বিপ্লব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় কমিটি: ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য আসছে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে, সেটি আমরা গ্রহণ করব।" এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে নামকরণ করা হয়েছিল, সেগুলো পরিবর্তনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেছিলেন, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে কোনটি বহাল থাকবে আর কোনটি বাতিল হবে, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েব আমির মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, সংবিধান ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশের পক্ষে তাঁর দল সুপারিশ করবে না। সংসদের এই বিশেষ কমিটিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রস্তুত রেজা পাহলভি

দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাসন কাটিয়ে ইরানের শাসনভার গ্রহণে সরাসরি প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটলে একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নির্বাসিত যুবরাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশেষ বার্তায় জানান, তিনি ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ‘ট্রানজিশনাল সিস্টেম’ বা অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের কাজ শুরু করেছেন।  পাহলভির মূল লক্ষ্য হলো, বর্তমান প্রশাসনের পতন হওয়ার সাথে সাথেই যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই এই কাঠামো দেশের শাসনভার বুঝে নিতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই অন্তর্বর্তী কাঠামোর রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রাসিস’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাঈদ ঘাসেমিনেজাদ। তিনি বর্তমানে যোগ্য সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।  পাহলভির দাবি, এমন ব্যক্তিদেরই এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা খুব অল্প সময়ে ইরানে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।   উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। দীর্ঘ সময় রাজনীতির আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতে অনেক বিক্ষোভকারীকে রাজতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান এই জনমতকে কাজে লাগিয়েই রেজা পাহলভি এখন সরাসরি ক্ষমতার হাল ধরার সাহসী ঘোষণা দিচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ।
ব্যালট বক্সে 'জেন-জি' বিপ্লব, র‍্যাপার থেকে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবীণ নেতাদের আধিপত্য এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল। হিমালয় কন্যা নেপালে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। প্রথাগত রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’দের ধরাশায়ী করে দেশটিতে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহের (বালেন) দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেন-জি’ (Gen Z) ভোটারদের এক নীরব বিপ্লব হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতি মূলত নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো পুরোনো দলগুলোর হাতে বন্দি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং স্থবির অর্থনীতির বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের রাস্তায় নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে জেন-জি ভোটাররা। ফলাফল অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ নিজে ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণরা। নেপালের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যাদের বয়স ২৪-এর নিচে, তারা প্রথাগত নেতাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ঝুঁকছেন বালেন্দ্রর দিকে। বালেন্দ্র শাহর প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন। গত বছর নেপাল সরকারের সামাজিক মাধ্যম বা 'টিকটক' নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণদের যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, বালেন শাহ সেই ক্ষোভকে সফলভাবে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছেন। নেপালের রাজনীতিতে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র‍্যাপার। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন তার কাজের ধরণ তাকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত করে। এবারের নির্বাচনে তার দল আরএসপি (RSP) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তাকে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভূমিধস জয়ের পরেও বালেনের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে তার অতীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি কীভাবে নিজেকে তুলে ধরেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল। নেপালের এই নির্বাচন প্রমাণ করল যে, দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু জনমোহিনী বক্তৃতা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আর ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের দাবিতে নেপালের এই ‘জেন-জি বিপ্লব’ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রাজনীতির জন্যও এক বড় বার্তা হয়ে রইল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই
একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই

  ইলন মাস্কের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে আগামীর প্রযুক্তি। স্পেস-এক্স এবং এক্সএআই-এর এই ঐতিহাসিক একীকরণ কেবল ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক অভূতপূর্ব মিলন। ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এই নতুন শক্তি মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন থেকে শুরু করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট—সবকিছুতেই আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।   মহাকাশে এআই সাম্রাজ্য: প্রথমবারের মতো রকেট প্রযুক্তি এবং অ্যাডভান্সড এআই এক ছাদের নিচে। ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি: স্পেস-এক্স ও এক্সএআই মিলে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। আইপিও আসছে: আগামী জুনেই বিশাল অংকের আইপিও’র মাধ্যমে বাজিমাত করার পরিকল্পনা মাস্কের। গ্লোবাল কানেক্টিভিটি: এআই, স্পেস-ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া মিলে তৈরি হচ্ছে এক অবিচ্ছেদ্য ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’।   মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্স আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এআই স্টার্ট-আপ ‘xAI’ কে অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। ইলন মাস্কের এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিয়ে মহাকাশে শক্তিশালী এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা এবং পৃথিবীব্যাপী মুক্ত তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা। এই একীকরণের ফলে রকেট, এআই চ্যাটবট এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।   আগামী জুন মাস নাগাদ এই নতুন কোম্পানিটি পাবলিক অফারিং বা আইপিও-তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মাস্ক। কর্মীদের দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক জানিয়েছেন, পৃথিবী এবং মহাকাশে একটি ‘কমপ্লিট ইনোভেশন ইঞ্জিন’ তৈরি করতেই এই সাহসী উদ্যোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0