নরসিংদী

গ্রেনেড
গুপ্তধন ভেবে বিলের পানি থেকে গ্রেনেড নিয়ে বাড়ি ফিরলেন নারী: মনোহরদীতে চাঞ্চল্য

নরসিংদীর মনোহরদীতে বিলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে এক রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয়রা। সোমবার বিকেলে উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের দিগাকান্দি এলাকার ‘দুয়ার বিল’ থেকে একটি পুরোনো শক্তিশালী গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রেনেডটিকে মূল্যবান ‘গুপ্তধন’ বা দামি লোহা ভেবে সযত্নে ধুয়ে-মুছে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন শিখা বেগম নামের এক নারী। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শিখা বেগমের সন্তানরা ওই বিলে মাছ ধরতে নামে। সন্তানদের পানি থেকে তুলে আনতে গিয়ে শিখা বেগমের পায়ের নিচে শক্ত ও ভারী কিছু একটা ঠেকে। কৌতূহলবশত বস্তুটি তুলে আনার পর সেটিকে লোহার তৈরি প্রাচীন কোনো সম্পদ ভেবে বসেন তিনি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করার পর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ এসে নিশ্চিত করে যে, এটি একটি যুদ্ধকালীন বা পুরোনো আমলের গ্রেনেড।   নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শিখা বেগম বলেন, "বাচ্চাদের আনতে বিলে নেমেছিলাম। পায়ে শক্ত কিছু লাগলে তুলে দেখি বেশ ভারী। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো গুপ্তধন বা দামি লোহা হবে, যা বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু এটি যে প্রাণঘাতী বোমা হতে পারে, তা কল্পনাও করিনি।" এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন শুরু হলে তিনি বুঝতে পারেন যে এটি আসলে একটি গ্রেনেড।   মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গ্রেনেড সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে গ্রেনেডটি পরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিলের পানিতে এই গ্রেনেড কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার আহম্মদ আলীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে সদর উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত দলীয় চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আহম্মদ আলী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দলীয় গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই তাকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্ষণ মামলা ধামাচাপা দিতে আহম্মদ আলী সালিশ বৈঠক আয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার অন্যান্য আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং হযরত আলী ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ আরও পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা, নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ৫

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানা-এ মামলা করেন।   একই রাতে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গ্রেপ্তাররা হলেন মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব (৩০), গাফফার (৩৪), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) এবং তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)।   মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।   স্বজনদের ভাষ্য, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।   গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল
নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে নজর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শপথ গ্রহণের পরপরই নরসিংদীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দপ্তরে বসার প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিজের নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা দীর্ঘদিনের স্থানীয় জনগণের দাবি বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নরসিংদীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে এবং দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায়ও যেখানে মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোতেও স্থাপনের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।   স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জ—মোট সাত জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন এসেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর প্রক্রিয়া এখনো চলমান।   স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় কোনো জেলায় মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়ার আগে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, নরসিংদীর জন্য আবেদনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে করেননি, বরং অন্যান্য জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এসেছে।   বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সরকারি কলেজগুলোর অনুমোদিত ৬,৪৪৬টি পদে প্রায় ২,৭০০টি শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে অধ্যাপক পদে শূন্যতার হার ৬৪.৬৫ শতাংশ, যা চিকিৎসা শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকটের বড় ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রশিদ-এ-মাহবুব বলেন, শিক্ষক সংকট সমাধান না করলে নতুন কলেজ থেকে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে না, যা ভবিষ্যতের রোগীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।   ২০১৮ সালের পর নির্মিত কিছু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ সংযুক্তি নেই, শিক্ষক সংকট রয়েছে। এগুলোর মান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।   এছাড়া, মুন্সীগঞ্জে একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ হলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে, গত বছরের ৯ নভেম্বর জুরাইনে অবস্থিত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মেডিকেল কলেজকে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   সংক্ষেপে বলা যায়, নতুন কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ থাকলেও শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মান বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0