ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু! ৫০ বছর পর চাঁদের পথে ৪ নভোচারী
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদের পথে মানুষের যাত্রা শুরু হলো। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন, যা মানব ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় এই মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে চারজন নভোচারী অংশ নিয়েছেন— রেইড উইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট), জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট)।
তারা মহাকাশযানে করে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো—এটি কোনো অবতরণ মিশন নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ নামানোর পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করা হবে। পুরো মিশনটির সময়কাল ধরা হয়েছে প্রায় ১০ দিন।
মহাকাশ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ সর্বশেষ মানুষ চাঁদের পথে গিয়েছিল ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মাধ্যমে। তার পর থেকে এত দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মানুষ চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছে।
এই অভিযানে আরও কিছু ঐতিহাসিক মাইলফলক রয়েছে। প্রথমবারের মতো একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী এবং একজন অ-আমেরিকান নভোচারী একসঙ্গে চাঁদের অভিযানে অংশ নিচ্ছেন—যা বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির নতুন বার্তা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২ শুধুমাত্র একটি মহাকাশ অভিযান নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযান পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের চিত্র নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ শতাংশই শৈশবে অন্য ধর্ম বা ধর্মহীন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পরবর্তীতে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জরিপের আওতাভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের এই হার যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া এসব মুসলিমের ১৭ শতাংশ শৈশবে অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই এসেছেন খ্রিষ্টান পরিবার থেকে। বাকি ৩ শতাংশের শৈশবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদ, প্রার্থনার নিয়ম, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ধীরে ধীরে এই ধর্মটি গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের যে দাবিটি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ নির্দিষ্ট করে সেই বার্ষিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত না করলেও দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম পরিবর্তনের এই বৃহৎ ও ধারাবাহিক চিত্রটি তুলে ধরেছে। তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ম ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে রয়েছে, যা অনেকটাই পরস্পরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। বরং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান মার্কিন মুসলিম সমাজের এক-পঞ্চমাংশই যে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন, তা সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবেই স্বীকৃতি পাচ্ছে।
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের শৈশবকালের জরাজীর্ণ পুরোনো বাড়ি সংস্কার করে ১৯ লাখ ডলারে বিক্রি
নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মরণসভায় ‘সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো’ স্লোগান, উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ
চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ভারতীয় নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একদিনেই নিজের দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত নারী প্রথমবার সান্তা ক্লারা কাউন্টি আদালতে হাজির হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী অ্যানিলা বেবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সান হোসে এলাকায় অ্যান মেরি ম্যাথিউকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার মাত্র দেড় ঘণ্টার মাথায় মিলপিটাসে অঞ্জনা হরি নামের আরেক বান্ধবীকে গাড়িচাপা দিয়ে খুন করেন। ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা পূর্বপরিকল্পিত খুনের এই জোড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ৫০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, গত ২৮ আগস্ট সান হোসের লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটে ম্যাথিউয়ের বাড়িতে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটররা জানান, অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িতে হাজির হয়ে অ্যানিলা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরবর্তীতে ম্যাথিউয়ের স্বামী তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পরপরই মিলপিটাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের পার্কিং লটে অঞ্জনাকে ডেকে পাঠানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গাড়ির সামনে আসতেই চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় রক্তমাখা পোশাক ও মুখমণ্ডলে আঘাতসহ অ্যানিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার সময় ম্যাথিউয়ের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হলেও বাইরে অ্যানিলার স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিসা ম্যাককিউন জানিয়েছেন, দুটি হত্যাকাণ্ডই ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নৃশংস। ফরেনসিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুই খুনের যোগসূত্র নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো অভিযুক্ত ও নিহতরা প্রত্যেকেই মা ছিলেন এবং একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ঠিক কী কারণে অ্যানিলা নিজের কাছের বন্ধুদের এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা নিয়ে নিহতদের পরিবার চরম বিভ্রান্তি ও শোকের মধ্যে রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর অ্যানিলাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ভুয়া দলিলে ৪০ লাখ ডলারের বাড়ি দখল, ৭ বার মালিকানা বদলের চেষ্টা
নিউইয়র্কে ৪ শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন মা ও নানি, টক্সিকোলজি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
৪০তম ফোবানায় প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস এবং ২০১৩ সাল থেকে গ্রিন কার্ড থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেঙ্কটা নরসামাম্বা ভাসামসেট্টিকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নর্থ ক্যারোলিনায় নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য হাজির হওয়ার পর ১১ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। তার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি নিজেও একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টি নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মার্কিন নাগরিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ৬০ বছর বয়সী এবং কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আটকের পেছনে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান। ভেঙ্কটা ২০২২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য ভারতে যান। পরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় আরও পিছিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গ্রিন কার্ডের রেসিডেন্সি পরিত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখায়। এ নিয়ে ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আগের একটি ডিপোর্টেশন মামলা চলছিল। তবে ১৯ মে ২০২৬ ইমিগ্রেশন জজ সরকারের সেই মামলা বাতিল করে দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবার গ্রিন কার্ডের বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরও আইসিইর সঙ্গে তার নিয়মিত চেক-ইন নির্ধারিত ছিল। ১১ আগস্ট নির্ধারিত সাক্ষাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে জর্জিয়ার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরদিন কর্তৃপক্ষ নতুন করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ভেঙ্কটার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এমপ্লয়মেন্ট-বেজড ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মায়ের আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে “ফ্রি ভেঙ্কটা” নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। তার আইনজীবী দলও আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে জরুরি হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন দাখিল করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কারণে ভেঙ্কটার গ্রিন কার্ডের স্ট্যাটাস পরিত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা একজন গ্রিন কার্ডধারীর স্থায়ী বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ভেঙ্কটার পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি, চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তার রেসিডেন্সি পরিত্যাগ করতে চাননি।
মিশিগানে ৬ দিনের পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক, লাগবে না অ্যাপয়েন্টমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন