মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে একটি শান্তি প্রস্তাব সামনে আসার পর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রস্তাব ঘিরে রাতভর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ চালিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সংঘাতের অবসান ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবটির রূপরেখা তৈরি করে পাকিস্তান। পরে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রাতভর বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে কথা বলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে—প্রথমে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এরপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান। তবে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান কখনোই ইসলামাবাদের প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেনি। শনিবার (৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন। এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে এবং ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইরানের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। আমরা পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং কখনোই ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাইনি। "আরাগচি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান মূলত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ একটি স্থায়ী এবং চূড়ান্ত অবসান চায়। আলোচনার ক্ষেত্রে সেই শর্তাবলিই ইরানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টের শেষে তিনি উর্দুতে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইরানি নাগরিকদের পাকিস্তানি পতাকা হাতে উল্লাস করার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ইরানের এই দ্রুত স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। আরাগচির পোস্টের জবাবে তিনি একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি সংবাদমাধ্যমগুলোকে কেবল দাপ্তরিক বিবৃতির ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভিত্তিহীন জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং চীনের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে একটি চতুর্ভুক্তি বৈঠকে ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের মাটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রতিবেদন মূলত শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা হতে পারে, যা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়োপযোগী বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা নিরসনে হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূতিয়ালি করতে ইসলামাবাদের এই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের নীতি-নির্ধারক মহলে যেমন অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তেমনি দিল্লিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক—তবে কি মধ্যস্থতার দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে পিছিয়ে পড়ছে ভারত? ইসলামাবাদ গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫-দফার শান্তি পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যদিও ইরান তা সরাসরি গ্রহণ করেনি, তবুও পাকিস্তান থেমে নেই। চীনের সমর্থন আদায়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন বেইজিংয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদের এই মরিয়া চেষ্টা। ভারতের কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলগুলো মোদী সরকারের এই 'নীরবতা'কে ভালো চোখে দেখছে না। কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে ভারতের কূটনীতির জন্য 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছে। বিশিষ্ট কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি মনে করেন, ‘ন্যারেটিভ তৈরির যুদ্ধে’ পাকিস্তান ভারতকে টেক্কা দিয়েছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমোন জ্যাকবের মতে, এটি কেবল কৌশলগত নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপের বিষয়। ভারতের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তান পারলে ভারত কেন পারছে না? তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে 'দালালি' বলে কটাক্ষ করেছেন। তার মতে, ভারত এমন কোনো দেশ নয় যাকে অন্য দেশের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে নিজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে হবে। ১৯৮১ সাল থেকেই পাকিস্তান এ ধরনের কাজ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি ভারতের 'নীরব কূটনীতি'কেই শ্রেয় মনে করছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারত কখনোই এই মধ্যস্থতার দৌড়ে ছিল না এবং আমন্ত্রণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করা ভারতের নীতি নয়। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও মনে করেন, এই যুদ্ধ ভারতের স্বার্থে আঘাত হানছে, তাই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকাটা মানায় না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইরান ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিশেষ সামরিক ও ধর্মীয় যোগসূত্র তাদের এই সুযোগ করে দিয়েছে। লাহোর ও ইসলামাবাদ-ভিত্তিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ওপর যে আস্থা রাখে, ভারতের সেই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, ভারত কি বড় কোনো সুযোগ হারাচ্ছে, নাকি বিপজ্জনক মধ্যস্থতায় না জড়িয়ে দূরদর্শী কৌশলী হিসেবে নিজেকে সরিয়ে রাখছে? সময় এবং মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর পরিস্থিতিই দেবে সেই উত্তর।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত এক সপ্তাহে প্রদেশটির বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই টানা বৃষ্টিপাতে প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে এখন পর্যন্ত ৭৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোহাট, বান্নু, ডেরা ইসমাইল খান এবং কারাক জেলা। এসব এলাকায় ভূমিধস এবং দেয়াল ধসে পড়ার মতো ঘটনায় অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির প্রধান জরুরি মানবিক সেবা সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দুর্গতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গম এলাকাগুলোর সড়ক থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় পিডিএমএ প্রদেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই মৌসুমি ও প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের উরুমকিতে আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাব্রাবি জানান, সীমান্তে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ‘টিটিপি’কে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এর আগে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, উরুমকির এই আলোচনা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আস্থার সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠায় তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানির দাম বড় পরিসরে বাড়াতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার। নতুন ঘোষণায় ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৪২ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত দরে প্রতি লিটার ডিজেল বেড়ে হয়েছে ৫২০ রুপির বেশি এবং পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ রুপির ওপরে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে ঘোষণার পরপরই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জ্বালানি মন্ত্রী এটিকে ‘অনিবার্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারের চাপ সরাসরি দেশের ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকার বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে এই ভর্তুকি বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আমদানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে থাকায় সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে, যার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে কিছু লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্বজনীন ভর্তুকির পরিবর্তে এখন মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র কৃষক এবং পরিবহন খাতকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের যাত্রীদের জন্য রেলপথে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
পাকিস্তান নৌবাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি যৌথভাবে পরিচালিত সামুদ্রিক মহড়া “সি গার্ডিয়ান-৪” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা, খবর দিয়েছে সামা টিভি। পাকিস্তানের সামরিক তথ্যমাধ্যম ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন (আইএসপিআর) জানিয়েছে, মহড়াটি ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল করাচিতে পাঁচ দিনের “পোর্ট ফেজ” এবং উত্তর আরব সাগরে দুই দিনের “সি ফেজ”। করাচি বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় পিএনএস তাইমুর দ্বারা। পোর্ট ফেজে দুই দেশের প্রতিনিধি দল পারস্পরিক মতবিনিময়, নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, পেশাগত আলোচনা এবং বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে, যা বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। সি ফেজে যৌথ সামরিক মহড়া এবং কৌশলগত অনুশীলনের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর কার্যকর সমন্বয় আরও উন্নত করা হয়। মহড়ার শেষ দিনে আরব সাগরে যৌথ টহলের মাধ্যমে মহড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এটি আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি দুই দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার একযোগে সোচ্চার হয়েছে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দেশ দুটি অবিলম্বে "কার্যকর যুদ্ধবিরতি" এবং অর্থবহ শান্তি আলোচনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রুখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বেইজিং ও ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সংকটে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতিতে দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিক এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রাধান্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে চীন ও পাকিস্তান।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু ও আশেপাশের অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (PDMAs) তথ্য অনুযায়ী, এতে ৯ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্নু এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কিছু বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে, যার ফলে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষতির মাত্রা গুরুতর। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। কোটকা গুলাম কাদির এলাকায় একটি বাড়ির বারান্দা ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পিডিএমএ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেছে। ওয়ালখাই মামাখেল এলাকায় ছাদ ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। শামদি কালা মান্ডি এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ির ছাদ ভেঙে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পিডিএমএ জানিয়েছে, প্রদেশজুড়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার, দুর্বল স্থাপনা থেকে দূরে থাকার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের তীব্র উত্তেজনার মাঝে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে চার দেশীয় উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সম্মেলন। সোমবার এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই চতুর্মুখী সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত প্রশমন করা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে রিয়াদের প্রদর্শিত "অভাবনীয় ধৈর্যের" ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লে. জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক। কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও এই সংকট সমাধানে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চালানো 'ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোমেসি' বা নেপথ্য কূটনীতির বিস্তারিত সৌদি প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির লক্ষে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শরিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান সৌদি আরবের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। চলতি মাসে রিয়াদের পর এটিই চার দেশের দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে এখন ১৫ দফার একটি ডি-এস্কেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমন ফ্রেমওয়ার্ক বিবেচনার জন্য রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান। ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই নিবিড় আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসহাক দার জানান, দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি করে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেরই ইঙ্গিত নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এক বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে টানা এক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন তিনি। একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন। আগামীকাল ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। তার ঠিক আগের দিন পাকিস্তান ও ইরানের শীর্ষ নেতার এই দীর্ঘ কথোপকথন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। শাহবাজ-পেজেশকিয়ান আলাপচারিতায় এই আসন্ন বৈঠকের এজেন্ডা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের তেহরান এলাকায় পাকিস্তান দূতাবাসের নিকটে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।” হামলার কিছু অংশ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের কাছাকাছি ঘটলেও, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের ভবনগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন ২৮ দিনে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছেই। পাকিস্তান ইসলামাবাদ এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখতে চাচ্ছে। দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত। এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এই স্থগিত সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তজনার মধ্যে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফকে নিজেদের ‘হিটলিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে ইসরায়েল। রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে এই দুই শীর্ষ নেতার অবস্থান বা স্থানাঙ্ক (coordinates) সুনির্দিষ্টভাবে ছিল এবং তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয় যে, যদি ইরানের এই রাজনৈতিক নেতাদেরও নির্মূল করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার বা কূটনীতির জন্য আর কোনো পক্ষ অবশিষ্ট থাকবে না। পাকিস্তানের এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে তাদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসার অনুরোধ জানায়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার একটি পথ খোলা রাখতে চাইছে, যার অংশ হিসেবে এই দুই কর্মকর্তাকে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ‘ডেকাপিটেট’ বা শিরশ্ছেদ কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বারাবাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে দেশটির অন্যতম অভিজ্ঞ কূটনীতিক এবং স্পিকার ঘালিবাফকে হোয়াইট হাউসের একাংশ ‘কার্যকর অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে দোটানায় রয়েছে, তবুও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা বড় ধরনের রক্তক্ষয় এড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার রণংদেহী পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অভাবনীয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান, সেখানে ভারতের অবস্থান নিয়ে খোদ দেশের অন্দরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। বুধবার ভারতের সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিই তুলে ধরেছে বিরোধী শিবির। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে আলোচনার সেতুবন্ধন করতে পারলে তাঁরা গর্বিত হবেন। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আমেরিকার ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটেই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে ভারত কি ইসলামাবাদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানান, ভারত কোনো ‘দালাল রাষ্ট্র’ নয়। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আঙিনায় ভারত দালালের (ব্রোকার) কাজ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সরকার এই সংকটে মোটেও মৌন নয়, বরং প্রয়োজনীয় সময়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান জুড়ে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। পাকিস্তান শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করলেও ইরান অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আপসের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।
বিবদমান পক্ষগুলো সম্মত হলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার এ তথ্য তুলে ধরা হয়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহ দেখালে ইসলামাবাদ সংলাপ আয়োজনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান বরাবরই কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পক্ষে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে এবং মার্কিন বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে। এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক সাম্প্রতিক সময়ে পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। এই দেশগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শিগগিরই ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে, চলমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামিয়ে শান্তি ফেরাতে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মিশনে নেমেছে পাকিস্তান। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইসলামাবাদ। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে পাকিস্তানে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। গত রবিবার তাদের মধ্যে হওয়া এই সংলাপে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ট্রাম্প এতে ইতিবাচক সাড়া দেন। সব ঠিক থাকলে, আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যেই এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু পাকিস্তানই নয়—তুরস্ক ও মিশরও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় নেপথ্যে থেকে কাজ করে চলেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) দাবি করেছে, ইসলামাবাদের এই আসন্ন বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। শাহবাজ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় খুব শীঘ্রই শান্তির সুবাতাস বইবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান একটি সম্মানজনক সমঝোতায় আসার জন্য মরিয়া। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করবে। এই আলোচনায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তবে তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেয়নি, বরং তারা দাবি করেছে গত ২৪ দিনে সরাসরি কোনো আলোচনায় তারা বসেনি। তবুও ইসলামাবাদের এই বৈঠককে বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আজ সোমবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি কোনো গাড়িতে উন্নতমানের পরিশোধিত জ্বালানি (হাই-অকটেন) ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই জ্বালানির ব্যয় তাদের ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানেও এর প্রভাব পড়েছে। এর আগে গতকাল রোববার বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হাই-অকটেন জ্বালানির ওপর প্রতি লিটারে সারচার্জ ২০০ রুপি বাড়িয়ে মোট ৩০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়। তবে গণপরিবহন ও বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রযোজ্য হয়নি। সরকারের ধারণা, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপে ধনীদের ওপর ব্যয়চাপ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির চাপ কিছুটা কমবে বলেও মনে করছে সরকার। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এর আগে সরকার আরও কিছু সাশ্রয়ী উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের আংশিকভাবে বাসা থেকে কাজের নির্দেশনা। তবে জরুরি সেবাগুলো এসব সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এবার নতুন করে উঠে এসেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বুধবার সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রযুক্তি পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে বলা হয়, দেশটি ধীরে ধীরে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। তবে এ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘শাহিন-থ্রি’র পাল্লা প্রায় ২৭৫০ কিলোমিটার, যা মূলত আঞ্চলিক পরিসরে সীমাবদ্ধ। সাধারণভাবে আইসিবিএম বলতে ৫৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়, যা পাকিস্তানের কাছে এখনো নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় বর্তমানে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা দেশটির নেই। এই ধরনের প্রযুক্তি এখনো কেবল কয়েকটি দেশ—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানও পরিষ্কার। দেশটির কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। সাবেক কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও মার্কিন মূল্যায়নকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মূল্যায়ন অনেক সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির সর্বোচ্চ চিত্র তুলে ধরে। তবে এতে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আবারও কূটনৈতিকভাবে উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও বাস্তব কৌশলগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews