বিশ্ব

ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাসে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ০:৩২
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক যুদ্ধ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার লক্ষে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ২১৪-২১৩ ভোটে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়।


প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা কমিয়ে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা। তবে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।


ভোটাভুটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির কেনটাকি প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জ্যারেড গোল্ডেন নিজের দলের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন।


উল্লেখ্য, এটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে গত সপ্তাহেও তারা একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা সফল হয়নি। এমনকি গত বুধবার সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা আবারও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলার খবর ‘ভুয়া’, সব ক্রু নিরাপদ: ভারত

ওমান উপসাগরে চলাচলরত ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির পর শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কোনো ধরনের হামলা হয়নি এবং জাহাজে থাকা সব নাবিক নিরাপদ আছেন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’-এর অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে জাহাজের ওপর কোনো হামলা হয়নি এবং অনলাইনে প্রচারিত তথ্য সঠিক নয়।   মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তাই জনগণকে সতর্ক থাকার এবং নিশ্চিত সূত্র ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এর আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওমান উপসাগরের কাছে ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’ জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। এসব খবরে জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই ইউনিটও পরে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, জাহাজটিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া হামলার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।   তবে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যেকোনো ঘটনার খবর দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা এমন এক সময়ে এলো, যখন উপসাগরীয় জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কয়েকটি ঘটনায় নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সংঘটিত এক হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে ভারত।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই কূটনৈতিক প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে ‘এমটি সেট্টেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে চলাচলের সময় জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নাবিক প্রাণ হারান।   ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফা নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ প্রতিদিন এই রুট ব্যবহার করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’ জাহাজে হামলার খবর মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে ভারতীয় নাবিকদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:৮
ছবি: সংগৃহীত

সব ধরনের হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

নারী অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গগনদীপ সিংয়ের ৩৪ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

শান্তি আলোচনার মধ্যেই হরমুজে উত্তেজনা, ড্রোন হামলার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত
এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপ ঘিরে হুমকি দিল ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের নজরদারি ড্রোনে অনুপ্রবেশের দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকিও দিয়েছে তারা। তবে গোষ্ঠীটির দাবির পক্ষে উপস্থাপিত কিছু তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে হান্দালা দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনের সংগৃহীত ছবি, ভিডিও ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্যের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোনে মুখ শনাক্তকরণ এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।   বিবৃতিতে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়। হান্দালা দাবি করে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কয়েকটি দলকে তারা পছন্দ করে না এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা উচিত। তারা আরও ইঙ্গিত দেয় যে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন দলের চলাচল বা পরিবহনের ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব।   বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই ড্রোন মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের আকাশসীমা ও আশপাশের এলাকায় বেসরকারি বা অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ড্রোনকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তা মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।   তবে হান্দালার দাবি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। গোষ্ঠীটি যে ছবি ও ভিডিওকে হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তার অন্তত একটি ভিডিও প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি বাণিজ্যিক প্রচারমূলক ভিডিও বলে শনাক্ত করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। ওই ভিডিওটি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তৈরি, যা টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে মার্কিন পুলিশের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ ছিল। ফলে হান্দালার উপস্থাপিত তথ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগও ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিল।   হান্দালা এর আগেও আলোচনায় আসে। চলতি বছরের মার্চে তারা এফবিআই পরিচালক Kash Patel-এর ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবি করে এবং কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা তখনও গোষ্ঠীটির কিছু দাবি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।   হান্দালা গোষ্ঠীকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গোষ্ঠীটির সদস্যদের শনাক্তকরণ বা গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণাও করেছে।   বিশ্বকাপে কয়েক মিলিয়ন দর্শক এবং শতাধিক ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ড্রোন, সাইবার হামলা ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকিকে এবারের টুর্নামেন্টের প্রধান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৩:১৫
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা ‘সবচেয়ে কাছাকাছি’, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিলিয়ন ডলার পাঠানোর খবর নাকচ করল আমিরাত, রয়টার্সের দাবিতে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে বাবাকে নির্দোষ প্রমাণে সন্তানের ৪২ বছরের লড়াই

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের হামলায় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত, স্বীকার করলেন পুতিন

রাশিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এসব আঘাত সত্ত্বেও পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার নিজনেকামস্কের একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলার দাবির পর পুতিন এ মন্তব্য করেন।   ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এই হামলাগুলো সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারবে না এবং অর্থনীতিও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। পুতিন বলেন, “তারা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করছে, তবে আমরা এটি কাটিয়ে উঠব। এসব হামলার লক্ষ্য সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা।”   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও পাইপলাইনগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং পূর্বাঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ায় এসব হামলা মস্কোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের শহরগুলো ধ্বংস করছে। এর জবাব হিসেবেই তারা রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।   এছাড়া অধিকৃত ক্রিমিয়াতেও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইউক্রেন। জ্বালানি বহনকারী ট্রাক ও অবকাঠামোতে হামলার কারণে সেখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা ২০১৪ সালে রাশিয়া উপদ্বীপটি দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লা ও মধ্যপাল্লার হামলার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। দূরপাল্লার আঘাতে রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা কমছে, আর মধ্যপাল্লার হামলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।   চলতি সপ্তাহের শুরুতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি দাবি করেছেন, মে মাসে রাশিয়ার দখল করা এলাকার চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতির ধারায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ০:২৪
ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব বার্নি স্যান্ডার্স

ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব বার্নি স্যান্ডার্স

ছবি:পোপ লিও

অভিবাসন ইস্যুতে মানবিক অবস্থান, টেনেরিফে পোপ লিওর বক্তব্য

ছবি:প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুদ্ধ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কে ঘেরা প্রশাসন

0 Comments