- প্রচ্ছদ
- Topic
পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে আগে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে তাঁর দেশ। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নতুন কোনো প্রস্তাব পাঠানোর খবর নাকচ করেছে ইরানের একটি সূত্র। ফলে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত এ অবস্থান তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্ত মেনে চলতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি অবস্থান জানানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করলে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ইরান সফরের সময়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থান নেওয়ায় উদ্যোগটি এগোয়নি বলে অভিযোগ করেন মোগাদ্দাম। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আলোচনা শুরুর পরিকল্পনাও ছিল। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বেড়ে যায়। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন প্রস্তাব নিয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেশটির একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমন কোনো নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সূত্রটির দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে শুধু নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে সমাধান করার প্রস্তাব মেনে নেয়নি। তাসনিমের প্রতিবেদনে ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের আগের সাত দফা দাবি এখনো বহাল রয়েছে। এসব দাবি আগেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে না। ফলে রাষ্ট্রদূতের আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ এবং নতুন প্রস্তাব পাঠানোর খবর প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ২০ অক্টোবর তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরুর আগে তেহরানের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে তেহরানের আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তবে ইরান বলছে, আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান শর্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হবে না, এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আলোচনা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য আগে পাঠানো প্রস্তাব এখনো কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য জানিয়েছে এবং তেহরান তা পর্যালোচনা করছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, পণ্যের দাম এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও এই জলপথের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত জুনের সমঝোতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলেও ইসলামাবাদ আবার আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে। কাতারও এই কূটনৈতিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছে। তবে ইরানের শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। তাই নতুন বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও আলোচনার তারিখ, স্থান কিংবা চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি। এদিকে ইসলামাবাদের সেমিনারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, তেহরান চুক্তিটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করবে। ইরানের স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক মনে হলে দেশটি সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে এই চুক্তিতে ইরান যোগ দেবে কিংবা আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসেনি ইরান। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো সমাধান হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিলেও নতুন চুক্তি কিংবা যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেয় না। পরবর্তী আলোচনায় দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে কতটা পরিবর্তন আনে, তার ওপরই সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতি নির্ভর করবে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানকে প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখতে নিজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্প জানান, সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে উভয় দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণেই ভারত ও পাকিস্তান গুলি চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এত বড় সংঘাত থামানোসহ মোট আটটি যুদ্ধ মীমাংসার পেছনে নিজের কৃতিত্ব থাকার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে ভারতীয় বাহিনী, যার মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। ভারতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক (ডিজিএমও) ভারতীয় সমকক্ষের কাছে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের অনুরোধ জানালে ১০ মে ভারত তাদের অভিযান স্থগিত করে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার এই যুদ্ধবিরতির পুরো কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করে এলেও নয়াদিল্লি শুরু থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের বিন্দুমাত্র মধ্যস্থতা ছিল না; বরং দুই দেশের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধে দুই দেশের ওপর ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এরপরই দুই দেশ গুলি চালানো বন্ধ করে বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তবে ভারত তাঁর মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ হওয়ার দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে নিজের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্য শুল্কের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ আনেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করবে না বলে সতর্ক করেছিলেন। একই সঙ্গে উভয় দেশের পণ্যের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দেন। তাঁর দাবি, এই চাপের মুখেই ভারত ও পাকিস্তান সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে রাজি হয়। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এত বড় শুল্ক আরোপের হুমকিতে দুই দেশ ক্ষুব্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত গুলি চালানো বন্ধ করে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর নিজের দাবি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে বিশ্বের আটটি যুদ্ধ বা বড় সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটেছে। এসব সংঘাতের কয়েকটিতে বাণিজ্য ও শুল্ককে কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত চলাকালে ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবিও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট দুই দেশের স্বীকৃত কোনো যৌথ হিসাব নয়। সংঘাতের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। নিজের দাবিকৃত কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আটটি যুদ্ধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখার পরও কেন তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প যেসব সংঘাত বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করেন, সেগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা এবং সংঘাতের বর্তমান অবস্থা এক নয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ বড় সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। ২২ এপ্রিলের ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কয়েকটি স্থানে হামলা চালায়। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, এসব স্থানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতীয় হামলার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার দাবি করে। চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়। সে সময় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। পরে তিনি একাধিকবার দাবি করেন, বাণিজ্য সুবিধা ও শুল্ক আরোপের হুমকির মাধ্যমে দুই দেশকে সংঘাত বন্ধে রাজি করিয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করা হলেও ভারত ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ভারতের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস বা ডিজিএমও তাঁর ভারতীয় সমকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের অনুরোধ জানান। এরপর দুই পক্ষের আলোচনায় ১০ মে সামরিক অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। অন্যদিকে পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার বক্তব্যও এসেছে। ফলে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বিরোধকে আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকির বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় অবস্থান ও ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে শুল্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসন শুল্ক ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগের দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে হুমকি দেওয়া এবং বাস্তবে শুল্ক আরোপ করা আলাদা বিষয়। ২০২৫ সালের ওই সংঘাতের সময় ভারত ও পাকিস্তানের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাঁর পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বাণিজ্য শুল্ককে শুধু অর্থনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলার কার্যকর উপায় হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন। তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে তাঁর ভূমিকার বিষয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ দাবি নতুন করে আলোচনায় এলেও ২০২৫ সালের সংঘাত বন্ধের পূর্ণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়নি। SOURCE - রোল কল ফ্যাক্টবেস, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোর্ট মায়ার্স সমাবেশের পূর্ণ বক্তব্য
শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসা ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম চিকিৎসক আসিফ হাসান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে কাজ করেছেন তিনি। শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসক আসিফ হাসান। বিশেষ করে শিশুদের জটিল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার ও হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে শত শত হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন করেছেন আসিফ হাসান। পাশাপাশি শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার পদ্ধতি উন্নয়নের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এসব উদ্যোগ শিশুদের জটিল হৃদরোগের চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে বলে সম্মাননাসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু অস্ত্রোপচার নয়, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই চিকিৎসক। দীর্ঘ কর্মজীবনে ভবিষ্যৎ হৃদ্রোগ শল্যচিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাজ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করেছেন। ২০২৬ সালের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডসে আসিফ হাসানের দীর্ঘ পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় তাঁর কাজ, চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে অবদান এই সম্মাননার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই মুসলিম চিকিৎসক যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছেন। নিউক্যাসলের ফ্রিম্যান হাসপাতালে তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কেটেছে। শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এবারের আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিসে (ইউএসপিএস) ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিশাল আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফাহিম আকরাম নামের ৩৩ বছর বয়সী ওই যুবককে ১০ দিনের টানা অভিযানের পর পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৫১ লাখেরও বেশি জাল মার্কিন শিপিং লেবেল বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির অর্থ লেনদেনের জন্য অভিযুক্ত ফাহিম তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের তদন্ত সংস্থা। ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ফাহিম আকরামকে 'লেবেলসব্যাংক ডটকম' (LabelsBank.com) নামের একটি অননুমোদিত ওয়েবসাইট পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন এ. রেডিং কুইনোনেস জানান, ফাহিমের প্রতারণার কৌশলটি ছিল অত্যন্ত সহজ কিন্তু ব্যাপক। প্যাকেজের ওজন, আকার বা গন্তব্য যাই হোক না কেন, অনলাইনে মাত্র ২ ডলারের বিনিময়ে এই ভুয়া লেবেলগুলো বিক্রি করা হতো। এর ফলে গ্রাহকরা বৈধ পোস্টাল চার্জ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতেন, যা মার্কিন ডাক বিভাগের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি এবং অতিরিক্ত শিপিং খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পোস্টাল পরিদর্শকদের মতে, ৫ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ এই ওয়েবসাইট থেকে ভুয়া শিপিং লেবেল কিনেছেন। এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে ওয়েবসাইটটি জব্দ করে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের মিয়ামি বিভাগের পরিদর্শক ব্লাদিসমির রোজো এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের নজরদারি শুধু দেশের সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র যারা এই ধরনের ভুয়া পোস্টেজ বা ডাকটিকিটের ব্যবসা করছে, তাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা এবং ভুয়া পোস্টেজ লেবেল তৈরি ও বিক্রির ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে ফাহিম আকরামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে ভুয়া লেবেল বিক্রির দায়ে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং প্রতিটি ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক প্রতারণার অভিযোগে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে জাল শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম ফাহিম আকরাম, বয়স ৩৩ বছর। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আতিফ আমির। পাঞ্জাবের খানেওয়ালের বাসিন্দা আকরামের বিরুদ্ধে এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তিনি ‘লেবেলসব্যাংক’ নামে একটি অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেটির মাধ্যমে জাল মার্কিন ডাকমাশুলের লেবেল বিক্রি করা হতো। তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সেলের ওজন, আকার কিংবা গন্তব্য বিবেচনা না করেই সাধারণত প্রতিটি লেবেল দুই ডলারে বিক্রি করা হতো। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের নির্ধারিত মাশুলের তুলনায় অনেক কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্ল্যাটফর্মটির ইউএসপিএসের পণ্য বা সেবা বিক্রির অনুমোদন ছিল না। মার্কিন প্রসিকিউটরদের হিসাবে, পাঁচ হাজার ২০০ জনের বেশি ক্রেতা ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে ৫১ লাখের বেশি জাল শিপিং লেবেল কিনেছেন। এতে ডাক বিভাগের প্রাপ্য আয় হারানো এবং পার্সেল পরিবহনের খরচ মিলিয়ে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অঙ্ক অভিযুক্তের আয় বা লেবেল বিক্রির মোট অর্থ নয়, বরং ইউএসপিএসের কথিত ক্ষতির হিসাব। পাকিস্তানের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমটি চলেছে বলে তাঁদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। লেনদেনে আকরাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি তাঁদের। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বন্ধ করে ডোমেইন জব্দ করেছে। আকরামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারিত করা ও জাল ডাকমাশুল তৈরি ও বিক্রির ষড়যন্ত্রের একটি, জাল ডাকমাশুলের লেবেল তৈরি ও বিক্রির পাঁচটি এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের মায়ামি বিভাগ। আকরামকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হবে, নাকি পাকিস্তানে তাঁর বিচার হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্থানীয় সময় আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা উড্ডয়নসংক্রান্ত নোটিশ বা নোটামের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভারতে নিবন্ধিত উড়োজাহাজ এবং ভারতীয় বিমান সংস্থা বা পরিচালনাকারীর মালিকানাধীন, পরিচালিত কিংবা ইজারা নেওয়া উড়োজাহাজ। ভারতীয় সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। আগের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার, ১৭ অক্টোবর নতুন নোটিশ জারি করে তা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের করাচি ও লাহোর, উভয় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর নথি অনুযায়ী, পাকিস্তান ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধের প্রথম নোটাম জারি করে ওই বছরের ২৪ এপ্রিল। পরে ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি উড়োজাহাজের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথে চলতে হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় এবং পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞা চালুর পর ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকাগামী কয়েকটি রুট পরিবর্তনের তথ্য জানিয়েছিল রয়টার্স। সূত্র: পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা ও রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে—এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্য বিজেপির সভাপতি মদন রাঠোর। প্রতিবেশী দেশ হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তবে বক্তব্যটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর কথার একটি অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে এবং পুরো বক্তব্যের অর্থ ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মদন রাঠোর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ শুরু হলে ভারত পাকিস্তানের পাশে থাকবে, কারণ দেশটি ভারতের প্রতিবেশী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় সামনে এলে দেশের মানুষের উচিত নিজেদের দেশের পাশে দাঁড়ানো। রাঠোরের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের মতে, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপির পাকিস্তাননীতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মুহাম্মদ রাঠোরের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বক্তব্যটিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এমন মন্তব্যের পর রাজস্থান বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলটি কী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বিজেপির পাকিস্তান-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেসের জাতীয় সমন্বয়ক সন্দীপ গুপ্তও এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে যু দ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে থাকার কথা বলা বিজেপির পাকিস্তানপ্রীতিরই প্রকাশ। বিরোধী নেতাদের এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়। তবে সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মদন রাঠোর। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ ও দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান। তাঁর দাবি, বক্তব্যের শেষের অংশ বাদ দেওয়ায় কথার প্রকৃত অর্থ বদলে গেছে এবং পুরো বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। রাঠোরের বক্তব্যের মূল অংশে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেও পরবর্তী ব্যাখ্যায় তিনি ভারতের প্রতি আনুগত্য ও দেশপ্রেমের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের কোন অংশ কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে অতীতেও একাধিক সামরিক সংঘাত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যু দ্ধের কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য সহজেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিজেপির মতো ক্ষমতাসীন দলের একজন রাজ্য সভাপতির বক্তব্য হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাঠোরের মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনা এবং তাঁর নিজের ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় এসেছে। বিরোধী নেতারা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাঠোর বলছেন, তাঁর কথাকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যু দ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। পাকিস্তানও রয়েছে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সূচকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সশস্ত্র সং ঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ২৩ দশমিক ৫। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্কোর ১৮ দশমিক ১। সূচকের হিসাবে স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর। ২০০০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৫। দীর্ঘ সময়ে অগ্রগতি হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের স্কোর ২৮ দশমিক ৬ এবং পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫। ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১। এসব স্কোর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ক্ষুধার গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে পাকিস্তানে শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা বা স্টান্টিংয়ের হার কমছে। আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর এই হার কিছুটা বেড়েছে। দুই দেশেই ২০০০ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যসংকটের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় ভূমিকা রাখছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মৌসুমে আফগানিস্তানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত ও বেশি তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায়, ইরানসহ, প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। এ সংখ্যা বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিশ্বজুড়েও ক্ষুধা পরিস্থিতি আবার খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬-এর চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের পর থেকে ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার মাত্রা অন্তত নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে ৫৭টি দেশ পিছিয়ে পড়ার পথে রয়েছে। সূচকের চারটি প্রধান নির্দেশকের মধ্যে তিনটির অবনতি হয়েছে। এগুলো হলো অপুষ্টির হার, শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টি। শুধু শিশুমৃ ত্যুর হার সামান্য কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধের পর বর্তমানে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সং ঘাতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা যুক্ত হয়ে খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরে চাপ তৈরি করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যু দ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌপরিবহনে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও সার উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধও গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যে। এদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে ২০১৬-২০১৭ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি সংকুচিত হচ্ছে এবং জরুরি খাদ্য বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। প্রতিবেদনটির প্রণেতারা সরকারগুলোর প্রতি মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট প্রতিরোধ, আগাম ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে গভীর রাতে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ বা প্রার্থনারত অবস্থায় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় সামিয়া মালিক নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মে মাসে অ্যাডিলেডের নর্থ ইস্ট রোডে ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে তিনি রাস্তার মাঝখানে সম্পূর্ণ একা হাঁটু গেড়ে সিজদারত ছিলেন। সে সময় অন্যান্য গাড়ির চালকরা দূর থেকে তাকে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০ বছর বয়সী চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড তার গাড়ি দিয়ে সামিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের শুনানিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর ওই ঘাতক চালক গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও মিডিয়ার খবর দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, এমন মর্মান্তিক একটি প্রাণহানির পরও আদালত অভিযুক্ত চালককে মাত্র এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়ে দায় সেরেছে। ঘাতকের এমন লঘু শাস্তিতে মানবাধিকার কর্মী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যাকে তারা কোনো প্রকৃত সাজা নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিহত সামিয়ার বোন কুদসিয়া মালিক জানান, এই শূন্যতা ও বুকফাটা কষ্ট তাদের পরিবার কখনোই ভুলতে পারবে না। মর্মান্তিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ছাত্রসমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে। লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা অঞ্চলে চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সেনাদের অংশগ্রহণে চলা সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের চেবারকুলস্কি প্রশিক্ষণ মাঠে ‘সেন্টার-২০২৬’ মহড়ার শেষ পর্যায় দেখেন তিনি। পুতিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো মহড়ায় প্রায় ৪৭ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার ১১টি প্রশিক্ষণ মাঠ ও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণ প্রতিহত করার অনুশীলন চলছে। তবে ৪৭ হাজার সেনা চেবারকুলস্কির মাঠে ছিলেন না; সেখানে শুক্রবারের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন রাশিয়া ও অন্য দেশগুলোর প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য। রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় চীন, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সেনারাও অংশ নিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিতি আর মহড়ায় সেনা পাঠানো পৃথক বিষয়। ‘সেন্টার-২০২৬’-এর সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোটের ‘ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৬’ মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়া শুরু হয়েছে সোমবার; শনিবার পর্যন্ত চলার কথা। প্রশিক্ষণ মাঠ পরিদর্শনের সময় পুতিন বিভিন্ন অস্ত্রও দেখেন। এর মধ্যে ছিল ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত নতুন জেটচালিত ‘গেরান’ ড্রোন।
চীনের চাং’ই-৮ অভিযানের সঙ্গে ২০২৯ সালে নিজেদের প্রথম চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তান। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো গত ১৩ আগস্ট রোভারটির নাম ঘোষণার সময় এই সময়সূচি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। পাকিস্তানে তৈরি রোভারটিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন যন্ত্র থাকবে। এগুলোর মাধ্যমে চাঁদের প্লাজমা ও বিকিরণ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, ভূপ্রকৃতির মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির প্রস্তুতিতে এসব গবেষণা সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সুপারকো। রোভারটির নাম নির্ধারণে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। চার হাজারের বেশি প্রস্তাব থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে ‘জিন্নাহ-১’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। সাতজন অংশগ্রহণকারী একই নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছর বয়সী তাইয়াব করিম খানকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানে সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান একে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের চন্দ্র অনুসন্ধানে সহযোগিতা আগে থেকেই রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে চাং’ই-৬ অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ‘আইকিউব-কামার’ স্যাটেলাইট চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। এবার জিন্নাহ-১-এর মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। সুপারকোর ওয়েবসাইটে থাকা আগের কর্মসূচির বিবরণে ২০২৮ সালের উল্লেখ থাকলেও ১৩ আগস্টের নাম ঘোষণায় উৎক্ষেপণের পরিকল্পিত বছর বলা হয়েছে ২০২৯। সেই ঘোষণা অনুযায়ী জিন্নাহ-১ এখন ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় প্রতিবেদনে তাঁকেই নিহত লস্কর ই তৈয়বা সদস্য হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আসিফকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন সামরিক মুখপাত্র। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় অভিযানে মুহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নামে লস্কর ই তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসিফ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে নিজ জেলা অ্যাটকে বসবাস করছেন। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। আসিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের তিনি জানান, জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরিচয় স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান তিনি। আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে সাজানো বয়ান প্রচারের অভিযোগ করেন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ ফোরামে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিই ভারতের অভিযানে নিহত বলে শনাক্ত করা ব্যক্তি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট স্ত্রীকে যথাযথভাবে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিউস্টনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও হিরা আজহারের মামলায় আদালত বলেছে, স্ত্রী তালাকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো জানার এবং নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আগের আদালতগুলোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে পাকিস্তানে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সালে ভিসা নবায়নের জন্য আজহার পাকিস্তানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে চৌধুরী ‘তালাক’ পদ্ধতিতে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আজহারের দাবি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি; বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর তিনি তা জানতে পারেন। চৌধুরীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে তালাকের প্রক্রিয়ার পাঁচ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই মামলায় শুধু ওই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট ছিল না। স্ত্রীকে ফোন, বার্তা, ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে জানানোর সুযোগ ছিল না, এমন কোনো প্রমাণও আদালতে দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে হিউস্টনে ফিরে আজহার টেক্সাসের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও বৈবাহিক সম্পত্তি ভাগের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত পাকিস্তানের বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর আবেদন খারিজ করেছিল; আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। মামলার নথিতে দাম্পত্যকালে অর্জিত যৌথ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ আছে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে আজহারকে কোনো সম্পত্তির অংশ দেওয়া হয়নি। রায়ের ফল হলো, পাকিস্তানের ওই বিচ্ছেদকে ভিত্তি করে তাঁর টেক্সাসের আবেদন খারিজ রাখার সিদ্ধান্ত আর বহাল থাকছে না। মামলাটি এখন নিম্ন আদালতে ফিরে যাবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, বিদেশে দেওয়া সব বিবাহবিচ্ছেদের রায় বা সব তালাক টেক্সাসে অগ্রহণযোগ্য বলে তারা সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই মামলার নির্দিষ্ট কারণ ছিল যথাযথ নোটিশ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অভাব।
আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি। অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি। দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার আরও প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও শুল্কনীতি—একাধিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনা করেছে নয়াদিল্লি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে ওয়াশিংটন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের ওপর প্রভাব ফেলা বাণিজ্যনীতিও নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সাধারণত পর্দার আড়ালে আলোচনা করত নয়াদিল্লি। কিন্তু কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ভারত এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্যগুলো আরও খোলাখুলিভাবে তুলে ধরছে। বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বড় বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের পক্ষে প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের স্বার্থকে এমনভাবে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, যাতে অন্য দেশের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বিশেষ করে কৃষি খাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভারতের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। জয়শঙ্করের ভাষায়, আলোচনায় মোটামুটি একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে এবং চুক্তিটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ তেল কেনা নিয়েও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারত সতর্ক করেছিল, রুশ তেল কেনার কারণে নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান নিয়ে ভারতের আপত্তি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকির কথা ভারত বলে আসছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। ভারতের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়েছে কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। ভারত অবশ্য কাশ্মীরসহ এসব বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। মোদি সরকারের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরেও মোদি সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারত বারবার নতি স্বীকার করছে—এমন অভিযোগ বিরোধীদের কাছ থেকে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের প্রকাশ্য বক্তব্যকে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোও প্রকাশ্যে তুলে ধরতে চাইছে। ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বহু বছর ধরে বিদেশে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হলেও এখন অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। সম্পর্ক কি পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে? তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে—এমনটা বলছেন না বিশ্লেষকেরা। চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক চিয়েটিগ বাজপেয়ি মনে করেন, দুই দেশই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তাঁর মতে, একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বলছে, নয়াদিল্লি আগের তুলনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আনতে এখন বেশি প্রস্তুত।
নিউইয়র্কে আফগান নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে গলায় হাত চালানোর ভঙ্গি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নারী সাংবাদিক আসিফকে প্রশ্ন করেন, আফগান নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনে পাকিস্তানের বার্তা কী। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকার সময় ইসলামাবাদ কেন এসব নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, সেটিও জানতে চান তিনি। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আসিফ সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর তাঁকে ওই পোশাকে আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়ার কথা বলতে বলতে গলার ওপর হাত চালানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ শোনা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এই অঙ্গভঙ্গিকে সহিং সতার ইঙ্গিত বা হু মকির মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকেরা বলেন, আফগান নারীদের অধিকার ও তালেবানের নীতি নিয়ে করা গুরুতর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা অনুপযুক্ত। ভিডিওতে কথোপকথনের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার সময় আসিফ আফগানদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশী নয় বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ঘটনাটি ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়লে খাজা আসিফের বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ভিডিওতে করা অঙ্গভঙ্গির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও, একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে সাংবাদিকের প্রতি হু মকি-সদৃশ অঙ্গভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে আসা একটি বিমানের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প পথে জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করায় প্রকল্পের সামগ্রিক সময়সূচিতে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম ধাপের পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। রাশিয়া থেকে আসা বিমানটির রুট ছিল আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে ঢাকা। কিন্তু পাকিস্তান ওই বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, পাকিস্তান অনুমতি না দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বাংলাদেশকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, কেন পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। পরে রোসাটমের কাছ থেকে জানানো হয়, বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। তবে পাকিস্তান হাইকমিশন ঘটনাটিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় ইসলামাবাদ। তাই ঘটনাটিকে এর যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এদিকে রোসাটম বিকল্প রুটে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রূপপুরের বাকি জ্বালানির চালানগুলো অক্টোবরে আবার পাঠানো শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি পৃথক কার্গো ফ্লাইটে বাকি জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোসাটমের দাবি, এতে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচিতে প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশের জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে থাকা দেশটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে এই প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পটি এরই মধ্যে প্রায় দুই বছর পিছিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। আগস্টে শুরু হয় পরীক্ষার শেষ ধাপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ডিসেম্বরে। দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রূপপুর দ্রুত চালু করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলের কোথাও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, আবার বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিমাণ নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানোর কথা ছিল যে জ্বালানি, তা নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি না পাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়ামবাহী উড়োজাহাজটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, উড়োজাহাজটি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের যোগাযোগ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত আকাশপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। তবে কোন দেশ ছাড়পত্র দেয়নি, সে বিষয়ে যুগ্ম সচিব নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। মন্ত্রী জানান, নতুন সময়সূচিতে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর কথা বলেছে রাশিয়া। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে চেয়েছে এএনআই; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংস্থাটির জবাব পাওয়া যায়নি। পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আসে। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহন পিছিয়ে গেলেও তা কবে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তারিখ জানানো হয়নি। সূত্র: কালের কন্ঠ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।