ন্যাটো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে, তখন দেশের ভেতরে এই বিশাল জনজোয়ার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং জনগণের দাবি মানা না হয়, তবে এই আন্দোলন আরও সহিংস রূপ নিতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো বিশ্ব আমেরিকার এই পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম
চাপের মুখে ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় রদবদল

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গণ-ডিপোর্টেশন’ বা গণ-বহিষ্কার অভিযানে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। জনমনে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এনে এই অভিযানের ধরনে কিছুটা নমনীয়তার আভাস দেওয়া হচ্ছে।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন। একই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) প্রভাবশালী কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকেও তার পদ থেকে অবনমন (Demote) করা হয়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, নোয়েম এবং বোভিনো ছিলেন ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রধান মুখ। তাদের অধীনে বড় বড় শহরে যেভাবে ঝটিকা অভিযান (Raids) চালিয়ে অভিবাসীদের আটক করা হচ্ছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের এই গণ-বহিষ্কার কর্মসূচির জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের বড় একটি অংশ এই হার্ডলাইন কৌশলের বিপক্ষে। বিশেষ করে মিনেয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে অভিযানের সময় সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এই সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। অভিযোগ উঠেছে যে, নোয়েম এবং বোভিনোর ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাবের কারণে আইনি জটিলতা বাড়ছিল এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েন মুলিন এবং ‘বর্ডার জার’ হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান এখন এই অভিযানের দায়িত্ব সামলাবেন। হোম্যান ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা আগের মতো বড় শহরগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অভিযানের চেয়ে ‘টার্গেটেড’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুরুত্ব দেবেন। অর্থাৎ, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের বহিষ্কারেই বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল মুখ পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, গ্রেফতারের হার কিছুটা কমলেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের আটকে রাখার অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। অনেকে মনে করছেন, এটি প্রশাসনের একটি কৌশলগত চাল মাত্র। লোকচক্ষুর অন্তরালে বহিষ্কার অভিযান আরও নিখুঁতভাবে চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বহিষ্কার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি হয় মৃত নয়তো খুব খারাপ অবস্থায় আছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।   গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প চাপের মধ্যে, মিত্ররা উদ্বিগ্ন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে চুক্তি করতে সময় সীমা ঘনিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপে পড়েছেন। একদিকে অভ্যন্তরীণভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানকে “বিপজ্জনক আঞ্চলিক শক্তি” হিসেবে দেখছে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতকে ট্রাম্প “সামান্য যাত্রাবিরতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি জটিল; হাজার হাজার বিমান হামলার পরও ইরান টিকে আছে এবং পাল্টা কৌশল হিসেবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে।   ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি তার চীন সফর স্থগিত করেছেন এবং আশা করা হচ্ছে, মে মাসের মধ্যেই সংঘাতের ইতি টানতে চাইবেন। মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়। আটলান্টিক কাউন্সিলের নেট সোয়ানসন বলেন, ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে টিকে থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলা থেকে বিরত থাকে।   হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের ৯৯ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও বাকি ১ শতাংশ ঝুঁকি পুরো পরিস্থিতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে। ইতোমধ্যেই ইরান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।   দুই পক্ষের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক, আর ইরান চায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন; সংঘাত ছড়িয়ে গেলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও যুদ্ধের বিপক্ষে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ইরানে সামরিক পদক্ষেপ ভুল ছিল এবং ৬১ শতাংশ ট্রাম্পের কৌশলে অসন্তুষ্ট। সিবিএস নিউজ, ফক্স নিউজ ও রয়টার্স–ইপসোস জরিপেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। যুদ্ধ স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মনে করিয়ে দেন, সম্ভাব্য সমঝোতা শুধু দুই পক্ষের নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ইতিবাচক হবে।   সব মিলিয়ে, কূটনীতি, সামরিক চাপ এবং জনমতের ত্রিমুখী চাপে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা কোনো অনুরোধই অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং ওয়াশিংটন ও ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করেছে। এর জবাবে অ্যালবানিজ বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করা।   এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি ‘ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল’ নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারায় সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিল ক্যানবেরা। পরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ২২টি দেশের একটি জোটে যোগ দেয় দেশটি।   অ্যালবানিজ বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ তাদের কাছে এসেছে, তার প্রতিটিই পূরণ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0