সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

Unknown প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ১:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

 

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

 

বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”

 

সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান।
জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, চার দশক পর জিয়া পরিবারের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে ভাষণ দেবেন তিনি।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। এই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কথা রয়েছে।   এবারের ভাষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের এবারের জাতিসংঘ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ধারাবাহিকতার শুরু ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছিল। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও কয়েকবার বক্তব্য দেন।   এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারকসভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্য রয়েছে। বাসসের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন।   সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণ থেকে তারেক রহমানের নির্ধারিত ২০২৬ সালের ভাষণ পর্যন্ত ব্যবধান ৪৬ বছর। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ও থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।   বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।   ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভাষণটি তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম উপস্থিতি। একই সঙ্গে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই ভাষণ চার দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১০:৫৫
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের যে ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

চাকরির বদলে এক কোটি মানুষের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দিয়েছে সরকার: ডা. শফিকুর রহমান

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন

প্রশাসনের একাংশ তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে: নয়ন

যুবদল নেতা নয়ন
বিএনপির প্রশ্নে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন: যুবদল নেতা নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্বার্থে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।    সম্প্রতি মাগুরার শালিখায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নয়ন এসব কথা বলেন। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।    নয়ন বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তাই শান্তি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।    রবিউল ইসলাম নয়ন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিবের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জুনে অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি এই পদ পান।    মাগুরা-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে নয়নের বক্তব্য আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে দূরত্বের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আগস্টে এ বিরোধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নয়ন জানিয়েছিলেন, সমঝোতার জন্য নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তিনি বসতে চান না।    তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগ দেখা যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে সমন্বয় ও সম্প্রীতি সভা হয়। ওই সভায় বিভাজন দূর করে দলীয়ভাবে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নয়নও সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।    শালিখার সাম্প্রতিক সভায় নয়নের বক্তব্যেও দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলকে আরও সংগঠিত করার বিষয়ে কথা বলেন।    বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা থাকলেও নয়নের সর্বশেষ বক্তব্যে দলীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বানই প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, মতপার্থক্য থাকলেও বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থে নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১১:০
পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি।

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ‘ডিসেম্বরে ফেরার’ সুযোগ খুঁজছে কেউ কেউ: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

১৭ বছরে শিক্ষার ভিত দুর্বল হয়েছে, জাতিকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে: রিজভী

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না’: কর্নেল অলি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছবি:সংগৃহীত
‘নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে সংসদ থেকে বিদায় করব’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের বিভিন্ন আইন ও নিরাপত্তা কাঠামোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী কাঠামো তৈরি করা হলে তার বিরুদ্ধে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।   শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিটি সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক আইন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।   মানববন্ধনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিশেষভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইন নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আইন প্রয়োজন হলেও সেই আইনের প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান আইনি কাঠামোয় এসব বিষয় যথেষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।   গুমসংক্রান্ত আইনের সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্তে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।   বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সুযোগ নিয়ে এমন আইন তৈরি করা হচ্ছে, যা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে পারে। তাঁর ভাষায়, সরকার ‘গণতন্ত্রের নামে নতুন স্বৈরাচারী কাঠামো’ তৈরি করছে। এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিযোগ; সরকারের অবস্থান এই প্রতিবেদনে পাওয়া উৎসগুলোতে অন্তর্ভুক্ত নেই।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যাতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। এসব প্রশ্নের সমাধান সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে ফয়সালা করার কথাও বলেন তিনি।   র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে বিশেষ বাহিনী গঠনের বিষয়েও আপত্তি জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর সমাধান হবে না। বরং যেসব ঘটনায় গুম, হত্যা বা অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।   নতুন নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হলে তা সংসদে আলোচনা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুরোনো কাঠামোকে কেবল নতুন নামে ফিরিয়ে আনা গ্রহণযোগ্য হবে না।   কেন এনসিপি সংসদের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে, তার ব্যাখ্যাও দেন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, তাঁর দল সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কালো কাপড় বেঁধেও প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।   দেশে ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের শিকার না হন, সেই দাবি জানিয়ে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও টানেন। অতীতের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই নেতা।   বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশেও রাজনৈতিক বার্তা দেন পাটওয়ারী। তিনি তাঁকে গণতান্ত্রিক পথে থাকার আহ্বান জানান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের পথ অনুসরণ না করার কথা বলেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।   মানববন্ধন থেকে এনসিপি গুমসংক্রান্ত আইন সংশোধন, সাইবার নিরাপত্তা আইনে নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাঠামো নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৩:৫৮
ভয়াবহ হামলার ছবি:সংগৃহীত

ঢাকাজুড়ে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা, কারা ছড়াচ্ছে আতঙ্ক!

রাশেদ খাঁন ছবি:সংগৃহীত

জামায়াতের আন্দোলনেই আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে: রাশেদ খাঁন

এটিএম আজহারুল

‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল

0 Comments