বিক্ষোভ

আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ
আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ

পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি। বিবিসি উর্দু ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার, মুদি দোকান, ফার্মেসি ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা খাদ্য ও জ্বালানির জন্য পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করছেন রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ থেকে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাংবাদিকদের প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে, যার ফলে তথ্যপ্রবাহেও সৃষ্টি হয়েছে বাধা।   ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলটি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয়, যেখানে পৃথক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৪৫টি আসন থাকলেও এর একটি অংশ উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।   সম্প্রতি সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   এএফপির আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে এরপরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।   বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে চরম দুর্ভোগের চিত্র। নীলম জেলার আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেন, রেশন দোকানে টাকা জমা থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে তিনি আটা পাচ্ছেন না। খোলা বাজারে পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি যে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে পুঞ্চ জেলার এক বাসিন্দা নাভিদ জানান, রাওয়ালপিন্ডি থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনী তার পণ্য জব্দ করে নেয়। পরিবারের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথে খাদ্য ও নিত্যপণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।   এ বিষয়ে ডনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এ কৌশল নিয়েছে। তার দাবি, জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিক্ষোভের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।   তবে আন্দোলনকারীরা পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। জেএএকের নেতারা জানিয়েছেন, তারা দাবি আদায়ে আরও জোরালো কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে প্রায় এক লাখ মানুষ নিয়ে রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত লংমার্চ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিক্ষোভ সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম চাপে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বলিভিয়া, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

টানা কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, অবরোধের কারণে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।   প্রেসিডেন্ট পাজ জানান, সড়ক অবরোধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫০ দিন ধরে চলমান অবরোধ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংকট আরও তীব্র করেছে।   ভাষণে তিনি বলেন, “বলিভিয়ার জনগণ আর অবরোধের জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।” জরুরি অবস্থার আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   বর্তমান বিক্ষোভে শ্রমিক সংগঠন, কৃষক গোষ্ঠী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবি প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগ। পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং মার্কিন ডলারের ঘাটতি দূর করার দাবিও জানানো হচ্ছে।   পাজ অভিযোগ করেন, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সংলাপের চেষ্টা চালানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছেন।   মাত্র সাত মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট পাজ দেশের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ক্ষমতায় আসেন। তার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে প্রভাবশালী বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়।   ক্ষমতায় আসার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেন। গত সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত। বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকার এ পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে।   বলিভিয়া বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস, জ্বালানি সংকট এবং চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি। এসব কারণে জনজীবনে চাপ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্র আকার ধারণ করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জি৭ সম্মেলনের আগে জেনেভায় বিক্ষোভ সহিংস, আগুনে পুড়ল টেসলা গাড়ি

জি৭ সম্মেলনকে ঘিরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত একটি বড় বিক্ষোভ রোববার সহিংস রূপ নেয়। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া মিছিলে অংশ নেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জেনেভার কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধনী রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, জেনেভার আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের একটি কেন্দ্রীয় বাসস্টপের পাশে পার্ক করে রাখা একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবনের জানালাও ভাঙচুর করা হয়।   আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেক জেনেভার তীরবর্তী ওই শহরটি সুইজারল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কর্মসূচি দিয়ে আসছিল।   আয়োজকদের দাবি, জি৭ বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি ক্লাব, যেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সুবিধাকে প্রাধান্য দেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বিশ্বায়ন, সম্পদের অসম বণ্টন, জলবায়ু সংকট, লিঙ্গ বৈষম্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী পিপা সজি বলেন, “এটি ধনীদের একটি বৈঠক, যা আবারও দেখায় কীভাবে ধনীরা আরও ধনী হয়ে ওঠে, আর দরিদ্ররা পিছিয়ে পড়ে।” বিক্ষোভের সময় টেসলা গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ এর কয়েকদিন আগেই টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলায় আগুন দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই চরম সম্পদ বৈষম্য ও করপোরেট ক্ষমতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।   তবে আন্দোলনের আয়োজকরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। একই ধরনের চিত্র অতীতের বিভিন্ন জি৭ সম্মেলন ঘিরেও দেখা গেছে, যেখানে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি ছোট কিছু গোষ্ঠী সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। এদিকে সম্মেলনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড। ফরাসি সরকার জানিয়েছে, জি৭ সম্মেলনের নিরাপত্তায় ১৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত শত শত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   এবারের জি৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ এখনো গ্রেপ্তার বা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, সম্মেলন চলাকালেও আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি হতে পারে। তবুও নির্ধারিত সময়েই জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্কের কাছে অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ, সেন্ট্রাল পার্ক থেকে ট্রাম্প টাওয়ার পর্যন্ত মিছিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে চলমান ক্ষোভের মধ্যে নিউইয়র্কে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল পার্কের কাছে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান।   বিক্ষোভটি ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের কাছ থেকে শুরু হয়ে ফিফথ অ্যাভিনিউ হয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ ছিল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর কর্মকাণ্ড, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতি। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।   এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আরও আলোচনায় আসে। এর আগে মিনিয়াপলিসে এক অভিযানের সময় আইসিই এজেন্টদের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে ঘটনাটি ঘটে।   মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইসিইকে শহর ত্যাগ করার আহ্বান জানান। মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ ও দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, আইসিই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট আত্মরক্ষায় কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।   নিউইয়র্কের এই বিক্ষোভ অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা আইসিই-এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কণ্ঠ তুললেও বিষয়টি দেশজুড়ে নীতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নীতিনির্ধারণে জনমতের চাপ তৈরি করতে পারে, তবে সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ঘুষের টাকা ফেরত দাবিতে বিক্ষোভ করছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী
২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরী না দেয়ার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে; এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ২১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে নিজের পছন্দের লোককে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ৪ জন চাকরী প্রার্থী সহ শতাধিক গ্রামবাসী। মানববন্ধন শেষে গ্রামবাসী ঝাড়ু উঁচিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেও রাখা হয়। পরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে মুক্ত করেন।   সোমবার (৪ মে) দুপুরে কলেজের সামনে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।     বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চাকরি প্রার্থীরা বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে ওই অধ্যক্ষ আমাদের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অথচ আমাদের চাকরি না দিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের তিনি চাকরি দিয়েছেন। এখন হয় তিনি আমাদের চাকরি দেবেন, না হয় আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।   জানা গেছে, ২০০০ সালে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি স্থাপিত হয় । সে সময় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন সাগর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হয়।   অভিযোগে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কলেজটিতে নৈশ্য প্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। এতে চারজন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১ মে ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন চাকরি দেয়ার কথা বলে খানমরিচ গ্রামের বাসিন্দা লিমন হোসেন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং হেলাল উদ্দিন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। তবে নিয়োগের আগের রাতে অধ্যক্ষ তার নিজ এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।   ভুক্তভোগী লিমন হোসেন ও হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের চাকরী দেবার আশ্বাস দিয়ে এতগুলো টাকা নিলেন অধ্যক্ষ সাগর। কিন্তু আমাদের কাউকে চাকরী না দিয়ে নিজ এলাকার একজনকে বেশি টাকার বিনিময়ে চাকরী দিয়েছেন। এটা আমরা মানবো না। আমাদের চাকরী না দিলে আমাদের টাকা ফেরত দেন তিনি।   এর আগে কলেজের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পদে দু’জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হয়ে সোমবার তারাও বিক্ষোভে অংশ নেন।   এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব মিথ্যা ও বানোয়াট। গ্রামবাসী ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে। আমি কারো কাছ থেকে ঘুষ নেইনি।   খানমরিচ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আরিফুজ্জামান বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছি। এখন কে কাকে টাকা দিয়েছেন সে বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগও দেয়নি আমার কাছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩, ২০২৬ ১৪:০
বিক্ষোভ থেকে সাবেক মার্কিন সেনা চেলসি ম্যানিংসহ প্রায় ৯০ জনকে আটক করেছে পুলিশ । ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
নিউইয়র্কে যুদ্ধ ও অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৯০

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন অস্ত্র সহায়তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের কাছে বোমা বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।   একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিলে তারা বাইরে রাস্তায় নেমে যান চলাচল বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন—‘মানুষের জন্য অর্থ, বোমার জন্য নয়’।   পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৯০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক তথ্য ফাঁসকারী চেলসি ম্যানিং, অভিনেত্রী হ্যারি নেফ এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য আলেক্সা আভিলেস।   বিক্ষোভকারীরা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের একটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান, যেখানে ইসরায়েলের কাছে নতুন করে শত শত মিলিয়ন ডলারের বোমা বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।   আয়োজক সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সিনেটর চাক শুমার ও কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভের আড়ালে রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্র: ইরানে সাধারণ মানুষ হত্যায় ‘মোসাদ’ সম্পৃক্ততার দাবি

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পৃক্ততার দাবি ঘিরে আলোচনা তীব্র হয়েছে, যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। কয়েক মাস আগের সেই আন্দোলনের কিছু রহস্যময় ঘটনার বর্ণনা এখনো আলোচনায় রয়েছে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তেহরানের একটি শান্ত গলিতে ঝাড়ুদারের ছদ্মবেশে থাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে দুই নারীকে গুলি করেন। একই ধরনের আরেকটি ঘটনার কথা জানা গেছে উত্তরাঞ্চলের একটি শহর থেকে, যেখানে বাড়ির ছাদ থেকে এমন দৃশ্য দেখার দাবি করেছেন স্থানীয় একজন।   তেহরান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের কাজভিন শহরেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, কোনো বিক্ষোভ ছাড়াই রাস্তায় এক নারী ও তার শিশুকে হত্যা করা হয়। ব্যবহৃত অস্ত্রটি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।   আরেকজন বিক্ষোভকারী জানান, পূর্ব তেহরানে একটি মিছিলে মুখোশধারী একটি দল হঠাৎ নেতৃত্ব নেয় এবং সংঘর্ষ শুরু হলে দ্রুত সরে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইউরোপে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ব্ল্যাক ব্লক’ পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইরানে অচেনা।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, প্রকৃত সংখ্যা সাত হাজারের বেশি হতে পারে।   এদিকে ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তার মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক মাধ্যমে ইরানে থাকা মোসাদ এজেন্টদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের এক মন্ত্রীও দাবি করেছেন, তাদের লোকজন ইরানে সক্রিয় রয়েছে।   তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধ, গুজব ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল—সবই সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়: উত্তাল লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড। আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।" আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ: ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে উত্তাল লন্ডন

ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লন্ডনের রাজপথ। গতকাল রাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার মানুষ এক জরুরি বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি এবং ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, তবে তার পূর্ববর্তী আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রতিবাদে লন্ডনে অবস্থানরত অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) এই ‘হ্যান্ডস অফ ইরান’ (ইরান থেকে হাত সরাও) শীর্ষক বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে তার ‘গণহত্যামূলক’ মানসিকতা প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, "গত সপ্তাহে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বারবার বোমা হামলার পর এখন পারমাণবিক হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করা। আমরা এই নির্লজ্জ অপরাধের মুখে নীরব থাকব না।" বিক্ষোভকারীরা ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধাপরাধের অংশীদার হচ্ছে। তারা অবিলম্বে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই চরম উত্তজনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে প্রায় এক হাজার মানুষ। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শত শত মানুষ সমবেত হয়ে ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদ জানায়।   বিক্ষোভ আয়োজন করে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল এনজিও। অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রতিরোধ গড়ো, গাজা জিতবে’, ‘মুসলমানরা অন্যায়কে মাথা নত করে না’ এবং ‘খুনি ইসরাইল, খুনি যুক্তরাষ্ট্র’ লিখিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।   একজন বিক্ষোভকারী মেহমেত ইয়িলমাজ বলেন, আমরা বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে—লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল ভেনেজুয়েলা ছিল, আগামীকাল হয়তো কিউবা হবে। আরেক বিক্ষোভকারী একরাম সায়লান বলেন, ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, কেউ আয়রন ডোম দিয়ে তাদের আটকাতে পারবে না। তারপরও তারা [ইসরাইলিরা] ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ে। ইরানিরা রাস্তায় নেমে আসে, এটি বিশ্বাস ও ইমানের বিষয়। যদি তাদের বিশ্বাস থাকত, মৃত্যুকে ভয় পেত না।   সূত্র: আল জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে হামলা এবং অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ স্লোগানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ফিলাডেলফিয়া শহরের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের বড় সমাবেশ। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের তিন হাজারের বেশি শহরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এটি দেশটির ইতিহাসে একদিনে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।   আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন মুভঅন–এর নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল বলেন, “আমাদের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামছেন, কারণ তারা একটি ভালো ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে তারা আর নীরব থাকতে পারছেন না।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের ভেতরে ও বাইরে এমন নীতি গ্রহণ করছে, যা জনগণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।   জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিবাদ থেকেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সূচনা।   অন্যদিকে, অতীতে এই আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপহাস করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এআই-নির্ভর মিমে ট্রাম্পকে মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়। ট্রাম্প নিজেও একটি কাল্পনিক ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাকে ‘কিং ট্রাম্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি গ্রেপ্তার: দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) এর প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে কাঠমান্ডুতে তার নিজ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অলির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' এবং বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার দলের হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন। কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ কেপি শর্মা অলি এর আগেও কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্তমান জোট সরকারের সাথে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০