পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। আজ রাতে দলের মিডিয়া টিম থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ব্যক্তিগত এই ধর্মীয় সফরের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখার পর তিনি এই সংক্ষিপ্ত সফরে যাচ্ছেন।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের বৈধতা নিয়ে আলোচনার সময় বাধা পেয়ে স্পিকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বাধার মুখে তিনি সরাসরি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনি যদি ফ্লোর দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করেন, তবে আমাদের আর এখানে থাকার দরকার নেই।” নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংসদে সংবিধান 'সংশোধন' করতে আসেননি, এসেছেন সংবিধান 'সংস্কার' করতে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সংসদ দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। এই গণভোটের ভিত্তি ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’। কিন্তু সংসদে বারবার সেই গণরায় এবং আদেশকে অসাংবিধানিক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বারবার বাধা দিলে নাহিদ ইসলাম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “যে আদেশের ভিত্তিতে আমরা আজ সংসদে এসেছি, সেটাকে অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।” পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায় ও জুলাই সনদকে অবমাননা করলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।” সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।' এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের চেষ্টা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়; বরং এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ। নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা চেষ্টা প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, মামলা বা ভয়ভীতি দিয়ে এ নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব নয়। অতীতে এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। নাহিদ ইসলাম সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, এই ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হলে রিপোর্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচারের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার ও অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন। এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত অবহিত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দ্রুত বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের তৎপরতা জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য যে মামলাটি দায়ের করার চেষ্টা হয়েছিল, আদালত তা গ্রহণ করেনি। তিনি মনে করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পরাজিত শক্তির একটি গভীর চক্রান্ত। তাঁর মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের প্রতীক, আর সেই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের আইনিভাবে হয়রানি করার মাধ্যমে ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো মাঠে সক্রিয় থাকার প্রমাণ দিচ্ছে। বিগত দিনের সংগ্রামের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতেও মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্র নেতৃত্বকে দমন করা সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপশক্তি সফল হবে না। এই অপচেষ্টা রুখতে তিনি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরাজিত শক্তির যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি। পোস্টের শেষে তিনি জুলাই বিপ্লবের মূল স্পৃহা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বর্তমান প্রজন্ম এবং আন্দোলনকারীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই ধরনের হয়রানিমূলক মামলার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এক ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়েছি। এক সময় ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা সংসদ, যা হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনা ও তোষামোদের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছিল, আজ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে এবং গণভোটের মাধ্যমে গণরায়ের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের ঋণ পরিশোধের পথে এগোবে। তিনি আরও বলেন, শহীদদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ আমাদের কাছে একটি পবিত্র আমানত। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের শেষ শক্তি দিয়েও আমরা শহীদদের এই আমানত রক্ষা করব, ইনশাআল্লাহ। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করছে।
গণ-অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো দোসর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরু হলে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করার পর সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেওয়া হলে বিরোধী দলের সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে জাতীয় সংগীত শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলীয় সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং টেবিল চাপড়ে প্রতিবাদ জানান। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ চালিয়ে যান। উল্লেখ্য, সংসদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এই নির্বাচনি আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দাখিল করেছেন। আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাকির হোসেনের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এদিন হাইকোর্টে বিএনপি ও জামায়াতের আরও ছয়জন প্রার্থী পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহমেদ, পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শরিফুজ্জামান শরীফ, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার ও নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিএনপির আরও চারজন প্রার্থী একই ধরনের অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের নবী উল্লাহ নবী, পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলে প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। বিচারপতি জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তিনি জানান, ওইদিন ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনা হবে না। সংসদে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হবে সংস্কার আদায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। রাজশাহী টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ মাঠে এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত আনা এবং বিচারের আওতায় আনা উচিত। তিনি ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের প্রশংসা করলেও দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি বন্ধ না হলে এর কার্যকারিতা সীমিত হবে বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির রাজশাহী বিভাগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললেও মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তিনি মনে করেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের হালিমা খাতুন বিদ্যালয়ে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, হামলা, মামলা ও নানা ধরনের দমন–পীড়নের মধ্য দিয়েও তাদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই তারা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম এবং দিনাজপুরের আহাদের নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ১১ দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতাও একইভাবে নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা চলছে। তার অভিযোগ, ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকেও দলীয় প্রভাবের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অযোগ্য ও দলীয় একজন ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় আবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এ সময় চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি ও সংস্কারবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ আয়োজিত ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক স্লোগান ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে বক্তব্য শেষ করা হতো “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে, বর্তমানে “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” ব্যবহৃত হচ্ছে। তার মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রতীক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সামাজিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি সুশীল সমাজ ও নারী অধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে অনেকেই নীরব থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দলীয়করণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জনকল্যাণে নিয়োজিত করা যায়। ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপি নেতাদের মধ্যে সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাতিল করতে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই রায়কে অকার্যকর করতে আদালতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী–ও বক্তব্য দেন।
রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় শিশু তাসলিমা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামপুরার উলন এলাকায় নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি একটি গর্হিত অপরাধ। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকা ও প্রভাবশালী যেকোনো ব্যক্তি হলেও তা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না; পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণার পরও মব কালচারের ঘটনা ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং প্রথম অধিবেশনে সংস্কার ও রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিনা কারণ ও বিনা অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় কেবল শেখ হাসিনার পতন নয়, বরং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অবসান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল তাদের। যেখানে স্বৈরাচার, বৈষম্য ও অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি হবে না এবং মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের সংকটে ছাত্ররা এগিয়ে এলেও বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর যেমনটি হয়েছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও তেমনই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফল ভোগ করছে রাজনৈতিক শক্তিগুলো, আর সংস্কার ও বিচারের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। সংস্কার পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলটি। সংবিধানের দোহাই দিয়ে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিকভাবে গভর্নরকে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক লুটপাটের পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে। তিনি যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের আহ্বান জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। নানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে এবং সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে এনে আইন ও বিচার নিজেদের মতো পরিচালনার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে বাধ্য হবে। তবে সংসদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার বিকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ কারণে তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসনের দাবি জানানোর পাশাপাশি গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানান তিনি।
এককেন্দ্রীক ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বহুভাষা এবং বহুসংস্কৃতির এক নতুন ও উদার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির এই নতুন রাজনৈতিক এবং সামাজিক দর্শন তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের প্রতীক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে একে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ফ্রেমে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষা কখনো একরৈখিক বা বিচ্ছিন্ন ছিল না; এটি সবসময়ই সমন্বয় ও সংলাপের মাধ্যমে সভ্যতা নির্মাণ করেছে। বৈচিত্র্যকে ধারণ করা এবং বহুত্বকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করাই হলো বাংলার প্রকৃত ঐতিহ্য।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি ভাষা তখনই সমৃদ্ধ হয় যখন সেটি আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়। নাহিদ ইসলামের মতে— আরবি, ফারসি, উর্দু, সংস্কৃত, পালি, ইংরেজির পাশাপাশি চাকমা ও মারমাসহ সকল জনজাতির ভাষা বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি চর্যাপদের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে সুফি সাহিত্য এবং বর্তমানের আঞ্চলিক ভাষাগুলোও (সিলেটী বা চাঁটগাইয়া) আমাদের অগ্রগতির সমান অংশীদার। নতুন বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে ৪ দফা করণীয়: নাহিদ ইসলাম সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন: ১. রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পূর্ণ ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা। ২. প্রতিটি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষার যথাযথ মর্যাদা সংরক্ষণ করা। ৩. বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদেশি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া। ৪. ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করা। বাংলাদেশ হবে বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ, যেখানে বৈচিত্র্য, সংলাপ এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনই আমাদের জাতির মূল শক্তি হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ! তাঁর এই উদার সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি তার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন। শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের মাজার জিয়ারত করবেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন। মহান একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সরকারি দল বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ কার্যকর করার আহ্বান জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা এই ফলাফল মেনে নিয়ে এগোতে চেয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে এনসিপি শপথ গ্রহণ করেছে। তবে শপথের প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দল বিএনপি শপথ গ্রহণ না করে জনগণের সঙ্গে এবং সংস্কারের পক্ষের মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।